মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া নীতি পালটে ফেলছেন বাইডেন
jugantor
মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া নীতি পালটে ফেলছেন বাইডেন
ইরানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরতে চায় ওয়াশিংটন * সৌদি আরব-আমিরাত অস্ত্র চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা * ফিলিস্তিন-ইসরাইল দ্বিরাষ্ট্র সমাধান চায় হোয়াইট হাউজ * আফগানিস্তান, ইয়েমেনেও বদলে যাচ্ছে ট্রাম্পনীতি * চীনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে জাপানের পক্ষে অবস্থান ঘোষণা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৯ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও এশিয়া নীতি পুরোপুরি পালটে ফেলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তন ও যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন তিনি।

শপথ নেওয়ার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ কর্মদিবসে বুধবার বাইডেন নিজে ও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনি ব্লিংকেন ভিন্ন ভিন্ন বার্তায় তাদের পরিবর্তিত নীতির কথা জানান।

সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি স্থগিত, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ও পারমাণবিক চুক্তি, ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধান এবং চীনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ও মিত্র জাপানের পক্ষে অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে। এএফপি, রয়টার্স।

সৌদি-আমিরাতে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত : মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নতুন মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান বদলের প্রথমেই আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির চুক্তি স্থগিতের কথা বলেছেন ব্লিনকেন। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিনিময়ে এই অস্ত্র বিক্রয় চুক্তি অনুমোদন দিয়েছিলেন সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্লিনকেন বলেন, আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য ও পররাষ্টনীতি উন্নয়নে ওই দুদেশে অস্ত্র বিক্রি কতটা সহায়ক, তা নিশ্চিত হতে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কয়েক হাজার কোটি ডলারের চুক্তিতে আমিরাতের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং সৌদি আরবের কাছে প্রিসিশন গাইডেড মিউনিশন মারণাস্ত্র বিক্রির কথা রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় ফেরার আভাস : ব্লিনকেন জানান, তেহরান যদি নিজের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে তা হলে আমেরিকাও ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসবে। মার্কিন সিনেটে নিজের মন্ত্রিত্ব চূড়ান্ত হওয়ার অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ব্লিনকেন আরও বলেন, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চললে আমেরিকা তার মিত্রদের নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আরও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছার চেষ্টা করবে। তাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ আরও বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রচেষ্টায় হওয়া চুক্তিটি থেকে ২০১৮ সালের মে মাসে আমেরিকাকে বের করে তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ট্রাম্প।

আফগানিস্তান, ইয়েমেন নীতিতেও বদল : আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত হওয়া শান্তি চুক্তি নিয়ে ব্লিনকেন বলেন, আমরা এই চুক্তির অনেক গভীরে যেতে চাই। সবকিছু খতিয়ে দেখেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইয়ামেনে যুদ্ধরত হুথি বিদ্রোহীদের ওপর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর আরোপিত বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা এরই মধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাইডেন প্রশাসনকে নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধান চান বাইডেন : প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের ‘দ্বিরাষ্ট্র’ভিত্তিক সমাধানে বিশ্বাস করেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মনে করেন, ‘দ্বিরাষ্ট্র’ সমাধানই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।’

বাইডেন প্রশাসন ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা তহবিল পুনরায় চালু করতেও আগ্রহী। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত রিচার্ড মিলস জানান, ‘বাইডেন প্রশাসন ফিলিস্তিন এবং ইসরাইল উভয়ের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ততার সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চায়।

জাপানের পক্ষে চীনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে : দক্ষিণ চীন সাগরসহ বিভিন্ন বিতর্কিত দ্বীপ নিয়ে জাপান ও অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে আগের মতো মার্কিন অবস্থান বজায় থাকবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার সঙ্গে প্রথম ফোনালাপে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

এ সময় চীনের সম্প্রসারণবাদিতার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে মিত্রদের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ঘোষণা করেন তিনি।

পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি নবায়নে রুশ পার্লামেন্টের সম্মতি : পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্মতি দিয়েছেন রাশিয়ার আইনপ্রণেতারা। স্টার্ট নামে পরিচিত চুক্তিটির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০১০ সালে ওবামা প্রশাসন মস্কোর সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি (স্টার্ট) স্বাক্ষর করে। একে ওবামা প্রশাসানের জন্য বড় রাজনৈতিক বিজয় হিসাবে দেখা হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া নীতি পালটে ফেলছেন বাইডেন

ইরানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরতে চায় ওয়াশিংটন * সৌদি আরব-আমিরাত অস্ত্র চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা * ফিলিস্তিন-ইসরাইল দ্বিরাষ্ট্র সমাধান চায় হোয়াইট হাউজ * আফগানিস্তান, ইয়েমেনেও বদলে যাচ্ছে ট্রাম্পনীতি * চীনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে জাপানের পক্ষে অবস্থান ঘোষণা
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৯ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও এশিয়া নীতি পুরোপুরি পালটে ফেলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তন ও যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন তিনি।

শপথ নেওয়ার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ কর্মদিবসে বুধবার বাইডেন নিজে ও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনি ব্লিংকেন ভিন্ন ভিন্ন বার্তায় তাদের পরিবর্তিত নীতির কথা জানান।

সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি স্থগিত, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ও পারমাণবিক চুক্তি, ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধান এবং চীনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ও মিত্র জাপানের পক্ষে অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে। এএফপি, রয়টার্স।

সৌদি-আমিরাতে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত : মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নতুন মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান বদলের প্রথমেই আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির চুক্তি স্থগিতের কথা বলেছেন ব্লিনকেন। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিনিময়ে এই অস্ত্র বিক্রয় চুক্তি অনুমোদন দিয়েছিলেন সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্লিনকেন বলেন, আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য ও পররাষ্টনীতি উন্নয়নে ওই দুদেশে অস্ত্র বিক্রি কতটা সহায়ক, তা নিশ্চিত হতে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কয়েক হাজার কোটি ডলারের চুক্তিতে আমিরাতের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং সৌদি আরবের কাছে প্রিসিশন গাইডেড মিউনিশন মারণাস্ত্র বিক্রির কথা রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় ফেরার আভাস : ব্লিনকেন জানান, তেহরান যদি নিজের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে তা হলে আমেরিকাও ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসবে। মার্কিন সিনেটে নিজের মন্ত্রিত্ব চূড়ান্ত হওয়ার অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ব্লিনকেন আরও বলেন, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চললে আমেরিকা তার মিত্রদের নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আরও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছার চেষ্টা করবে। তাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ আরও বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রচেষ্টায় হওয়া চুক্তিটি থেকে ২০১৮ সালের মে মাসে আমেরিকাকে বের করে তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ট্রাম্প।

আফগানিস্তান, ইয়েমেন নীতিতেও বদল : আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত হওয়া শান্তি চুক্তি নিয়ে ব্লিনকেন বলেন, আমরা এই চুক্তির অনেক গভীরে যেতে চাই। সবকিছু খতিয়ে দেখেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইয়ামেনে যুদ্ধরত হুথি বিদ্রোহীদের ওপর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর আরোপিত বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা এরই মধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাইডেন প্রশাসনকে নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধান চান বাইডেন : প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের ‘দ্বিরাষ্ট্র’ভিত্তিক সমাধানে বিশ্বাস করেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মনে করেন, ‘দ্বিরাষ্ট্র’ সমাধানই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।’

বাইডেন প্রশাসন ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা তহবিল পুনরায় চালু করতেও আগ্রহী। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত রিচার্ড মিলস জানান, ‘বাইডেন প্রশাসন ফিলিস্তিন এবং ইসরাইল উভয়ের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ততার সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চায়।

জাপানের পক্ষে চীনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে : দক্ষিণ চীন সাগরসহ বিভিন্ন বিতর্কিত দ্বীপ নিয়ে জাপান ও অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে আগের মতো মার্কিন অবস্থান বজায় থাকবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার সঙ্গে প্রথম ফোনালাপে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

এ সময় চীনের সম্প্রসারণবাদিতার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে মিত্রদের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ঘোষণা করেন তিনি।

পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি নবায়নে রুশ পার্লামেন্টের সম্মতি : পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্মতি দিয়েছেন রাশিয়ার আইনপ্রণেতারা। স্টার্ট নামে পরিচিত চুক্তিটির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০১০ সালে ওবামা প্রশাসন মস্কোর সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি (স্টার্ট) স্বাক্ষর করে। একে ওবামা প্রশাসানের জন্য বড় রাজনৈতিক বিজয় হিসাবে দেখা হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন