‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’র হুশিয়ারি চীনা প্রেসিডেন্টের
jugantor
‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’র হুশিয়ারি চীনা প্রেসিডেন্টের
নবম সামরিক বৈঠকে লাদাখ সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহারে একমত চীন-ভারত

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বে আবারও স্নায়ুযুদ্ধের ঘটনা ঘটতে পারে বলে এর বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নির্দিষ্ট কোনো দেশ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র বা এর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম উল্লেখ না করেই শীতল যুদ্ধের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন তিনি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে নিজের ভার্চুয়াল বক্তব্যে এমন সতর্কতা উচ্চারণ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। এদিকে লাদাখ সীমান্ত নিয়ে দুই নিকট প্রতিবেশী চীন-ভারতের মধ্যে নতুন উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা পর্যায়ের নবম বৈঠকে সীমান্তে শান্তি ফেরাতে একমত হয়েছে উভয়পক্ষ। আলজাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান। জিনপিং তার বক্তব্যে বলেন, নিজেদের মধ্যে ছোট জোট করলে, নতুন শীতল যুদ্ধ শুরু করলে, অন্যের মত প্রত্যাখ্যান করলে, কাউকে হুমকি দিলে বা ভয় দেখালে, ইচ্ছাকৃতভাবে অবরোধ আরোপ করলে, পণ্য সরবরাহে বাধা দিলে অথবা কাউকে বিচ্ছিন্ন করে রাখলে তা পৃথিবীকে বিভেদের দিকে ঠেলে দেবে। এমনকি সংঘাতের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। সুনির্দিষ্ট কারও নাম উচ্চারণ না করলেও জিনপিং এ কথা বোঝাতে চেয়েছেন, বেইজিং কোনোভাবেই ওয়াশিংটনের নির্দেশ মোতাবেক চলবে না। তার স্পষ্ট বক্তব্য ‘কোনো বৈশ্বিক সমস্যা কোনো দেশ এককভাবে সমাধান করতে পারে না। সবার প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে।’

চীনা প্রেসিডেন্টের মন্তব্য ‘আমাদের উচিত একটি মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তোলা। বহুপাক্ষিক একটি বাণিজ্য ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বৈষম্যমূলক ও অন্তর্মুখী ব্যবস্থা বা নিয়মনীতি বাদ দেওয়া উচিত। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আদান-প্রদানের বাধাগুলো তুলে দেওয়া উচিত।’ এ সময় নিজেদের মানবাধিকার বিষয়ে জিনপিং বলেন, মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে কারও সমালোচনায় ভীত নয়। প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে অন্যের থেকে আলাদা। কেউ কারও চেয়ে বড় নয়।

ওয়ার্ল্ড অর্থনৈতিক ফোরামের দাভোসের ভার্চুয়াল সম্মেলনে মহামারি বিষয়ে জিনপিং বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ না করলে মহামারি নির্মূল অসম্ভব। সেক্ষেত্রে চীনকে বর্জনের মাধ্যমে কেবল সংঘাতই বাড়বে। আমাদের সবাইকে নিঃসংকোচে মহামারি মোকাবিলায় অংশ নিতে হবে। সবাই যদি বর্জনের মন-মানসিকতা নিয়ে এগোই, তাহলে ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ বেশি দূরে নয়। করোনাভাইরাস নির্মূলে সবাইকে জোটবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কারণ মানবিকতা না বাড়ালে হুমকি-হুঁশিয়ারি বা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যে কোনো সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বৃহৎ দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) উত্তেজনা কমাতে দ্রুত মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা পেছানোর বিষয়ে একমত হয়েছে দিল্লি ও বেইজিং। নবম দফার সামরিক স্তরের বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সিকিমের নাকু লা সীমান্তে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পরও শান্তির পক্ষের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিক আলোচনার পাশাপাশি দুপক্ষই মুখোমুখি অবস্থানকারী বাহিনীকে সংযত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। সেনা সংখ্যা কমানোর বিষয়টি দশম দফার বৈঠকে আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে উভয় দেশ একমত হলে সেনা কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গত শনিবার বলেছিলেন, এলএসিতে মোতায়েন চীনা সেনার সংখ্যা কমানো না হলে ভারতও একতরফাভাবে সেনা কমাবে না। গত বছরের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে সংঘর্ষের পরে দুই দেশের কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠকে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা পেছনোর পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’র হুশিয়ারি চীনা প্রেসিডেন্টের

নবম সামরিক বৈঠকে লাদাখ সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহারে একমত চীন-ভারত
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বে আবারও স্নায়ুযুদ্ধের ঘটনা ঘটতে পারে বলে এর বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নির্দিষ্ট কোনো দেশ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র বা এর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম উল্লেখ না করেই শীতল যুদ্ধের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন তিনি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে নিজের ভার্চুয়াল বক্তব্যে এমন সতর্কতা উচ্চারণ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। এদিকে লাদাখ সীমান্ত নিয়ে দুই নিকট প্রতিবেশী চীন-ভারতের মধ্যে নতুন উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা পর্যায়ের নবম বৈঠকে সীমান্তে শান্তি ফেরাতে একমত হয়েছে উভয়পক্ষ। আলজাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান। জিনপিং তার বক্তব্যে বলেন, নিজেদের মধ্যে ছোট জোট করলে, নতুন শীতল যুদ্ধ শুরু করলে, অন্যের মত প্রত্যাখ্যান করলে, কাউকে হুমকি দিলে বা ভয় দেখালে, ইচ্ছাকৃতভাবে অবরোধ আরোপ করলে, পণ্য সরবরাহে বাধা দিলে অথবা কাউকে বিচ্ছিন্ন করে রাখলে তা পৃথিবীকে বিভেদের দিকে ঠেলে দেবে। এমনকি সংঘাতের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। সুনির্দিষ্ট কারও নাম উচ্চারণ না করলেও জিনপিং এ কথা বোঝাতে চেয়েছেন, বেইজিং কোনোভাবেই ওয়াশিংটনের নির্দেশ মোতাবেক চলবে না। তার স্পষ্ট বক্তব্য ‘কোনো বৈশ্বিক সমস্যা কোনো দেশ এককভাবে সমাধান করতে পারে না। সবার প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে।’

চীনা প্রেসিডেন্টের মন্তব্য ‘আমাদের উচিত একটি মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তোলা। বহুপাক্ষিক একটি বাণিজ্য ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বৈষম্যমূলক ও অন্তর্মুখী ব্যবস্থা বা নিয়মনীতি বাদ দেওয়া উচিত। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আদান-প্রদানের বাধাগুলো তুলে দেওয়া উচিত।’ এ সময় নিজেদের মানবাধিকার বিষয়ে জিনপিং বলেন, মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে কারও সমালোচনায় ভীত নয়। প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে অন্যের থেকে আলাদা। কেউ কারও চেয়ে বড় নয়।

ওয়ার্ল্ড অর্থনৈতিক ফোরামের দাভোসের ভার্চুয়াল সম্মেলনে মহামারি বিষয়ে জিনপিং বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ না করলে মহামারি নির্মূল অসম্ভব। সেক্ষেত্রে চীনকে বর্জনের মাধ্যমে কেবল সংঘাতই বাড়বে। আমাদের সবাইকে নিঃসংকোচে মহামারি মোকাবিলায় অংশ নিতে হবে। সবাই যদি বর্জনের মন-মানসিকতা নিয়ে এগোই, তাহলে ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ বেশি দূরে নয়। করোনাভাইরাস নির্মূলে সবাইকে জোটবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কারণ মানবিকতা না বাড়ালে হুমকি-হুঁশিয়ারি বা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যে কোনো সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বৃহৎ দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) উত্তেজনা কমাতে দ্রুত মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা পেছানোর বিষয়ে একমত হয়েছে দিল্লি ও বেইজিং। নবম দফার সামরিক স্তরের বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সিকিমের নাকু লা সীমান্তে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পরও শান্তির পক্ষের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিক আলোচনার পাশাপাশি দুপক্ষই মুখোমুখি অবস্থানকারী বাহিনীকে সংযত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। সেনা সংখ্যা কমানোর বিষয়টি দশম দফার বৈঠকে আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে উভয় দেশ একমত হলে সেনা কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গত শনিবার বলেছিলেন, এলএসিতে মোতায়েন চীনা সেনার সংখ্যা কমানো না হলে ভারতও একতরফাভাবে সেনা কমাবে না। গত বছরের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে সংঘর্ষের পরে দুই দেশের কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠকে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা পেছনোর পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন