চমক দেখাচ্ছে কিষানিরা
jugantor
চমক দেখাচ্ছে কিষানিরা
এই আইন আমাদের মতো কৃষকদের খুন করার আইন * কেন আমরা বাড়ি ফিরে যাব এটা শুধু পুরুষ কৃষকদের বিক্ষোভ নয়

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৭ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনেক বাধা এসেছে। কখনো ভয়-ভীতি দেখানো হয়েছে। আবার কখনো দেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের অর্থের টোপ। সবশেষে কঠোর হুঁশিয়ারি।

হুঁশিয়ারিটাও ছিল স্পষ্ট; তোমরা ভালোই ভালোই যে যার ঘরে ফিরে যাও।

প্রথমে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে। এরপর সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিমকোর্ট। কিন্তু কোনো ভয়-ভীতি, লোভ-হুঁশিয়ারি একচুল টলাতে পারেনি তাদেরকে।

ভারতের বহুল বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনে কৃষকদের সঙ্গে সঙ্গে রাজপথে রয়েছেন কিষানিরাও।

প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিনই চমক দেখিয়ে চলেছেন অকুতোভয় এসব নারীরা। এখন পর্যন্ত সফলতার মুখ না দেখলেও রাজপথে তাদের এই দৃঢ় নেতৃত্ব ইতোমধ্যে সারাবিশ্বের নজর কেড়েছে। আদায় করে নিয়েছে স্বীকৃতি। শনিবার গোটা বিশ্বে পালন হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

আর এই দিনটিকে নারীদের বিশেষভাবে সম্মান দেওয়ার জন্য অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের আন্তর্জাতিক কাভার এবার উৎসর্গ করা হয়েছে ভারতের নয়াদিল্লির সীমান্তে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা এসব নারীকে।

ম্যাগাজিনের মার্চ মাসের সংস্করণে ‘অন দ্য ফ্রন্টলাইন অব ইন্ডিয়া’স ফার্মার প্রোটেস্ট’ শিরোণাম দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ছাপা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি ছবিও। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একদল নারীকে। যারা চলমান আন্দোলনে সম্মুখ কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

দলে ষাটোর্ধ প্রবীণ নারীরাও যেমন রয়েছেন, তেমনি আছেন সদ্য কৈশোর পেরোনা যুবতি তরুণীও। আছেন নবজাত শিশু কোলে এক মা-ও।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে গত নভেম্বর থেকে রাজধানী নয়াদিল্লি ও এর উপকণ্ঠের এলাকাগুলোতে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন-বিক্ষোভ করে আসছেন কয়েক লাখ কৃষক। সরকারের হুমকি-ধমকি ও নানা প্রলোভন সত্ত্বেও এখনো নিজেদের দাবিতে অনড় তারা।

প্রধানত পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা এসব কৃষককের সঙ্গে বিক্ষোভে শামিল হয়েছে বহু নারীও। যারা রাস্তাতেই থাকছেন, রাস্তাতেই ঘুমাচ্ছেন, আবার প্রয়োজনে দ্বিগুণ উদ্দীপনায় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানও দিচ্ছেন।

জানুয়ারিতে শীত শুরু হলে এসব প্রবীণ কৃষক ও নারীকে ঘরে ফিরে যেতে এক নির্দেশনা জারি করেন সুপ্রিমকোর্ট।

বিক্ষোভে রান্নাবান্না আর ধোয়া-মোছা ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ নেই বলেও মন্তব্য করা হয়। কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের সেই নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করে সমাবেশ মঞ্চ থেকে হুঙ্কার ছাড়েন, না, আমরা ঘরে ফিরছি না।

সুপ্রিমকোর্টের ওই নির্দেশনার পর বিক্ষোভের নারীদের অংশগ্রহণ আরও বহুগুণে বেড়েছে। কৃষকদের এই সর্বাত্মক আন্দোলন শনিবার ১০০তম দিন পার করেছে। গত তিন মাস ধরে আন্দোলনে নিজেদের নানা অভিজ্ঞতা টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন নারী নেতাদের কয়েকজন।

পাঞ্জাবের তালবান্দি থেকে আসা কিষানি আমানদ্বীপ কাউর বলেন, ‘এই আইন আমাদের মতো কৃষকদের খুন করার আইন। আমাদের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তার সবই কেড়ে নেবে এই আইন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা কিছুতেই ভীত নয়, আমাদেরকে কেনা যাবে না।’

টাইম বলেছে, ভারতের কৃষির মেরুদণ্ড এই নারীরাই। তা সত্ত্বেও সবসময় নানা শোষণ-বঞ্চনা বিশেষ করে করপোরেট শোষণের শিকার হতে হয় তাদেরকে। অক্সফামের ইন্ডিয়ার তথ্য মতে, ভারতের গ্রামীণ নারীদের ৮৫ শতাংশই কৃষি খাতে কাজ করে।

কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ নারীর নিজস্ব জমি আছে। এই বঞ্চনার কথা উঠে এসেছে পাঞ্জাব কিষান ইউনিয়নের সদস্য ৭৪ বছর বয়সি কিষানি জাসবির কাউর নাতের কণ্ঠে।

চমক দেখাচ্ছে কিষানিরা

এই আইন আমাদের মতো কৃষকদের খুন করার আইন * কেন আমরা বাড়ি ফিরে যাব এটা শুধু পুরুষ কৃষকদের বিক্ষোভ নয়
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৭ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনেক বাধা এসেছে। কখনো ভয়-ভীতি দেখানো হয়েছে। আবার কখনো দেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের অর্থের টোপ। সবশেষে কঠোর হুঁশিয়ারি।

হুঁশিয়ারিটাও ছিল স্পষ্ট; তোমরা ভালোই ভালোই যে যার ঘরে ফিরে যাও।

প্রথমে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে। এরপর সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিমকোর্ট। কিন্তু কোনো ভয়-ভীতি, লোভ-হুঁশিয়ারি একচুল টলাতে পারেনি তাদেরকে।

ভারতের বহুল বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনে কৃষকদের সঙ্গে সঙ্গে রাজপথে রয়েছেন কিষানিরাও।

প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিনই চমক দেখিয়ে চলেছেন অকুতোভয় এসব নারীরা। এখন পর্যন্ত সফলতার মুখ না দেখলেও রাজপথে তাদের এই দৃঢ় নেতৃত্ব ইতোমধ্যে সারাবিশ্বের নজর কেড়েছে। আদায় করে নিয়েছে স্বীকৃতি। শনিবার গোটা বিশ্বে পালন হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

আর এই দিনটিকে নারীদের বিশেষভাবে সম্মান দেওয়ার জন্য অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের আন্তর্জাতিক কাভার এবার উৎসর্গ করা হয়েছে ভারতের নয়াদিল্লির সীমান্তে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা এসব নারীকে।

ম্যাগাজিনের মার্চ মাসের সংস্করণে ‘অন দ্য ফ্রন্টলাইন অব ইন্ডিয়া’স ফার্মার প্রোটেস্ট’ শিরোণাম দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ছাপা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি ছবিও। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একদল নারীকে। যারা চলমান আন্দোলনে সম্মুখ কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

দলে ষাটোর্ধ প্রবীণ নারীরাও যেমন রয়েছেন, তেমনি আছেন সদ্য কৈশোর পেরোনা যুবতি তরুণীও। আছেন নবজাত শিশু কোলে এক মা-ও।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে গত নভেম্বর থেকে রাজধানী নয়াদিল্লি ও এর উপকণ্ঠের এলাকাগুলোতে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন-বিক্ষোভ করে আসছেন কয়েক লাখ কৃষক। সরকারের হুমকি-ধমকি ও নানা প্রলোভন সত্ত্বেও এখনো নিজেদের দাবিতে অনড় তারা।

প্রধানত পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা এসব কৃষককের সঙ্গে বিক্ষোভে শামিল হয়েছে বহু নারীও। যারা রাস্তাতেই থাকছেন, রাস্তাতেই ঘুমাচ্ছেন, আবার প্রয়োজনে দ্বিগুণ উদ্দীপনায় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানও দিচ্ছেন।

জানুয়ারিতে শীত শুরু হলে এসব প্রবীণ কৃষক ও নারীকে ঘরে ফিরে যেতে এক নির্দেশনা জারি করেন সুপ্রিমকোর্ট।

বিক্ষোভে রান্নাবান্না আর ধোয়া-মোছা ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ নেই বলেও মন্তব্য করা হয়। কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের সেই নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করে সমাবেশ মঞ্চ থেকে হুঙ্কার ছাড়েন, না, আমরা ঘরে ফিরছি না।

সুপ্রিমকোর্টের ওই নির্দেশনার পর বিক্ষোভের নারীদের অংশগ্রহণ আরও বহুগুণে বেড়েছে। কৃষকদের এই সর্বাত্মক আন্দোলন শনিবার ১০০তম দিন পার করেছে। গত তিন মাস ধরে আন্দোলনে নিজেদের নানা অভিজ্ঞতা টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন নারী নেতাদের কয়েকজন।

পাঞ্জাবের তালবান্দি থেকে আসা কিষানি আমানদ্বীপ কাউর বলেন, ‘এই আইন আমাদের মতো কৃষকদের খুন করার আইন। আমাদের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তার সবই কেড়ে নেবে এই আইন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা কিছুতেই ভীত নয়, আমাদেরকে কেনা যাবে না।’

টাইম বলেছে, ভারতের কৃষির মেরুদণ্ড এই নারীরাই। তা সত্ত্বেও সবসময় নানা শোষণ-বঞ্চনা বিশেষ করে করপোরেট শোষণের শিকার হতে হয় তাদেরকে। অক্সফামের ইন্ডিয়ার তথ্য মতে, ভারতের গ্রামীণ নারীদের ৮৫ শতাংশই কৃষি খাতে কাজ করে।

কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ নারীর নিজস্ব জমি আছে। এই বঞ্চনার কথা উঠে এসেছে পাঞ্জাব কিষান ইউনিয়নের সদস্য ৭৪ বছর বয়সি কিষানি জাসবির কাউর নাতের কণ্ঠে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ভারতে কৃষক আন্দোলন