ট্রাম্পের রেহাই নেই : ইরান
jugantor
ট্রাম্পের রেহাই নেই : ইরান
সোলাইমানি হত্যা ভোলার নয় -খামেনি * তেহরানের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয় - বাইডেনের মুখপাত্র

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৪ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষমতা ছাড়লেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রেহাই নেই বলে সতর্ক করেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস। ওই অফিসের অ্যাকাউন্ট থেকে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্পকে এই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয় ‘প্রতিশোধ অনিবার্য। সোলাইমানির হত্যাকারী ও আদেশদাতাকে অবশ্যই প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে।’ টুইট বার্তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় ট্রাম্পের গলফ খেলার একটি ছবি। উপরে যুদ্ধবিমান নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং সেই বিমানের ছায়ায় গফল খেলছেন ট্রাম্প। বাইডেনের এক মুখপাত্র বলেছেন, এ ধরনের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার। কর্তৃপক্ষ বলছে, হুমকির কারণে নয়, বরং ভুয়া হওয়ায় ওই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করা হয়। রয়টার্স, এনডিটিভি।

গত বছরের জানুয়ারিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের অভিজাত কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাশেম সোলাইমানিকে ইরাকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের নির্দেশে ওই হামলা চালানোর পর থেকে ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ইরান। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার খামেনির টুইটে যে কোনো সময় প্রতিশোধ নেওয়া হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয়। কয়েকদিন আগে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ইব্রাহিম রাইসি হুঁশিয়ারি দেন, সোলাইমানির খুনিরা পৃথিবীতে নিরাপদে থাকতে পারবে না। হত্যার নির্দেশদাতা ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিচারের বাইরে থাকবেন না।

ট্রাম্পকে হুমকি দেওয়া ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার টুইট প্রথমে দেখা যায় ফার্সি ভাষার টুইটার অ্যাকাউন্টে। টুইটের ক্যাপশনে খামেনির ১৬ ডিসেম্বর দেওয়া একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি তুলে ধরে লেখা হয়, ‘প্রতিশোধ অবশ্যম্ভাবী। সোলাইমানির হত্যাকারী এবং এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ যিনি দিয়েছেন তাকে এর মূল্য দিতে হবে। এই প্রতিশোধ যথাসময়েই নেওয়া হবে।’ টুইটের ছবিটি খামেনির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও দেখা গেছে। খামেনির ঘনিষ্ট মহলের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই টুইটের লক্ষ্য হচ্ছে ট্রাম্পকে এ কথা মনে করিয়ে দেওয়া যে, তিনি ক্ষমতায় নেই বলেই নিরাপদে থাকবেন তা নয়, ইরানও তাদের শহিদ সোলাইমানিকে ভুলে যাবে না।

খামেনির ওই পোস্ট নিয়ে অনেকে আপত্তি তোলার পর টুইটার কর্তৃপক্ষ ‘#খামেনি-সাইট’ অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয় এবং এটি ভুয়া বলেও জানায়। তবে ইরানের কর্মকর্তারা পোস্টটি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে টুইটার জানিয়েছে, খামেনির মূল টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়নি। তবে খামেনি নামে থাকা একটি ভুয়া টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মবহির্ভূত কাজ করা হতো। কোনো উসকানিমূলক পোস্ট বা মন্তব্যের জন্য তাদের প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে টুইটার।

কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর থেকেই ইরান অনেক হুমকি-হুঁশিয়ারি দিয়ে এলেও প্রতিশোধের পথে অগ্রসর হতে পারেনি। বরং অতি উত্তেজনায় ইউক্রেনের পতাকাবাহী একটি বেসামরিক বিহান ভূপাতিত করে আরও সমালোচনার মুখে পড়েছে। ওই বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতেও রাজি হয়েছে ইরান। ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার পর নতুন করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রতি হুমকি দিয়ে নতুন প্রশাসনের মনোযোগ আকর্ষণ তেহরানের উদ্দেশ্য কি না, সেটাও দেখার বিষয়। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন ও বাইডেন প্রশাসনের মধ্যে ‘সাপে-নেউলে’ সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্ববাসীর জানা। অবশ্য হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র এমিলি হর্ন বলেছেন, ‘ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

ট্রাম্পের রেহাই নেই : ইরান

সোলাইমানি হত্যা ভোলার নয় -খামেনি * তেহরানের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয় - বাইডেনের মুখপাত্র
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষমতা ছাড়লেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রেহাই নেই বলে সতর্ক করেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস। ওই অফিসের অ্যাকাউন্ট থেকে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্পকে এই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয় ‘প্রতিশোধ অনিবার্য। সোলাইমানির হত্যাকারী ও আদেশদাতাকে অবশ্যই প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে।’ টুইট বার্তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় ট্রাম্পের গলফ খেলার একটি ছবি। উপরে যুদ্ধবিমান নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং সেই বিমানের ছায়ায় গফল খেলছেন ট্রাম্প। বাইডেনের এক মুখপাত্র বলেছেন, এ ধরনের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার। কর্তৃপক্ষ বলছে, হুমকির কারণে নয়, বরং ভুয়া হওয়ায় ওই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করা হয়। রয়টার্স, এনডিটিভি।

গত বছরের জানুয়ারিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের অভিজাত কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাশেম সোলাইমানিকে ইরাকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের নির্দেশে ওই হামলা চালানোর পর থেকে ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ইরান। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার খামেনির টুইটে যে কোনো সময় প্রতিশোধ নেওয়া হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয়। কয়েকদিন আগে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ইব্রাহিম রাইসি হুঁশিয়ারি দেন, সোলাইমানির খুনিরা পৃথিবীতে নিরাপদে থাকতে পারবে না। হত্যার নির্দেশদাতা ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিচারের বাইরে থাকবেন না।

ট্রাম্পকে হুমকি দেওয়া ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার টুইট প্রথমে দেখা যায় ফার্সি ভাষার টুইটার অ্যাকাউন্টে। টুইটের ক্যাপশনে খামেনির ১৬ ডিসেম্বর দেওয়া একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি তুলে ধরে লেখা হয়, ‘প্রতিশোধ অবশ্যম্ভাবী। সোলাইমানির হত্যাকারী এবং এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ যিনি দিয়েছেন তাকে এর মূল্য দিতে হবে। এই প্রতিশোধ যথাসময়েই নেওয়া হবে।’ টুইটের ছবিটি খামেনির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও দেখা গেছে। খামেনির ঘনিষ্ট মহলের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই টুইটের লক্ষ্য হচ্ছে ট্রাম্পকে এ কথা মনে করিয়ে দেওয়া যে, তিনি ক্ষমতায় নেই বলেই নিরাপদে থাকবেন তা নয়, ইরানও তাদের শহিদ সোলাইমানিকে ভুলে যাবে না।

খামেনির ওই পোস্ট নিয়ে অনেকে আপত্তি তোলার পর টুইটার কর্তৃপক্ষ ‘#খামেনি-সাইট’ অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয় এবং এটি ভুয়া বলেও জানায়। তবে ইরানের কর্মকর্তারা পোস্টটি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে টুইটার জানিয়েছে, খামেনির মূল টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়নি। তবে খামেনি নামে থাকা একটি ভুয়া টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মবহির্ভূত কাজ করা হতো। কোনো উসকানিমূলক পোস্ট বা মন্তব্যের জন্য তাদের প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে টুইটার।

কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর থেকেই ইরান অনেক হুমকি-হুঁশিয়ারি দিয়ে এলেও প্রতিশোধের পথে অগ্রসর হতে পারেনি। বরং অতি উত্তেজনায় ইউক্রেনের পতাকাবাহী একটি বেসামরিক বিহান ভূপাতিত করে আরও সমালোচনার মুখে পড়েছে। ওই বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতেও রাজি হয়েছে ইরান। ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার পর নতুন করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রতি হুমকি দিয়ে নতুন প্রশাসনের মনোযোগ আকর্ষণ তেহরানের উদ্দেশ্য কি না, সেটাও দেখার বিষয়। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন ও বাইডেন প্রশাসনের মধ্যে ‘সাপে-নেউলে’ সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্ববাসীর জানা। অবশ্য হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র এমিলি হর্ন বলেছেন, ‘ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’