কায়রোর রাস্তায় নামছে ২২ মমি’র বিরল শোভাযাত্রা
jugantor
কায়রোর রাস্তায় নামছে ২২ মমি’র বিরল শোভাযাত্রা

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৪ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিসরীয় সভ্যতার উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে মিসরের রাজা রানিদের মমি। এই মমিগুলো এতদিন ছিল মিসরীয় জাদুঘরে। এদের জন্য এখন নির্মিত হয়েছে নতুন এক জাদুঘর।

শিগগিরই রাজা ও রানিদের ২২টি মমি স্থানান্তরিত হবে এই জাদুঘরে। কায়রোতে অবস্থিত বর্তমান জাদুঘর থেকে এদের যেতে হবে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইজিপশিয়ান সিভিলাইজেশনে। তাদের পরবর্তী ঠিকানা ওটাই।

সাজানো গোছানো গাড়িতে করে এসব প্রাচীন শাসকদের মমিগুলোকে নতুন ঠিকানায় নিয়ে যেতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বাইবেল হিস্টোরি ডেইলির এক প্রতিবেদনে জানা হয় এ ২২ ফারাও শাসকের মধ্যে রয়েছেন ১৮ রাজা ও ৪ রানি।

যে রাস্তা দিয়ে মমিগুলো নিয়ে যাওয়া হবে, সেগুলো মেরামত এবং মসৃণ করা হয়েছে- যেন গাড়িগুলো ঝাঁকুনি না খায়। জাঁকজমকপূর্ণ ও ব্যয়বহুল এই শোভাযাত্রায় থাকবে রাজকীয় একদল ঘোড়া। একুশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে শুরু হবে তাদের যাত্রা।

বাজতে থাকবে রণসঙ্গীতের সুর। প্রত্যেক মমি বহনকারী গাড়িতে আরবিতে লেখা থাকবে শাসকের নাম। এতে খরচ হবে কয়েক মিলিয়ন ডলার।

রাজ পরিবারের রক্ত ও মর্যাদার কথা বিবেচনা করে এই শোভাযাত্রা উপলক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মিসরে এসব মমিকে বিবেচনা করা হয় জাতীয় সম্পদ হিসাবে। শোভাযাত্রায় এই সব রাজা রানির কাকে কোথায় রাখা হবে তা নির্ধারিত হবে তাদের শাসনকালের ওপর।

অর্থাৎ শাসনকালের ক্রম অনুসারে তাদের মমিগুলো নিয়ে যাওয়া হবে। এসব রাজা রানির মধ্যে রয়েছেন সপ্তদশ শতাব্দীর রাজা দ্বিতীয় সেকেনেনরে থেকে শুরু করে খ্রিষ্টপূর্ব দ্বাদশ শতাব্দীর রাজা নবম রামসেসও।

বলা হচ্ছে, শোভাযাত্রায় প্রধান আকর্ষণ রাজা দ্বিতীয় রামসেস। তাকে নিয়েই মানুষের বেশি আগ্রহ।

তিনি ৬৭ বছর শাসন করেছেন এবং নিউ কিংডমে তিনিই সবচেয়ে জনপ্রিয় ফারাও। বলা হয় তিনিই প্রথম কোনো শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। আরেকজন রানি হাটসেপসুট।

ফারাওদের মৃতদেহ মমি করে রাখার পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাচীন মিসরে। কিন্তু এই শোভাযাত্রার সময় এসব মমি রাখা হবে নাইট্রোজেন ভর্তি বিশেষ কিছু বাক্সের ভেতরে।

বাইরের আবহাওয়া থেকে মমিগুলোকে রক্ষার জন্যই এই ব্যবস্থা।

কায়রোতে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে মিসর-বিদ্যার অধ্যাপক সালিমা ইকরাম বলেছেন, ‘মমিগুলো যাতে অক্ষত, স্থিতিশীল থাকে এবং সেগুলোর কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য এগুলোকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পর্যটন ও প্রাচীনকালের নিদর্শন সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়।’

এসব মমিকে ১৮৮১ সালে থেকে ১৮৯৮ সালের মধ্যে প্রাচীন মিসরের থিবস থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। আধুনিক কালে এই জায়গাটি লাক্সর নামে পরিচিত। ড. ইকরাম বলছেন, এর আগেও এসব মমিকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছিল।

লাক্সর থেকে রাজধানী কায়রোতে আনা হয়েছিল নীল নদ দিয়ে নৌকায় করে। আর কিছু মমিকে আনা হয়েছিল ট্রেনের প্রথম শ্রেণির বগিতে করে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন জাদুঘরে স্থানান্তর করার পর এগুলো সারা বিশ্ব থেকে প্রচুর পর্যটক আকর্ষণ করবে।

এর ফলে চাঙ্গা হয়ে উঠবে স্থানীয় পর্যটন শিল্প যা মিসরের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

বর্ণাঢ্য এই মমিদের শোভাযাত্রার দিনক্ষণ নির্ধারিত না হলেও এটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কায়রোর রাস্তায় নামছে ২২ মমি’র বিরল শোভাযাত্রা

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৪ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিসরীয় সভ্যতার উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে মিসরের রাজা রানিদের মমি। এই মমিগুলো এতদিন ছিল মিসরীয় জাদুঘরে। এদের জন্য এখন নির্মিত হয়েছে নতুন এক জাদুঘর।

শিগগিরই রাজা ও রানিদের ২২টি মমি স্থানান্তরিত হবে এই জাদুঘরে। কায়রোতে অবস্থিত বর্তমান জাদুঘর থেকে এদের যেতে হবে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইজিপশিয়ান সিভিলাইজেশনে। তাদের পরবর্তী ঠিকানা ওটাই।

সাজানো গোছানো গাড়িতে করে এসব প্রাচীন শাসকদের মমিগুলোকে নতুন ঠিকানায় নিয়ে যেতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বাইবেল হিস্টোরি ডেইলির এক প্রতিবেদনে জানা হয় এ ২২ ফারাও শাসকের মধ্যে রয়েছেন ১৮ রাজা ও ৪ রানি।

যে রাস্তা দিয়ে মমিগুলো নিয়ে যাওয়া হবে, সেগুলো মেরামত এবং মসৃণ করা হয়েছে- যেন গাড়িগুলো ঝাঁকুনি না খায়। জাঁকজমকপূর্ণ ও ব্যয়বহুল এই শোভাযাত্রায় থাকবে রাজকীয় একদল ঘোড়া। একুশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে শুরু হবে তাদের যাত্রা।

বাজতে থাকবে রণসঙ্গীতের সুর। প্রত্যেক মমি বহনকারী গাড়িতে আরবিতে লেখা থাকবে শাসকের নাম। এতে খরচ হবে কয়েক মিলিয়ন ডলার।

রাজ পরিবারের রক্ত ও মর্যাদার কথা বিবেচনা করে এই শোভাযাত্রা উপলক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মিসরে এসব মমিকে বিবেচনা করা হয় জাতীয় সম্পদ হিসাবে। শোভাযাত্রায় এই সব রাজা রানির কাকে কোথায় রাখা হবে তা নির্ধারিত হবে তাদের শাসনকালের ওপর।

অর্থাৎ শাসনকালের ক্রম অনুসারে তাদের মমিগুলো নিয়ে যাওয়া হবে। এসব রাজা রানির মধ্যে রয়েছেন সপ্তদশ শতাব্দীর রাজা দ্বিতীয় সেকেনেনরে থেকে শুরু করে খ্রিষ্টপূর্ব দ্বাদশ শতাব্দীর রাজা নবম রামসেসও।

বলা হচ্ছে, শোভাযাত্রায় প্রধান আকর্ষণ রাজা দ্বিতীয় রামসেস। তাকে নিয়েই মানুষের বেশি আগ্রহ।

তিনি ৬৭ বছর শাসন করেছেন এবং নিউ কিংডমে তিনিই সবচেয়ে জনপ্রিয় ফারাও। বলা হয় তিনিই প্রথম কোনো শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। আরেকজন রানি হাটসেপসুট।

ফারাওদের মৃতদেহ মমি করে রাখার পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাচীন মিসরে। কিন্তু এই শোভাযাত্রার সময় এসব মমি রাখা হবে নাইট্রোজেন ভর্তি বিশেষ কিছু বাক্সের ভেতরে।

বাইরের আবহাওয়া থেকে মমিগুলোকে রক্ষার জন্যই এই ব্যবস্থা।

কায়রোতে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে মিসর-বিদ্যার অধ্যাপক সালিমা ইকরাম বলেছেন, ‘মমিগুলো যাতে অক্ষত, স্থিতিশীল থাকে এবং সেগুলোর কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য এগুলোকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পর্যটন ও প্রাচীনকালের নিদর্শন সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়।’

এসব মমিকে ১৮৮১ সালে থেকে ১৮৯৮ সালের মধ্যে প্রাচীন মিসরের থিবস থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। আধুনিক কালে এই জায়গাটি লাক্সর নামে পরিচিত। ড. ইকরাম বলছেন, এর আগেও এসব মমিকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছিল।

লাক্সর থেকে রাজধানী কায়রোতে আনা হয়েছিল নীল নদ দিয়ে নৌকায় করে। আর কিছু মমিকে আনা হয়েছিল ট্রেনের প্রথম শ্রেণির বগিতে করে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন জাদুঘরে স্থানান্তর করার পর এগুলো সারা বিশ্ব থেকে প্রচুর পর্যটক আকর্ষণ করবে।

এর ফলে চাঙ্গা হয়ে উঠবে স্থানীয় পর্যটন শিল্প যা মিসরের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

বর্ণাঢ্য এই মমিদের শোভাযাত্রার দিনক্ষণ নির্ধারিত না হলেও এটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন