আমেরিকা হেরেছে আমরা জিতেছি
jugantor
সেনা প্রত্যাহারে তালেবানের বক্তব্য
আমেরিকা হেরেছে আমরা জিতেছি
দীর্ঘতম যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে : বাইডেন * ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান ছাড়বে ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনী * তালেবানের প্রত্যাবর্তনে শঙ্কিত নারীরা, সামনে ভয়াবহ দিন

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় দুই দশকের যুদ্ধ-আগ্রাসনের পর অবশেষে আফগানিস্তান ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী ন্যাটো জোট। ইতোমধ্যে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে দুই পক্ষই। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর নাগাদ মার্কিন সেনা কাবুল থেকে দেশে ফিরবে। এদিকে হোয়াইট হাউজের এ সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের জয় হিসেবে অভিহিত করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবান। তালেবানদের প্রত্যাবর্তনে শঙ্কা প্রকাশ করছেন আফগান প্রগতিশীল নারীরা। রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। যা নাইন-ইলেভেন হামলা নামে সমধিক পরিচিত। হামলার অভিযোগে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’র নামে তালেবানদের উৎখাত করতে আফগানিস্তানে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো। দেশটিতে ব্যাপক সংখ্যায় মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার ২০ বছর পূর্তি। আফগানিস্তানে প্রায় ২০ বছর ধরে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। শক্তিশালী ন্যাটো-আফগান মিশনের ৯ হাজার ৬০০ সদস্যের মধ্যে মার্কিন সেনা রয়েছে কমপক্ষে দুই হাজার ৫০০। গত বছরের ২৯ ফ্রেরুয়ারি কাতারের রাজধানী দোহায় শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন সরকার ঘোষণা দেয়, তালেবান যদি তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছিলেন, প্রায় দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে থাকার পর ১১ সেপ্টেম্বর নাগাদ মার্কিন সেনা দেশে ফিরবে। সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে ১ মে থেকে। এরপর ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল স্টলটেনবার্গ জানিয়ে দেন, ন্যাটোর দেশগুলোও ১ মে থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা সরিয়ে নেবে। তবে ন্যাটো জানিয়েছে, সেনা প্রত্যাহার করার সময় তালেবান যদি আক্রমণ করে, তবে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। ন্যাটো আরও জানিয়েছে, আফগানিস্তানকে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

বুধবার বাইডেন ও জার্মানির চ্যান্সেলর মেরকেলের মধ্যে ফোনে কথা হয়। তারা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কথা বলেন। বাইডেন ও মেরকেল খোলাখুলি তাদের মত জানিয়েছেন। জার্মানির সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই নেতা সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাইডেন বলেন, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে জো বাইডেনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত। ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে লড়াই চলছে।

রাশিয়া অবশ্য জো বাইডেনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, বাইডেনের উচিত ছিল চুক্তি মেনে চলা এবং ১ মের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া। কিন্তু, বাইডেন তা করেননি বলে রাশিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তারা মার্কিন সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধার চোখে দেখছেন। ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে আফগানিস্তান।

এদিকে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে তালেবানরা দাবি করেছে, দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের যুদ্ধে তারা জয়ী হয়েছে। হেরেছে মার্কিনিরা। হাজি হেকমত নামের এক তালিবান জঙ্গি আরও দাবি করেছে, ‘আমরা যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত আছি। শান্তির জন্য এমনকি জিহাদের জন্যও।’ গত এক বছর ধরে, তালেবানরা জিহাদ শব্দটি নিয়ে দ্বন্দ্বে^ ছিল। তারা আমেরিকার সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাহিনীর ওপর আক্রমণ বন্ধ করে দিয়েছিল, তবে আফগান সরকারের সাথে লড়াই চালিয়ে যায়। হাজী হেকমত যদিও জোর দিয়ে বলেছেন যে এখানে কোনো দ্বন্দ্ব^ নেই। আমরা শরিয়া দ্বারা শাসিত একটি ইসলামি সরকার চাই। তারা আমাদের দাবি মানা পর্যন্ত আমরা আমাদের জিহাদ (বর্তমান আফগান সরকারের বিরুদ্ধে) চালিয়ে যাব।’

নব্বইয়ের দশকে ক্ষমতায় থাকাকালে তালেবানরা নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ করেছিল যদিও তারা প্রায়শই তা অস্বীকার করে। এখনো, এমন খবর পাওয়া গেছে যে অন্যান্য অঞ্চলে বয়স্ক মেয়েদের ক্লাসে যাওয়ার অনুমতি নেই। এ বিষয়ে তালিবানের স্থানীয় শিক্ষা কমিশনের দায়িত্বে থাকা সালাহউদ্দিন বলেন, ‘হিজাব পরা অবস্থায় শিক্ষা গ্রহণে কোনো সমস্যা নেই। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কেবল নারী শিক্ষকেরই অনুমতি রয়েছে এবং ওড়না বাধ্যতামূলক। তারা যদি শরিয়া অনুসরণ করে তবে কোনো সমস্যা নেই।’

সেনা প্রত্যাহারে তালেবানের বক্তব্য

আমেরিকা হেরেছে আমরা জিতেছি

দীর্ঘতম যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে : বাইডেন * ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান ছাড়বে ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনী * তালেবানের প্রত্যাবর্তনে শঙ্কিত নারীরা, সামনে ভয়াবহ দিন
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় দুই দশকের যুদ্ধ-আগ্রাসনের পর অবশেষে আফগানিস্তান ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী ন্যাটো জোট। ইতোমধ্যে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে দুই পক্ষই। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর নাগাদ মার্কিন সেনা কাবুল থেকে দেশে ফিরবে। এদিকে হোয়াইট হাউজের এ সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের জয় হিসেবে অভিহিত করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবান। তালেবানদের প্রত্যাবর্তনে শঙ্কা প্রকাশ করছেন আফগান প্রগতিশীল নারীরা। রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। যা নাইন-ইলেভেন হামলা নামে সমধিক পরিচিত। হামলার অভিযোগে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’র নামে তালেবানদের উৎখাত করতে আফগানিস্তানে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো। দেশটিতে ব্যাপক সংখ্যায় মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার ২০ বছর পূর্তি। আফগানিস্তানে প্রায় ২০ বছর ধরে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। শক্তিশালী ন্যাটো-আফগান মিশনের ৯ হাজার ৬০০ সদস্যের মধ্যে মার্কিন সেনা রয়েছে কমপক্ষে দুই হাজার ৫০০। গত বছরের ২৯ ফ্রেরুয়ারি কাতারের রাজধানী দোহায় শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন সরকার ঘোষণা দেয়, তালেবান যদি তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছিলেন, প্রায় দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে থাকার পর ১১ সেপ্টেম্বর নাগাদ মার্কিন সেনা দেশে ফিরবে। সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে ১ মে থেকে। এরপর ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল স্টলটেনবার্গ জানিয়ে দেন, ন্যাটোর দেশগুলোও ১ মে থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা সরিয়ে নেবে। তবে ন্যাটো জানিয়েছে, সেনা প্রত্যাহার করার সময় তালেবান যদি আক্রমণ করে, তবে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। ন্যাটো আরও জানিয়েছে, আফগানিস্তানকে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

বুধবার বাইডেন ও জার্মানির চ্যান্সেলর মেরকেলের মধ্যে ফোনে কথা হয়। তারা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কথা বলেন। বাইডেন ও মেরকেল খোলাখুলি তাদের মত জানিয়েছেন। জার্মানির সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই নেতা সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাইডেন বলেন, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে জো বাইডেনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত। ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে লড়াই চলছে।

রাশিয়া অবশ্য জো বাইডেনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, বাইডেনের উচিত ছিল চুক্তি মেনে চলা এবং ১ মের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া। কিন্তু, বাইডেন তা করেননি বলে রাশিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তারা মার্কিন সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধার চোখে দেখছেন। ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে আফগানিস্তান।

এদিকে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে তালেবানরা দাবি করেছে, দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের যুদ্ধে তারা জয়ী হয়েছে। হেরেছে মার্কিনিরা। হাজি হেকমত নামের এক তালিবান জঙ্গি আরও দাবি করেছে, ‘আমরা যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত আছি। শান্তির জন্য এমনকি জিহাদের জন্যও।’ গত এক বছর ধরে, তালেবানরা জিহাদ শব্দটি নিয়ে দ্বন্দ্বে^ ছিল। তারা আমেরিকার সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাহিনীর ওপর আক্রমণ বন্ধ করে দিয়েছিল, তবে আফগান সরকারের সাথে লড়াই চালিয়ে যায়। হাজী হেকমত যদিও জোর দিয়ে বলেছেন যে এখানে কোনো দ্বন্দ্ব^ নেই। আমরা শরিয়া দ্বারা শাসিত একটি ইসলামি সরকার চাই। তারা আমাদের দাবি মানা পর্যন্ত আমরা আমাদের জিহাদ (বর্তমান আফগান সরকারের বিরুদ্ধে) চালিয়ে যাব।’

নব্বইয়ের দশকে ক্ষমতায় থাকাকালে তালেবানরা নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ করেছিল যদিও তারা প্রায়শই তা অস্বীকার করে। এখনো, এমন খবর পাওয়া গেছে যে অন্যান্য অঞ্চলে বয়স্ক মেয়েদের ক্লাসে যাওয়ার অনুমতি নেই। এ বিষয়ে তালিবানের স্থানীয় শিক্ষা কমিশনের দায়িত্বে থাকা সালাহউদ্দিন বলেন, ‘হিজাব পরা অবস্থায় শিক্ষা গ্রহণে কোনো সমস্যা নেই। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কেবল নারী শিক্ষকেরই অনুমতি রয়েছে এবং ওড়না বাধ্যতামূলক। তারা যদি শরিয়া অনুসরণ করে তবে কোনো সমস্যা নেই।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন