মঙ্গল কাহিনী
jugantor
মঙ্গল কাহিনী

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মঙ্গলগ্রহে মানুষের অভিযান নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ টেকনিক্যাল স্টাডি করেন ওয়ার্নহার ভন ব্রাউন। ১৯৪৭ সালে শুরু হওয়া তার কাজ ১৯৫২ সালে প্রকাশ করা হয় দাস মার্স প্রজেক্ট নামে (ইংরেজিতে ১৯৬২ সালে দ্য মার্স প্রজেক্ট নামে প্রকাশিত)। ১৯৫৭ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত প্রজেক্ট ওরিয়ন নামে মঙ্গলের পরমাণু নিয়ে কাজ হয়। প্রথমবারের মতো সফলভাবে মঙ্গলযান পাঠায় রাশিয়া (সোভিয়েত ইউনিয়ন)। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর মার্স-থ্রি নভোযান মঙ্গলে অবতরণের পর ছবি পাঠাতে শুরু করে। কিন্তু অবতরণের ২-৩ মিনিটের মধ্যে যানটি বিকল হয়ে যায়। এর থেকে বিভিন্ন দেশের সফল-ব্যর্থ অনেক অভিযান পরিচালনা হয়েছে। মঙ্গল অভিযানে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন দেশের নাম। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার নাসার ‘মার্স এক্সপ্লোরেশন রোভার’ সফল অবতরণ করেছে।

রোভারের অবতরণ ও কর্মপরিকল্পনা

- বৃহস্পতিবার : জিএমটি ২০:৪৮ মিনিটে মঙ্গল পরিমণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন

- জিএমটি ২০:৫২ মিনিটে প্যারাসুট খুলে অবতরণের প্রস্তুতি

- জিএমটি ২০:৫৪ মিনিটে বল ব্যবহারের মধ্য দিয়ে অবতরণ শুরু

- জিএমটি ২০:৫৫ মিনিটে চাকা খুলে যায়

জিএমটি= আন্তর্জাতিক সময় বা গ্রিনিচ মিন টাইম। বাংলাদেশ সময় এর চেয়ে ছয় ঘণ্টা অগ্রসর।

- মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের বিস্তারিত অনুসন্ধান

- সাত মাসে ৪৭ কোটির বেশি মাইল দূরত্ব অতিক্রম

- দুই বছর ধরে গবেষণা চালানো

-কোনো গ্রহে হেলিকপ্টার উড়ানোর মানবজাতির মাইলফলক অর্জন

১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই রিপোর্ট পাঠাতে শুরু করেছে মঙ্গলে পাঠানো নাসার প্রথম হেলিকপ্টার। মঙ্গল তথা রেড প্লানেটের ভূপৃষ্ঠে অবস্থান করে আছে ইনজেনুইটি মার্স হেলিকপ্টারটি। অবতরণের পর এটি মঙ্গলগ্রহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরির কন্ট্রোল রুমে বার্তা পাঠাতে শুরু করে নাসা।

গবেষণা রোভারে যা আছে

১. প্যানোরামিক ক্যামেরা (প্যানক্যাম)

এর কাজ মঙ্গলের খনিজ, অভ্যন্তরীণ বিন্যাস ও ভূখণ্ডের গঠন নিশ্চিত করা।

২. মিনিয়েচার থার্মাল এমিসন স্পেক্ট্রোমিটার (মিনি-টিইএস)

মিনিয়েচার থার্মাল এমিসন স্পেক্ট্রোমিটারের কাজ হচ্ছে-সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মঙ্গলের পাথর ও মাটির পরিচয় ঠিক করা। সেখানকার বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার পরিচয় শনাক্ত উপযোগী করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

৩. মোসবাউয়ার স্পেক্টেটর

লোহাবাহিত পানি ও মাটির সূক্ষ্ম খনিজ অনুসন্ধানের জন্য তৈরি করা হয়েছে মোসবাউয়ার স্পেক্টেটর।

৪. অ্যালফা পার্টিকল এক্স-রে স্পেক্ট্রোমিটার (এপিএক্সএস)

অ্যালফা পার্টিকল এক্স-রে স্পেক্ট্রোমিটার পাথর ও মাটির গঠন উপাদানগুলোর সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য তৈরি।

৫. ম্যাগনেটস

এটি ম্যাগনেটিক ধুলার কণা সংগ্রহ করবে। মোসবাউয়ার স্পেক্টেটর ও এপিএক্সএস তৈরি করা হয়েছে সংগ্রহকৃত কণিকার ম্যাগনেটিক ও নন-ম্যাগনেটিক বিন্যাস চিহ্নিত করার জন্য। এগুলো বালুবাহিত ধুলার কণা ও পাথরের কণার গঠনও বিশ্লেষণ করবে।

৬. মাইক্রোস্কোপিক ইমেজার (এমআই)

এর কাজ হচ্ছে মঙ্গলের পাথর ও মাটির উচ্চ রেজ্যুলেশন সমৃদ্ধ ও ক্লোজ ছবি তোলা।

৭. রকেট অ্যাবরেসন টুল (আরএটি)

এর কাজ হচ্ছে- পাথরের উপরিভাগের আবহাওয়া ও ধুলাজনিত অংশ দূর করা এবং মঙ্গলযানের যন্ত্রপাতির কাছে পরীক্ষার জন্য ফ্রেশ উপাদান পাঠানো।

পৃথিবীর সঙ্গে ছয় মিল

গত প্রায় ছয় দশক ধরে মঙ্গল নিয়ে গবেষণা করছে নাসা। অভিযান চালিয়েছে মোট ১৮ বার। এর মধ্যে পারসিভিয়ারান্স রোভারটি দিয়ে মাত্র ৮ বার সফলতা এসেছে। এসব রোভারের ব্যাপক অনুসন্ধানের মাধ্যমে মঙ্গল সম্পর্কে উঠে এসেছে চমকপ্রদ সব তথ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছয়টি, যা পৃথিবীর সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। সেগুলো হলো ১. মঙ্গলে লবণাক্ত পানির অস্তিত্ব, ২. উষ্ণতর জলবায়ু, ৩. মঙ্গলে অতীতে পানি ছিল, ৪. প্রাচীন আগ্নেয়গিরি, ৫. প্রবাহমান পানি ও ৬. জীবনের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ।

মঙ্গল কাহিনী

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মঙ্গলগ্রহে মানুষের অভিযান নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ টেকনিক্যাল স্টাডি করেন ওয়ার্নহার ভন ব্রাউন। ১৯৪৭ সালে শুরু হওয়া তার কাজ ১৯৫২ সালে প্রকাশ করা হয় দাস মার্স প্রজেক্ট নামে (ইংরেজিতে ১৯৬২ সালে দ্য মার্স প্রজেক্ট নামে প্রকাশিত)। ১৯৫৭ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত প্রজেক্ট ওরিয়ন নামে মঙ্গলের পরমাণু নিয়ে কাজ হয়। প্রথমবারের মতো সফলভাবে মঙ্গলযান পাঠায় রাশিয়া (সোভিয়েত ইউনিয়ন)। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর মার্স-থ্রি নভোযান মঙ্গলে অবতরণের পর ছবি পাঠাতে শুরু করে। কিন্তু অবতরণের ২-৩ মিনিটের মধ্যে যানটি বিকল হয়ে যায়। এর থেকে বিভিন্ন দেশের সফল-ব্যর্থ অনেক অভিযান পরিচালনা হয়েছে। মঙ্গল অভিযানে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন দেশের নাম। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার নাসার ‘মার্স এক্সপ্লোরেশন রোভার’ সফল অবতরণ করেছে।

রোভারের অবতরণ ও কর্মপরিকল্পনা

- বৃহস্পতিবার : জিএমটি ২০:৪৮ মিনিটে মঙ্গল পরিমণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন

- জিএমটি ২০:৫২ মিনিটে প্যারাসুট খুলে অবতরণের প্রস্তুতি

- জিএমটি ২০:৫৪ মিনিটে বল ব্যবহারের মধ্য দিয়ে অবতরণ শুরু

- জিএমটি ২০:৫৫ মিনিটে চাকা খুলে যায়

জিএমটি= আন্তর্জাতিক সময় বা গ্রিনিচ মিন টাইম। বাংলাদেশ সময় এর চেয়ে ছয় ঘণ্টা অগ্রসর।

- মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের বিস্তারিত অনুসন্ধান

- সাত মাসে ৪৭ কোটির বেশি মাইল দূরত্ব অতিক্রম

- দুই বছর ধরে গবেষণা চালানো

-কোনো গ্রহে হেলিকপ্টার উড়ানোর মানবজাতির মাইলফলক অর্জন

১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই রিপোর্ট পাঠাতে শুরু করেছে মঙ্গলে পাঠানো নাসার প্রথম হেলিকপ্টার। মঙ্গল তথা রেড প্লানেটের ভূপৃষ্ঠে অবস্থান করে আছে ইনজেনুইটি মার্স হেলিকপ্টারটি। অবতরণের পর এটি মঙ্গলগ্রহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরির কন্ট্রোল রুমে বার্তা পাঠাতে শুরু করে নাসা।

গবেষণা রোভারে যা আছে

১. প্যানোরামিক ক্যামেরা (প্যানক্যাম)

এর কাজ মঙ্গলের খনিজ, অভ্যন্তরীণ বিন্যাস ও ভূখণ্ডের গঠন নিশ্চিত করা।

২. মিনিয়েচার থার্মাল এমিসন স্পেক্ট্রোমিটার (মিনি-টিইএস)

মিনিয়েচার থার্মাল এমিসন স্পেক্ট্রোমিটারের কাজ হচ্ছে-সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মঙ্গলের পাথর ও মাটির পরিচয় ঠিক করা। সেখানকার বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার পরিচয় শনাক্ত উপযোগী করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

৩. মোসবাউয়ার স্পেক্টেটর

লোহাবাহিত পানি ও মাটির সূক্ষ্ম খনিজ অনুসন্ধানের জন্য তৈরি করা হয়েছে মোসবাউয়ার স্পেক্টেটর।

৪. অ্যালফা পার্টিকল এক্স-রে স্পেক্ট্রোমিটার (এপিএক্সএস)

অ্যালফা পার্টিকল এক্স-রে স্পেক্ট্রোমিটার পাথর ও মাটির গঠন উপাদানগুলোর সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য তৈরি।

৫. ম্যাগনেটস

এটি ম্যাগনেটিক ধুলার কণা সংগ্রহ করবে। মোসবাউয়ার স্পেক্টেটর ও এপিএক্সএস তৈরি করা হয়েছে সংগ্রহকৃত কণিকার ম্যাগনেটিক ও নন-ম্যাগনেটিক বিন্যাস চিহ্নিত করার জন্য। এগুলো বালুবাহিত ধুলার কণা ও পাথরের কণার গঠনও বিশ্লেষণ করবে।

৬. মাইক্রোস্কোপিক ইমেজার (এমআই)

এর কাজ হচ্ছে মঙ্গলের পাথর ও মাটির উচ্চ রেজ্যুলেশন সমৃদ্ধ ও ক্লোজ ছবি তোলা।

৭. রকেট অ্যাবরেসন টুল (আরএটি)

এর কাজ হচ্ছে- পাথরের উপরিভাগের আবহাওয়া ও ধুলাজনিত অংশ দূর করা এবং মঙ্গলযানের যন্ত্রপাতির কাছে পরীক্ষার জন্য ফ্রেশ উপাদান পাঠানো।

পৃথিবীর সঙ্গে ছয় মিল

গত প্রায় ছয় দশক ধরে মঙ্গল নিয়ে গবেষণা করছে নাসা। অভিযান চালিয়েছে মোট ১৮ বার। এর মধ্যে পারসিভিয়ারান্স রোভারটি দিয়ে মাত্র ৮ বার সফলতা এসেছে। এসব রোভারের ব্যাপক অনুসন্ধানের মাধ্যমে মঙ্গল সম্পর্কে উঠে এসেছে চমকপ্রদ সব তথ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছয়টি, যা পৃথিবীর সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। সেগুলো হলো ১. মঙ্গলে লবণাক্ত পানির অস্তিত্ব, ২. উষ্ণতর জলবায়ু, ৩. মঙ্গলে অতীতে পানি ছিল, ৪. প্রাচীন আগ্নেয়গিরি, ৫. প্রবাহমান পানি ও ৬. জীবনের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ।