এবার সেদ্ধ ডিমে প্রতিবাদ
jugantor
এবার সেদ্ধ ডিমে প্রতিবাদ

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমার জান্তাদের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রোববার এক অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা। সেনাশাসনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের প্রতীক হিসাবে ইয়াঙ্গুনে ‘ইস্টার এগ’ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। সেদ্ধ ডিমের ওপর নানারঙের প্রতিবাদী নকশা এঁকে পালন করা হয় এ কর্মসূচি। খবর এএফপির।

রোববারের আন্দোলন বলেই এটিকে ‘ইস্টার এগ’ নাম দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা আলাদা আলাদা দায়িত্ব নিয়ে সেদ্ধ ডিমগুলোর ওপর বিভিন্ন প্রতিবাদী বক্তব্য কিংবা বার্তা দিয়ে ডিমগুলোকে রঙিন করে সাজিয়েছেন। এরপর রেখে এসেছেন প্রতিবেশীদের দ্বারে দ্বারে। কোনো কোনো প্রতিবেশীর বাড়ির সামনের গেটে ঝুলিয়ে রেখেছেন ব্যাগে ভরা বর্ণিল বাহারি ডিমগুলো।

‘আমাদের লোকদের বাঁচান’, ‘গণতন্ত্র বাঁচান’, ‘আমরা অবশ্যই জয়ী হব’, ‘বসন্ত বিপ্লব’, ‘বিদায় নাও সেনাপ্রধান’ জাতীয় লেখা ছিল ওই ডিমগুলোতে। আবার কোথাও মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি’র ছবি কিংবা তিন আঙুলের স্যালুট এঁকে দেওয়া হয়েছে। মোমবাতি প্রজ্বালনের পর এ প্রতিবাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ইয়াঙ্গুনের একজন বৌদ্ধ এএফপিকে জানান, ‘আমি বৌদ্ধ কিন্তু এ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হয়ে গৌরববোধ করছি। আমি প্রায় ১ ঘণ্টা সময় নিয়ে ডিমগুলোকে সাজিয়েছি। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হোক, গণতন্ত্র ফিরে আসুক-আমি এই প্রার্থনা করছি।’

ডিম প্রতিবাদের প্রচারাভিযানে একটি ফেসবুক গ্রুপ লিখেছে-‘ইস্টার সানডের মতো খ্রিস্টান ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ মিয়ানমারের একজন ঊর্ধ্বতন ক্যাথলিক কার্ডিনাল চার্লস বো টুইটারে জানিয়েছেন, ‘যিশু জেগে উঠেছেন : হাল্লেলুজা-মিয়ানমারও জেগে উঠবে।’ মিয়ানমারে স্বৈরশাসনের অবসান ও গণতন্ত্র-মানবাধিকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

সেনা কর্তৃপক্ষের ব্যাপক দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা প্রতিদিনই মিয়ানমারের রাস্তায় নামছেন। তারা সেনাশাসন প্রত্যাখ্যান করছেন। দিনের বেলায় তো বটেই, আন্দোলনকারীরা রাতেও প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার বা আটক ব্যক্তির সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি।

রাজপথে বিক্ষোভের পাশাপাশি ধর্মঘট-অসহযোগের মতো আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভকারীরা ব্যতিক্রমধর্মী নানান প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন। ‘ইস্টার এগ’ তেমনি একটা ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ।

‘মিয়ানমার ছেড়ে যাও চীন’-বলছে গণতন্ত্রপন্থিরা : মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি সমর্থকরা ইয়াঙ্গুনে চীনা দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মিয়ানমারে রক্তক্ষরণ বন্ধের উদ্দেশ্যে সে দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপ থামিয়ে দেয় চীন।

এরপর চীনবিরোধী স্লোগান দিয়েছে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থিরা। গণতন্ত্রপন্থি কয়েক হাজার সমর্থক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং সেলিব্রিটি এ ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। তারা স্লোগান দিয়েছেন-মিয়ানমার ছেড়ে চলে যাও চীন। চীনা দূতাবাস সরিয়ে নাও। চীনা দূতাবাসের দরকার নেই, এখনই মিয়ানমার ছেড়ে চলে যাও।

গণতন্ত্রপন্থিদের কণ্ঠরোধ করার জন্য মিয়ানমারে অভ্যুত্থানকারী সেনা সরকার অন্তত ৫৫০ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। মিয়ানমারের বহু মানুষের প্রত্যাশা ছিল, সেনা সরকারের ওপর জাতিসংঘের চাপ এলে ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর সংখ্যা বন্ধ হতে পারে। কিন্তু চীনের হস্তক্ষেপে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সেই পদক্ষেপ নিতে পারেনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এমনকি চীনের কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি থেকে কড়া ভাষাও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এবার সেদ্ধ ডিমে প্রতিবাদ

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৫ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমার জান্তাদের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রোববার এক অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা। সেনাশাসনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের প্রতীক হিসাবে ইয়াঙ্গুনে ‘ইস্টার এগ’ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। সেদ্ধ ডিমের ওপর নানারঙের প্রতিবাদী নকশা এঁকে পালন করা হয় এ কর্মসূচি। খবর এএফপির।

রোববারের আন্দোলন বলেই এটিকে ‘ইস্টার এগ’ নাম দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা আলাদা আলাদা দায়িত্ব নিয়ে সেদ্ধ ডিমগুলোর ওপর বিভিন্ন প্রতিবাদী বক্তব্য কিংবা বার্তা দিয়ে ডিমগুলোকে রঙিন করে সাজিয়েছেন। এরপর রেখে এসেছেন প্রতিবেশীদের দ্বারে দ্বারে। কোনো কোনো প্রতিবেশীর বাড়ির সামনের গেটে ঝুলিয়ে রেখেছেন ব্যাগে ভরা বর্ণিল বাহারি ডিমগুলো।

‘আমাদের লোকদের বাঁচান’, ‘গণতন্ত্র বাঁচান’, ‘আমরা অবশ্যই জয়ী হব’, ‘বসন্ত বিপ্লব’, ‘বিদায় নাও সেনাপ্রধান’ জাতীয় লেখা ছিল ওই ডিমগুলোতে। আবার কোথাও মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি’র ছবি কিংবা তিন আঙুলের স্যালুট এঁকে দেওয়া হয়েছে। মোমবাতি প্রজ্বালনের পর এ প্রতিবাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ইয়াঙ্গুনের একজন বৌদ্ধ এএফপিকে জানান, ‘আমি বৌদ্ধ কিন্তু এ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হয়ে গৌরববোধ করছি। আমি প্রায় ১ ঘণ্টা সময় নিয়ে ডিমগুলোকে সাজিয়েছি। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হোক, গণতন্ত্র ফিরে আসুক-আমি এই প্রার্থনা করছি।’

ডিম প্রতিবাদের প্রচারাভিযানে একটি ফেসবুক গ্রুপ লিখেছে-‘ইস্টার সানডের মতো খ্রিস্টান ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ মিয়ানমারের একজন ঊর্ধ্বতন ক্যাথলিক কার্ডিনাল চার্লস বো টুইটারে জানিয়েছেন, ‘যিশু জেগে উঠেছেন : হাল্লেলুজা-মিয়ানমারও জেগে উঠবে।’ মিয়ানমারে স্বৈরশাসনের অবসান ও গণতন্ত্র-মানবাধিকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

সেনা কর্তৃপক্ষের ব্যাপক দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা প্রতিদিনই মিয়ানমারের রাস্তায় নামছেন। তারা সেনাশাসন প্রত্যাখ্যান করছেন। দিনের বেলায় তো বটেই, আন্দোলনকারীরা রাতেও প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার বা আটক ব্যক্তির সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি।

রাজপথে বিক্ষোভের পাশাপাশি ধর্মঘট-অসহযোগের মতো আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভকারীরা ব্যতিক্রমধর্মী নানান প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন। ‘ইস্টার এগ’ তেমনি একটা ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ।

‘মিয়ানমার ছেড়ে যাও চীন’-বলছে গণতন্ত্রপন্থিরা : মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি সমর্থকরা ইয়াঙ্গুনে চীনা দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মিয়ানমারে রক্তক্ষরণ বন্ধের উদ্দেশ্যে সে দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপ থামিয়ে দেয় চীন।

এরপর চীনবিরোধী স্লোগান দিয়েছে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থিরা। গণতন্ত্রপন্থি কয়েক হাজার সমর্থক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং সেলিব্রিটি এ ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। তারা স্লোগান দিয়েছেন-মিয়ানমার ছেড়ে চলে যাও চীন। চীনা দূতাবাস সরিয়ে নাও। চীনা দূতাবাসের দরকার নেই, এখনই মিয়ানমার ছেড়ে চলে যাও।

গণতন্ত্রপন্থিদের কণ্ঠরোধ করার জন্য মিয়ানমারে অভ্যুত্থানকারী সেনা সরকার অন্তত ৫৫০ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। মিয়ানমারের বহু মানুষের প্রত্যাশা ছিল, সেনা সরকারের ওপর জাতিসংঘের চাপ এলে ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর সংখ্যা বন্ধ হতে পারে। কিন্তু চীনের হস্তক্ষেপে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সেই পদক্ষেপ নিতে পারেনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এমনকি চীনের কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি থেকে কড়া ভাষাও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অং সান সু চি আটক