মিয়ানমারে বিক্ষোভের মধ্যেই খুলছে শিল্পকারখানা
jugantor
মিয়ানমারে বিক্ষোভের মধ্যেই খুলছে শিল্পকারখানা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিক্ষোভ-ধর্মঘটের মধ্যেই মিয়ানমারে শিল্প-কারখানা এবং দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। সুপারমার্কেট ও শপিং সেন্টারগুলোও খুলেছে মঙ্গলবার। তবে সরকারি অফিস ও ব্যাংকগুলো বন্ধই থাকছে। কারণ তাদের কর্মীরা অসহযোগ আন্দোলনে (সিডিএম) অংশ নিচ্ছেন। কাজে যোগদান করছেন না। বেসরকারি ব্যবসা-বাণিজ্য খুলতে শুরু করলেও রাস্তায় রাস্তায় চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। এদিকে কাজে যোগদানের জন্য ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর জান্তার তীব্র চাপ থাকলেও সেটা উপেক্ষা করে অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ইরাবতি, মিয়ানমার নাউ।

মিয়ানমার দক্ষিণ এশিয়ার দরিদ্র দেশগুলোর একটি। সেখানে সাধারণ মানুষের কাজ ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়। তবে জান্তাবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসাবে সোমবারের সাধারণ ধর্মঘটে বেশিরভাগ মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করেন। একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাকে জীবিকা উপার্জন করতে হবে। ফলে আমার পক্ষে প্রতিদিন প্রতিবাদ-বিক্ষোভে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। তবে সোমবার আমরা সবকিছু বন্ধ রেখেছি।’

দুর্বল অর্থনীতির মিয়ানমার করোনাভাইরাসের কারণে আরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার ওপর টানা ধর্মঘটের কারণে সমস্যা হয়েছে এখন। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে- জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং তার স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলকে (এসএসি) ‘দেশের রুগ্ন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করার’ নির্দেশ দিচ্ছেন।

পহেলা ফেব্র“য়ারি মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের পর সবার আগে সেনা প্রশাসনের সঙ্গে অসহযোগিতা এবং ধর্মঘটের ঘোষণা দেন ডাক্তাররা। সেনাবাহিনী তাদের কাজে ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভয়ভীতি প্রদর্শনে কাজ না হওয়ায় এখনও সামরিক বাহিনী নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। বিভিন্ন সময় ডাক্তারদের আবাসিক এলাকা ও কোয়ার্টারের কাছে গিয়ে হানা দিয়েছে। কিন্তু ১৫ ফেব্র“য়ারি সরাসরি আবাসিক ভবনে ঢুকে ‘ডাক্তার সো’ নামের একজনের কক্ষে কশাঘাত করে পুলিশ। তিনি ভেতরে থাকলেও সাড়া না দিয়ে চুপ করে থাকেন। ১০ মিনিট পর তারা চলে যায়। তবে অন্য কোনো ডাক্তারকে খোঁজা হয়নি। ফলে ডাক্তাররা বুঝতে পারছেন না ঠিক কাকে আটক করতে চায় জান্তা। তবে সুনির্দিষ্ট কাউকে যে তারা গ্রেফতার করতে চায়, এটা স্পষ্ট। সামরিক বাহিনী এনএলডির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বেশিরভাগ সরকারি চাকরিজীবী সেনা প্রশাসনের আওতায় কাজ না করার ঘোষণা দেন। এখন পর্যন্ত ধর্মঘট পালনকারী অন্তত একজন ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য অনেককে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সিনিয়রদের মাধ্যমে হুমকি দেয়া হয়েছে। করোনা মহামারি শুরুর সময় থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে প্রশংসা পেয়েছেন মিয়ানমারের ডাক্তাররা। এবার তারা সেনা শাসনকে উপেক্ষা করে আরেক প্রশংসনীয় কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।

৩১ বছর বয়সী ডাক্তার মে ইয়ামোনে বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিনের মাধ্যমে যখন আমাদের ভীতি দূর করার সময় এসেছে, তখন সেনা অভ্যুত্থান সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে। আমাদের সামরিক স্বৈরাচারের অধীনে কাজ করার কোনো কারণ নেই। তারা দেশ শাসন করতে চাইছে। এটি কখনও সামরিক বাহিনীর কাজ নয়। সামরিক বাহিনী যদি তাদের কর্মস্থলে তথা দেশরক্ষার কাজে ফিরে যায়, তবে আমরা ডাক্তাররাও নিজেদের কাজে ফিরে যাব।’ কাজে যোগ না দেয়ার ক্ষেত্রে ডাক্তারদের যুক্তি হচ্ছে তারা জান্তা সরকারকে ত্যাগ করেছে। তাদের রোগীদের নয়। ২৯ বছর বয়সী ডা. অং থু বলেন, ‘আমরা সরকারি হাসপাতাল বর্জন করেছি।

মিয়ানমারে বিক্ষোভের মধ্যেই খুলছে শিল্পকারখানা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিক্ষোভ-ধর্মঘটের মধ্যেই মিয়ানমারে শিল্প-কারখানা এবং দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। সুপারমার্কেট ও শপিং সেন্টারগুলোও খুলেছে মঙ্গলবার। তবে সরকারি অফিস ও ব্যাংকগুলো বন্ধই থাকছে। কারণ তাদের কর্মীরা অসহযোগ আন্দোলনে (সিডিএম) অংশ নিচ্ছেন। কাজে যোগদান করছেন না। বেসরকারি ব্যবসা-বাণিজ্য খুলতে শুরু করলেও রাস্তায় রাস্তায় চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। এদিকে কাজে যোগদানের জন্য ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর জান্তার তীব্র চাপ থাকলেও সেটা উপেক্ষা করে অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ইরাবতি, মিয়ানমার নাউ।

মিয়ানমার দক্ষিণ এশিয়ার দরিদ্র দেশগুলোর একটি। সেখানে সাধারণ মানুষের কাজ ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়। তবে জান্তাবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসাবে সোমবারের সাধারণ ধর্মঘটে বেশিরভাগ মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করেন। একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাকে জীবিকা উপার্জন করতে হবে। ফলে আমার পক্ষে প্রতিদিন প্রতিবাদ-বিক্ষোভে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। তবে সোমবার আমরা সবকিছু বন্ধ রেখেছি।’

দুর্বল অর্থনীতির মিয়ানমার করোনাভাইরাসের কারণে আরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার ওপর টানা ধর্মঘটের কারণে সমস্যা হয়েছে এখন। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে- জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং তার স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলকে (এসএসি) ‘দেশের রুগ্ন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করার’ নির্দেশ দিচ্ছেন।

পহেলা ফেব্র“য়ারি মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের পর সবার আগে সেনা প্রশাসনের সঙ্গে অসহযোগিতা এবং ধর্মঘটের ঘোষণা দেন ডাক্তাররা। সেনাবাহিনী তাদের কাজে ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভয়ভীতি প্রদর্শনে কাজ না হওয়ায় এখনও সামরিক বাহিনী নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। বিভিন্ন সময় ডাক্তারদের আবাসিক এলাকা ও কোয়ার্টারের কাছে গিয়ে হানা দিয়েছে। কিন্তু ১৫ ফেব্র“য়ারি সরাসরি আবাসিক ভবনে ঢুকে ‘ডাক্তার সো’ নামের একজনের কক্ষে কশাঘাত করে পুলিশ। তিনি ভেতরে থাকলেও সাড়া না দিয়ে চুপ করে থাকেন। ১০ মিনিট পর তারা চলে যায়। তবে অন্য কোনো ডাক্তারকে খোঁজা হয়নি। ফলে ডাক্তাররা বুঝতে পারছেন না ঠিক কাকে আটক করতে চায় জান্তা। তবে সুনির্দিষ্ট কাউকে যে তারা গ্রেফতার করতে চায়, এটা স্পষ্ট। সামরিক বাহিনী এনএলডির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বেশিরভাগ সরকারি চাকরিজীবী সেনা প্রশাসনের আওতায় কাজ না করার ঘোষণা দেন। এখন পর্যন্ত ধর্মঘট পালনকারী অন্তত একজন ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য অনেককে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সিনিয়রদের মাধ্যমে হুমকি দেয়া হয়েছে। করোনা মহামারি শুরুর সময় থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে প্রশংসা পেয়েছেন মিয়ানমারের ডাক্তাররা। এবার তারা সেনা শাসনকে উপেক্ষা করে আরেক প্রশংসনীয় কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।

৩১ বছর বয়সী ডাক্তার মে ইয়ামোনে বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিনের মাধ্যমে যখন আমাদের ভীতি দূর করার সময় এসেছে, তখন সেনা অভ্যুত্থান সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে। আমাদের সামরিক স্বৈরাচারের অধীনে কাজ করার কোনো কারণ নেই। তারা দেশ শাসন করতে চাইছে। এটি কখনও সামরিক বাহিনীর কাজ নয়। সামরিক বাহিনী যদি তাদের কর্মস্থলে তথা দেশরক্ষার কাজে ফিরে যায়, তবে আমরা ডাক্তাররাও নিজেদের কাজে ফিরে যাব।’ কাজে যোগ না দেয়ার ক্ষেত্রে ডাক্তারদের যুক্তি হচ্ছে তারা জান্তা সরকারকে ত্যাগ করেছে। তাদের রোগীদের নয়। ২৯ বছর বয়সী ডা. অং থু বলেন, ‘আমরা সরকারি হাসপাতাল বর্জন করেছি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন