অন্য ভ্যাকসিনগুলোর অগ্রগতি কী
jugantor
অন্য ভ্যাকসিনগুলোর অগ্রগতি কী

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মার্কিন কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান স্টার্টআপ বায়োএনটেকের যৌথভাবে উৎপাদিত ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ব্রিটেন। আগামী সপ্তাহ থেকে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে মানুষের শরীরে। এখন জানা দরকার টিকা উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতায় ফাইজারের সঙ্গে তৃতীয়পর্যায়ে ভালো করা অন্য কোম্পানিগুলোর টিকার সর্বশেষ অবস্থা কী? তার আগে জেনে নেয়া যাক টিকার প্রয়োজনীয়তা। বিবিসি।

কেন আমাদের টিকা লাগে : বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ এখনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। একমাত্র টিকাই পারে মানুষের মৃত্যু ঠেকানোর জন্য ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়তে। সাধারণত একটি ভ্যাকসিনের কাজ হচ্ছে মানবদেহকে করোনা বা যে কোনো ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য উপযোগী করা। ভাইরাসটিকে আটকে দেয়া বা অন্তত কম প্রাণঘাতীতে পরিণত করা। এটি শত্রু চিহ্নিত করার মতো। টিকা আমাদের শরীরে ভাইরাস প্রবেশের ক্ষেত্রে শত্রু-মিত্র চিনে ব্যবস্থা নেয়। ভালো চিকিৎসার পাশাপাশি টিকা নেয়া হচ্ছে মহামারী থেকে বের হয়ে আসার কৌশল।

ফাইজার/বায়োএনটেকের টিকা : এক বছরের মতো ভোগান্তির পর টিকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুখবরটি আসে নভেম্বরে। ওই সময় ফাইজার/বায়োএনটেক প্রথমবারের মতো তাদের টিকা চূড়ান্তপর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে থাকার ঘোষণা দেয়। তাদের টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে জানায় ফাইজার। দুই ডোজ টিকা নিতে হবে তিন সপ্তাহ ব্যবধানে। প্রায় ৪৩ হাজার মানুষের মধ্যে প্রয়োগ করার পর ফাইজারের টিকার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। এ কারণে ব্রিটেন চার কোটি ডোজ টিকা নিচ্ছে ফাইজারের। ২ ডিসেম্বর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ব্রিটেন জরুরি ভিত্তিতে টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দেয়। এটি মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। করোনাভাইরাসের টিকাটি নতুন ধরনের টিকা। একে আরএনএ বলা হয়। এতে ভাইরাসের জেনেটিক কোডের সামান্য একটি খণ্ডাংশ ব্যবহার করা হয়। এটি শরীরের ভেতরে ভাইরাসের একটি অংশ তৈরি করে, যাকে ইমিউন সিস্টেম আগন্তুক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর আগে কখনও আরএনএ ভ্যাকসিন মানুষের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়নি। অবশ্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অনেক মানুষের মধ্যে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সীমাবদ্ধ ছিল এর ব্যবহার।

অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনকার ভ্যাকসিন : অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। এছাড়া বয়স্ক লোকদের মধ্যে করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব বাড়ায় এটি। তবে আরও উন্নত করা হলে এই টিকা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ব্রিটেন এই টিকার ১০ কোটি ডোজ অর্ডার করেছে। দুটি ডোজ প্রয়োগ করা হবে প্রতিটি মানুষের মধ্যে। স্বেচ্ছাসেবী ২০ হাজার মানুষের মধ্যে অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনকার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে, এখনও হচ্ছে। এই টিকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সরবরাহ পদ্ধতি সবচেয়ে সহজ। কারণ কোনো ধরনের শীতল তাপমাত্রায় এটি সংরক্ষণ করতে হয় না।

মডার্নার টিকা : মার্কিন ওষুধ উৎপাদক কোম্পানি মডার্না ফাইজারের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করেছে ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে। কোম্পানিটি বলছে, তাদের ভ্যাকসিন ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এই টিকা চার সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ডোজ নিতে হবে।

আরও কিছু ভ্যাকসিন : উপরের তিনটি ছাড়া আরও কিছু ভ্যাকসিন আছে বাজার আসার তালিকায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো পাওয়া যাবে। এর মধ্যে আছে : ১. রাশিয়ার স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন। এটি অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের মতো কাজ করে। এটি পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২. জেনসেনের ভ্যাকসিন। যুক্তরাজ্যে ছয় হাজার মানুষের মধ্যে এর প্রয়োগ হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে ৩০ হাজার মানুষ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিচ্ছেন জেনসেনের ভ্যাকসিন। এটি শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি করোনা প্রতিরোধে কার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে। ৩. চীনের উহান ইন্সটিটিউট ও সিনোফার্মার দুটি টিকা এবং রাশিয়ার গামালেয়া রিচার্স ইন্সটিটিউটের টিকাও পরীক্ষার চূড়ান্তপর্যায়ে রয়েছে।

অন্য ভ্যাকসিনগুলোর অগ্রগতি কী

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মার্কিন কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান স্টার্টআপ বায়োএনটেকের যৌথভাবে উৎপাদিত ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ব্রিটেন। আগামী সপ্তাহ থেকে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে মানুষের শরীরে। এখন জানা দরকার টিকা উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতায় ফাইজারের সঙ্গে তৃতীয়পর্যায়ে ভালো করা অন্য কোম্পানিগুলোর টিকার সর্বশেষ অবস্থা কী? তার আগে জেনে নেয়া যাক টিকার প্রয়োজনীয়তা। বিবিসি।

কেন আমাদের টিকা লাগে : বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ এখনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। একমাত্র টিকাই পারে মানুষের মৃত্যু ঠেকানোর জন্য ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়তে। সাধারণত একটি ভ্যাকসিনের কাজ হচ্ছে মানবদেহকে করোনা বা যে কোনো ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য উপযোগী করা। ভাইরাসটিকে আটকে দেয়া বা অন্তত কম প্রাণঘাতীতে পরিণত করা। এটি শত্রু চিহ্নিত করার মতো। টিকা আমাদের শরীরে ভাইরাস প্রবেশের ক্ষেত্রে শত্রু-মিত্র চিনে ব্যবস্থা নেয়। ভালো চিকিৎসার পাশাপাশি টিকা নেয়া হচ্ছে মহামারী থেকে বের হয়ে আসার কৌশল।

ফাইজার/বায়োএনটেকের টিকা : এক বছরের মতো ভোগান্তির পর টিকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুখবরটি আসে নভেম্বরে। ওই সময় ফাইজার/বায়োএনটেক প্রথমবারের মতো তাদের টিকা চূড়ান্তপর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে থাকার ঘোষণা দেয়। তাদের টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে জানায় ফাইজার। দুই ডোজ টিকা নিতে হবে তিন সপ্তাহ ব্যবধানে। প্রায় ৪৩ হাজার মানুষের মধ্যে প্রয়োগ করার পর ফাইজারের টিকার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। এ কারণে ব্রিটেন চার কোটি ডোজ টিকা নিচ্ছে ফাইজারের। ২ ডিসেম্বর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ব্রিটেন জরুরি ভিত্তিতে টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দেয়। এটি মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। করোনাভাইরাসের টিকাটি নতুন ধরনের টিকা। একে আরএনএ বলা হয়। এতে ভাইরাসের জেনেটিক কোডের সামান্য একটি খণ্ডাংশ ব্যবহার করা হয়। এটি শরীরের ভেতরে ভাইরাসের একটি অংশ তৈরি করে, যাকে ইমিউন সিস্টেম আগন্তুক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর আগে কখনও আরএনএ ভ্যাকসিন মানুষের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়নি। অবশ্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অনেক মানুষের মধ্যে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সীমাবদ্ধ ছিল এর ব্যবহার।

অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনকার ভ্যাকসিন : অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। এছাড়া বয়স্ক লোকদের মধ্যে করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব বাড়ায় এটি। তবে আরও উন্নত করা হলে এই টিকা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ব্রিটেন এই টিকার ১০ কোটি ডোজ অর্ডার করেছে। দুটি ডোজ প্রয়োগ করা হবে প্রতিটি মানুষের মধ্যে। স্বেচ্ছাসেবী ২০ হাজার মানুষের মধ্যে অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনকার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে, এখনও হচ্ছে। এই টিকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সরবরাহ পদ্ধতি সবচেয়ে সহজ। কারণ কোনো ধরনের শীতল তাপমাত্রায় এটি সংরক্ষণ করতে হয় না।

মডার্নার টিকা : মার্কিন ওষুধ উৎপাদক কোম্পানি মডার্না ফাইজারের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করেছে ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে। কোম্পানিটি বলছে, তাদের ভ্যাকসিন ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এই টিকা চার সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ডোজ নিতে হবে।

আরও কিছু ভ্যাকসিন : উপরের তিনটি ছাড়া আরও কিছু ভ্যাকসিন আছে বাজার আসার তালিকায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো পাওয়া যাবে। এর মধ্যে আছে : ১. রাশিয়ার স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন। এটি অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের মতো কাজ করে। এটি পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২. জেনসেনের ভ্যাকসিন। যুক্তরাজ্যে ছয় হাজার মানুষের মধ্যে এর প্রয়োগ হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে ৩০ হাজার মানুষ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিচ্ছেন জেনসেনের ভ্যাকসিন। এটি শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি করোনা প্রতিরোধে কার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে। ৩. চীনের উহান ইন্সটিটিউট ও সিনোফার্মার দুটি টিকা এবং রাশিয়ার গামালেয়া রিচার্স ইন্সটিটিউটের টিকাও পরীক্ষার চূড়ান্তপর্যায়ে রয়েছে।