বিক্ষোভ দমনে বর্বরতা শুরু
jugantor
উত্তাল মিয়ানমার
বিক্ষোভ দমনে বর্বরতা শুরু
একদিনেই দশ ট্রাক বিক্ষোভকারী গ্রেফতার * সাদা পোশাকে সাংবাদিক-বিক্ষোভকারীদের নির্যাতন

  যুগান্তর ডেস্ক  

০১ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অভ্যুত্থানের ২৮ দিনের মাথায় মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমনে বর্বরতা শুরু করেছে সামরিক জান্তা। সেনা সদস্য ও পুলিশ দেশজুড়ে প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলে পড়েছে। একদিনে অন্তত দশ ট্রাক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

রাষ্ট্রচালিত মিয়ানমার রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন (এনআরটিভি) জানিয়েছে, ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ অন্তত ৪৭৯ প্রতিবাদ-বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আর সারা দেশ থেকে গ্রেফতার করে এনে কারাগারে ১০ ট্রাক বন্দি ঢোকাতে দেখা গেছে। এটিই এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ গ্রেফতার। ফ্রন্টিয়ার, ইরাবতী।

১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে জান্তা ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিয়ন্ত ও রাষ্ট্রীয় কাউন্সেলর অং সান সু চির মুক্তি এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন সাধারণ মানুষ। শুরুতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমনে নরম থাকলেও ধীরে ধীরে খক্ষ হস্ত হচ্ছে জান্তা। মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। সেখানে দমন-পীড়নও হচ্ছে কঠোর।

এ ছাড়া রাজধানী নেপিদো ও আরেক শহর মান্দালয়েও রক্তাক্ত দমন চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। এক সপ্তাহ আগে যেখানে দাঙ্গা পুলিশের হামলায় ১৬ বছরের এক কিশোরসহ পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।

শনিবারের বিক্ষোভে পুলিশ যেমন মারমুখি ছিল, তেমনি প্রতিবাদকারীরাও অন্য যে কোনো দিনের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন।

উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্য থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় মেইক পর্যন্ত সবখানেই প্রতিবাদী মানুষের আচরণে মনে হয়েছে যে, তাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। একই আচরণ দেখিয়েছে জান্তা বাহিনীও। তারাও আর প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সহ্য করতে ইচ্ছুক নন।

সাদা পোশাকে জান্তা বাহিনী প্রতিবাদকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে। বাদ যায়নি সাংবাদিকরাও। সাগাইং অঞ্চলের রাজধানী মনিওয়াতে পুলিশের অস্ত্র ও হ্যান্ড গ্রেনেডের আঘাতে অনেকে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় মনিওয়া গেজেটের সম্পাদকও। স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক জানিয়েছেন, সেখান থেকে অন্তত ১৫০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে শিক্ষক জানার পর তাকে ও তার ছাত্রসহ ৫২ জনকে জামিন দেওয়া হয়। শনিবারের দমন-পীড়নের বিশেষ দিক হচ্ছে এদিন জান্তা বাহিনী দেশজুড়ে অসহযোগ আন্দোলন কাভার করা সাংবাদিকদের গ্রেফতার করেছে অনেক বেশি। সন্ধ্যায় স্থানীয় ৭ডে নিউজ, মিয়ানমার নাউ, মনিওয়া গেজেট, হাখা টাইমস ও বিদেশি সংবাদ সংস্থা এপিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত ১০ সাংবাদিককে গ্রেফতার করে।

জান্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হচ্ছে অনুচ্ছেদ ১৪৪ ভঙ্গের অভিযোগ এনে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- শহরগুলোতে সভা-সমাবেশ ও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ। আইনটির আওতায় পাঁচজনের বেশি মানুষ জড়ো হলে কয়েক বছরের জেলসহ বিভিন্ন শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এ কারণে স্টান গ্রেনেড ও রাবার বুলেট এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার কাজ করেছে জান্তা বাহিনী। দেশজুড়ে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিক দমন-পীড়ন, গ্রেফতারের পাশাপাশি জান্তার ভেঙে দেওয়া সরকারের বিজয়ী দল এনএলডির দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্য- দাও উইন মিয়া মিয়া এবং ইউ আই থেইনকেও মান্দালয় থেকে শনিবার সকাল গ্রেফতার করা হয়।

উত্তাল মিয়ানমার

বিক্ষোভ দমনে বর্বরতা শুরু

একদিনেই দশ ট্রাক বিক্ষোভকারী গ্রেফতার * সাদা পোশাকে সাংবাদিক-বিক্ষোভকারীদের নির্যাতন
 যুগান্তর ডেস্ক 
০১ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অভ্যুত্থানের ২৮ দিনের মাথায় মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমনে বর্বরতা শুরু করেছে সামরিক জান্তা। সেনা সদস্য ও পুলিশ দেশজুড়ে প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলে পড়েছে। একদিনে অন্তত দশ ট্রাক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

রাষ্ট্রচালিত মিয়ানমার রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন (এনআরটিভি) জানিয়েছে, ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ অন্তত ৪৭৯ প্রতিবাদ-বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আর সারা দেশ থেকে গ্রেফতার করে এনে কারাগারে ১০ ট্রাক বন্দি ঢোকাতে দেখা গেছে। এটিই এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ গ্রেফতার। ফ্রন্টিয়ার, ইরাবতী।

১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে জান্তা ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিয়ন্ত ও রাষ্ট্রীয় কাউন্সেলর অং সান সু চির মুক্তি এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন সাধারণ মানুষ। শুরুতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমনে নরম থাকলেও ধীরে ধীরে খক্ষ হস্ত হচ্ছে জান্তা। মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। সেখানে দমন-পীড়নও হচ্ছে কঠোর।

এ ছাড়া রাজধানী নেপিদো ও আরেক শহর মান্দালয়েও রক্তাক্ত দমন চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। এক সপ্তাহ আগে যেখানে দাঙ্গা পুলিশের হামলায় ১৬ বছরের এক কিশোরসহ পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।

শনিবারের বিক্ষোভে পুলিশ যেমন মারমুখি ছিল, তেমনি প্রতিবাদকারীরাও অন্য যে কোনো দিনের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন।

উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্য থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় মেইক পর্যন্ত সবখানেই প্রতিবাদী মানুষের আচরণে মনে হয়েছে যে, তাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। একই আচরণ দেখিয়েছে জান্তা বাহিনীও। তারাও আর প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সহ্য করতে ইচ্ছুক নন।

সাদা পোশাকে জান্তা বাহিনী প্রতিবাদকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে। বাদ যায়নি সাংবাদিকরাও। সাগাইং অঞ্চলের রাজধানী মনিওয়াতে পুলিশের অস্ত্র ও হ্যান্ড গ্রেনেডের আঘাতে অনেকে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় মনিওয়া গেজেটের সম্পাদকও। স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক জানিয়েছেন, সেখান থেকে অন্তত ১৫০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে শিক্ষক জানার পর তাকে ও তার ছাত্রসহ ৫২ জনকে জামিন দেওয়া হয়। শনিবারের দমন-পীড়নের বিশেষ দিক হচ্ছে এদিন জান্তা বাহিনী দেশজুড়ে অসহযোগ আন্দোলন কাভার করা সাংবাদিকদের গ্রেফতার করেছে অনেক বেশি। সন্ধ্যায় স্থানীয় ৭ডে নিউজ, মিয়ানমার নাউ, মনিওয়া গেজেট, হাখা টাইমস ও বিদেশি সংবাদ সংস্থা এপিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত ১০ সাংবাদিককে গ্রেফতার করে।

জান্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হচ্ছে অনুচ্ছেদ ১৪৪ ভঙ্গের অভিযোগ এনে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- শহরগুলোতে সভা-সমাবেশ ও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ। আইনটির আওতায় পাঁচজনের বেশি মানুষ জড়ো হলে কয়েক বছরের জেলসহ বিভিন্ন শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এ কারণে স্টান গ্রেনেড ও রাবার বুলেট এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার কাজ করেছে জান্তা বাহিনী। দেশজুড়ে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিক দমন-পীড়ন, গ্রেফতারের পাশাপাশি জান্তার ভেঙে দেওয়া সরকারের বিজয়ী দল এনএলডির দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্য- দাও উইন মিয়া মিয়া এবং ইউ আই থেইনকেও মান্দালয় থেকে শনিবার সকাল গ্রেফতার করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অং সান সু চি আটক