রাতের আঁধারে চীন-মিয়ানমার গোপন ফ্লাইট
jugantor
রাতের আঁধারে চীন-মিয়ানমার গোপন ফ্লাইট

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গভীর রাতে চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে চলছে গোপন ফ্লাইট। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রতি রাতে গড়ে অনিবন্ধিত পাঁচটি ফ্লাইট মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে চীনের কুনমিংয়ের মধ্যে চলছে। এসব ফ্লাইটের বিষয় গোপন রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে জান্তা সরকার। চীন সরকার ও মিয়ানমার এয়ারওয়েজের দাবি- এসব ফ্লাইটে সামুদ্রিক খাবার রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে চরম মাত্রার গোপনীয়তা রক্ষার কারণে ধারণা করা হচ্ছে বিক্ষোভ দমন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সেনা-পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এসব ফ্লাইটে চীনা বিশেষজ্ঞ ও অস্ত্র পরিবহণ করা হচ্ছে। দ্য মান্দারিন।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তা ক্ষমতা নেওয়ার পর সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করে। এখনো ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে হাতেগোনা কিছু ফ্লাইট দেখা যায়। তার মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় এক সপ্তাহ ধরে তিনটি প্লেন গড়ে পাঁচটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে কুনমিংয়ে। এর মধ্যে দুটি প্লেন মিয়ানমার এয়ারওয়েজের রঙের। অন্যটির রং স্পষ্ট নয়। ভালো সার্ভিস দেওয়ার জন্য এগুলো প্রাইভেট ফার্ম থেকে লিজ নেওয়া হয়েছে।

গোপনে পরিচালনা করার কারণে কে বা কারা এসব ফ্লাইট পরিচালনার পেছনে আছে তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় বাড়ছে। আন্তর্জাতিক এভিয়েশন আইন লঙ্ঘন করে ফ্লাইটগুলোর ট্রান্সপন্ডার বা আন্তর্জাতিক সিগন্যাল পদ্ধতি বন্ধ রাখা হচ্ছে। দ্য মান্দারিন বিষয়টি জানতে পেরেছে পরীক্ষা করে। সেখানে দেখা গেছে, কিছু ফ্লাইটের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হচ্ছে। আবার পরে কিছু ফ্লাইটেরটা উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি কুনমিং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ওই ফ্লাইটগুলোর অবতরণের অনলাইন নিবন্ধনও রাখছে না। ডাটাবেস, ফ্লাইট নম্বর, কল নিদর্শন, এমনকি গন্তব্য- কোনোকিছুই প্রকাশ করা হচ্ছে না। সিডিএম বা সেনা প্রশাসনের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়া মিয়ানমার এয়ারওয়েজের কর্মীদের পোস্ট করা ফটো থেকে বিমানের রং সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দ্য মান্দারিন স্যাটেলাইট ইঞ্জিন থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে (নিখোঁজ মালয়েশিয়ান বিমান এমএইচ৩৭০ এর তদন্তে ব্যবহৃত পদ্ধতি মতো)। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে গোপনে এসব ফ্লাইট পরিচালনার দুটি সম্ভাব্য কারণ বেরিয়ে আসে। এক. এসব ফ্লাইটে করে চীনা সেনা ও সাইবার বিশেষজ্ঞ আনা হতে পারে।

ইন্টারনেট ও তথ্যে প্রবেশ এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাতমাদো নামে পরিচিত সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এদের আনা হচ্ছে। দুই. তাতমাদোর অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করার জন্য এসব ফ্লাইটে চীন থেকে গোপনে অস্ত্র আনা হচ্ছে। মিয়ানমার আর্মির অতীত ইতিহাস বলছে- তারা সংখ্যালঘু বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও দমন-পীড়ন চালিয়েছে। গত বছর রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের দায়ে তাতমাদোকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশ দেন আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত। এখন ক্ষমতা নেওয়ার পর বেসামরিক আন্দোলন দমনের জন্য আবারও সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়ন চালাতে পারে সেনাবাহিনী। সাধারণত বড় ধরনের অভিযানের আগে বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র-রসদ জোগাড় করা হয়ে থাকে।

রাতের আঁধারে চীন-মিয়ানমার গোপন ফ্লাইট

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গভীর রাতে চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে চলছে গোপন ফ্লাইট। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রতি রাতে গড়ে অনিবন্ধিত পাঁচটি ফ্লাইট মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে চীনের কুনমিংয়ের মধ্যে চলছে। এসব ফ্লাইটের বিষয় গোপন রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে জান্তা সরকার। চীন সরকার ও মিয়ানমার এয়ারওয়েজের দাবি- এসব ফ্লাইটে সামুদ্রিক খাবার রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে চরম মাত্রার গোপনীয়তা রক্ষার কারণে ধারণা করা হচ্ছে বিক্ষোভ দমন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সেনা-পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এসব ফ্লাইটে চীনা বিশেষজ্ঞ ও অস্ত্র পরিবহণ করা হচ্ছে। দ্য মান্দারিন।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তা ক্ষমতা নেওয়ার পর সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করে। এখনো ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে হাতেগোনা কিছু ফ্লাইট দেখা যায়। তার মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় এক সপ্তাহ ধরে তিনটি প্লেন গড়ে পাঁচটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে কুনমিংয়ে। এর মধ্যে দুটি প্লেন মিয়ানমার এয়ারওয়েজের রঙের। অন্যটির রং স্পষ্ট নয়। ভালো সার্ভিস দেওয়ার জন্য এগুলো প্রাইভেট ফার্ম থেকে লিজ নেওয়া হয়েছে।

গোপনে পরিচালনা করার কারণে কে বা কারা এসব ফ্লাইট পরিচালনার পেছনে আছে তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় বাড়ছে। আন্তর্জাতিক এভিয়েশন আইন লঙ্ঘন করে ফ্লাইটগুলোর ট্রান্সপন্ডার বা আন্তর্জাতিক সিগন্যাল পদ্ধতি বন্ধ রাখা হচ্ছে। দ্য মান্দারিন বিষয়টি জানতে পেরেছে পরীক্ষা করে। সেখানে দেখা গেছে, কিছু ফ্লাইটের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হচ্ছে। আবার পরে কিছু ফ্লাইটেরটা উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি কুনমিং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ওই ফ্লাইটগুলোর অবতরণের অনলাইন নিবন্ধনও রাখছে না। ডাটাবেস, ফ্লাইট নম্বর, কল নিদর্শন, এমনকি গন্তব্য- কোনোকিছুই প্রকাশ করা হচ্ছে না। সিডিএম বা সেনা প্রশাসনের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়া মিয়ানমার এয়ারওয়েজের কর্মীদের পোস্ট করা ফটো থেকে বিমানের রং সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দ্য মান্দারিন স্যাটেলাইট ইঞ্জিন থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে (নিখোঁজ মালয়েশিয়ান বিমান এমএইচ৩৭০ এর তদন্তে ব্যবহৃত পদ্ধতি মতো)। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে গোপনে এসব ফ্লাইট পরিচালনার দুটি সম্ভাব্য কারণ বেরিয়ে আসে। এক. এসব ফ্লাইটে করে চীনা সেনা ও সাইবার বিশেষজ্ঞ আনা হতে পারে।

ইন্টারনেট ও তথ্যে প্রবেশ এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাতমাদো নামে পরিচিত সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এদের আনা হচ্ছে। দুই. তাতমাদোর অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করার জন্য এসব ফ্লাইটে চীন থেকে গোপনে অস্ত্র আনা হচ্ছে। মিয়ানমার আর্মির অতীত ইতিহাস বলছে- তারা সংখ্যালঘু বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও দমন-পীড়ন চালিয়েছে। গত বছর রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের দায়ে তাতমাদোকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশ দেন আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত। এখন ক্ষমতা নেওয়ার পর বেসামরিক আন্দোলন দমনের জন্য আবারও সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়ন চালাতে পারে সেনাবাহিনী। সাধারণত বড় ধরনের অভিযানের আগে বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র-রসদ জোগাড় করা হয়ে থাকে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন