দিল্লিতে হাজার হাজার কৃষকের ট্রাক্টর মিছিল
jugantor
দিল্লিতে হাজার হাজার কৃষকের ট্রাক্টর মিছিল
ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের টিয়ার শেল, লাঠিপেটা, ভয়ানক সংঘর্ষ * ট্রাক্টর উলটে এক কৃষক নিহত, পুলিশের বিরুদ্ধে গুলির অভিযোগ * লালকেল্লায় কৃষক সংগঠনের পতাকা, দিল্লিতে আংশিক বন্ধ ইন্টারনেট

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ট্রাক্টর মিছিল করেছেন হাজার হাজার কৃষক। দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে চলা কৃষক বিক্ষোভ ভারতের ৭২তম প্রজাতন্ত্র দিবসে এসে সহিংসতায় রূপ নেয়। কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। লাঠিচার্জ করে। উভয়পক্ষের মধ্যে ভয়ানক সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে ট্রাক্টর উলটে একজন কৃষক নিহত। পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষক নেতাদের। নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে দাবি পূরণ না হলে পরে পার্লামেন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছেন কৃষকরা। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার দখল নিয়ে সেখানে কৃষক সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করে দেয়। কৃষকদের বিক্ষোভ-মিছিল দমনে দিল্লিতে আংশিক ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, এপিবি।

ইনন্টারনেট সেবার পাশাপাশি আংশিক বন্ধ করা হয় মেট্রো সার্ভিসও। দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কৃষক আন্দোলনের নেতারা অনুরোধ করেন শান্তিপূর্ণ পথে থাকতে। কিন্তু তারপরও দুপুর পর্যন্ত কৃষক আন্দোলনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থামানো যায়নি। ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে একবার কৃষকদের সরানো হলে আবারও নতুন করে ট্র্যাক্টরে আরও বেশি প্রতিবাদী কৃষক এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ’ প্রজাতন্ত্র দিবসে এসে সহিংসতায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পাশাপাশি দিল্লির মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশনও বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কৃষক আন্দোলনের সমর্থক মুখ্যমন্ত্রীরা শান্ত করার চেষ্টা করেন। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহ কৃষকদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চালিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। আন্দোলনের মুখপাত্র যোগেন্দ্র যাদব, রাকেশ টিকায়েতরাও একই সুরে কথা বলেন। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য মঙ্গলবার সকাল থেকেই দিল্লির তিনদিকের সীমানায় ব্যারিকেড বসায় পুলিশ। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সব ভেঙে চুরমার করে পুলিশের ঘোষিত পথে না গিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা পথে ঢুকে হাজার হাজার ট্রাক্টর। পথ পালটে লালকেল্লায় গিয়ে কৃষকদের মধ্যে থেকে ‘অকুপাই দিল্লি’ আওয়াজ ওঠে। এতে কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। পুলিশ লাঠিচার্জ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। বিক্ষোভের তীব্রতার সময় মিন্টো রোডের কাছে ট্রাক্টর উলটে এক কৃষকের

মৃত্যু হয়। ট্রাক্টরের নিচে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। একে কেন্দ্র করে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশের গুলিতেই নিহত হয়েছে ওই কৃষক। লাশ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে কৃষকরা। আন্দোলনকারী এক কৃষক জানান, ‘মোদি সরকারকে বার্তা দিতেই আমরা এখানে জমায়েত হয়েছি এবং আমাদের কাজ হয়ে গেছে। আমরা বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। এবার

ফিরে যাব।’ আরেক কৃষক জানান, ‘আমাদের আটকানোর চেষ্টা করা হলেও আমরা রেড রোডে পৌঁছতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্যে না পৌঁছানো না পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে।’

বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে মোদি সরকার কৃষিকে উন্মুক্ত করে তিনটি কৃষি সংস্কার আইন পাশ করে। কিন্তু একে কৃষকবিরোধী বলে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন রাজ্যের কৃষক সংগঠনগুলো।

