সহকর্মীদের অসম্মান করলেই বরখাস্ত
jugantor
সহকর্মীদের অসম্মান করলেই বরখাস্ত
হোয়াইট হাউজে শৃঙ্খলা ফেরাচ্ছেন বাইডেন

  যুগান্তর ডেস্ক  

২২ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথের পর আগের প্রশাসনে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়া হোয়াইট হাউজে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বাইডেন।

নতুন প্রশাসনে নিয়োগ পাওয়া হোয়াইট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের শপথ পড়ানোর পরই সতর্ক করে বলেছেন, সহকর্মীদের অসম্মান করলে তৎক্ষণাৎ বরখাস্ত করা হবে।

কঠিন ব্যক্তিত্বের উল্টোপিঠের উৎসব মেজাজ এদিন নজর কেড়েছে মার্কিনদের। অভিষেক কনসার্টে নাতি বিউকে কোলে নিয়ে নেচেছেন দাদা জো বাইডেন। এতে পাদপ্রদীপের সব আলো কেড়ে নিয়েছে আট মাস বয়সি বিউ। ডেইলি মেইল, দ্য হিল। পূর্বসূরি ট্রাম্পের প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা ছিল। একে-অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার ঘটনা ছিল নৈমিত্তিক। এমন পরিস্থিতি সফলতায় বিঘ্ন ঘটায়। ফলে বাইডেন সতর্ক। সবাইকে বলে দিয়েছেন, পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

নিজের শপথের পর শতাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে শপথ পাঠ করান বাইডেন। এ সময় তাদের পরস্পরের প্রতি ভদ্রভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের এ দেশের আত্মাকে পুনর্গঠন করতে হবে। এর অংশ আপনারা সবাই। এটি কোনো বাগাড়ম্বর নয়।’

৭৮ বছর বয়সি বাইডেনের সবচেয়ে ছোট নাতি সে। তাকে অনেক বেশি আদর করেন বাইডেন। ছেলে হান্টারের ঘরের এই নাতির নাম রেখেছেন নিজের মৃত বড় ছেলে বিউ বাইডেনের নামে। অভিষেক কনসার্টে বিউ ছাড়াও বাইডেনের চার নাতনি ও মেয়ে অ্যাশলির দিকে ছিল ক্যামেরার বাড়তি নজর। অভিষেকের পরপর নিজের নিয়োগকৃতদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে বলেছেন বাইডেন।

ছেলে বিউকে খুব পছন্দ করতেন বাইডেন। বিউ নিজের যোগ্যতায় বাপের পছন্দের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। রাজনীতি, আইন ব্যবসা ও সামরিক বাহিনীতে চাকরি এবং ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিজের সব ধরনের যোগ্যতার প্রমাণও তিনি দিয়েছিলেন। ফলে ১৯৮৮ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারা বাইডেন চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার আজীবনের স্বপ্ন বিউয়ের মাধ্যমে পূরণ করবেন।

কিন্তু ব্রেন ক্যান্সারে ২০১৫ সালে বিউ মারা গেলে নিজেই আবারও প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নামেন। জয়ের পর এবং অভিষেকের সময়ও বাইডেন বলেছেন-বেঁচে থাকলে বিউই হতেন আজ প্রেসিডেন্ট। সেই বিউয়ের নামেই আরেক ছেলে হান্টারের সন্তানের নাম রেখেছেন। ফলে এই নাতি বেশি আদরের। অভিষেক কনসার্টে তাকে কোলে নিয়ে বাইডেনের নাচই তার প্রমাণ।

বিউ ছাড়া বাইডেনের অভিষেকে আরও আলো ছড়িয়েছেন তার চার নাতনি- নাওমি, ফিনেগান, মেইসি ও নাটালি। তাদের সঙ্গে ক্যামেরার নজর ছিল বাইডেনকন্যা অ্যাশলির দিকেও। লং স্কার্ট পরে অনুষ্ঠান মাতিয়ে রেখেছিলেন তারা। এ ছাড়া বাইডেনের ছেলে হান্টার, ফার্স্ট লেডি জিলসহ বাইডেন পরিবারের সবাই উপভোগ করেছেন অভিষেক কনসার্ট।

অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে শপথ নিয়ে ওভাল অফিসে আসতে হয়েছে বাইডেনকে। জয়ের পর পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন তা এক কথায় নজিরবিহীন। আমেরিকাকে ট্রাম্প করে ফেলেছেন বিভক্ত। ফলে বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলার বিশেষ চাওয়া ছিল অভিষেক উৎসব ‘আমাদের অনুষ্ঠান’ না হয়ে হবে ‘তোমাদের’ মানে সব আমেরিকানের অনুষ্ঠান। বাইডেনের আহ্বান ছিল ‘উপভোগ কর এবং ঐক্যবদ্ধ হও।’ অনেকটা ভার্চুয়াল উদযাপন হলেও কম মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত ছিল অভিষেক।

ইতিহাস তৈরি করে মার্কিন মসনদে কমলা : যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আতঙ্ক-উত্তেজনা, সংশয়-উদ্বেগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিলেন জো বাইডেন (৭৮)। একইসঙ্গে একগুচ্ছ ইতিহাস সঙ্গী করে প্রথম মহিলা হিসাবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন কমলা হ্যারিস (৫৬)। তবে তিনি শুধু প্রথম মহিলা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টই হলেন না, প্রথম অশ্বেতাঙ্গ এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হিসাবেও ইতিহাস তৈরি করলেন। রয়টার্স।

শপথগ্রহণ করার পরেই তার টুইট, ‘আমি কাজ করতে তৈরি।’ শপথগ্রহণ করার পরেই কমলার টুইটার হ্যান্ডলের বায়োও বদলে গিয়েছে। শুধু ভাইস প্রেসিডেন্টই না, এরই সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘ফার্স্ট সেকেন্ড জেন্টলম্যানের স্ত্রী। মমালা। আন্টি। মানুষের জন্য লড়াকু।’ কমলার স্বামী ডগ এমহফ আইনজীবী। টুইটার বায়োর মাধ্যমে তাকেও সম্মান জানালেন নতুন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাঝেও মায়ের স্মৃতিচারণ : নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই বারবার মায়ের স্মৃতিতে উদ্বেল হয়েছেন কমলা। এমনকি জীবনযুদ্ধে জয়ের সব কৃতিত্বও কমলা নিজের মা শ্যামলা গোপালনকেই দেন। বুধবার সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক সোনিয়া সতোমায়র কমলাকে শপথবাক্য পাঠ করান। রেজিনা শেলটন ও আইনজীবী থারগুড মার্শালের আনা দুটি বাইবেল স্পর্শ করে শপথ নেন কমলা। অন্যদিকে জন রজার্স ও সার্জিও হাডসনের তৈরি করা বিশেষ স্যুট পরেই মঞ্চে উঠতে দেখা যায় কমলাকে।

জাতি বিদ্বেষের মাঝে কমলার উত্থান : কালো চামড়ার মানুষের ওপর অত্যাচার, শিক্ষাঙ্গনে জাতিবিদ্বেষ, ক্রমবর্ধমান পুরুষতান্ত্রিকতা ও মহামারির ভয়াবহতার মাঝে একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কালো চামড়ার ‘মহিলা’ হিসাবে কমলার উত্থান তৈরি করল এক নতুন ইতিহাস। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম কালো চামড়ার মহিলা অ্যাটর্নি জেনারেল ও পরবর্তী সময় মার্কিন সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর এবার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হয়ে অনেক বাধাবিপত্তিকে চিরতরে ভেঙে ফেললেন কমলা।

কৃষ্ণাঙ্গ ভোটেই বাজিমাত কমলার : হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করার পর আইনজীবী হিসাবে প্রবল খ্যাতি অর্জন করেন কমলা। ড্রাগ পাচার বা সরকারি কর্তব্যচ্যুতির মতো স্পর্শকাতর মামলায় হ্যারিসের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়েই ডেমোক্রেটিক দলে কমলাকে আহ্বান জানান বাইডেন। রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতামত, শেষ নির্বাচনে কমলার উত্থানের পেছনে এই কৃষ্ণাঙ্গরাই সব থেকে বেশি অবদান রেখেছেন।

বাইডেনের গাড়ির নম্বরও ছিল ‘৪৬’ : যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথের দিন যে সুরক্ষিত গাড়ি তাকে বহন করেছে তার নম্বর ছিল ‘৪৬’। দেশটির ৪৬তম প্রেসিডেন্টের সম্মানে তাকে বহনকারী গাড়িতে দুই সংখ্যার এই নম্বর প্লেট রাখা হয়েছিল বলে সিএনএন জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে বুধবার বাইবেলে হাত রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেন বাইডেন। সমসাময়িক যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠিন সংকটকালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বয়সী রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন এই ডেমোক্র্যাট নেতা।

সহকর্মীদের অসম্মান করলেই বরখাস্ত

হোয়াইট হাউজে শৃঙ্খলা ফেরাচ্ছেন বাইডেন
 যুগান্তর ডেস্ক 
২২ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথের পর আগের প্রশাসনে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়া হোয়াইট হাউজে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বাইডেন।

নতুন প্রশাসনে নিয়োগ পাওয়া হোয়াইট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের শপথ পড়ানোর পরই সতর্ক করে বলেছেন, সহকর্মীদের অসম্মান করলে তৎক্ষণাৎ বরখাস্ত করা হবে।

কঠিন ব্যক্তিত্বের উল্টোপিঠের উৎসব মেজাজ এদিন নজর কেড়েছে মার্কিনদের। অভিষেক কনসার্টে নাতি বিউকে কোলে নিয়ে নেচেছেন দাদা জো বাইডেন। এতে পাদপ্রদীপের সব আলো কেড়ে নিয়েছে আট মাস বয়সি বিউ। ডেইলি মেইল, দ্য হিল। পূর্বসূরি ট্রাম্পের প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা ছিল। একে-অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার ঘটনা ছিল নৈমিত্তিক। এমন পরিস্থিতি সফলতায় বিঘ্ন ঘটায়। ফলে বাইডেন সতর্ক। সবাইকে বলে দিয়েছেন, পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

নিজের শপথের পর শতাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে শপথ পাঠ করান বাইডেন। এ সময় তাদের পরস্পরের প্রতি ভদ্রভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের এ দেশের আত্মাকে পুনর্গঠন করতে হবে। এর অংশ আপনারা সবাই। এটি কোনো বাগাড়ম্বর নয়।’

৭৮ বছর বয়সি বাইডেনের সবচেয়ে ছোট নাতি সে। তাকে অনেক বেশি আদর করেন বাইডেন। ছেলে হান্টারের ঘরের এই নাতির নাম রেখেছেন নিজের মৃত বড় ছেলে বিউ বাইডেনের নামে। অভিষেক কনসার্টে বিউ ছাড়াও বাইডেনের চার নাতনি ও মেয়ে অ্যাশলির দিকে ছিল ক্যামেরার বাড়তি নজর। অভিষেকের পরপর নিজের নিয়োগকৃতদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে বলেছেন বাইডেন।

ছেলে বিউকে খুব পছন্দ করতেন বাইডেন। বিউ নিজের যোগ্যতায় বাপের পছন্দের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। রাজনীতি, আইন ব্যবসা ও সামরিক বাহিনীতে চাকরি এবং ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিজের সব ধরনের যোগ্যতার প্রমাণও তিনি দিয়েছিলেন। ফলে ১৯৮৮ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারা বাইডেন চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার আজীবনের স্বপ্ন বিউয়ের মাধ্যমে পূরণ করবেন।

কিন্তু ব্রেন ক্যান্সারে ২০১৫ সালে বিউ মারা গেলে নিজেই আবারও প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নামেন। জয়ের পর এবং অভিষেকের সময়ও বাইডেন বলেছেন-বেঁচে থাকলে বিউই হতেন আজ প্রেসিডেন্ট। সেই বিউয়ের নামেই আরেক ছেলে হান্টারের সন্তানের নাম রেখেছেন। ফলে এই নাতি বেশি আদরের। অভিষেক কনসার্টে তাকে কোলে নিয়ে বাইডেনের নাচই তার প্রমাণ।

বিউ ছাড়া বাইডেনের অভিষেকে আরও আলো ছড়িয়েছেন তার চার নাতনি- নাওমি, ফিনেগান, মেইসি ও নাটালি। তাদের সঙ্গে ক্যামেরার নজর ছিল বাইডেনকন্যা অ্যাশলির দিকেও। লং স্কার্ট পরে অনুষ্ঠান মাতিয়ে রেখেছিলেন তারা। এ ছাড়া বাইডেনের ছেলে হান্টার, ফার্স্ট লেডি জিলসহ বাইডেন পরিবারের সবাই উপভোগ করেছেন অভিষেক কনসার্ট।

অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে শপথ নিয়ে ওভাল অফিসে আসতে হয়েছে বাইডেনকে। জয়ের পর পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন তা এক কথায় নজিরবিহীন। আমেরিকাকে ট্রাম্প করে ফেলেছেন বিভক্ত। ফলে বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলার বিশেষ চাওয়া ছিল অভিষেক উৎসব ‘আমাদের অনুষ্ঠান’ না হয়ে হবে ‘তোমাদের’ মানে সব আমেরিকানের অনুষ্ঠান। বাইডেনের আহ্বান ছিল ‘উপভোগ কর এবং ঐক্যবদ্ধ হও।’ অনেকটা ভার্চুয়াল উদযাপন হলেও কম মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত ছিল অভিষেক।

ইতিহাস তৈরি করে মার্কিন মসনদে কমলা : যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আতঙ্ক-উত্তেজনা, সংশয়-উদ্বেগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিলেন জো বাইডেন (৭৮)। একইসঙ্গে একগুচ্ছ ইতিহাস সঙ্গী করে প্রথম মহিলা হিসাবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন কমলা হ্যারিস (৫৬)। তবে তিনি শুধু প্রথম মহিলা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টই হলেন না, প্রথম অশ্বেতাঙ্গ এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হিসাবেও ইতিহাস তৈরি করলেন। রয়টার্স।

শপথগ্রহণ করার পরেই তার টুইট, ‘আমি কাজ করতে তৈরি।’ শপথগ্রহণ করার পরেই কমলার টুইটার হ্যান্ডলের বায়োও বদলে গিয়েছে। শুধু ভাইস প্রেসিডেন্টই না, এরই সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘ফার্স্ট সেকেন্ড জেন্টলম্যানের স্ত্রী। মমালা। আন্টি। মানুষের জন্য লড়াকু।’ কমলার স্বামী ডগ এমহফ আইনজীবী। টুইটার বায়োর মাধ্যমে তাকেও সম্মান জানালেন নতুন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাঝেও মায়ের স্মৃতিচারণ : নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই বারবার মায়ের স্মৃতিতে উদ্বেল হয়েছেন কমলা। এমনকি জীবনযুদ্ধে জয়ের সব কৃতিত্বও কমলা নিজের মা শ্যামলা গোপালনকেই দেন। বুধবার সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক সোনিয়া সতোমায়র কমলাকে শপথবাক্য পাঠ করান। রেজিনা শেলটন ও আইনজীবী থারগুড মার্শালের আনা দুটি বাইবেল স্পর্শ করে শপথ নেন কমলা। অন্যদিকে জন রজার্স ও সার্জিও হাডসনের তৈরি করা বিশেষ স্যুট পরেই মঞ্চে উঠতে দেখা যায় কমলাকে।

জাতি বিদ্বেষের মাঝে কমলার উত্থান : কালো চামড়ার মানুষের ওপর অত্যাচার, শিক্ষাঙ্গনে জাতিবিদ্বেষ, ক্রমবর্ধমান পুরুষতান্ত্রিকতা ও মহামারির ভয়াবহতার মাঝে একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কালো চামড়ার ‘মহিলা’ হিসাবে কমলার উত্থান তৈরি করল এক নতুন ইতিহাস। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম কালো চামড়ার মহিলা অ্যাটর্নি জেনারেল ও পরবর্তী সময় মার্কিন সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর এবার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হয়ে অনেক বাধাবিপত্তিকে চিরতরে ভেঙে ফেললেন কমলা।

কৃষ্ণাঙ্গ ভোটেই বাজিমাত কমলার : হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করার পর আইনজীবী হিসাবে প্রবল খ্যাতি অর্জন করেন কমলা। ড্রাগ পাচার বা সরকারি কর্তব্যচ্যুতির মতো স্পর্শকাতর মামলায় হ্যারিসের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়েই ডেমোক্রেটিক দলে কমলাকে আহ্বান জানান বাইডেন। রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতামত, শেষ নির্বাচনে কমলার উত্থানের পেছনে এই কৃষ্ণাঙ্গরাই সব থেকে বেশি অবদান রেখেছেন।

বাইডেনের গাড়ির নম্বরও ছিল ‘৪৬’ : যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথের দিন যে সুরক্ষিত গাড়ি তাকে বহন করেছে তার নম্বর ছিল ‘৪৬’। দেশটির ৪৬তম প্রেসিডেন্টের সম্মানে তাকে বহনকারী গাড়িতে দুই সংখ্যার এই নম্বর প্লেট রাখা হয়েছিল বলে সিএনএন জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে বুধবার বাইবেলে হাত রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেন বাইডেন। সমসাময়িক যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠিন সংকটকালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বয়সী রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন এই ডেমোক্র্যাট নেতা।