মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ তৈরি করে পৃথিবীতে পাঠাবে মার্কিন নেভির সোলার প্যানেল
jugantor
মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ তৈরি করে পৃথিবীতে পাঠাবে মার্কিন নেভির সোলার প্যানেল

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ তৈরি করে পৃথিবীতে পাঠাবে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সোলার প্যানেল। ১২ বাই ১২ ইঞ্চির সৌর প্যানেলটি গত মে মাসে একটি এক্স-৩৭বি মনুষ্যবিহীন ড্রোনে পাঠানো হয় মহাকাশের নিু কক্ষপথে (২ হাজার কিমি.)। ‘পিৎজা বক্স’ আকারের এই সৌর প্যানেলটি একটি আইপ্যাড বা একই ধরনের ডিভাইস চালু রাখার জন্য মহাকাশে সফলভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ডেইলি মেইল।

২০২০ সালের মে মাসে ফটোভোলটাইক রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যান্টেনা মডিউল (পিআরএএম) প্রযুক্তির সৌর প্যানেলটি ড্রোনে করে পরীক্ষামূলকভাবে পাঠানো হয় মহাকাশে। পরীক্ষা সফল হয়ে এটি বর্তমানে সঙ্গে থাকা আইপ্যাডের বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ সৌর প্যানেলটির নতুন ভার্সনের উৎপাদিত বিদ্যুৎ মাইক্রোওয়েভে রূপান্তরিত করে পৃথিবীতে পাঠানো যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মহাকাশ থেকে সূর্যের যে শক্তি পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না, সেটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বানানো হবে। পেন্টাগনের বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাটিয়ে মহাকাশে পৌঁছে যাবে সৌর প্যানেলটি। প্যানেল থেকে ড্রোনের সাহায্যে একটা

লুপ তৈরি করা হবে। সে পথেই সৌরবিদ্যুৎ মহাকাশ থেকে আসবে পৃথিবীতে। পিআরএএম প্যানেলে রয়েছে থার্মাল ভ্যাকিউম চেম্বার যা শক্তিকে ধরে রাখতে পারে।

ওয়াশিংটনে মার্কিন নৌবাহিনীর গবেষণা ল্যাবে সৌর প্যানেলের পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ চলছে। প্রচণ্ড শক্তিশালী সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বেশ কিছুটা অংশ পৃথিবীতে ঢোকার আগেই বায়ুমণ্ডলে বাধা পেয়ে ভাসতে থাকে। সেই রশ্মি আয়ত্তে এনেই এই সৌর প্যানেল কাজ করবে। বিজ্ঞানী পল জ্যাফে বলছেন, ১২ বাই ১২ ইঞ্চির প্যানেল একেক বারে ১০ ওয়াট পর্যন্ত শক্তি স্থানান্তর করতে পারবে। ভবিষ্যতে বিপুল শক্তির চাহিদা এভাবেই জোগান দেবে এই সৌর প্যানেল।

গবেষক ক্রিস ডেপুমা বলছেন, পৃথিবীর কক্ষপথে বসানো হতে পারে এই সোলার প্যানেলকে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টায় একবার সূর্যের চারদিকে পাক খায় পৃথিবী। কাজেই একটা সময় সেই প্যানেল সূর্য থেকে দূরে থাকবে। তাই চেষ্টা করা হবে হাই আর্থ অরবিটে এই প্যানেলকে বসিয়ে দেওয়ার। তিনি বলেন, আমাদের জানা মতে, এ ধরনের প্রচেষ্টা এই প্রথম নেওয়া হয়েছে। পল জ্যাফে বলেন, মহাকাশে তৈরি বিদ্যুৎ নিয়ে এমন কিছু ভিশন আছে যে, সেখান থেকে বহু গিগাওয়াট বিদ্যুৎ আনা যেতে পারে। এমনকি এই পরিমাণ বিদ্যুৎ আনা যাবে, যা বড় একটি শহরের জন্য যথেষ্ট। বর্তমান পদ্ধতি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠাতে পারবে না। তবে ভবিষ্যত ভার্সন সেই সুযোগ নিয়ে আসবে। এর আগে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে শক্তি পাঠানোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের পক্ষ থেকে। তাতে মহাকাশের সবচেয়ে দূরের অংশ থেকে বিদ্যুৎ বা সৌরশক্তি পাঠানোর বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। তবে ওই প্রকল্পে কেমন ব্যয় হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি।

মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ তৈরি করে পৃথিবীতে পাঠাবে মার্কিন নেভির সোলার প্যানেল

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ তৈরি করে পৃথিবীতে পাঠাবে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সোলার প্যানেল। ১২ বাই ১২ ইঞ্চির সৌর প্যানেলটি গত মে মাসে একটি এক্স-৩৭বি মনুষ্যবিহীন ড্রোনে পাঠানো হয় মহাকাশের নিু কক্ষপথে (২ হাজার কিমি.)। ‘পিৎজা বক্স’ আকারের এই সৌর প্যানেলটি একটি আইপ্যাড বা একই ধরনের ডিভাইস চালু রাখার জন্য মহাকাশে সফলভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ডেইলি মেইল।

২০২০ সালের মে মাসে ফটোভোলটাইক রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যান্টেনা মডিউল (পিআরএএম) প্রযুক্তির সৌর প্যানেলটি ড্রোনে করে পরীক্ষামূলকভাবে পাঠানো হয় মহাকাশে। পরীক্ষা সফল হয়ে এটি বর্তমানে সঙ্গে থাকা আইপ্যাডের বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ সৌর প্যানেলটির নতুন ভার্সনের উৎপাদিত বিদ্যুৎ মাইক্রোওয়েভে রূপান্তরিত করে পৃথিবীতে পাঠানো যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মহাকাশ থেকে সূর্যের যে শক্তি পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না, সেটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বানানো হবে। পেন্টাগনের বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাটিয়ে মহাকাশে পৌঁছে যাবে সৌর প্যানেলটি। প্যানেল থেকে ড্রোনের সাহায্যে একটা

লুপ তৈরি করা হবে। সে পথেই সৌরবিদ্যুৎ মহাকাশ থেকে আসবে পৃথিবীতে। পিআরএএম প্যানেলে রয়েছে থার্মাল ভ্যাকিউম চেম্বার যা শক্তিকে ধরে রাখতে পারে।

ওয়াশিংটনে মার্কিন নৌবাহিনীর গবেষণা ল্যাবে সৌর প্যানেলের পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ চলছে। প্রচণ্ড শক্তিশালী সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বেশ কিছুটা অংশ পৃথিবীতে ঢোকার আগেই বায়ুমণ্ডলে বাধা পেয়ে ভাসতে থাকে। সেই রশ্মি আয়ত্তে এনেই এই সৌর প্যানেল কাজ করবে। বিজ্ঞানী পল জ্যাফে বলছেন, ১২ বাই ১২ ইঞ্চির প্যানেল একেক বারে ১০ ওয়াট পর্যন্ত শক্তি স্থানান্তর করতে পারবে। ভবিষ্যতে বিপুল শক্তির চাহিদা এভাবেই জোগান দেবে এই সৌর প্যানেল।

গবেষক ক্রিস ডেপুমা বলছেন, পৃথিবীর কক্ষপথে বসানো হতে পারে এই সোলার প্যানেলকে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টায় একবার সূর্যের চারদিকে পাক খায় পৃথিবী। কাজেই একটা সময় সেই প্যানেল সূর্য থেকে দূরে থাকবে। তাই চেষ্টা করা হবে হাই আর্থ অরবিটে এই প্যানেলকে বসিয়ে দেওয়ার। তিনি বলেন, আমাদের জানা মতে, এ ধরনের প্রচেষ্টা এই প্রথম নেওয়া হয়েছে। পল জ্যাফে বলেন, মহাকাশে তৈরি বিদ্যুৎ নিয়ে এমন কিছু ভিশন আছে যে, সেখান থেকে বহু গিগাওয়াট বিদ্যুৎ আনা যেতে পারে। এমনকি এই পরিমাণ বিদ্যুৎ আনা যাবে, যা বড় একটি শহরের জন্য যথেষ্ট। বর্তমান পদ্ধতি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠাতে পারবে না। তবে ভবিষ্যত ভার্সন সেই সুযোগ নিয়ে আসবে। এর আগে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে শক্তি পাঠানোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের পক্ষ থেকে। তাতে মহাকাশের সবচেয়ে দূরের অংশ থেকে বিদ্যুৎ বা সৌরশক্তি পাঠানোর বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। তবে ওই প্রকল্পে কেমন ব্যয় হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন