বিক্ষোভকারীদের ওপর বিস্ফোরক ব্যবহার করছে জান্তা
jugantor
বিক্ষোভকারীদের ওপর বিস্ফোরক ব্যবহার করছে জান্তা
আরও প্রায় দুই ডজন নিহত * রাজনৈতিক বন্দিদের বিচারে জেলের মধ্যেই আদালত * সহিংসতায় হতাহতের দায় বিক্ষোভকারীদের : সাক্ষাৎকারে সেনা মুখপাত্র

  যুগান্তর ডেস্ক  

১০ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর বিস্ফোরক ব্যবহার করছে জান্তার নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার সাগাইং অঞ্চলের কালে শহরে বিক্ষোভ চলাকালে গণতন্ত্রকামীদের ওপর বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে।

এ সময় হাতে তৈরি দুর্বল অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও প্রায় দুই ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বন্দিদের তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য কারাগারের ভেতরেই আদালতের ব্যবস্থা করেছে জান্তারা।

এদিকে মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে ১৮ রাষ্ট্রদূতের বিবৃতির পর শুক্রবার সেনা জেনারেল দাবি করেছেন, সহিংসতায় হতাহতের দায় বিক্ষোভকারীদের।

সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে সামরিক মুখপাত্র জাও মিন তুন আরও দাবি করেন সেনা শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে। জানিয়েছে রয়টার্স।

দ্য ইরাবতী জানিয়েছে, বুধবার সেগাইং অঞ্চলের কালে শহরে বিক্ষোভকারীরাও বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধ চলছিল। হঠাৎই সেনারা ওই এলাকায় অভিযান চালায়। বিস্ফোরক হামলায় এখানে প্রায় দু’ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হন আহত হয়েছেন অনেকেই।

তিন বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। একটি সূত্র জানিয়েছে, এ তিনজনের লাশ সেনারা তুলে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার কালের এক বিক্ষোভকারী বলছিলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে তারা বিস্ফোরক এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষদের মেরে ফেলছে। এটা কি মেনে নেওয়া যায়?’ এর আগে কালেতে বিক্ষোভকারীদের ওপর স্বয়ংক্রিয় ফায়ার ও রকেটলঞ্চার ব্যবহার করেছিল জান্তারা।

এদিকে রাজনৈতিক বন্দিদের আর্জি শোনার জন্য সামরিক শাসকরা ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়, বাগো এবং আইয়ারওয়াদি অঞ্চলে কারাগারের অভ্যন্তরে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করেছে।

ইরাবতী জানিয়েছে শুক্রবার পর্যন্ত মান্দালয় ওবো কারাগার, ইয়াঙ্গুনে ইনসেইন, বাগোতে প্রায়ে এবং আইয়ারওয়াদির হিন্থাদা ও প্যাথেইন কারাগারে অস্থায়ী আদালতগুলো বসানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল মার্চ থেকেই।

একজন বেসামরিক বিচারক এবং একজন আইন কর্মকর্তা নিয়ে গঠিত হয়েছে এসব অস্থায়ী আদালত। তবে সূত্রটি জানিয়েছে, রাজনৈতিক বন্দির বিচার চলাকালে তার পক্ষের একজন আইনজীবী ছাড়া আর কাউকে ওই আদালতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এই সূত্র আরও জানিয়েছে, বন্দির রিমান্ড, বিচার ও সাজা একই গারাগারে নিষ্পত্তির জন্য এ পদক্ষেপ নিয়েছে জান্তারা। সামরিক সরকার কর্তৃক গ্রেফতারদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্যাথেইনভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন অব হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অ্যান্ড ডিফেন্সের পরিচালক ইউ মিন্ট নাইং।

তার স্ত্রী দা খিন হেটে হেট মায়ো বলেছেন, আমার স্বামীকে গ্রেফতারের পর থেকে আমাকে দেখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাকে কোনো আইনজীবীও দেখতে দেওয়া হয়নি। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন যে তাকে কারাগারের অভ্যন্তরে একটি আদালতে ‘প্রহসন বিচার’ করা হবে।

মানবাধিকারের ভিত্তিতে আমি উন্মুক্ত আদালতে একটি মুক্ত বিচারের আহ্বান জানাতে চাই। অন্য দিকে এক সাক্ষাৎকারে মিয়ানমারের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে এসেছে এবং ‘কিছু মানুষের’ মৃত্যুর দায় বিক্ষোভকারীদের।

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এ ঘটনাকে সামরিক অভ্যুত্থান হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে পুরো বিশ্বই এর নিন্দা জানিয়েছে। তবে এটিকে ‘অভ্যুত্থান’ নয় বলে দাবি করেছেন এই মুখপাত্র।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া সাধারণ নির্বাচনে জালিয়াতির তদন্ত করতে তারা আপাতত দেশকে সুরক্ষা দিচ্ছেন। এ কারণেই ক্ষমতা দখল করা।

বিক্ষোভকারীদের ওপর বিস্ফোরক ব্যবহার করছে জান্তা

আরও প্রায় দুই ডজন নিহত * রাজনৈতিক বন্দিদের বিচারে জেলের মধ্যেই আদালত * সহিংসতায় হতাহতের দায় বিক্ষোভকারীদের : সাক্ষাৎকারে সেনা মুখপাত্র
 যুগান্তর ডেস্ক 
১০ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর বিস্ফোরক ব্যবহার করছে জান্তার নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার সাগাইং অঞ্চলের কালে শহরে বিক্ষোভ চলাকালে গণতন্ত্রকামীদের ওপর বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে।

এ সময় হাতে তৈরি দুর্বল অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও প্রায় দুই ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বন্দিদের তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য কারাগারের ভেতরেই আদালতের ব্যবস্থা করেছে জান্তারা।

এদিকে মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে ১৮ রাষ্ট্রদূতের বিবৃতির পর শুক্রবার সেনা জেনারেল দাবি করেছেন, সহিংসতায় হতাহতের দায় বিক্ষোভকারীদের।

সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে সামরিক মুখপাত্র জাও মিন তুন আরও দাবি করেন সেনা শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে। জানিয়েছে রয়টার্স।

দ্য ইরাবতী জানিয়েছে, বুধবার সেগাইং অঞ্চলের কালে শহরে বিক্ষোভকারীরাও বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধ চলছিল। হঠাৎই সেনারা ওই এলাকায় অভিযান চালায়। বিস্ফোরক হামলায় এখানে প্রায় দু’ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হন আহত হয়েছেন অনেকেই।

তিন বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। একটি সূত্র জানিয়েছে, এ তিনজনের লাশ সেনারা তুলে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার কালের এক বিক্ষোভকারী বলছিলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে তারা বিস্ফোরক এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষদের মেরে ফেলছে। এটা কি মেনে নেওয়া যায়?’ এর আগে কালেতে বিক্ষোভকারীদের ওপর স্বয়ংক্রিয় ফায়ার ও রকেটলঞ্চার ব্যবহার করেছিল জান্তারা।

এদিকে রাজনৈতিক বন্দিদের আর্জি শোনার জন্য সামরিক শাসকরা ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়, বাগো এবং আইয়ারওয়াদি অঞ্চলে কারাগারের অভ্যন্তরে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করেছে।

ইরাবতী জানিয়েছে শুক্রবার পর্যন্ত মান্দালয় ওবো কারাগার, ইয়াঙ্গুনে ইনসেইন, বাগোতে প্রায়ে এবং আইয়ারওয়াদির হিন্থাদা ও প্যাথেইন কারাগারে অস্থায়ী আদালতগুলো বসানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল মার্চ থেকেই।

একজন বেসামরিক বিচারক এবং একজন আইন কর্মকর্তা নিয়ে গঠিত হয়েছে এসব অস্থায়ী আদালত। তবে সূত্রটি জানিয়েছে, রাজনৈতিক বন্দির বিচার চলাকালে তার পক্ষের একজন আইনজীবী ছাড়া আর কাউকে ওই আদালতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এই সূত্র আরও জানিয়েছে, বন্দির রিমান্ড, বিচার ও সাজা একই গারাগারে নিষ্পত্তির জন্য এ পদক্ষেপ নিয়েছে জান্তারা। সামরিক সরকার কর্তৃক গ্রেফতারদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্যাথেইনভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন অব হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অ্যান্ড ডিফেন্সের পরিচালক ইউ মিন্ট নাইং।

তার স্ত্রী দা খিন হেটে হেট মায়ো বলেছেন, আমার স্বামীকে গ্রেফতারের পর থেকে আমাকে দেখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাকে কোনো আইনজীবীও দেখতে দেওয়া হয়নি। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন যে তাকে কারাগারের অভ্যন্তরে একটি আদালতে ‘প্রহসন বিচার’ করা হবে।

মানবাধিকারের ভিত্তিতে আমি উন্মুক্ত আদালতে একটি মুক্ত বিচারের আহ্বান জানাতে চাই। অন্য দিকে এক সাক্ষাৎকারে মিয়ানমারের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে এসেছে এবং ‘কিছু মানুষের’ মৃত্যুর দায় বিক্ষোভকারীদের।

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এ ঘটনাকে সামরিক অভ্যুত্থান হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে পুরো বিশ্বই এর নিন্দা জানিয়েছে। তবে এটিকে ‘অভ্যুত্থান’ নয় বলে দাবি করেছেন এই মুখপাত্র।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া সাধারণ নির্বাচনে জালিয়াতির তদন্ত করতে তারা আপাতত দেশকে সুরক্ষা দিচ্ছেন। এ কারণেই ক্ষমতা দখল করা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অং সান সু চি আটক