বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা সেনাবাহিনীর এক নম্বর কৌশল
jugantor
বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা সেনাবাহিনীর এক নম্বর কৌশল
মিয়ানমার নিয়ে আবার বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা পরিষদ * এনএলডির সরকার গঠন, ভারপ্রাপ্ত চার মন্ত্রীর নাম ঘোষণা * মিলিটারি কাউন্সিলকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আখ্যা

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৪ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারে বিক্ষোভ-আন্দোলন দমনে গুলি করে মানুষ হত্যাই জান্তা সরকারের এক নম্বর সূত্র। ঠিক যেমনটা বলেছিলেন দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক, সামরিক কমান্ডার জেনারেল নে উইন। তিনি একবার দম্ভভরে বলেছিলেন, ‘মিয়ানমার সেনারা কখনো হাওয়ায় গুলি করে না।

তারা গুলি করে শুধু সরাসরি আঘাত করার জন্যই।’ তবে তার সেই দম্ভোক্তি একরতিও মিথ্যে নয়। বরং এখনো সমানভাবে সত্য ও বাস্তব। এক দশকের লোকদেখানো গণতন্ত্রের পর গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে দেশের ক্ষমতার দখল নেয় তাতমাদো।

সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ, যা কয়েকদিনের মধ্যেই সর্বাত্মক রূপ নেয়। কিন্তু প্রথম দিকে তেমন কিছু না বললেও একপর্যায়ে পুরনো সেই হিংস্র রূপ নিয়ে হাজির হয় সেনা। রাবার বুলেট, টিয়ারগ্যাস আর জলকামানের সঙ্গে ছুড়তে শুরু করে এলোপাতাড়ি গুলি। এভাবে মাত্র এক মাসের মধ্যে ২৭ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। বেশির ভাগ গুলিই করা হয়েছে ব্রাশফায়ার স্টাইলে। সেই গুলি হয় কারও মাথায় লেগেছে, কারওবা বুকে।

এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির জান্তা সরকারের ক্ষমতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে নিজেরাই সরকার গঠন করেছে ক্ষমতাচ্যুত দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)।

নতুন এই সরকারের ভারপ্রাপ্ত চার মন্ত্রীর নামও ঘোষণা করা হয়েছে। নভেম্বরে নির্বাচনে নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে ‘কমিটি রিপ্রেজেনটিং পিদংসু হ্ল–ত্তাও’ (সিআরপিএইচ) নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চার মন্ত্রী ও নবগঠিত কমিটির সমন্বয়ে পরিচালিত হবে নতুন সরকার। সরকার গঠনের পর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সিআরপিএইচ বলেছে, প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির গ্রেফতারের পর থেকে মন্ত্রিসভা তার দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়নি।

পিদংসু হ্লুত্তাওই এখই মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিয়োগপ্রাপ্ত চার ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীই সাবেক মন্ত্রিসভার পক্ষে সরকারের সব দায়িত্ব পালন করবেন।’

সরকারের গঠনের পরপরই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সিআরপিএইচ। সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে গঠিত অ্যামিনিস্ট্রিটেটিভ কাউন্সিলকে (এসএসি) সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আখ্যা দিয়েছে।

রোববার দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনা ও পুলিশের সহিংসতা ও রক্তপাতের পর সেনা শাসকগোষ্ঠীকে এই তকমা দেওয়া হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমারেই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে সামরিক বাহিনীর শাসন চলেছে।

ব্রিটেনের কাছ থেকে একসময় বার্মা নামে পরিচিত দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৮ সালে। আর এর পর থেকে মিয়ানমারের গত ৭৩ বছরের ইতিহাসে সামরিক শাসন চলেছে ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে। মিয়ানমার বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশটির রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর বিশাল ও অভাবনীয় প্রভাব রয়েছে।

১৯৬২ সালে অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা তৎকালীন সেনা নায়ক জেনারেল নে উইন। এরপর একটানা ২৮ বছর শাসনের পর ১৯৮৮ সালে তার সামরিক সমাজবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়।

সেই সময় অক্সফোর্ড পড়ুয়া তরুণী নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বে রাস্তায় নেমে আসে হাজারো বার্মিজ। সেই সময় বিক্ষোভ দমাতে নানা কৌশলের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রায়ই ব্রাশফায়ার করত সেনারা।

মঙ্গলবার ছিল নে উইনের সেনা অভ্যুত্থানের ৫৯তম বার্ষিকী। বর্তমানে মিয়ানমারে চলমান অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে নে উইনের সময় থেকে চলে আসা সেই ‘ডাইরেক্ট ফায়ার’ কৌশলই ব্যবহার করছে সেনা-পুলিশ।

এদিকে মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। স্থায়ী সদস্য ব্রিটেনের আহ্বানে আগামী শুক্রবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর মধ্যদিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী জান্তা সরকার আরও বেশি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে জাতিসংঘে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নজিরবিহীন দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।

কে জাতিসংঘের প্রতিনিধি হবেন- তা নিয়ে সেনা অভ্যুত্থানের আগে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারের নিযুক্ত প্রতিনিধি কিয়াও মো তুন ও অভ্যুত্থানের পর সেনা কর্তৃপক্ষের নিয়োগ তিন মুয়ুং নাইংয়ের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

দেশের প্রতিনিধিত্বের দাবি নিয়ে জাতিসংঘে আবেদন জমা দিয়েছেন দুজনই। এদিকে মিয়ানমারে বন্দি নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা অব্যাহত রেখেছে সেনা কর্তৃপক্ষ। সু চির পর প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের বিরুদ্ধে আরও দুই মামলা দেওয়া হয়েছে। সিএনএ, আলজাজিরা

এর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের একদিন পরই মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হয়। তবে পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্য চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতার করায় জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংস্থাটি। এই অবস্থায় আবারও ডাকা হলো নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক।

বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা সেনাবাহিনীর এক নম্বর কৌশল

মিয়ানমার নিয়ে আবার বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা পরিষদ * এনএলডির সরকার গঠন, ভারপ্রাপ্ত চার মন্ত্রীর নাম ঘোষণা * মিলিটারি কাউন্সিলকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আখ্যা
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৪ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারে বিক্ষোভ-আন্দোলন দমনে গুলি করে মানুষ হত্যাই জান্তা সরকারের এক নম্বর সূত্র। ঠিক যেমনটা বলেছিলেন দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক, সামরিক কমান্ডার জেনারেল নে উইন। তিনি একবার দম্ভভরে বলেছিলেন, ‘মিয়ানমার সেনারা কখনো হাওয়ায় গুলি করে না।

তারা গুলি করে শুধু সরাসরি আঘাত করার জন্যই।’ তবে তার সেই দম্ভোক্তি একরতিও মিথ্যে নয়। বরং এখনো সমানভাবে সত্য ও বাস্তব। এক দশকের লোকদেখানো গণতন্ত্রের পর গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে দেশের ক্ষমতার দখল নেয় তাতমাদো।

সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ, যা কয়েকদিনের মধ্যেই সর্বাত্মক রূপ নেয়। কিন্তু প্রথম দিকে তেমন কিছু না বললেও একপর্যায়ে পুরনো সেই হিংস্র রূপ নিয়ে হাজির হয় সেনা। রাবার বুলেট, টিয়ারগ্যাস আর জলকামানের সঙ্গে ছুড়তে শুরু করে এলোপাতাড়ি গুলি। এভাবে মাত্র এক মাসের মধ্যে ২৭ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। বেশির ভাগ গুলিই করা হয়েছে ব্রাশফায়ার স্টাইলে। সেই গুলি হয় কারও মাথায় লেগেছে, কারওবা বুকে।

এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির জান্তা সরকারের ক্ষমতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে নিজেরাই সরকার গঠন করেছে ক্ষমতাচ্যুত দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)।

নতুন এই সরকারের ভারপ্রাপ্ত চার মন্ত্রীর নামও ঘোষণা করা হয়েছে। নভেম্বরে নির্বাচনে নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে ‘কমিটি রিপ্রেজেনটিং পিদংসু হ্ল–ত্তাও’ (সিআরপিএইচ) নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চার মন্ত্রী ও নবগঠিত কমিটির সমন্বয়ে পরিচালিত হবে নতুন সরকার। সরকার গঠনের পর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সিআরপিএইচ বলেছে, প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির গ্রেফতারের পর থেকে মন্ত্রিসভা তার দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়নি।

পিদংসু হ্লুত্তাওই এখই মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিয়োগপ্রাপ্ত চার ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীই সাবেক মন্ত্রিসভার পক্ষে সরকারের সব দায়িত্ব পালন করবেন।’

সরকারের গঠনের পরপরই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সিআরপিএইচ। সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে গঠিত অ্যামিনিস্ট্রিটেটিভ কাউন্সিলকে (এসএসি) সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আখ্যা দিয়েছে।

রোববার দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনা ও পুলিশের সহিংসতা ও রক্তপাতের পর সেনা শাসকগোষ্ঠীকে এই তকমা দেওয়া হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমারেই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে সামরিক বাহিনীর শাসন চলেছে।

ব্রিটেনের কাছ থেকে একসময় বার্মা নামে পরিচিত দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৮ সালে। আর এর পর থেকে মিয়ানমারের গত ৭৩ বছরের ইতিহাসে সামরিক শাসন চলেছে ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে। মিয়ানমার বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশটির রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর বিশাল ও অভাবনীয় প্রভাব রয়েছে।

১৯৬২ সালে অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা তৎকালীন সেনা নায়ক জেনারেল নে উইন। এরপর একটানা ২৮ বছর শাসনের পর ১৯৮৮ সালে তার সামরিক সমাজবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়।

সেই সময় অক্সফোর্ড পড়ুয়া তরুণী নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বে রাস্তায় নেমে আসে হাজারো বার্মিজ। সেই সময় বিক্ষোভ দমাতে নানা কৌশলের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রায়ই ব্রাশফায়ার করত সেনারা।

মঙ্গলবার ছিল নে উইনের সেনা অভ্যুত্থানের ৫৯তম বার্ষিকী। বর্তমানে মিয়ানমারে চলমান অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে নে উইনের সময় থেকে চলে আসা সেই ‘ডাইরেক্ট ফায়ার’ কৌশলই ব্যবহার করছে সেনা-পুলিশ।

এদিকে মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। স্থায়ী সদস্য ব্রিটেনের আহ্বানে আগামী শুক্রবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর মধ্যদিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী জান্তা সরকার আরও বেশি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে জাতিসংঘে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নজিরবিহীন দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।

কে জাতিসংঘের প্রতিনিধি হবেন- তা নিয়ে সেনা অভ্যুত্থানের আগে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারের নিযুক্ত প্রতিনিধি কিয়াও মো তুন ও অভ্যুত্থানের পর সেনা কর্তৃপক্ষের নিয়োগ তিন মুয়ুং নাইংয়ের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

দেশের প্রতিনিধিত্বের দাবি নিয়ে জাতিসংঘে আবেদন জমা দিয়েছেন দুজনই। এদিকে মিয়ানমারে বন্দি নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা অব্যাহত রেখেছে সেনা কর্তৃপক্ষ। সু চির পর প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের বিরুদ্ধে আরও দুই মামলা দেওয়া হয়েছে। সিএনএ, আলজাজিরা

এর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের একদিন পরই মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হয়। তবে পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্য চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতার করায় জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংস্থাটি। এই অবস্থায় আবারও ডাকা হলো নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন