ভারতে করোনা সংক্রমণে রেকর্ড
jugantor
ভারতে করোনা সংক্রমণে রেকর্ড
২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৯, মৃত্যু ৬৮৫ * টিকার মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে * ভারতীয়দের নিউজিল্যান্ড প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা * বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ২৯ লাখ ছাড়িয়েছে

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে করোনা পরিস্থিতি আবারও বাজে ও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই রেকর্ড হারে বাড়ছে সংক্রমণ। সোমবার থেকে দৈনিক এক লাখের বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে এক লাখ ২৬ হাজার ৭৮৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এটা বিশ্ব মহামারির ক্ষেত্রে একটা বড় রেকর্ড। বিশ্বের কোনো দেশে একদিনে এতসংখ্যক মানুষের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েনি। মৃত্যু হয়েছে ৬৮৫ জনের। আগের দিনই (বুধবার) এক লাখ ১৫ হাজার ৭৩৬ জনের আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। ওইদিন মৃত্যু হয়েছিল ৬৩০ জনের। জনগণের সামাজিক দূরত্ববিধি না মানা ও মাস্ক পরায় অনীহার কারণেই এই ঊর্ধ্বগতি বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সেপ্রেস ও রয়টার্স।
ভারতে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছে মানুষ। করোনা মোকাবিলায় ভারতে আপাতত দুটি টিকা দেওয়া হচ্ছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটি উৎপাদন করছে পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট। অন্যদিকে হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেক ও আইসিএমআর যৌথভাবে উৎপাদন করছে কো-ভ্যাকসিন। বর্তমানে সেখানে এই দুটি টিকাই প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমন বিপর্যয় পরিস্থিতির মধ্যে দেশটিতে করোনার টিকা দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। সর্বাধিক করোনাপীড়িত মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাজ্যে টিকাদানকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ওড়িশা জানিয়েছে, অর্ধেক কেন্দ্রই বন্ধ করে দিয়েছে তারা।
সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ভারত থেকে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য নিউজিল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভারতে বসবাসরত নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন। ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্নের সরকার। বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ড সীমান্তে ২৩ জনের (আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ জনই ভারতীয়) করোনা শনাক্ত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় তারা। বিশ্বে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে শনাক্ত রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার। মারা গেছে ২৯ লাখ চার হাজার ৩৭৬ জন। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৩০ হাজার। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের দিক দিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে মহারাষ্ট্রে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯ হাজার ৯০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়। রাজ্যটিতে মোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ লাখ এক হাজার ৫৫৯ জন।
করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন মোদি : প্রথম ডোজের ৩৭ দিন পর করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সকালে দিল্লির এআইআইএমএস হাসপাতালে দ্বিতীয় ডোজ নেন তিনি, খবর এনডিটিভির। টিকা নেওয়ার পর টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় করোনামুক্ত থাকতে সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোদি। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘এআইআইএমএস-এ করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছি। ভাইরাসকে পরাজিত করতে টিকা নেওয়া হলো একটি উপায়। আপনি যদি টিকা নেওয়ার যোগ্য হন তবে শিগগিরই আপনার ডোজটি নিয়ে নিন।’ এর আগে ১ মার্চ করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন মোদি।


ভারতে করোনা সংক্রমণে রেকর্ড

২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৯, মৃত্যু ৬৮৫ * টিকার মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে * ভারতীয়দের নিউজিল্যান্ড প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা * বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ২৯ লাখ ছাড়িয়েছে
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে করোনা পরিস্থিতি আবারও বাজে ও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই রেকর্ড হারে বাড়ছে সংক্রমণ। সোমবার থেকে দৈনিক এক লাখের বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে এক লাখ ২৬ হাজার ৭৮৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এটা বিশ্ব মহামারির ক্ষেত্রে একটা বড় রেকর্ড। বিশ্বের কোনো দেশে একদিনে এতসংখ্যক মানুষের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েনি। মৃত্যু হয়েছে ৬৮৫ জনের। আগের দিনই (বুধবার) এক লাখ ১৫ হাজার ৭৩৬ জনের আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। ওইদিন মৃত্যু হয়েছিল ৬৩০ জনের। জনগণের সামাজিক দূরত্ববিধি না মানা ও মাস্ক পরায় অনীহার কারণেই এই ঊর্ধ্বগতি বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সেপ্রেস ও রয়টার্স।
ভারতে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছে মানুষ। করোনা মোকাবিলায় ভারতে আপাতত দুটি টিকা দেওয়া হচ্ছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটি উৎপাদন করছে পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট। অন্যদিকে হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেক ও আইসিএমআর যৌথভাবে উৎপাদন করছে কো-ভ্যাকসিন। বর্তমানে সেখানে এই দুটি টিকাই প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমন বিপর্যয় পরিস্থিতির মধ্যে দেশটিতে করোনার টিকা দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। সর্বাধিক করোনাপীড়িত মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাজ্যে টিকাদানকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ওড়িশা জানিয়েছে, অর্ধেক কেন্দ্রই বন্ধ করে দিয়েছে তারা। 
সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ভারত থেকে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য নিউজিল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভারতে বসবাসরত নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন। ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্নের সরকার। বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ড সীমান্তে ২৩ জনের (আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ জনই ভারতীয়) করোনা শনাক্ত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় তারা। বিশ্বে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে শনাক্ত রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার। মারা গেছে ২৯ লাখ চার হাজার ৩৭৬ জন। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৩০ হাজার। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের দিক দিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে মহারাষ্ট্রে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯ হাজার ৯০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়। রাজ্যটিতে মোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ লাখ এক হাজার ৫৫৯ জন।
করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন মোদি : প্রথম ডোজের ৩৭ দিন পর করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সকালে দিল্লির এআইআইএমএস হাসপাতালে দ্বিতীয় ডোজ নেন তিনি, খবর এনডিটিভির। টিকা নেওয়ার পর টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় করোনামুক্ত থাকতে সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোদি। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘এআইআইএমএস-এ করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছি। ভাইরাসকে পরাজিত করতে টিকা নেওয়া হলো একটি উপায়। আপনি যদি টিকা নেওয়ার যোগ্য হন তবে শিগগিরই আপনার ডোজটি নিয়ে নিন।’ এর আগে ১ মার্চ করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন মোদি।


 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন