মার্কেল যুগ শেষ
jugantor
মার্কেল যুগ শেষ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। জার্মানির একালের সবচেয়ে বলিষ্ঠ চ্যান্সেলর। যার আরেক নাম ‘ইউরোপের ক্রাইসিস ম্যানেজার’। শুধু ইউরোপ নয়, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে এশিয়াতেও তার সমান প্রভাব। বিশ্ব রাজনীতিবিদদের মধ্যে একটা প্রবাদ ছিল-‘কখনো খাটো করে দেখো না মার্কেলকে’।

গত ১৫ বছর জার্মান চ্যান্সেলরকে খাটো করে দেখার সুযোগ আদতে ছিলও না। এ বছরের শেষ নাগাদ তিনি রাজনীতি ছাড়বেন, সেজন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। বর্তমান শতক সম্ভবত সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়টির অবসর প্রত্যক্ষ করতে চলেছে। সিএনএন।

নিজের দায়িত্ব পালনকালে পাঁচ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছেন মার্কেল। দেখেছেন চার ফরাসি প্রেসিডেন্ট, সাত ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রীকে। বাইডেন ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর হবেন ৪র্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট যার মার্কেলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হবে। এ সময় জাপানেও পালাবদল হয়েছে আট প্রধানমন্ত্রীর।

এই অনন্য অভিজ্ঞতার পরেও মার্কেলকে তার দায়িত্ব পালনের অধিকাংশ সময় নিজেকে প্রমাণ করতেই লেগে গেছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রায়শই তাকে অপমানের চেষ্টা করেছেন। কুকুর ভয় জেনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন একবার মার্কেলের সঙ্গে বৈঠকের সময় একটি ল্যাব্রাডর কুকুর নিয়ে এসেছিলেন। ছাড় দেননি ট্রাম্পও।

সরাসরি গর্দভ বলে গালি দিয়েছিলেন মার্কেলকে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনি তাকে ১৫ মিনিট বসিয়ে রেখে ফোনে কথা বলছিলেন। সব কিছুর পেছনে কারণ ছিল একটাই-তিনি নারী। ২০০৫ সালে তিনি যখন প্রথম নারী হিসাবে জার্মান চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নেন, অনেকেই ভেবেছিল তিনি বেশিদিন টিকবেন না।

জার্মানির প্রভাবশালী দৈনিক বিল্ড সেদিন বড় করে তার ছবি ছাপিয়ে শিরোনাম দেয়, মিস জার্মানি। কিন্তু ঘটেছে তার উল্টো। এই দীর্ঘ সময় বিশ্বের অনেক নেতা এসেছেন আবার চলেও গেছেন। কিন্তু মার্কেল ছিলেন। কেউ তাকে নড়াতে পারেনি। তিনি তখনই যাচ্ছেন, যখন তিনি যেতে চেয়েছেন।

ক্ষমতাসীন দলের নতুন প্রধান আরমিন লাশেট : জার্মানির ক্ষমতাসীন দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)-এর নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আরমিন লাশেট (৫৯)। চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের অনুসারি হিসাবে পরিচিত এই নেতা বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়ার মুখ্যমন্ত্রী।

শনিবার ডিজিটালি অনুষ্ঠিত পার্টি কংগ্রেসে তিনি কট্টর রক্ষণশীল নেতা ফ্রিডরিশ মার্জকে ৫২১-৪৬৬ ভোটে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মার্কেল যুগ শেষ

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। জার্মানির একালের সবচেয়ে বলিষ্ঠ চ্যান্সেলর। যার আরেক নাম ‘ইউরোপের ক্রাইসিস ম্যানেজার’। শুধু ইউরোপ নয়, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে এশিয়াতেও তার সমান প্রভাব। বিশ্ব রাজনীতিবিদদের মধ্যে একটা প্রবাদ ছিল-‘কখনো খাটো করে দেখো না মার্কেলকে’।

গত ১৫ বছর জার্মান চ্যান্সেলরকে খাটো করে দেখার সুযোগ আদতে ছিলও না। এ বছরের শেষ নাগাদ তিনি রাজনীতি ছাড়বেন, সেজন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। বর্তমান শতক সম্ভবত সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়টির অবসর প্রত্যক্ষ করতে চলেছে। সিএনএন।

নিজের দায়িত্ব পালনকালে পাঁচ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছেন মার্কেল। দেখেছেন চার ফরাসি প্রেসিডেন্ট, সাত ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রীকে। বাইডেন ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর হবেন ৪র্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট যার মার্কেলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হবে। এ সময় জাপানেও পালাবদল হয়েছে আট প্রধানমন্ত্রীর।

এই অনন্য অভিজ্ঞতার পরেও মার্কেলকে তার দায়িত্ব পালনের অধিকাংশ সময় নিজেকে প্রমাণ করতেই লেগে গেছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রায়শই তাকে অপমানের চেষ্টা করেছেন। কুকুর ভয় জেনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন একবার মার্কেলের সঙ্গে বৈঠকের সময় একটি ল্যাব্রাডর কুকুর নিয়ে এসেছিলেন। ছাড় দেননি ট্রাম্পও।

সরাসরি গর্দভ বলে গালি দিয়েছিলেন মার্কেলকে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনি তাকে ১৫ মিনিট বসিয়ে রেখে ফোনে কথা বলছিলেন। সব কিছুর পেছনে কারণ ছিল একটাই-তিনি নারী। ২০০৫ সালে তিনি যখন প্রথম নারী হিসাবে জার্মান চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নেন, অনেকেই ভেবেছিল তিনি বেশিদিন টিকবেন না।

জার্মানির প্রভাবশালী দৈনিক বিল্ড সেদিন বড় করে তার ছবি ছাপিয়ে শিরোনাম দেয়, মিস জার্মানি। কিন্তু ঘটেছে তার উল্টো। এই দীর্ঘ সময় বিশ্বের অনেক নেতা এসেছেন আবার চলেও গেছেন। কিন্তু মার্কেল ছিলেন। কেউ তাকে নড়াতে পারেনি। তিনি তখনই যাচ্ছেন, যখন তিনি যেতে চেয়েছেন।

ক্ষমতাসীন দলের নতুন প্রধান আরমিন লাশেট : জার্মানির ক্ষমতাসীন দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)-এর নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আরমিন লাশেট (৫৯)। চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের অনুসারি হিসাবে পরিচিত এই নেতা বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়ার মুখ্যমন্ত্রী।

শনিবার ডিজিটালি অনুষ্ঠিত পার্টি কংগ্রেসে তিনি কট্টর রক্ষণশীল নেতা ফ্রিডরিশ মার্জকে ৫২১-৪৬৬ ভোটে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।