কেমন হবে লাল গ্রহের মানব সমাজ?
jugantor
কেমন হবে লাল গ্রহের মানব সমাজ?

  জামির হোসেন  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সৌরজগতে মঙ্গলের সঙ্গেই পৃথিবীর বেশি মিল। মানুষের বসবাসের জন্য এই গ্রহকে দ্বিতীয় স্থান বলে মনে করা হয়। গ্রহটি নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। চাঁদ জয় করার পরপরই মানুষকে পেয়ে বসে লাল গ্রহ জয়ের নেশা। শুরু হয় পরীক্ষা, নিরীক্ষা আর অভিযান। অজানাকে জানার ও জয় করার নেশাই ধীরে ধীরে আজ মানুষকে মঙ্গল জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। এখন গ্রহটিতে মানব-বসতি বা উপনিবেশ স্থাপনের স্বপ্ন দেখছে মানুষ। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে মানুষকে বেশকিছু জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হবে। সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে যেমন রয়েছে মঙ্গলে পৌঁছতে উপযুক্ত নভোযান তৈরির বিষয়, তেমনি রয়েছে সেখানে জীবন ধারণের পরিবেশ (লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম) তৈরির মতো চ্যালেঞ্জ। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জোর কদমে চলছে গবেষণা। শুরু হয়েছে বিভিন্ন পরিকল্পনাও। আগামী এক বা দুই দশকের মধ্যেই সেটা সম্ভব করার ঘোষণা দিয়েছেন অনেকেই। আগামী বছরই মঙ্গলে ‘মার্স স্টারশিপ’ রকেট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি স্পেসএক্স। ২০৫০ সালের মধ্যে লাল গ্রহে অন্তত ১০ লাখ মানুষকে নিয়ে শহর গড়ার লক্ষ্যও প্রতিষ্ঠানটির। অনেকেরই জিজ্ঞাসা, যদি শেষ পর্যন্ত মঙ্গলে বসতি গড়া সম্ভবও হয়, কেমন হবে সেখানকার মানব সমাজ। সেই সমাজ কীভাবেই বা চলবে, মর্ত্যবাসী কীভাবে মঙ্গলবাসী হয়ে উঠবে, মানুষের আচার-আচরণ কেমন হবে- রয়েছে এমন সব প্রশ্নও।

উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট জবাব পাওয়া কঠিন। এ বিষয়ে যা কিছু তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে, তার সবই পূর্বধারণামূলক। বিজ্ঞানভিত্তিকবিষয়ক ‘ফিউচার লার্ন’-এ ‘হোয়াট উইল হিউম্যান সোসাইটি অন মার্স লুক লাইক’ শিরোনামের এক প্রবন্ধে মঙ্গলের মানব সমাজের গঠন ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পৃথিবী থেকে লাল গ্রহের উদ্দেশ্যে মানুষের প্রথম যে যাত্রাটি হবে তাতে থাকবে নভোচারীদের ছোট্ট একটা দল। সেখানে স্বল্প কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করবে তারা। তাদের এই যাত্রার স্পষ্ট একটা মিশন থাকবে। দলের সবাইকে একটা ‘চেইন অব কমান্ড’ (শৃঙ্খলা) মেনে চলতে হবে।

এরপর অদূর ভবিষ্যতে হয়তো গ্রহটিতে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী এবং আরও বড় পরিসরে মানুষ সমাজ গড়ে তোলা হবে; স্পেসএক্স যেমনটা বলছে। হয়তো পৃথিবীর মতোই একাধিক সমাজ বা সম্প্রদায়ও গড়ে উঠবে। তবে এসব সমাজ বা সম্প্রদায়কে হতে হবে অতি সংগঠিত। এর কারণ মঙ্গলে জীবনযাপনের প্রতিটা মুহূর্তেই দেখা দেবে টেকনিক্যাল তথা প্রযুক্তিগত, শারীরিক-মানসিক ও স্বাস্থ্যগত এবং সামাজিক চাহিদার মতো জটিল সব চ্যালেঞ্জ। শুধু দক্ষতা ও ঐক্যবদ্ধ কর্মতৎপরতার মাধ্যমেই সেগুলো মোকাবিলা সম্ভব হবে।

প্রবন্ধে আরও বলা হচ্ছে, মঙ্গলে যদি কোনো বসতি গড়ে ওঠে সেটা ঘটবে পৃথিবী থেকে পাঠানো নভোচারীদের মাধ্যমেই। হয়তো এসব নভোচারী হবে পৃথিবীর কোনো দেশের কোনো বিশেষ জাতি বা কোনো সেনাবাহিনী কিংবা বিশেষ কোনো সংস্থা বা সংগঠনের সদস্য। এর ফলে তাদের অংশগ্রহণে যখন মঙ্গলে কোনো সমাজ গড়ে উঠবে, তখন সেখানেও পৃথিবীর মতোই সামাজিক স্তর বা পদবিন্যাস (হায়ারার্কিক্যাল) সামাজিক কাঠামো ও সমাজ পরিচালনা নীতি (কমান্ড সিস্টেম) সৃষ্টি হবে। তবে প্রথমদিকে নভোচারীদের যেহেতু বাণিজ্যিক উদ্যোগের অংশ হিসাবে পাঠানো হবে, তাই এই কমান্ড সিস্টেম কম কঠোর হবে। এরপর সমাজ যত বিস্তৃত ও জটিল হবে, এর পরিচালন নীতিও তত কঠোর হবে। অর্থাৎ এক পর্যায়ে কঠোর শাসন ও শোষণ ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠবে।

আবার এর বিপরীতটাও ঘটতে পারে। বলা হচ্ছে, মঙ্গলে একবার বসতি বা উপনিবেশ স্থাপন হয়ে যাওয়ার পর এর অধিবাসীরাই ঠিক করবে তাদের ‘নতুন পৃথিবী’ কীভাবে চলবে; কীভাবে চলবে তাদের দৈনন্দিন কার্যাবলি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। এক্ষেত্রে পৃথিবী যেভাবে বা যে নিয়মনীতিতে চলছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাল গ্রহের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। তবে এ নিয়ে এখনই চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে মর্ত্যবাসীরা। যেমন, মঙ্গলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে চলবে সে ব্যাপারে ইতোমধ্যে জানিয়েছে স্পেসএক্স। সম্প্রতি (ডিসেম্বর, ২০২০) এ বিষয়ে এক ঘোষণার এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) ইলন মাস্ক বলেন, ‘ক্রিপ্টোপারেন্সির (সাংকেতিক মুদ্রার) ওপর নির্ভর করে মঙ্গলগ্রহের অর্থব্যবস্থা চলবে।’ এই ক্রিপ্টোকারেন্সির নাম রাখা হয়েছে ‘মার্সকয়েন’। মঙ্গল গ্রহে ভার্চুয়াল অর্থ লেনদেনে ব্যবহার হবে এই মুদ্রা।

সামাজিকভাবে বসবাস করতে গিয়ে মঙ্গলবাসীরা হয়তো একটা নতুন ধর্মও সৃষ্টি করবে। পৃথিবী ছেড়ে মঙ্গলে বসতি গড়তে তাদের প্রত্যেককেই বড় একটা ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সেই সঙ্গে এই ত্যাগ স্বীকারের যে মানসিক যন্ত্রণা- সেটাও সহ্য করতে হবে। সামাজিক ও কর্মজীবনের পাশাপাশি পরিবার, খাদ্য ও ব্যক্তিগত পরিসর- সবকিছুই থাকবে একজন মঙ্গলবাসীর। এক্ষেত্রে সে যা কিছু ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং করছে তা সে কেন করছে তার একটা কারণ (রিজন) ও সদুত্তর খুঁজে পেতেই তার ধর্মের প্রয়োজন হবে। একটা পরিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলে একটা মানবসভ্যতাও গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে। তবে ঠিক কতদিন নাগাদ বা বসতি গাড়ার কোনো পর্যায়ে সেখানকার মানুষ নিজেদের মর্ত্যবাসীর পরিচয় ভুলে পুরোপুরি মঙ্গলবাসী হয়ে উঠবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এখনই এসব প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেলেও পৃথিবীতে মানুষের আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টা স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন বিশ্লেষকরা। পৃথিবীতে নতুন নতুন অঞ্চলে ভ্রমণ করা ও নতুন বসতি বা উপনিবেশ গড়া এবং সেই সঙ্গে তার আদি ভূমি বা দেশের কথা ভুলে যাওয়ার ইতিহাস মানুষের রয়েছে। এমনকি নতুন অঞ্চলে সংঘবদ্ধ বসবাসের মাধ্যমে নতুন করে সভ্যতা গড়ার ভূরি ভূরি নজির রয়েছে। মঙ্গলের ক্ষেত্রে তেমনটাই ঘটার স্পষ্ট ইঙ্গিত ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। লাল গ্রহে পা পড়ার আগেই সেখানে শহর তৈরির পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা। এ কাজে যে প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে এগিয়ে আছে তার মধ্যে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স রয়েছে সামনের কাতারে। মাস্ক জানিয়েছেন, মঙ্গলে বসতি স্থাপনে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হবে।

কেমন হবে লাল গ্রহের মানব সমাজ?

 জামির হোসেন 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সৌরজগতে মঙ্গলের সঙ্গেই পৃথিবীর বেশি মিল। মানুষের বসবাসের জন্য এই গ্রহকে দ্বিতীয় স্থান বলে মনে করা হয়। গ্রহটি নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। চাঁদ জয় করার পরপরই মানুষকে পেয়ে বসে লাল গ্রহ জয়ের নেশা। শুরু হয় পরীক্ষা, নিরীক্ষা আর অভিযান। অজানাকে জানার ও জয় করার নেশাই ধীরে ধীরে আজ মানুষকে মঙ্গল জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। এখন গ্রহটিতে মানব-বসতি বা উপনিবেশ স্থাপনের স্বপ্ন দেখছে মানুষ। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে মানুষকে বেশকিছু জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হবে। সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে যেমন রয়েছে মঙ্গলে পৌঁছতে উপযুক্ত নভোযান তৈরির বিষয়, তেমনি রয়েছে সেখানে জীবন ধারণের পরিবেশ (লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম) তৈরির মতো চ্যালেঞ্জ। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জোর কদমে চলছে গবেষণা। শুরু হয়েছে বিভিন্ন পরিকল্পনাও। আগামী এক বা দুই দশকের মধ্যেই সেটা সম্ভব করার ঘোষণা দিয়েছেন অনেকেই। আগামী বছরই মঙ্গলে ‘মার্স স্টারশিপ’ রকেট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি স্পেসএক্স। ২০৫০ সালের মধ্যে লাল গ্রহে অন্তত ১০ লাখ মানুষকে নিয়ে শহর গড়ার লক্ষ্যও প্রতিষ্ঠানটির। অনেকেরই জিজ্ঞাসা, যদি শেষ পর্যন্ত মঙ্গলে বসতি গড়া সম্ভবও হয়, কেমন হবে সেখানকার মানব সমাজ। সেই সমাজ কীভাবেই বা চলবে, মর্ত্যবাসী কীভাবে মঙ্গলবাসী হয়ে উঠবে, মানুষের আচার-আচরণ কেমন হবে- রয়েছে এমন সব প্রশ্নও।

উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট জবাব পাওয়া কঠিন। এ বিষয়ে যা কিছু তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে, তার সবই পূর্বধারণামূলক। বিজ্ঞানভিত্তিকবিষয়ক ‘ফিউচার লার্ন’-এ ‘হোয়াট উইল হিউম্যান সোসাইটি অন মার্স লুক লাইক’ শিরোনামের এক প্রবন্ধে মঙ্গলের মানব সমাজের গঠন ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পৃথিবী থেকে লাল গ্রহের উদ্দেশ্যে মানুষের প্রথম যে যাত্রাটি হবে তাতে থাকবে নভোচারীদের ছোট্ট একটা দল। সেখানে স্বল্প কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করবে তারা। তাদের এই যাত্রার স্পষ্ট একটা মিশন থাকবে। দলের সবাইকে একটা ‘চেইন অব কমান্ড’ (শৃঙ্খলা) মেনে চলতে হবে।

এরপর অদূর ভবিষ্যতে হয়তো গ্রহটিতে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী এবং আরও বড় পরিসরে মানুষ সমাজ গড়ে তোলা হবে; স্পেসএক্স যেমনটা বলছে। হয়তো পৃথিবীর মতোই একাধিক সমাজ বা সম্প্রদায়ও গড়ে উঠবে। তবে এসব সমাজ বা সম্প্রদায়কে হতে হবে অতি সংগঠিত। এর কারণ মঙ্গলে জীবনযাপনের প্রতিটা মুহূর্তেই দেখা দেবে টেকনিক্যাল তথা প্রযুক্তিগত, শারীরিক-মানসিক ও স্বাস্থ্যগত এবং সামাজিক চাহিদার মতো জটিল সব চ্যালেঞ্জ। শুধু দক্ষতা ও ঐক্যবদ্ধ কর্মতৎপরতার মাধ্যমেই সেগুলো মোকাবিলা সম্ভব হবে।

প্রবন্ধে আরও বলা হচ্ছে, মঙ্গলে যদি কোনো বসতি গড়ে ওঠে সেটা ঘটবে পৃথিবী থেকে পাঠানো নভোচারীদের মাধ্যমেই। হয়তো এসব নভোচারী হবে পৃথিবীর কোনো দেশের কোনো বিশেষ জাতি বা কোনো সেনাবাহিনী কিংবা বিশেষ কোনো সংস্থা বা সংগঠনের সদস্য। এর ফলে তাদের অংশগ্রহণে যখন মঙ্গলে কোনো সমাজ গড়ে উঠবে, তখন সেখানেও পৃথিবীর মতোই সামাজিক স্তর বা পদবিন্যাস (হায়ারার্কিক্যাল) সামাজিক কাঠামো ও সমাজ পরিচালনা নীতি (কমান্ড সিস্টেম) সৃষ্টি হবে। তবে প্রথমদিকে নভোচারীদের যেহেতু বাণিজ্যিক উদ্যোগের অংশ হিসাবে পাঠানো হবে, তাই এই কমান্ড সিস্টেম কম কঠোর হবে। এরপর সমাজ যত বিস্তৃত ও জটিল হবে, এর পরিচালন নীতিও তত কঠোর হবে। অর্থাৎ এক পর্যায়ে কঠোর শাসন ও শোষণ ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠবে।

আবার এর বিপরীতটাও ঘটতে পারে। বলা হচ্ছে, মঙ্গলে একবার বসতি বা উপনিবেশ স্থাপন হয়ে যাওয়ার পর এর অধিবাসীরাই ঠিক করবে তাদের ‘নতুন পৃথিবী’ কীভাবে চলবে; কীভাবে চলবে তাদের দৈনন্দিন কার্যাবলি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। এক্ষেত্রে পৃথিবী যেভাবে বা যে নিয়মনীতিতে চলছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাল গ্রহের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। তবে এ নিয়ে এখনই চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে মর্ত্যবাসীরা। যেমন, মঙ্গলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে চলবে সে ব্যাপারে ইতোমধ্যে জানিয়েছে স্পেসএক্স। সম্প্রতি (ডিসেম্বর, ২০২০) এ বিষয়ে এক ঘোষণার এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) ইলন মাস্ক বলেন, ‘ক্রিপ্টোপারেন্সির (সাংকেতিক মুদ্রার) ওপর নির্ভর করে মঙ্গলগ্রহের অর্থব্যবস্থা চলবে।’ এই ক্রিপ্টোকারেন্সির নাম রাখা হয়েছে ‘মার্সকয়েন’। মঙ্গল গ্রহে ভার্চুয়াল অর্থ লেনদেনে ব্যবহার হবে এই মুদ্রা।

সামাজিকভাবে বসবাস করতে গিয়ে মঙ্গলবাসীরা হয়তো একটা নতুন ধর্মও সৃষ্টি করবে। পৃথিবী ছেড়ে মঙ্গলে বসতি গড়তে তাদের প্রত্যেককেই বড় একটা ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সেই সঙ্গে এই ত্যাগ স্বীকারের যে মানসিক যন্ত্রণা- সেটাও সহ্য করতে হবে। সামাজিক ও কর্মজীবনের পাশাপাশি পরিবার, খাদ্য ও ব্যক্তিগত পরিসর- সবকিছুই থাকবে একজন মঙ্গলবাসীর। এক্ষেত্রে সে যা কিছু ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং করছে তা সে কেন করছে তার একটা কারণ (রিজন) ও সদুত্তর খুঁজে পেতেই তার ধর্মের প্রয়োজন হবে। একটা পরিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলে একটা মানবসভ্যতাও গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে। তবে ঠিক কতদিন নাগাদ বা বসতি গাড়ার কোনো পর্যায়ে সেখানকার মানুষ নিজেদের মর্ত্যবাসীর পরিচয় ভুলে পুরোপুরি মঙ্গলবাসী হয়ে উঠবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এখনই এসব প্রশ্নের জবাব পাওয়া গেলেও পৃথিবীতে মানুষের আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টা স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন বিশ্লেষকরা। পৃথিবীতে নতুন নতুন অঞ্চলে ভ্রমণ করা ও নতুন বসতি বা উপনিবেশ গড়া এবং সেই সঙ্গে তার আদি ভূমি বা দেশের কথা ভুলে যাওয়ার ইতিহাস মানুষের রয়েছে। এমনকি নতুন অঞ্চলে সংঘবদ্ধ বসবাসের মাধ্যমে নতুন করে সভ্যতা গড়ার ভূরি ভূরি নজির রয়েছে। মঙ্গলের ক্ষেত্রে তেমনটাই ঘটার স্পষ্ট ইঙ্গিত ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। লাল গ্রহে পা পড়ার আগেই সেখানে শহর তৈরির পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা। এ কাজে যে প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে এগিয়ে আছে তার মধ্যে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স রয়েছে সামনের কাতারে। মাস্ক জানিয়েছেন, মঙ্গলে বসতি স্থাপনে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হবে।