দিল্লিতে হাজার হাজার কৃষকের ট্রাক্টর মিছিল

ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের টিয়ার শেল, লাঠিপেটা, ভয়ানক সংঘর্ষ * ট্রাক্টর উলটে এক কৃষক নিহত, পুলিশের বিরুদ্ধে গুলির অভিযোগ * লালকেল্লায় কৃষক সংগঠনের পতাকা, দিল্লিতে আংশিক বন্ধ ইন্টারনেট
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ট্রাক্টর মিছিল করেছেন হাজার হাজার কৃষক। দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে চলা কৃষক বিক্ষোভ ভারতের ৭২তম প্রজাতন্ত্র দিবসে এসে সহিংসতায় রূপ নেয়। কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। লাঠিচার্জ করে। উভয়পক্ষের মধ্যে ভয়ানক সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে ট্রাক্টর উলটে একজন কৃষক নিহত। পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষক নেতাদের। নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে দাবি পূরণ না হলে পরে পার্লামেন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছেন কৃষকরা। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার দখল নিয়ে সেখানে কৃষক সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করে দেয়। কৃষকদের বিক্ষোভ-মিছিল দমনে দিল্লিতে আংশিক ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, এপিবি।

ইনন্টারনেট সেবার পাশাপাশি আংশিক বন্ধ করা হয় মেট্রো সার্ভিসও। দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কৃষক আন্দোলনের নেতারা অনুরোধ করেন শান্তিপূর্ণ পথে থাকতে। কিন্তু তারপরও দুপুর পর্যন্ত কৃষক আন্দোলনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থামানো যায়নি। ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে একবার কৃষকদের সরানো হলে আবারও নতুন করে ট্র্যাক্টরে আরও বেশি প্রতিবাদী কৃষক এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ’ প্রজাতন্ত্র দিবসে এসে সহিংসতায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পাশাপাশি দিল্লির মেট্রোরেলের কয়েকটি স্টেশনও বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কৃষক আন্দোলনের সমর্থক মুখ্যমন্ত্রীরা শান্ত করার চেষ্টা করেন। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহ কৃষকদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চালিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। আন্দোলনের মুখপাত্র যোগেন্দ্র যাদব, রাকেশ টিকায়েতরাও একই সুরে কথা বলেন। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য মঙ্গলবার সকাল থেকেই দিল্লির তিনদিকের সীমানায় ব্যারিকেড বসায় পুলিশ। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সব ভেঙে চুরমার করে পুলিশের ঘোষিত পথে না গিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা পথে ঢুকে হাজার হাজার ট্রাক্টর। পথ পালটে লালকেল্লায় গিয়ে কৃষকদের মধ্যে থেকে ‘অকুপাই দিল্লি’ আওয়াজ ওঠে। এতে কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। পুলিশ লাঠিচার্জ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। বিক্ষোভের তীব্রতার সময় মিন্টো রোডের কাছে ট্রাক্টর উলটে এক কৃষকের

মৃত্যু হয়। ট্রাক্টরের নিচে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। একে কেন্দ্র করে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশের গুলিতেই নিহত হয়েছে ওই কৃষক। লাশ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে কৃষকরা। আন্দোলনকারী এক কৃষক জানান, ‘মোদি সরকারকে বার্তা দিতেই আমরা এখানে জমায়েত হয়েছি এবং আমাদের কাজ হয়ে গেছে। আমরা বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। এবার

ফিরে যাব।’ আরেক কৃষক জানান, ‘আমাদের আটকানোর চেষ্টা করা হলেও আমরা রেড রোডে পৌঁছতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্যে না পৌঁছানো না পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে।’

বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে মোদি সরকার কৃষিকে উন্মুক্ত করে তিনটি কৃষি সংস্কার আইন পাশ করে। কিন্তু একে কৃষকবিরোধী বলে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন রাজ্যের কৃষক সংগঠনগুলো।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন