বৈশ্বিক কর চুক্তি কার্যকরে নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
jugantor
বৈশ্বিক কর চুক্তি কার্যকরে নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
১৪০টি দেশকে বাইডেন সরকারের চিঠি * সমর্থন ইইউর

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ওপর কর নির্ধারণের জন্য নতুন পরিকল্পনা সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পনায় বৈশ্বিক ন্যূনতম করপোরেট কর (গ্লোবাল মিনিমাম ট্যাক্স) চুক্তির অংশ হিসাবে বড় করপোরেট কোম্পানিগুলোকে প্রত্যেক দেশে তাদের মোট বিক্রয়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সেই দেশের সরকারকে নির্দিষ্ট কর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকরে ইতোমধ্যে ১৪০টি দেশকে চিঠি পাঠিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকার। এতে সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

গত ৩০ বছর ধরেই ঝুলে রয়েছে বৈশ্বিক ন্যূনতম করপোরেট করারোপের আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্র বলছে ‘বৈশ্বিক কর চুক্তি’তে পৌঁছতে পারলে দেশগুলো নিজেদের সীমান্তের মধ্যে লব্ধ লভ্যাংশের ভিত্তিতে করপোরেট মুনাফার ওপর আরও বেশি কর আদায় করতে সক্ষম হবে। ব্লুমবার্গ। যুক্তরাষ্ট্র ‘অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (ওইসিডি)-এর আলোচনায় ‘ডিজিটাল কর ও বৈশ্বিক ন্যূনতম কর’ নিয়ে ১৪০টি দেশের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই নথিটি এখনো উন্মুক্ত হয়নি। নাম না প্রকাশ করার শর্তে নথি সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন, কোনো দেশের মধ্যে কোম্পানিগুলোর আয়কৃত অর্থের ওপর ভিত্তি করে এই করহার বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট বা সেবা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি মাধ্যমসহ নির্দিষ্ট কিছু খাতের ওপর এই করারোপ রয়েছে। কিন্তু মার্কিন প্রস্তাবে ডিজিটাল সংস্থাগুলো ছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় কোম্পানিগুলো যে দেশে তাদের বেশি ভোক্তা ও সেবাগ্রহীতা রয়েছে, সে দেশগুলোতে বেশি কর দেবে এবং যেখানে কম রয়েছে অথবা সদর দপ্তর রয়েছে সেখানে কম কর দেবে।

এই গ্রীষ্মের মধ্যেই বৈশ্বিক কর ব্যবস্থাপনা নিয়ে চুক্তিতে উপনীত হতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বিভিন্ন ইস্যুতে মতানৈক্যের কারণে এই চুক্তিতে একমত হতে পারেনি দেশগুলো। কারণ বর্তমানে এই করের হার একেক দেশে একেক রকম। যেমন-হাঙ্গেরিতে করপোরেট কর ৯ শতাংশ, আয়ারল্যান্ডে ১২.৫ শতাংশ, ফ্রান্সে ৩২ শতাংশ ও পর্তুগালে ৩১.৫ শতাংশ। ওইসিডিতে পাঠানো মার্কিন পরিকল্পনায় দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- প্রথমত, কোন দেশ করপোরেট মুনাফার ওপর কর প্রয়োগের অধিকার রাখবে। দ্বিতীয়ত, করপোরেট বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতায় লাগাম টানা। এই চুক্তির ফলে এককভাবে কোনো দেশ ডিজিটাল কর আরোপ করতে পারবে না। কোম্পানিগুলোও বলছে, লাভের ওপর দেশগুলোর এককভাবে করারোপ তাদের জন্য বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক ন্যূনতম কর ২১ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। পূর্বের প্রস্তাবগুলোতে যা ছিল ১২.৫ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নও মার্কিন অর্থমন্ত্রী জেনেট ইয়েলেরনের এই প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক ন্যূনতম করপোরেট করের হার ওইসিডির বৈঠকেই নির্ধারণ করা উচিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন কোম্পানি ফেসবুক, গুগল, অ্যালপাবেটসহ বিভিন্ন টেক মাধ্যমগুলোকে করের আওতায় না আনতে অন্য দেশগুলোকে পরামর্শ দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন, তুরস্ক, ভারত ও অস্ট্রিয়া মার্কিন মালিকানাধীন এই কোম্পানিগুলোকে করের আওতায় এনেছে।

বৈশ্বিক কর চুক্তি কার্যকরে নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

১৪০টি দেশকে বাইডেন সরকারের চিঠি * সমর্থন ইইউর
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ওপর কর নির্ধারণের জন্য নতুন পরিকল্পনা সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পনায় বৈশ্বিক ন্যূনতম করপোরেট কর (গ্লোবাল মিনিমাম ট্যাক্স) চুক্তির অংশ হিসাবে বড় করপোরেট কোম্পানিগুলোকে প্রত্যেক দেশে তাদের মোট বিক্রয়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সেই দেশের সরকারকে নির্দিষ্ট কর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকরে ইতোমধ্যে ১৪০টি দেশকে চিঠি পাঠিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকার। এতে সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

গত ৩০ বছর ধরেই ঝুলে রয়েছে বৈশ্বিক ন্যূনতম করপোরেট করারোপের আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্র বলছে ‘বৈশ্বিক কর চুক্তি’তে পৌঁছতে পারলে দেশগুলো নিজেদের সীমান্তের মধ্যে লব্ধ লভ্যাংশের ভিত্তিতে করপোরেট মুনাফার ওপর আরও বেশি কর আদায় করতে সক্ষম হবে। ব্লুমবার্গ। যুক্তরাষ্ট্র ‘অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (ওইসিডি)-এর আলোচনায় ‘ডিজিটাল কর ও বৈশ্বিক ন্যূনতম কর’ নিয়ে ১৪০টি দেশের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই নথিটি এখনো উন্মুক্ত হয়নি। নাম না প্রকাশ করার শর্তে নথি সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন, কোনো দেশের মধ্যে কোম্পানিগুলোর আয়কৃত অর্থের ওপর ভিত্তি করে এই করহার বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট বা সেবা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি মাধ্যমসহ নির্দিষ্ট কিছু খাতের ওপর এই করারোপ রয়েছে। কিন্তু মার্কিন প্রস্তাবে ডিজিটাল সংস্থাগুলো ছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় কোম্পানিগুলো যে দেশে তাদের বেশি ভোক্তা ও সেবাগ্রহীতা রয়েছে, সে দেশগুলোতে বেশি কর দেবে এবং যেখানে কম রয়েছে অথবা সদর দপ্তর রয়েছে সেখানে কম কর দেবে।

এই গ্রীষ্মের মধ্যেই বৈশ্বিক কর ব্যবস্থাপনা নিয়ে চুক্তিতে উপনীত হতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বিভিন্ন ইস্যুতে মতানৈক্যের কারণে এই চুক্তিতে একমত হতে পারেনি দেশগুলো। কারণ বর্তমানে এই করের হার একেক দেশে একেক রকম। যেমন-হাঙ্গেরিতে করপোরেট কর ৯ শতাংশ, আয়ারল্যান্ডে ১২.৫ শতাংশ, ফ্রান্সে ৩২ শতাংশ ও পর্তুগালে ৩১.৫ শতাংশ। ওইসিডিতে পাঠানো মার্কিন পরিকল্পনায় দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- প্রথমত, কোন দেশ করপোরেট মুনাফার ওপর কর প্রয়োগের অধিকার রাখবে। দ্বিতীয়ত, করপোরেট বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতায় লাগাম টানা। এই চুক্তির ফলে এককভাবে কোনো দেশ ডিজিটাল কর আরোপ করতে পারবে না। কোম্পানিগুলোও বলছে, লাভের ওপর দেশগুলোর এককভাবে করারোপ তাদের জন্য বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক ন্যূনতম কর ২১ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। পূর্বের প্রস্তাবগুলোতে যা ছিল ১২.৫ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নও মার্কিন অর্থমন্ত্রী জেনেট ইয়েলেরনের এই প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক ন্যূনতম করপোরেট করের হার ওইসিডির বৈঠকেই নির্ধারণ করা উচিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন কোম্পানি ফেসবুক, গুগল, অ্যালপাবেটসহ বিভিন্ন টেক মাধ্যমগুলোকে করের আওতায় না আনতে অন্য দেশগুলোকে পরামর্শ দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন, তুরস্ক, ভারত ও অস্ট্রিয়া মার্কিন মালিকানাধীন এই কোম্পানিগুলোকে করের আওতায় এনেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন