হারলেই ৫০ বছর বুটের তলে: সু চির আইনজীবী
jugantor
হারলেই ৫০ বছর বুটের তলে: সু চির আইনজীবী

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অভ্যুত্থানবিরোধী লড়াইয়ে যে কোনো মূল্যে জিততে হবে। হেরে গেলে আবারও ৫০ বছর জান্তার দাস হয়ে কাটাতে হবে। বুটের তলে যাবে অর্ধযুগ।

সু চির বিচারের রায় নিশ্চিত করবে মিয়ানমারের জনগণ আবারও সামরিক বাহিনীর দাসে পরিণত হবে কি না? গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির আইনজীবী খিন মাউং ঝাও বার্তা সংস্থা এএফপিকে এসব কথা বলেছেন।

বর্তমানে গ্রেফতার এড়াতে ঝাও একেক রাত একেক বাসায় কাটাচ্ছেন। ঝাও একসঙ্গে দুটি বিষয়ে জয়ের কথা বলেছেন। প্রথমত জান্তাবিরোধী লড়াইয়ে জনগণকে জিততে হবে। তারপর সু চির বিরুদ্ধে চলমান বিচারের রায়েও জিততে হবে। কারণ সু চি জেলে থাকলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই দীর্ঘমেয়াদে প্রাণ পাবে না।

বর্তমানে জান্তা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে আছে। এমনকি আদালতের ওপরও প্রভাব রয়েছে সেনাবাহিনীর। শীর্ষ আদালতকে সু চির প্রতি সহানুভূতিশীল বিচারকশূন্য করার পদক্ষেপও এরই মধ্যে জান্তা নিয়েছে।

অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা ও করোনাভাইরাস বিধিনিষেধ অমান্য করা- সু চির বিরুদ্ধে অস্পষ্ট দুটি অভিযোগ খণ্ডনের দায়িত্ব নিয়েছেন তার আইনজীবী ঝাও। কিন্তু তাকে এখনো মক্কেলের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পহেলা মার্চ সু চির বিরুদ্ধে মামলার শুনানি। খিন ঝাও বলেছেন, যদি তাকে অনুমতি দেওয়া না হয় এবং চোখে ধুলা দেওয়ার মতো বিচার করা হয়;

তবে তিনিও বসে থাকবেন না।

গোটা বিশ্বকে জানিয়ে দেবেন, এ বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়নি।

খিন ঝাও নিজেও একাধিকবার জেল খেটেছেন জান্তাবিরোধী লড়াইয়ে। বর্তমানে ৭০ বছর বয়সি এ আইনজীবী ১৭ বছর বয়সে আগের জান্তার সময় জেলে যান। মান্দালয়ে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ বিলির কারণে গ্রেফতার হন। তাকে মিয়ানমারের উপকূল থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে কুখ্যাত কোকো দ্বীপ কারাগারে পাঠানো হয়।

১৯৭২ সালে মুক্ত হয়ে তিন বছর পর আবারও ছাত্র বিক্ষোভের কারণে গ্রেফতার হন ঝাও। বর্তমানেও গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজের বাড়িতে না থেকে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে থাকছেন। তবে তিনি ভয় পাচ্ছেন না। ঝাওয়ের ভাষায় ‘নিজের জন্য আমার ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমি এসব দমন-পীড়নের ভেতর দিয়েই বেড়ে উঠেছি।

মিয়ানমার এখন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে দাঁড়িয়ে।’ জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবীর সর্বশেষ হাইপ্রোফাইল মামলা ছিল রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের পক্ষে দাঁড়ানো। সু চির মামলার বিষয়ে

তিনি বলেন, ‘আমার নিজের

চাওয়া-পাওয়ার কোনো বিবেচনা

নেই এখানে। সু চিকে কেবল একজন ব্যক্তি হিসাবে আমি প্রতিনিধিত্ব

করছি না। বরং এমন এক নেতার প্রতিনিধিত্ব করছি যিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত; কিন্তু সামরিক বাহিনীর হামলার শিকার। ফলে যা কিছু করছি সব গণতন্ত্র রক্ষায়।’

এদিকে বিক্ষোভ দমনে খ্যাতিমানদের তালিকা ধরে গ্রেফতারে নেমেছে জান্তাবাহিনী। এমন ৭৮ জনের একটি তালিকা ২১ ফেব্র“য়ারি অনলাইনে ফাঁস হয়। এদিকে মিয়ানমারের স্মরণকালের বৃহত্তম প্রতিবাদ-বিক্ষোভের দিন সোমবার নেপিদো থেকে প্রায় ২০০ অভ্যুত্থানবিরোধীকে গ্রেফতার করেছে সেনারা।

হারলেই ৫০ বছর বুটের তলে: সু চির আইনজীবী

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অভ্যুত্থানবিরোধী লড়াইয়ে যে কোনো মূল্যে জিততে হবে। হেরে গেলে আবারও ৫০ বছর জান্তার দাস হয়ে কাটাতে হবে। বুটের তলে যাবে অর্ধযুগ।

সু চির বিচারের রায় নিশ্চিত করবে মিয়ানমারের জনগণ আবারও সামরিক বাহিনীর দাসে পরিণত হবে কি না? গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির আইনজীবী খিন মাউং ঝাও বার্তা সংস্থা এএফপিকে এসব কথা বলেছেন।

বর্তমানে গ্রেফতার এড়াতে ঝাও একেক রাত একেক বাসায় কাটাচ্ছেন। ঝাও একসঙ্গে দুটি বিষয়ে জয়ের কথা বলেছেন। প্রথমত জান্তাবিরোধী লড়াইয়ে জনগণকে জিততে হবে। তারপর সু চির বিরুদ্ধে চলমান বিচারের রায়েও জিততে হবে। কারণ সু চি জেলে থাকলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই দীর্ঘমেয়াদে প্রাণ পাবে না।

বর্তমানে জান্তা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে আছে। এমনকি আদালতের ওপরও প্রভাব রয়েছে সেনাবাহিনীর। শীর্ষ আদালতকে সু চির প্রতি সহানুভূতিশীল বিচারকশূন্য করার পদক্ষেপও এরই মধ্যে জান্তা নিয়েছে।

অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা ও করোনাভাইরাস বিধিনিষেধ অমান্য করা- সু চির বিরুদ্ধে অস্পষ্ট দুটি অভিযোগ খণ্ডনের দায়িত্ব নিয়েছেন তার আইনজীবী ঝাও। কিন্তু তাকে এখনো মক্কেলের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পহেলা মার্চ সু চির বিরুদ্ধে মামলার শুনানি। খিন ঝাও বলেছেন, যদি তাকে অনুমতি দেওয়া না হয় এবং চোখে ধুলা দেওয়ার মতো বিচার করা হয়;

তবে তিনিও বসে থাকবেন না।

গোটা বিশ্বকে জানিয়ে দেবেন, এ বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়নি।

খিন ঝাও নিজেও একাধিকবার জেল খেটেছেন জান্তাবিরোধী লড়াইয়ে। বর্তমানে ৭০ বছর বয়সি এ আইনজীবী ১৭ বছর বয়সে আগের জান্তার সময় জেলে যান। মান্দালয়ে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ বিলির কারণে গ্রেফতার হন। তাকে মিয়ানমারের উপকূল থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে কুখ্যাত কোকো দ্বীপ কারাগারে পাঠানো হয়।

১৯৭২ সালে মুক্ত হয়ে তিন বছর পর আবারও ছাত্র বিক্ষোভের কারণে গ্রেফতার হন ঝাও। বর্তমানেও গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজের বাড়িতে না থেকে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে থাকছেন। তবে তিনি ভয় পাচ্ছেন না। ঝাওয়ের ভাষায় ‘নিজের জন্য আমার ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমি এসব দমন-পীড়নের ভেতর দিয়েই বেড়ে উঠেছি।

মিয়ানমার এখন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে দাঁড়িয়ে।’ জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবীর সর্বশেষ হাইপ্রোফাইল মামলা ছিল রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের পক্ষে দাঁড়ানো। সু চির মামলার বিষয়ে

তিনি বলেন, ‘আমার নিজের

চাওয়া-পাওয়ার কোনো বিবেচনা

নেই এখানে। সু চিকে কেবল একজন ব্যক্তি হিসাবে আমি প্রতিনিধিত্ব

করছি না। বরং এমন এক নেতার প্রতিনিধিত্ব করছি যিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত; কিন্তু সামরিক বাহিনীর হামলার শিকার। ফলে যা কিছু করছি সব গণতন্ত্র রক্ষায়।’

এদিকে বিক্ষোভ দমনে খ্যাতিমানদের তালিকা ধরে গ্রেফতারে নেমেছে জান্তাবাহিনী। এমন ৭৮ জনের একটি তালিকা ২১ ফেব্র“য়ারি অনলাইনে ফাঁস হয়। এদিকে মিয়ানমারের স্মরণকালের বৃহত্তম প্রতিবাদ-বিক্ষোভের দিন সোমবার নেপিদো থেকে প্রায় ২০০ অভ্যুত্থানবিরোধীকে গ্রেফতার করেছে সেনারা।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন