করোনায় ভারতে একদিনে মৃত্যু হাজারের বেশি
jugantor
করোনায় ভারতে একদিনে মৃত্যু হাজারের বেশি
একদিনে আক্রান্ত দুই লাখ ছাড়াল * কুম্ভমেলায় আক্রান্ত ৯ শীর্ষ সন্ন্যাসী ও কয়েকশ ভক্ত

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে পড়ছে ভারত। দেশটিতে একদিনে প্রথমবারের মতো আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখেরও বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে হাজারেরও বেশি। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। করোনার এই চরম বাড়বাড়ন্তের মধ্যে সরকারের অনুমোদনেই চলছে কুম্ভমেলা। উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে মঙ্গলবার মেলা উপলক্ষ্যে গঙ্গাøানে অংশ নেন ৩০ লাখের বেশি মানুষ। এদিন ঐ তীর্থ স্থান থেকে ২০ হাজার নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তার মধ্যে শীর্ষ ৯ সন্ন্যাসীসহ শনাক্ত হয়েছে ১১০ জন। এর আগে সোমবার ১৮৪ জন ভক্ত করোনা শনাক্ত হন। মহামারির মধ্যেও কুম্ভ মেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণের ক্ষোভের শিকার হচ্ছে সরকার। বিবিসি।

করোনায় মৃতদের লাশ সৎকারে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির মানুষ। শ্মশানে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। কবরস্থান ও শ্মশানে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন স্থানের ভিডিও ফুটেজে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। দিল্লির সবচেয়ে বড় শ্মশান নিগম্বোধ ঘাটে বুধবারও দেখা গেছে বিশাল লাইন। ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ৭৩৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৩৮ জনের। ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক কোটি ৪০ লাখ। মোট মারা গেছে এক লাখ ৭৩ হাজার ১২৩ জন। মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরই দেশটির অবস্থান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা না হওয়ায় হতাশ বহু মানুষ। ভুক্তভোগীরা জানাচ্ছেন, কিছুক্ষণ পরপরই অ্যাম্বুলেন্সে করে ২-৩টি মরদেহ আসছে। ফলে সৎকারের লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কবরস্থানগুলোর পরিস্থিতিও ব্যতিক্রম নয়। দিল্লির একটি কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষক জানান, আগে এখানে প্রতিদিন ১-২টি মরদেহ আসত। কিন্তু এখন দিনে ১৭-১৮টি করে মরদেহ আসছে, এতে স্থান সংকুলান কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে মর্গেও জায়গা হচ্ছে না দেশটিতে। সংরক্ষণের জায়গা শেষ, তাই বাধ্য হয়ে মাটিতেই রাখা হচ্ছে বহু মরদেহ। হাসপাতালেও চলছে হাহাকার। দিল্লিতে ৮৫ শতাংশ আইসিইউ ইতোমধ্যেই ভর্তি হয়ে গেছে। রোগীর চাপ সামলাতে বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসন অস্থায়ীভাবে করোনার পরিষেবা চালু করেছেন, তবে এতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভারতে রাজ্য ভেদে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্রে। সংক্রমণ রোধে রাজ্যটিতে কারফিউ জারির পরও গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে এই প্রথমবারের মতো একদিনে নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ হাজার। রাজধানী দিল্লিতে ছাড়িয়েছে ১৭ হাজার। ছত্তিশগড়ে বৃহস্পতিবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি। কর্নাটকেও আক্রান্ত ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। ছত্তিশগড়ে আবর্জনা ফেলার গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে করোনায় মৃতের দেহ। শহরের রাজনন্দগাঁওয়ে হাসপাতাল থেকে এভাবেই সৎকার করতে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মধ্যপ্রদেশে ৯ হাজার ৭২০, কেরালায় ৮ হাজার ৭৭৮, তামিলনাড়ুতে ৭ হাজার ৮১৯, গুজরাটে ৭ হাজার ৪১০, রাজস্থানে ৬ হাজার ২০০ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনায় ভারতে একদিনে মৃত্যু হাজারের বেশি

একদিনে আক্রান্ত দুই লাখ ছাড়াল * কুম্ভমেলায় আক্রান্ত ৯ শীর্ষ সন্ন্যাসী ও কয়েকশ ভক্ত
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে পড়ছে ভারত। দেশটিতে একদিনে প্রথমবারের মতো আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখেরও বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে হাজারেরও বেশি। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। করোনার এই চরম বাড়বাড়ন্তের মধ্যে সরকারের অনুমোদনেই চলছে কুম্ভমেলা। উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে মঙ্গলবার মেলা উপলক্ষ্যে গঙ্গাøানে অংশ নেন ৩০ লাখের বেশি মানুষ। এদিন ঐ তীর্থ স্থান থেকে ২০ হাজার নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তার মধ্যে শীর্ষ ৯ সন্ন্যাসীসহ শনাক্ত হয়েছে ১১০ জন। এর আগে সোমবার ১৮৪ জন ভক্ত করোনা শনাক্ত হন। মহামারির মধ্যেও কুম্ভ মেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণের ক্ষোভের শিকার হচ্ছে সরকার। বিবিসি।

করোনায় মৃতদের লাশ সৎকারে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির মানুষ। শ্মশানে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। কবরস্থান ও শ্মশানে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন স্থানের ভিডিও ফুটেজে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। দিল্লির সবচেয়ে বড় শ্মশান নিগম্বোধ ঘাটে বুধবারও দেখা গেছে বিশাল লাইন। ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ৭৩৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৩৮ জনের। ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক কোটি ৪০ লাখ। মোট মারা গেছে এক লাখ ৭৩ হাজার ১২৩ জন। মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরই দেশটির অবস্থান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা না হওয়ায় হতাশ বহু মানুষ। ভুক্তভোগীরা জানাচ্ছেন, কিছুক্ষণ পরপরই অ্যাম্বুলেন্সে করে ২-৩টি মরদেহ আসছে। ফলে সৎকারের লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কবরস্থানগুলোর পরিস্থিতিও ব্যতিক্রম নয়। দিল্লির একটি কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষক জানান, আগে এখানে প্রতিদিন ১-২টি মরদেহ আসত। কিন্তু এখন দিনে ১৭-১৮টি করে মরদেহ আসছে, এতে স্থান সংকুলান কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে মর্গেও জায়গা হচ্ছে না দেশটিতে। সংরক্ষণের জায়গা শেষ, তাই বাধ্য হয়ে মাটিতেই রাখা হচ্ছে বহু মরদেহ। হাসপাতালেও চলছে হাহাকার। দিল্লিতে ৮৫ শতাংশ আইসিইউ ইতোমধ্যেই ভর্তি হয়ে গেছে। রোগীর চাপ সামলাতে বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসন অস্থায়ীভাবে করোনার পরিষেবা চালু করেছেন, তবে এতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভারতে রাজ্য ভেদে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্রে। সংক্রমণ রোধে রাজ্যটিতে কারফিউ জারির পরও গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে এই প্রথমবারের মতো একদিনে নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ হাজার। রাজধানী দিল্লিতে ছাড়িয়েছে ১৭ হাজার। ছত্তিশগড়ে বৃহস্পতিবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি। কর্নাটকেও আক্রান্ত ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। ছত্তিশগড়ে আবর্জনা ফেলার গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে করোনায় মৃতের দেহ। শহরের রাজনন্দগাঁওয়ে হাসপাতাল থেকে এভাবেই সৎকার করতে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মধ্যপ্রদেশে ৯ হাজার ৭২০, কেরালায় ৮ হাজার ৭৭৮, তামিলনাড়ুতে ৭ হাজার ৮১৯, গুজরাটে ৭ হাজার ৪১০, রাজস্থানে ৬ হাজার ২০০ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন