তিহাত্তর বছরের যুগল জীবনের অবসান
jugantor
রানি এলিজাবেথ-প্রিন্স ফিলিপ
তিহাত্তর বছরের যুগল জীবনের অবসান

  যুগান্তর ডেস্ক  

১০ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শুরুটা হয়েছিল এখন থেকে সাত দশক আগে। এরপর হাতে হাত রেখে কেটে গেছে বহুদিন, মাস ও বছর। কত স্মৃতি কত ঘটন-অঘটন।

এটা ব্রিটিশ রানি ও তার স্বামী প্রিন্স ফিলিপের গল্প। শুক্রবার পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন ফিলিপ। আর এর মধ্য দিয়ে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে দীর্ঘ ৭৩ বছরের বর্ণাঢ্য যুগল জীবনের অবসান হলো।

রানির স্বামী হিসেবে গোটা দুনিয়া প্রিন্সকে চিনলেও ব্রিটেনের মানুষের কাছে রানির পরেই তার স্থান। তাদের দীর্ঘ ৭৩ বছরের দাম্পত্য ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে অনন্য নজির। সংকটের সময় রানির সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গা ছিলেন তিনিই। শুধু তাই নয়, পুত্রবধূ ডায়ানাকেও অত্যন্ত স্নেহ করতেন প্রিন্স। তাকে জীবনসঙ্গী হিসাবে পেতে রাজপরিবারের রক্ষণশীলতাকেও ভাঙতে কুণ্ঠা করেননি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

কৈশোরেই ব্রিটিশ নৌবাহিনীতে কর্মরত ফিলিপের প্রতি অনুরাগ জন্মায় রানির। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত যাদের হাত ধরে, সেই জার্মানির অভিজাত মহলে ওঠবস ছিল ফিলিপের পরিবারের। তিনি ব্রিটেনে চলে এলেও তার পরিবারের অনেকেই জার্মানিতে থেকে গিয়েছিলেন।

এমনকি তার বোনদের বিয়েও হয়েছিল নাৎজি-সংযোগ থাকা অভিজাত জার্মান পুরুষদের সঙ্গে। তাই ফিলিপের সঙ্গে রানি এলিজাবেথের বিবাহে অনীহা ছিল রাজপরিবারের। তবে সব বাধা পেরিয়ে, ১৯৪৭ সালে ২১ বছর বয়সে ফিলিপের সঙ্গেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

তার পর থেকে এক সঙ্গেই যাবতীয় ঝড়ঝাপটা সামলেছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং প্রিন্স ফিলিপ। তবে ২০১৭-র অগস্ট থেকে জনসমক্ষে আসা কমিয়ে দেন প্রিন্স ফিলিপ।

বার্ধক্যজনিত অসুস্থতাকেই তার কারণ হিসাবে ধরা হচ্ছিল। করোনার প্রকোপে যখন ধুঁকছে গোটা বিশ্ব, সেই সময় রানির সঙ্গে নিভৃতবাসেই কাটান প্রিন্স।

গত জানুয়ারিতে একসঙ্গে করোনার প্রতিষেধকও নেন তারা। তার পরেই ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি লন্ডনের ‘কিং এডওয়ার্ড সেভেন্থ’ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

যদিও প্রিন্স ফিলিপ সংক্রমিত নন বলেই সেই সময় রাজপ্রাসাদের তরফে জানানো হয়। সেখান থেকে পরে সেন্ট বার্থোলোমিউজ হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

সেখানে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারের পর ফের ‘কিং এডওয়ার্ড সেভেন্থ’ হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রিন্স ফিলিপকে। গত ১৬ মার্চ সেখান থেকে উইন্ডসর প্রাসাদে ফিরে আসেন। তারপর এক মাসও কাটেনি। চিরতরে বিদায় নিলেন প্রিন্স।

রানি এলিজাবেথ-প্রিন্স ফিলিপ

তিহাত্তর বছরের যুগল জীবনের অবসান

 যুগান্তর ডেস্ক 
১০ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শুরুটা হয়েছিল এখন থেকে সাত দশক আগে। এরপর হাতে হাত রেখে কেটে গেছে বহুদিন, মাস ও বছর। কত স্মৃতি কত ঘটন-অঘটন।

এটা ব্রিটিশ রানি ও তার স্বামী প্রিন্স ফিলিপের গল্প। শুক্রবার পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন ফিলিপ। আর এর মধ্য দিয়ে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে দীর্ঘ ৭৩ বছরের বর্ণাঢ্য যুগল জীবনের অবসান হলো।

রানির স্বামী হিসেবে গোটা দুনিয়া প্রিন্সকে চিনলেও ব্রিটেনের মানুষের কাছে রানির পরেই তার স্থান। তাদের দীর্ঘ ৭৩ বছরের দাম্পত্য ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে অনন্য নজির। সংকটের সময় রানির সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গা ছিলেন তিনিই। শুধু তাই নয়, পুত্রবধূ ডায়ানাকেও অত্যন্ত স্নেহ করতেন প্রিন্স। তাকে জীবনসঙ্গী হিসাবে পেতে রাজপরিবারের রক্ষণশীলতাকেও ভাঙতে কুণ্ঠা করেননি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

কৈশোরেই ব্রিটিশ নৌবাহিনীতে কর্মরত ফিলিপের প্রতি অনুরাগ জন্মায় রানির। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত যাদের হাত ধরে, সেই জার্মানির অভিজাত মহলে ওঠবস ছিল ফিলিপের পরিবারের। তিনি ব্রিটেনে চলে এলেও তার পরিবারের অনেকেই জার্মানিতে থেকে গিয়েছিলেন।

এমনকি তার বোনদের বিয়েও হয়েছিল নাৎজি-সংযোগ থাকা অভিজাত জার্মান পুরুষদের সঙ্গে। তাই ফিলিপের সঙ্গে রানি এলিজাবেথের বিবাহে অনীহা ছিল রাজপরিবারের। তবে সব বাধা পেরিয়ে, ১৯৪৭ সালে ২১ বছর বয়সে ফিলিপের সঙ্গেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

তার পর থেকে এক সঙ্গেই যাবতীয় ঝড়ঝাপটা সামলেছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং প্রিন্স ফিলিপ। তবে ২০১৭-র অগস্ট থেকে জনসমক্ষে আসা কমিয়ে দেন প্রিন্স ফিলিপ।

বার্ধক্যজনিত অসুস্থতাকেই তার কারণ হিসাবে ধরা হচ্ছিল। করোনার প্রকোপে যখন ধুঁকছে গোটা বিশ্ব, সেই সময় রানির সঙ্গে নিভৃতবাসেই কাটান প্রিন্স।

গত জানুয়ারিতে একসঙ্গে করোনার প্রতিষেধকও নেন তারা। তার পরেই ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি লন্ডনের ‘কিং এডওয়ার্ড সেভেন্থ’ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

যদিও প্রিন্স ফিলিপ সংক্রমিত নন বলেই সেই সময় রাজপ্রাসাদের তরফে জানানো হয়। সেখান থেকে পরে সেন্ট বার্থোলোমিউজ হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

সেখানে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারের পর ফের ‘কিং এডওয়ার্ড সেভেন্থ’ হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রিন্স ফিলিপকে। গত ১৬ মার্চ সেখান থেকে উইন্ডসর প্রাসাদে ফিরে আসেন। তারপর এক মাসও কাটেনি। চিরতরে বিদায় নিলেন প্রিন্স।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন