নিরাপত্তা রক্ষীদের ভেতর থেকেই হামলা হতে পারে অভিষেকে
jugantor
নিরাপত্তা রক্ষীদের ভেতর থেকেই হামলা হতে পারে অভিষেকে
শঙ্কা পেন্টাগন ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত জো বাইডেনের শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠানে ভেতর থেকে হামলা করে বসতে পারে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ড সেনা ও পুলিশ সদস্যরা।

এমন আশঙ্কা করছেন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। স্থানীয় সময় ২০ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে বাইডেনের শপথ ও অভিষেক।

তার বিজয় সত্যায়নে ক্যাপিটল হিলে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র-সমর্থকদের তাণ্ডবের পর অভিষেক অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় ওয়াশিংটন ডিসি।

প্রতিরক্ষা ও পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা-নিরাপত্তায় নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ডের ২৫ হাজার ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে থাকা শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী কেউ ভেতর থেকে হামলা করে বসতে পারে। দ্য গার্ডিয়ান।

এমন আশঙ্কার ভিত্তি হচ্ছে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার সময় দেখা গেছে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা হামলাকারীদের স্বাগত জানাচ্ছেন। ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ক্যাপিটল পুলিশের অর্ধডজন সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আরও একডজনের মতো তদন্তাধীন আছেন।

ভেতর থেকে হামলার আশঙ্কার মধ্যেই নিউ জার্সিতে গ্রেফতার করা হয়েছে আর্মির রিজার্ভ সেনা ৩০ বছর বয়সি টিমোথি হেইল-কুসানেলিকে। তিনি উগ্র ট্রাম্প-সমর্থক দাঙ্গাকারীদের ‘অগ্রসর’ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে অভিযোগ। টিমোথির বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মানসিকতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার হাতে রয়েছে সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ছাড়পত্র। এ কারণে ন্যাশনাল গার্ড ও পুলিশে থাকা একই মনোভাবাপন্নদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মার্কিন সেনা ও পুলিশের মধ্যে উগ্র শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের পদচারণার প্রমাণ বিভিন্ন সময় দেখা গেছে কৃষ্ণাঙ্গদের দমন-পীড়নের ঘটনায়। অভিষেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসাবে রোববার এফবিআই ওয়াশিংটনের নিরাপত্তায় আসা ২৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের মধ্যে তল্লাশি চালায়।

আর্মি সচিব রায়ান ম্যাকার্থি বলেন, ‘কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কা করছেন। ফলে সেনা কমান্ডারদের অভ্যন্তরীণ সব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিষেকে কিভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে- বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুতিমূলক মহড়া সম্পর্কে অন্য সামরিক নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ হামলা মোকাবিলায় ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।’

অভিষেকের মূল নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। কিন্তু সেইসঙ্গে সেনা সদস্য ও আইনপ্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থার সদস্যও থাকবেন। ন্যাশনাল গার্ড থেকে এফবিআই, ওয়াশিংটন মেট্রোপলিটন পুলিশ, ইউএস ক্যাপিটল পুলিশ ও ইউএস পার্ক পুলিশ একযোগে নিরাপত্তার কাজ করবে।

অভিষেক অনুষ্ঠান নিয়ে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ম্যাককার্থি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি। অপারেশনে নিয়োজিত প্রতিটি সদস্যের খুঁটিনাটি বিষয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার পর্যন্ত পর্যালোচনা করছি।’

এই প্রক্রিয়া শুরু হয় ক্যাপিটল হামলার পর এক সপ্তাহ আগে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সময় থেকে।

সিয়াটলে এফবিআইয়ের সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি সুপারভাইজার ডেভিড গোমেজ বলেন, ‘নিরাপত্তারক্ষীদের বিষয়ে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তাদের আগের রেকর্ড, সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে।’ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার পর থেকে অভ্যন্তরীণ হুমকি সম্পর্কে সতর্ক মার্কিন প্রশাসন।

নিরাপত্তা রক্ষীদের ভেতর থেকেই হামলা হতে পারে অভিষেকে

শঙ্কা পেন্টাগন ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত জো বাইডেনের শপথ ও অভিষেক অনুষ্ঠানে ভেতর থেকে হামলা করে বসতে পারে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ড সেনা ও পুলিশ সদস্যরা।

এমন আশঙ্কা করছেন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। স্থানীয় সময় ২০ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে বাইডেনের শপথ ও অভিষেক।

তার বিজয় সত্যায়নে ক্যাপিটল হিলে বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র-সমর্থকদের তাণ্ডবের পর অভিষেক অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় ওয়াশিংটন ডিসি।

প্রতিরক্ষা ও পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা-নিরাপত্তায় নিয়োজিত ন্যাশনাল গার্ডের ২৫ হাজার ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে থাকা শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী কেউ ভেতর থেকে হামলা করে বসতে পারে। দ্য গার্ডিয়ান।

এমন আশঙ্কার ভিত্তি হচ্ছে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার সময় দেখা গেছে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা হামলাকারীদের স্বাগত জানাচ্ছেন। ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ক্যাপিটল পুলিশের অর্ধডজন সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আরও একডজনের মতো তদন্তাধীন আছেন।

ভেতর থেকে হামলার আশঙ্কার মধ্যেই নিউ জার্সিতে গ্রেফতার করা হয়েছে আর্মির রিজার্ভ সেনা ৩০ বছর বয়সি টিমোথি হেইল-কুসানেলিকে। তিনি উগ্র ট্রাম্প-সমর্থক দাঙ্গাকারীদের ‘অগ্রসর’ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে অভিযোগ। টিমোথির বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মানসিকতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার হাতে রয়েছে সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ছাড়পত্র। এ কারণে ন্যাশনাল গার্ড ও পুলিশে থাকা একই মনোভাবাপন্নদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মার্কিন সেনা ও পুলিশের মধ্যে উগ্র শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের পদচারণার প্রমাণ বিভিন্ন সময় দেখা গেছে কৃষ্ণাঙ্গদের দমন-পীড়নের ঘটনায়। অভিষেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসাবে রোববার এফবিআই ওয়াশিংটনের নিরাপত্তায় আসা ২৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের মধ্যে তল্লাশি চালায়।

আর্মি সচিব রায়ান ম্যাকার্থি বলেন, ‘কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কা করছেন। ফলে সেনা কমান্ডারদের অভ্যন্তরীণ সব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিষেকে কিভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে- বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুতিমূলক মহড়া সম্পর্কে অন্য সামরিক নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ হামলা মোকাবিলায় ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।’

অভিষেকের মূল নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। কিন্তু সেইসঙ্গে সেনা সদস্য ও আইনপ্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থার সদস্যও থাকবেন। ন্যাশনাল গার্ড থেকে এফবিআই, ওয়াশিংটন মেট্রোপলিটন পুলিশ, ইউএস ক্যাপিটল পুলিশ ও ইউএস পার্ক পুলিশ একযোগে নিরাপত্তার কাজ করবে।

অভিষেক অনুষ্ঠান নিয়ে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ম্যাককার্থি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি। অপারেশনে নিয়োজিত প্রতিটি সদস্যের খুঁটিনাটি বিষয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার পর্যন্ত পর্যালোচনা করছি।’

এই প্রক্রিয়া শুরু হয় ক্যাপিটল হামলার পর এক সপ্তাহ আগে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সময় থেকে।

সিয়াটলে এফবিআইয়ের সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি সুপারভাইজার ডেভিড গোমেজ বলেন, ‘নিরাপত্তারক্ষীদের বিষয়ে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তাদের আগের রেকর্ড, সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে।’ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার পর থেকে অভ্যন্তরীণ হুমকি সম্পর্কে সতর্ক মার্কিন প্রশাসন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০