জাকারবার্গের ‘সমস্যা’ বাইডেন
jugantor
বিবিসির বিশ্লেষণ
জাকারবার্গের ‘সমস্যা’ বাইডেন

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। কারণ, অঢেল অর্থ রয়েছে তার, রয়েছে উদ্যম ও ক্ষমতা। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেই প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তিনি। এ জন্য আগেভাগেই ‘প্রচার-প্রচারণা’র কাজও শুরু করেছিলেন। এমনটা বিশ্বাস অনেক মার্কিনিরই। যদিও বিষয়টি কখনো স্বীকার করেননি তিনি। তারপরও এ নিয়ে বেশ আলোচনা-বিতর্ক হয়েছে মার্কিন মিডিয়ায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকে গুটিয়ে নেন। চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিয়েছেন প্রবীণ ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এদিকে এখনো প্রেসিডেন্ট হওয়ার সেই স্বপ্ন থেকে একচুলও সরে আসেননি ধনকুবের জাকারবার্গ। এ ক্ষেত্রে তার একমাত্র ‘পথের কাঁটা’ বাইডেনই। আগামী চার বছরের শাসনামলে ফেসবুক ও তার প্রতিষ্ঠাতার ডানা ছেঁটে ফেলতে পারেন তিনি।

তখনও মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ক্যামব্রিজ এনালিটিকার কেলেঙ্কারির কাহিনি ফাঁস হয়নি। এমনকি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যায় নিজেদের প্ল্যাটফরম ব্যবহার হওয়ার কথা স্বীকার করেনি ফেসবুক। কিংবা ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ গুজবের কারণে গণপিটুনিতে মৃত্যু শুরু হয়নি। কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে শেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী উগ্রপন্থি সংগঠন ‘কিউঅ্যানন’ বা ‘প্রাউড বয়েজ’-এর উত্থান হয়নি। বলা যায় তারও আগে থেকেই সমগ্র বিশ্ব তার পায়ের তলায়। দোর্দণ্ড প্রতাপে নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক দিয়ে ইন্টারনেট জগৎ শাসন করছেন জাকারবার্গ। এমন এক বাস্তবতায় ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। এক ফেসবুক পোস্টে সে কথা ঘোষণা করে জানিয়ে দিলেন। বললেন, তিনি আরও বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। তারা কীভাবে জীবনযাপন করছে, কাজ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে কেমন চিন্তা করছে-তা বিস্তারিত জানবেন। তার টার্গেট ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যেই যাওয়া এবং সরাসরি ‘প্রকৃত মার্কিন’ নাগরিকদের কাছাকাছি যাওয়া। তার এই উদ্যোগকে অনেকেই ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি হিসাবে দেখছিল। এ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হলে তিনি সব সময় এমন দাবি অস্বীকার করে গেছেন।

কিন্তু অনেকেরই বিশ্বাস, আগেও যেমন ছিল, এখনো প্রেসিডেন্ট হওয়ার গোপন বাসনা পোষণ করেন জাকারবার্গ। শুধু তাই নয়, সেই লক্ষ্যে কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বাইডেন। তার এই স্বপ্ন যাতে পরিণতি

না পায়, সেই ব্যবস্থাই নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন জাকারবার্গ।

এ বিষয়ে আমেরিকার ইকোনমিক লিবার্টিজ প্রজেক্টের পরিচালক ও বাইডেনশিবিরের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সারাহ মিলার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অন্যান্য একচেটিয়াবাদী টেকনোলজি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফেসবুককেই এখন সব থেকে বিপজ্জনক খলনায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক সময় মার্কিন প্রযুক্তিপাড়া সিলিকন ভ্যালি ও ফেসবুকের সঙ্গে ওবামা প্রশাসনের বেশ দহরম-মহরম ছিল। হয়তো জাকারবার্গদের সঙ্গে সখ্য ছিল বাইডেনেরও। কিন্তু এখন আর সেটা নেই; বরং তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান তার।

বিবিসির বিশ্লেষণ

জাকারবার্গের ‘সমস্যা’ বাইডেন

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। কারণ, অঢেল অর্থ রয়েছে তার, রয়েছে উদ্যম ও ক্ষমতা। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেই প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তিনি। এ জন্য আগেভাগেই ‘প্রচার-প্রচারণা’র কাজও শুরু করেছিলেন। এমনটা বিশ্বাস অনেক মার্কিনিরই। যদিও বিষয়টি কখনো স্বীকার করেননি তিনি। তারপরও এ নিয়ে বেশ আলোচনা-বিতর্ক হয়েছে মার্কিন মিডিয়ায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকে গুটিয়ে নেন। চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিয়েছেন প্রবীণ ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এদিকে এখনো প্রেসিডেন্ট হওয়ার সেই স্বপ্ন থেকে একচুলও সরে আসেননি ধনকুবের জাকারবার্গ। এ ক্ষেত্রে তার একমাত্র ‘পথের কাঁটা’ বাইডেনই। আগামী চার বছরের শাসনামলে ফেসবুক ও তার প্রতিষ্ঠাতার ডানা ছেঁটে ফেলতে পারেন তিনি।

তখনও মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ক্যামব্রিজ এনালিটিকার কেলেঙ্কারির কাহিনি ফাঁস হয়নি। এমনকি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যায় নিজেদের প্ল্যাটফরম ব্যবহার হওয়ার কথা স্বীকার করেনি ফেসবুক। কিংবা ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ গুজবের কারণে গণপিটুনিতে মৃত্যু শুরু হয়নি। কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে শেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী উগ্রপন্থি সংগঠন ‘কিউঅ্যানন’ বা ‘প্রাউড বয়েজ’-এর উত্থান হয়নি। বলা যায় তারও আগে থেকেই সমগ্র বিশ্ব তার পায়ের তলায়। দোর্দণ্ড প্রতাপে নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক দিয়ে ইন্টারনেট জগৎ শাসন করছেন জাকারবার্গ। এমন এক বাস্তবতায় ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। এক ফেসবুক পোস্টে সে কথা ঘোষণা করে জানিয়ে দিলেন। বললেন, তিনি আরও বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। তারা কীভাবে জীবনযাপন করছে, কাজ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে কেমন চিন্তা করছে-তা বিস্তারিত জানবেন। তার টার্গেট ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যেই যাওয়া এবং সরাসরি ‘প্রকৃত মার্কিন’ নাগরিকদের কাছাকাছি যাওয়া। তার এই উদ্যোগকে অনেকেই ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি হিসাবে দেখছিল। এ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হলে তিনি সব সময় এমন দাবি অস্বীকার করে গেছেন।

কিন্তু অনেকেরই বিশ্বাস, আগেও যেমন ছিল, এখনো প্রেসিডেন্ট হওয়ার গোপন বাসনা পোষণ করেন জাকারবার্গ। শুধু তাই নয়, সেই লক্ষ্যে কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বাইডেন। তার এই স্বপ্ন যাতে পরিণতি

না পায়, সেই ব্যবস্থাই নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন জাকারবার্গ।

এ বিষয়ে আমেরিকার ইকোনমিক লিবার্টিজ প্রজেক্টের পরিচালক ও বাইডেনশিবিরের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সারাহ মিলার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অন্যান্য একচেটিয়াবাদী টেকনোলজি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফেসবুককেই এখন সব থেকে বিপজ্জনক খলনায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক সময় মার্কিন প্রযুক্তিপাড়া সিলিকন ভ্যালি ও ফেসবুকের সঙ্গে ওবামা প্রশাসনের বেশ দহরম-মহরম ছিল। হয়তো জাকারবার্গদের সঙ্গে সখ্য ছিল বাইডেনেরও। কিন্তু এখন আর সেটা নেই; বরং তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান তার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন