নিজের টাকাই স্বাধীনভাবে তুলতে পারছে না জনগণ
jugantor
নিজের টাকাই স্বাধীনভাবে তুলতে পারছে না জনগণ

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের ব্যাংক খাতে সেনা অভ্যুত্থানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারি, বেসরকারি ও সেনা মালিকানাধীন কোনো ব্যাংক থেকেই চাহিদামতো নিজের টাকা তুলতে পারছেন না জনগণ। তাতমাদো নামে পরিচিত সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন মিয়াওয়াদ্দিসহ দুটি ব্যাংক থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে বেশি সমস্যা হচ্ছে। বর্তমানে সেনা সরকারের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনের কারণে বেশির ভাগ প্রাইভেট ব্যাংকই বন্ধ থাকছে। কখন ব্যাংক খোলা হবে তার নির্দিষ্ট শিডিউল মানুষ জানে না। তার ওপর সেনা মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে সর্বোচ্চ টাকা তোলার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে দৈনিক ৫ লাখ কিয়াট বা ৩৭০ ডলার। তা-ও একদিনে সর্বোচ্চ ২০০ জন গ্রাহককে দেওয়া হচ্ছে টাকা। ফলে মানুষের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে যে, সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে অর্থের সংকট তৈরি হয়েছে। গুজবের কারণে বহু মানুষ প্রতিদিন টাকা তোলার লাইন দিয়েও দিন শেষে নিজের টাকা তুলতে না পেরে খালি হাতে ফিরে যান। এ কারণে মানুষের মাঝে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, নগদ অর্থের সংকটে রয়েছে জান্তা। এএফপি।

৬০ লাখ কিয়াট বা ৪ হাজার ৫০০ ডলার তোলার জন্য এক সপ্তাহ ধরে মিয়াওয়াদ্দি ব্যাংকের সামনে লাইন দেওয়া ব্যবসায়ী তুন নাইং বলেন, ‘এই ব্যাংক নিয়ে গুজব তৈরি হওয়ায় আমি টাকা তুলতে এসেছি।’ ভোর থেকেই সবাই ব্যাংকের শাখার কাছে হোটেলে অবস্থান করেন সিরিয়ালের টোকেনের জন্য। কিন্তু শুধু ২০০ জনকে টাকা দেওয়ার কারণে সবার ভাগ্যে টোকেন জোটে না। ৬৪ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মিয়ন্ত মিয়ন্ত বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে লাইন দিয়েও টাকা তোলার টোকেন পাইনি। আমি ক্ষুব্ধ। তাদের উচিত সরকারি মিডিয়ার মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া যে, আমাদের অর্থ নিরাপদ। যদিও আমার জমা টাকা বেশি নেই; কিন্তু গুজবের কারণে আমি উদ্বিগ্ন।’

মিয়ানমার বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ার কার্টেন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ হতিয়ে হতিয়ে থেইন বলেন, ‘অর্থ ঘাটতি খুব বেশি না হলেও বর্তমান সময় ভবিষ্যদ্বাণী করার মতো নয়। অতীতে দেখা গেছে, সামরিক শাসকরা নোট ছাপিয়েছে। ফলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা গেছে।’ জাস্টিস ফর মিয়ানমার নামের সংগঠন বলছে, বর্তমানে অর্থের ঘাটতি পূরণের জন্য জান্তাকে রিজার্ভ ভাঙতে হবে।

নিজের টাকাই স্বাধীনভাবে তুলতে পারছে না জনগণ

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের ব্যাংক খাতে সেনা অভ্যুত্থানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকারি, বেসরকারি ও সেনা মালিকানাধীন কোনো ব্যাংক থেকেই চাহিদামতো নিজের টাকা তুলতে পারছেন না জনগণ। তাতমাদো নামে পরিচিত সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন মিয়াওয়াদ্দিসহ দুটি ব্যাংক থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে বেশি সমস্যা হচ্ছে। বর্তমানে সেনা সরকারের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনের কারণে বেশির ভাগ প্রাইভেট ব্যাংকই বন্ধ থাকছে। কখন ব্যাংক খোলা হবে তার নির্দিষ্ট শিডিউল মানুষ জানে না। তার ওপর সেনা মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে সর্বোচ্চ টাকা তোলার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে দৈনিক ৫ লাখ কিয়াট বা ৩৭০ ডলার। তা-ও একদিনে সর্বোচ্চ ২০০ জন গ্রাহককে দেওয়া হচ্ছে টাকা। ফলে মানুষের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে যে, সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে অর্থের সংকট তৈরি হয়েছে। গুজবের কারণে বহু মানুষ প্রতিদিন টাকা তোলার লাইন দিয়েও দিন শেষে নিজের টাকা তুলতে না পেরে খালি হাতে ফিরে যান। এ কারণে মানুষের মাঝে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, নগদ অর্থের সংকটে রয়েছে জান্তা। এএফপি।

৬০ লাখ কিয়াট বা ৪ হাজার ৫০০ ডলার তোলার জন্য এক সপ্তাহ ধরে মিয়াওয়াদ্দি ব্যাংকের সামনে লাইন দেওয়া ব্যবসায়ী তুন নাইং বলেন, ‘এই ব্যাংক নিয়ে গুজব তৈরি হওয়ায় আমি টাকা তুলতে এসেছি।’ ভোর থেকেই সবাই ব্যাংকের শাখার কাছে হোটেলে অবস্থান করেন সিরিয়ালের টোকেনের জন্য। কিন্তু শুধু ২০০ জনকে টাকা দেওয়ার কারণে সবার ভাগ্যে টোকেন জোটে না। ৬৪ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মিয়ন্ত মিয়ন্ত বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে লাইন দিয়েও টাকা তোলার টোকেন পাইনি। আমি ক্ষুব্ধ। তাদের উচিত সরকারি মিডিয়ার মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া যে, আমাদের অর্থ নিরাপদ। যদিও আমার জমা টাকা বেশি নেই; কিন্তু গুজবের কারণে আমি উদ্বিগ্ন।’

মিয়ানমার বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ার কার্টেন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ হতিয়ে হতিয়ে থেইন বলেন, ‘অর্থ ঘাটতি খুব বেশি না হলেও বর্তমান সময় ভবিষ্যদ্বাণী করার মতো নয়। অতীতে দেখা গেছে, সামরিক শাসকরা নোট ছাপিয়েছে। ফলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা গেছে।’ জাস্টিস ফর মিয়ানমার নামের সংগঠন বলছে, বর্তমানে অর্থের ঘাটতি পূরণের জন্য জান্তাকে রিজার্ভ ভাঙতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন