ক্ষুধা-করোনা ‘দুই পরাশক্তি’ও চাপে পিষ্ট ব্রাজিল
jugantor
ক্ষুধা-করোনা ‘দুই পরাশক্তি’ও চাপে পিষ্ট ব্রাজিল

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাও পাওলোর পূর্বাঞ্চলীয় জারদিম কেরালাক্সের বাসিন্দা আনা মারিয়া নগুইরা। একটি কাঠের কুঁড়েঘরে প্রতিবন্ধী স্বামী এরালদোকে নিয়ে তার বসবাস। দিন এনে দিন খাওয়া সংসার। চুলায় কিছু ভাতের হাঁড়িতে রান্না তুলে দিয়ে অপেক্ষা করছেন। করোনার কারণে সম্প্রতি তাদের অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আলজাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে সেসব কথা বলেছেন আনা মারিয়া। রান্না করতে করতে তিনি বলেন, ‘এ বছরও আমাদের খাবারের কষ্ট করতে হবে।’ করোনা ও ক্ষুধা-দুটোই ভয়ংকর। যেন বর্তমান বিশ্বের দুই পরাশক্তি। হাতে হাত মিলিয়ে হত্যা করছে লাখো-কোটি মানুষকে। দুর্ভাগ্যজনক এ সমন্বয় ঘটেছে সাম্পতিক ব্রাজিলে। সেখানে খাদ্যনিরাপত্তার অভাব দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। প্রায় দুই কোটি লোক সেখানে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন কাটিয়ে যাচ্ছেন কোনোভাবে। সাম্প্রতিক এক গবেষণার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।

আনা এবং এরালদো এক কোটি ৯০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে মাত্র দুজন-যারা করোনা মহামারিতে খাবারের কষ্ট করেছেন। গত ডিসেম্বরে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহামারিতে প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ অর্থাৎ দেশটির অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী খাদ্যের অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অধিক মাত্রার বেকারত্ব, সামাজিক অনুষ্ঠানাদি কমে যাওয়া এবং খাবারের দাম বৃদ্ধি এই সমস্যার অন্যতম কারণ। গত কয়েক বছরে ব্রাজিল বেশ ভালো অবস্থানের মধ্য দিয়ে গেলেও করোনা মহামারিতে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়েছে। দেশটির অর্থনীতিবিদ মার্সেলো নেরি বলেন, ‘অবশ্যই ২০২১ সালে ব্রাজিলে খাদ্য অনিশ্চয়তা বেড়েছে।’ কংগ্রেসম্যান এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেসান্দ্রো পাদিলহা বলেন, ‘করোনাকালে ক্রমবর্ধমান ক্ষুধা ও খাদ্য অনিশ্চয়তা বেশ উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হওয়ায় মানুষ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন।’ তিনি বলেন, ‘এসব মানুষ পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং তারাই করোনার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এক দিকে ক্ষুধা, অন্য দিকে করোনাভাইরাস, এটি একটি করুণ সমন্বয় যা ব্রাজিলকে ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’ ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম খাদ্য রপ্তানিকারক দেশ। করোনার কারণে সৃষ্ট অধিক মাত্রার বেকারত্ব, অর্থনৈতিক মন্দা, সামাজিক অনুষ্ঠান কমে যাওয়ায় ও খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে দেশটিতে। এরই মাঝে জি-১০ ব্রাজিলে ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করছে।

ক্ষুধা-করোনা ‘দুই পরাশক্তি’ও চাপে পিষ্ট ব্রাজিল

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাও পাওলোর পূর্বাঞ্চলীয় জারদিম কেরালাক্সের বাসিন্দা আনা মারিয়া নগুইরা। একটি কাঠের কুঁড়েঘরে প্রতিবন্ধী স্বামী এরালদোকে নিয়ে তার বসবাস। দিন এনে দিন খাওয়া সংসার। চুলায় কিছু ভাতের হাঁড়িতে রান্না তুলে দিয়ে অপেক্ষা করছেন। করোনার কারণে সম্প্রতি তাদের অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আলজাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে সেসব কথা বলেছেন আনা মারিয়া। রান্না করতে করতে তিনি বলেন, ‘এ বছরও আমাদের খাবারের কষ্ট করতে হবে।’ করোনা ও ক্ষুধা-দুটোই ভয়ংকর। যেন বর্তমান বিশ্বের দুই পরাশক্তি। হাতে হাত মিলিয়ে হত্যা করছে লাখো-কোটি মানুষকে। দুর্ভাগ্যজনক এ সমন্বয় ঘটেছে সাম্পতিক ব্রাজিলে। সেখানে খাদ্যনিরাপত্তার অভাব দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। প্রায় দুই কোটি লোক সেখানে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন কাটিয়ে যাচ্ছেন কোনোভাবে। সাম্প্রতিক এক গবেষণার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।

আনা এবং এরালদো এক কোটি ৯০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে মাত্র দুজন-যারা করোনা মহামারিতে খাবারের কষ্ট করেছেন। গত ডিসেম্বরে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহামারিতে প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ অর্থাৎ দেশটির অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী খাদ্যের অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অধিক মাত্রার বেকারত্ব, সামাজিক অনুষ্ঠানাদি কমে যাওয়া এবং খাবারের দাম বৃদ্ধি এই সমস্যার অন্যতম কারণ। গত কয়েক বছরে ব্রাজিল বেশ ভালো অবস্থানের মধ্য দিয়ে গেলেও করোনা মহামারিতে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়েছে। দেশটির অর্থনীতিবিদ মার্সেলো নেরি বলেন, ‘অবশ্যই ২০২১ সালে ব্রাজিলে খাদ্য অনিশ্চয়তা বেড়েছে।’ কংগ্রেসম্যান এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেসান্দ্রো পাদিলহা বলেন, ‘করোনাকালে ক্রমবর্ধমান ক্ষুধা ও খাদ্য অনিশ্চয়তা বেশ উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হওয়ায় মানুষ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন।’ তিনি বলেন, ‘এসব মানুষ পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং তারাই করোনার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এক দিকে ক্ষুধা, অন্য দিকে করোনাভাইরাস, এটি একটি করুণ সমন্বয় যা ব্রাজিলকে ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’ ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম খাদ্য রপ্তানিকারক দেশ। করোনার কারণে সৃষ্ট অধিক মাত্রার বেকারত্ব, অর্থনৈতিক মন্দা, সামাজিক অনুষ্ঠান কমে যাওয়ায় ও খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে দেশটিতে। এরই মাঝে জি-১০ ব্রাজিলে ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন