ঝিমিয়ে পড়া আন্দোলন চাঙা হলো কান্নায়
jugantor
দিল্লি সীমান্ত রণক্ষেত্র
ঝিমিয়ে পড়া আন্দোলন চাঙা হলো কান্নায়
কৃষক-স্থানীয় খণ্ডযুদ্ধ : পুলিশের লাঠিচার্জ, শক্তি বাড়াল কৃষকরা * কৃষকদের লাঠিপেটা, তাঁবুতে পাথর হামলা * জীবনের শেষ অনশনে বসছেন আন্না হাজারে

  যুগান্তর ডেস্ক  

৩০ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রজাতন্ত্র দিবসে লালকেল্লা তাণ্ডবের পর ফের চাঙা হয়ে উঠেছে ভারতের ঝিমিয়ে পড়া কৃষক আন্দোলন। পুলিশ-বিজেপি-কৃষক সংঘর্ষে রীতিমতো রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে দিল্লি সীমান্ত। বৃহস্পতিবার রাতে গাজিপুর সীমান্ত, শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিঙ্ঘু সীমানায় দফায় দফায় চলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ।

একপর্যায়ে কৃষকদের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ ঘটনার পরপরই সীমান্তে আরও বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করেছে দিল্লি। শক্তি বাড়াচ্ছে কৃষকরাও। এতদিন যাদের নীরব সমর্থন ছিল তারাও জড়ো হচ্ছেন দিল্লির বিক্ষোভস্থলে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার।

ডুবতে বসা কৃষক আন্দোলনের চেহারা রাতারাতি বদলে দিল ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (বিকেইউ)-এর জাতীয় মুখপাত্র রাকেশ টিকায়েতের সংবাদ সম্মেলন। সেখানে আবেগতাড়িত কৃষক নেতা কেঁদে ফেলেন। সেই ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে যায় ইন্টারনেটে। কাঁদতে কাঁদতে প্রবীণ কৃষক নেতার আকুতি বদলে দেয় পরিস্থিতি।

পুলিশকে উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা ফের জড়ো হতে থাকেন ধর্না চালানোর জন্য। রাকেশের এই কান্না দেখে রাতেই উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও কৃষক এসে যোগ দেন গাজিপুরে। শুক্রবার দুপুরে কৃষকদের আন্দোলনস্থল থেকে তুলে দেওয়ার দাবিতে সিঙ্ঘু সীমানায় ঢুকে কৃষক তাঁবুতে হামলা চালিয়েছেন ২০০-রও বেশি মানুষ।

প্রাথমিকভাবে পোস্টার, ব্যানার নিয়ে হাজির হলেও পরে পাথর ছোড়া হয় ও একাধিক তাঁবু ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। রুখে দাঁড়ায় কৃষকরাও। লাঠি-তলোয়ার নিয়ে ধাওয়া দেয়। চার দিকে পুলিশের কড়া পাহারা, গাড়ি যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা, এমনকি পানির গাড়ি দাঁড় করাতেও ঝামেলা করছিল পুলিশ।

তার মধ্যে এত লোক কী করে আন্দোলনস্থলে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সাদা পোশাকে পুলিশকর্মীরাই আন্দোলনকারীদের শায়েস্তা করতে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছেন। পুলিশ অবশ্য অভিযোগ করেছে, এই সময়ে দু’দিক থেকেই পাথর ছোড়া শুরু হয়েছিল। সেই কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শান্তি বজায় রাখতে পুলিশকে লাঠি চালাতে হয়, ফাটাতে হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল।

এ ঘটনার পর রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে রাকেশ টিকায়েত বলেন, হাজার হাজার কৃষক, যারা এই প্রতিবাদের অংশ ছিল না, তারাও এখন আমাদের আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে এগিয়ে এসেছেন। তবে পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।

আন্দোলনকারীরা কৃষকরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা পিছু হটবে না। উত্তর প্রদেশের রামপুরের কৃষক ৫৩ বছরের ভগবন্ত সিং বলেন, পুলিশ এলেও আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসে থাকব। কৃষি আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে কৃষকদের সমর্থনে জীবনের শেষ অনশনে নামছেন আন্না হাজারে। তিনি বলেছেন, ‘আজ থেকে (৩০ জানুয়ারি) আমরণ অনশনে বসতে চলেছি।’ মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে নিজের এলাকাতেই তিনি বসবেন অনশনে।

কৃষকদের সমর্থনে তিনি জানিয়েছেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের দাবিগুলোর দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে না। সরকার যথেষ্ট সংবেদনশীল নয়।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন। কিন্তু তাও সরকার আলোচনা করে বিষয়টির কোনো সমাধানে পৌঁছতে পারেনি বলে তিনি ‘জীবনের শেষ’ অনশনে বসতে চলেছেন।

স্থানীয়রা নন হুমকি দিচ্ছে হিন্দু সেনা : ‘স্থানীয়’রা নন! দিল্লির সিঙ্ঘু সীমানা খালি করে দেওয়ার জন্য কৃষকদের ওপর চাপ দিচ্ছে ‘হিন্দু সেনা’। শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদেরও ‘হুমকি’ দিতে দেখা গিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাত থেকেই গাজিপুর সীমানায় বিক্ষোভকারী কৃষকদের অবস্থান তুলে নিতে বলছে যোগী প্রশাসন। তারপর শুক্রবার সকাল থেকেই সিঙ্ঘু সীমানার সামনে জড়ো হন হিন্দু সেনার কর্মীরা।

বেশ কয়েকটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ‘হিন্দু সেনা’দের ‘স্থানীয়’ হিসাবে দেখানো হলেও ‘অল্ট নিউজ’-এর বক্তব্য, তারা ঠিক ‘স্থানীয়’ নন! হিন্দু সেনার বিক্ষোভকে ‘স্থানীয়’দের বিক্ষোভ হিসাবে দেখা হচ্ছে। সর্বভারতীয় নিউজ চ্যালেন ‘আজ তক’-এর তরফে একটি টুইট করা হয়।

তাতে লেখা হয়, ‘সিঙ্ঘু সীমানায় কৃষক আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিছিল করছে হিন্দু সেনা।’ সেটি রিটুইট করেন ‘হিন্দু সেনা’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি বিষ্ণু গুপ্তা।

তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘অল্ট নিউজ’। তিনি জানান, ‘কৃষক আন্দোলনের খলিস্তানি সমর্থকদের বিরুদ্ধে আমরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছি। রাস্তা খালি করে দেওয়ার জন্য একদিন সময় দিচ্ছি তাদের। গোটা এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রেখেছে। তাই কৃষক নেতাদের সঙ্গে আমরা কথা বলতে পারছি না।’

দিল্লি সীমান্ত রণক্ষেত্র

ঝিমিয়ে পড়া আন্দোলন চাঙা হলো কান্নায়

কৃষক-স্থানীয় খণ্ডযুদ্ধ : পুলিশের লাঠিচার্জ, শক্তি বাড়াল কৃষকরা * কৃষকদের লাঠিপেটা, তাঁবুতে পাথর হামলা * জীবনের শেষ অনশনে বসছেন আন্না হাজারে
 যুগান্তর ডেস্ক 
৩০ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রজাতন্ত্র দিবসে লালকেল্লা তাণ্ডবের পর ফের চাঙা হয়ে উঠেছে ভারতের ঝিমিয়ে পড়া কৃষক আন্দোলন। পুলিশ-বিজেপি-কৃষক সংঘর্ষে রীতিমতো রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে দিল্লি সীমান্ত। বৃহস্পতিবার রাতে গাজিপুর সীমান্ত, শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিঙ্ঘু সীমানায় দফায় দফায় চলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ।

একপর্যায়ে কৃষকদের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ ঘটনার পরপরই সীমান্তে আরও বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করেছে দিল্লি। শক্তি বাড়াচ্ছে কৃষকরাও। এতদিন যাদের নীরব সমর্থন ছিল তারাও জড়ো হচ্ছেন দিল্লির বিক্ষোভস্থলে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার।

ডুবতে বসা কৃষক আন্দোলনের চেহারা রাতারাতি বদলে দিল ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (বিকেইউ)-এর জাতীয় মুখপাত্র রাকেশ টিকায়েতের সংবাদ সম্মেলন। সেখানে আবেগতাড়িত কৃষক নেতা কেঁদে ফেলেন। সেই ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে যায় ইন্টারনেটে। কাঁদতে কাঁদতে প্রবীণ কৃষক নেতার আকুতি বদলে দেয় পরিস্থিতি।

পুলিশকে উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা ফের জড়ো হতে থাকেন ধর্না চালানোর জন্য। রাকেশের এই কান্না দেখে রাতেই উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও কৃষক এসে যোগ দেন গাজিপুরে। শুক্রবার দুপুরে কৃষকদের আন্দোলনস্থল থেকে তুলে দেওয়ার দাবিতে সিঙ্ঘু সীমানায় ঢুকে কৃষক তাঁবুতে হামলা চালিয়েছেন ২০০-রও বেশি মানুষ।

প্রাথমিকভাবে পোস্টার, ব্যানার নিয়ে হাজির হলেও পরে পাথর ছোড়া হয় ও একাধিক তাঁবু ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। রুখে দাঁড়ায় কৃষকরাও। লাঠি-তলোয়ার নিয়ে ধাওয়া দেয়। চার দিকে পুলিশের কড়া পাহারা, গাড়ি যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা, এমনকি পানির গাড়ি দাঁড় করাতেও ঝামেলা করছিল পুলিশ।

তার মধ্যে এত লোক কী করে আন্দোলনস্থলে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সাদা পোশাকে পুলিশকর্মীরাই আন্দোলনকারীদের শায়েস্তা করতে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছেন। পুলিশ অবশ্য অভিযোগ করেছে, এই সময়ে দু’দিক থেকেই পাথর ছোড়া শুরু হয়েছিল। সেই কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শান্তি বজায় রাখতে পুলিশকে লাঠি চালাতে হয়, ফাটাতে হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল।

এ ঘটনার পর রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে রাকেশ টিকায়েত বলেন, হাজার হাজার কৃষক, যারা এই প্রতিবাদের অংশ ছিল না, তারাও এখন আমাদের আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে এগিয়ে এসেছেন। তবে পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।

আন্দোলনকারীরা কৃষকরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা পিছু হটবে না। উত্তর প্রদেশের রামপুরের কৃষক ৫৩ বছরের ভগবন্ত সিং বলেন, পুলিশ এলেও আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসে থাকব। কৃষি আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে কৃষকদের সমর্থনে জীবনের শেষ অনশনে নামছেন আন্না হাজারে। তিনি বলেছেন, ‘আজ থেকে (৩০ জানুয়ারি) আমরণ অনশনে বসতে চলেছি।’ মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে নিজের এলাকাতেই তিনি বসবেন অনশনে।

কৃষকদের সমর্থনে তিনি জানিয়েছেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের দাবিগুলোর দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে না। সরকার যথেষ্ট সংবেদনশীল নয়।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন। কিন্তু তাও সরকার আলোচনা করে বিষয়টির কোনো সমাধানে পৌঁছতে পারেনি বলে তিনি ‘জীবনের শেষ’ অনশনে বসতে চলেছেন।

স্থানীয়রা নন হুমকি দিচ্ছে হিন্দু সেনা : ‘স্থানীয়’রা নন! দিল্লির সিঙ্ঘু সীমানা খালি করে দেওয়ার জন্য কৃষকদের ওপর চাপ দিচ্ছে ‘হিন্দু সেনা’। শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদেরও ‘হুমকি’ দিতে দেখা গিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাত থেকেই গাজিপুর সীমানায় বিক্ষোভকারী কৃষকদের অবস্থান তুলে নিতে বলছে যোগী প্রশাসন। তারপর শুক্রবার সকাল থেকেই সিঙ্ঘু সীমানার সামনে জড়ো হন হিন্দু সেনার কর্মীরা।

বেশ কয়েকটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ‘হিন্দু সেনা’দের ‘স্থানীয়’ হিসাবে দেখানো হলেও ‘অল্ট নিউজ’-এর বক্তব্য, তারা ঠিক ‘স্থানীয়’ নন! হিন্দু সেনার বিক্ষোভকে ‘স্থানীয়’দের বিক্ষোভ হিসাবে দেখা হচ্ছে। সর্বভারতীয় নিউজ চ্যালেন ‘আজ তক’-এর তরফে একটি টুইট করা হয়।

তাতে লেখা হয়, ‘সিঙ্ঘু সীমানায় কৃষক আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিছিল করছে হিন্দু সেনা।’ সেটি রিটুইট করেন ‘হিন্দু সেনা’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি বিষ্ণু গুপ্তা।

তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘অল্ট নিউজ’। তিনি জানান, ‘কৃষক আন্দোলনের খলিস্তানি সমর্থকদের বিরুদ্ধে আমরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছি। রাস্তা খালি করে দেওয়ার জন্য একদিন সময় দিচ্ছি তাদের। গোটা এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রেখেছে। তাই কৃষক নেতাদের সঙ্গে আমরা কথা বলতে পারছি না।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ভারতে কৃষক আন্দোলন