হাতেঠেলা ট্রলিতে উ. কোরিয়া ছাড়লেন রুশ কূটনীতিকরা
jugantor
হাতেঠেলা ট্রলিতে উ. কোরিয়া ছাড়লেন রুশ কূটনীতিকরা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তর কোরিয়ায় এক অদ্ভুত পরিস্থিতি ও নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন কয়েকজন রুশ কূটনীতিক। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পিয়ংইয়ংয়ের কঠোর পদক্ষেপের জেরে হাতেঠেলা রেল ট্রলিতে করে সীমান্ত পার হতে হয়েছে এসব কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের একটি দলকে।

আট সদস্যের দলটি ট্রেন এবং বাসে করে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছার পর রুশ সীমান্ত পাড়ি দিতে হাতেঠেলা ট্রলিতে প্রায় এক কিলোমিটার রেললাইন পাড়ি দেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছরের যাত্রী পরিবহণ সেবার বেশির ভাগই বন্ধ রেখেছে উত্তর কোরিয়া।

এখন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সরকারের দাবি, কড়াকড়ি আরোপের ফলে কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। তবে এই দাবি অস্বীকার করে আসছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও কেসিএনএর।

শুরুতেই ট্রেন ও বাস চলাচল নিষিদ্ধ করে উত্তর কোরিয়া। বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পিয়ংইয়ং ছেড়ে যেতে রুশ কূটনীতিকদের এই অস্বাভাবিক ট্রলিযাত্রা করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প খোলা ছিল না। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘এক বছরের বেশি সময় ধরে যাত্রীবাহী যানবাহন ও সীমান্ত বন্ধ থাকায় বাড়ি ফিরতে দীর্ঘ এবং কঠিন যাত্রা বেছে নিতে হয়।’ ওই পোস্টের সঙ্গে শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে কূটনীতিকরা ট্রলিতে স্যুটকেস রেখে তা হাতে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন।

ট্রলিটির ‘মূল ইঞ্জিনের’ ভূমিকায় ছিলেন দূতাবাসের থার্ড সেক্রেটারি ভ্লাদিসলাভ সরোকিন। তিনি তুমেন নদীর রেলসেতু ওপর নিয়ে ট্রলিটি ঠেলে রাশিয়ায় নিয়ে যান। এর আগে রুশ সীমান্তে পৌঁছাতে গ্রুপটি ৩২ ঘণ্টার ট্রেন যাত্রা এবং দুই ঘণ্টার বাসযাত্রা করে।

এই যাত্রায় তাদের মধ্যে সরোকিনের তিন বছর বয়সি মেয়েও ছিল। সীমান্ত পার হওয়ার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান। পরে একটি বাসে করে তারা ভ্লাদিভোস্টক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

সারা বিশ্বের করোনা তথ্য পাওয়া গেলেও উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত দেশটির জনগোষ্ঠীর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরিসংখ্যান বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ডের টিকা পাওয়ার কথা রয়েছে পিয়ংইয়ংয়ের। গত বছরের জানুয়ারিতে চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয় দেশটি।

সম্প্রতি দেশটির বিরুদ্ধে হ্যাক করে ফাইজারের টিকা চুরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি ফাইজারের কাছ থেকে কোভিড-১৯ টিকার প্রযুক্তি চুরি করার চেষ্টা করেছিল উত্তর কোরিয়।

তবে কোনো তথ্য চুরি হয়ে থাকলেও সেটা কতটুকু, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা দেশটির আইনপ্রণেতাদের গোপনে সন্দেহভাজন হামলার ধারণা দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি ফাইজারের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা এখনো কিছু জানায়নি।

হাতেঠেলা ট্রলিতে উ. কোরিয়া ছাড়লেন রুশ কূটনীতিকরা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তর কোরিয়ায় এক অদ্ভুত পরিস্থিতি ও নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন কয়েকজন রুশ কূটনীতিক। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পিয়ংইয়ংয়ের কঠোর পদক্ষেপের জেরে হাতেঠেলা রেল ট্রলিতে করে সীমান্ত পার হতে হয়েছে এসব কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের একটি দলকে।

আট সদস্যের দলটি ট্রেন এবং বাসে করে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছার পর রুশ সীমান্ত পাড়ি দিতে হাতেঠেলা ট্রলিতে প্রায় এক কিলোমিটার রেললাইন পাড়ি দেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছরের যাত্রী পরিবহণ সেবার বেশির ভাগই বন্ধ রেখেছে উত্তর কোরিয়া।

এখন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সরকারের দাবি, কড়াকড়ি আরোপের ফলে কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। তবে এই দাবি অস্বীকার করে আসছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও কেসিএনএর।

শুরুতেই ট্রেন ও বাস চলাচল নিষিদ্ধ করে উত্তর কোরিয়া। বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পিয়ংইয়ং ছেড়ে যেতে রুশ কূটনীতিকদের এই অস্বাভাবিক ট্রলিযাত্রা করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প খোলা ছিল না। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘এক বছরের বেশি সময় ধরে যাত্রীবাহী যানবাহন ও সীমান্ত বন্ধ থাকায় বাড়ি ফিরতে দীর্ঘ এবং কঠিন যাত্রা বেছে নিতে হয়।’ ওই পোস্টের সঙ্গে শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে কূটনীতিকরা ট্রলিতে স্যুটকেস রেখে তা হাতে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন।

ট্রলিটির ‘মূল ইঞ্জিনের’ ভূমিকায় ছিলেন দূতাবাসের থার্ড সেক্রেটারি ভ্লাদিসলাভ সরোকিন। তিনি তুমেন নদীর রেলসেতু ওপর নিয়ে ট্রলিটি ঠেলে রাশিয়ায় নিয়ে যান। এর আগে রুশ সীমান্তে পৌঁছাতে গ্রুপটি ৩২ ঘণ্টার ট্রেন যাত্রা এবং দুই ঘণ্টার বাসযাত্রা করে।

এই যাত্রায় তাদের মধ্যে সরোকিনের তিন বছর বয়সি মেয়েও ছিল। সীমান্ত পার হওয়ার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান। পরে একটি বাসে করে তারা ভ্লাদিভোস্টক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

সারা বিশ্বের করোনা তথ্য পাওয়া গেলেও উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত দেশটির জনগোষ্ঠীর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরিসংখ্যান বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ডের টিকা পাওয়ার কথা রয়েছে পিয়ংইয়ংয়ের। গত বছরের জানুয়ারিতে চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয় দেশটি।

সম্প্রতি দেশটির বিরুদ্ধে হ্যাক করে ফাইজারের টিকা চুরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি ফাইজারের কাছ থেকে কোভিড-১৯ টিকার প্রযুক্তি চুরি করার চেষ্টা করেছিল উত্তর কোরিয়।

তবে কোনো তথ্য চুরি হয়ে থাকলেও সেটা কতটুকু, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা দেশটির আইনপ্রণেতাদের গোপনে সন্দেহভাজন হামলার ধারণা দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি ফাইজারের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা এখনো কিছু জানায়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন