মিয়ানমারজুড়ে নীরব ধর্মঘট
jugantor
মিয়ানমারজুড়ে নীরব ধর্মঘট
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা সু চির দলের

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৭ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান নববর্ষের ছুটির মধ্যে দেশজুড়ে ‘নীরব ধর্মঘট’ চলছে। নতুন ধরনের এই ধর্মঘটে রাস্তায় না নেমে জান্তার হাতে নিহতদের স্মরণ করছেন অভ্যুত্থানবিরোধীরা। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের একটি কমিটি অন্তর্র্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারপ্রধান অং সান সু চির সহযোগীদের সমন্বয়ে কমিটি রিপ্রেজেন্টিং পিদংসু হ্লাত্তাও (সিআরপিএইচ) নামে গঠিত এই কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, শুক্রবারই এই ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। দেশটির সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাও-এই খবর জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

সিআরপিএইচ কমিটি গঠিত হয়েছে মূলত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) আইনপ্রণেতাদের নিয়ে। গত বছর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয় লাভ করলেও গত ১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের কারণে ক্ষমতায় বসতে পারেননি তারা। নৃতাত্ত্বিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (ইএওএস) সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অন্তর্র্বর্তী সরকার গঠন করবে সিআরপিএইচ। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর সদস্যরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, রাজনৈতিক রোড ম্যাপ অনুসরণ করে এই মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।

গত ৩১ মার্চ সিআরপিএইচ ফেডারেল ডেমোক্র্যাসি চার্টার ঘোষণা করে। ওই দিনই তাদের পক্ষ থেকে সেনা সরকারের প্রণয়ন করা ২০০৮ সালের সংবিধান বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ওই চার্টার অনুসরণ করেই অন্তর্র্বর্তী মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। দুই অংশের ওই চার্টারে ‘অন্তর্র্বর্তী জাতীয় ঐক্যের সরকারের’ রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। এই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হবে সেনা শাসকদের শাসন চালানোর প্রক্রিয়াগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া, অসহযোগ আন্দোলনে সমর্থন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

চার্টারটির প্রথম অংশে বর্ণিত রাজনৈতিক রোডম্যাপে বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের পর আইন সভা এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। নতুন একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করতে একটি জাতীয় কনভেনশন প্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়েছে এতে। গণভোটের মাধ্যমে সেই খসড়া সংবিধান অনুমোদন করা হবে। ওই চার্টারে বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্যের সরকার পরিচালিত হবে সংসদীয় ব্যবস্থা অনুসরণ করে। এতে প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট, রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং দু’জন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকবেন।

মিয়ানমারে গত আড়াই মাস ধরে চলা অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার দেশজুড়ে ‘নীরব ধর্মঘট’ ডেকেছে সেনাশাসন বিরোধীরা। শুক্রবারের এ ধর্মঘটের অংশ হিসাবে বাড়িতে থেকেই জান্তাবিরোধী আন্দোলনে নিহত ৭০০ বেশি মানুষকে স্মরণ করতে এবং ঘর থেকে বের হলে কালো কাপড় পরতে বলা হয়েছে।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে তাদের সরব অবস্থান ব্যক্ত করেছে; রক্ত দিয়ে, নির্যাতন-নিপীড়ন উপেক্ষা করে দিনের পর দিন তারা জান্তাবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের কর্মীরা প্রতিবাদের নিত্যনতুন উপায় বের করছেন। তারই অংশ হিসাবে শুক্রবার এ ‘নীরব ধর্মঘট’ ডাকা হয়েছে। বিক্ষোভের অন্যতম নেতা থিনজার মং একটি পোস্টে আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘চলুন, সড়কগুলোকে নীরব করে ফেলি। নিজেদের জীবন বিলিয়ে দেওয়া শহিদদের প্রতি শোক দেখাতে আমরা এই নীরব ধর্মঘট করব। এ নিঃশব্দ কণ্ঠই উচ্চস্বরে কথা বলবে।’

‘নীরব ধর্মঘটের’ আগের রাতেই মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় শহর মিংগিয়ানে সহিংসতায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রেডিও ফ্রি এশিয়া। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনী সেনাশাসন বিরোধী বিক্ষোভের দুই সুপরিচিত সংগঠকের পাশাপাশি অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এক অভিনেতা ও এক গায়ককে গ্রেফতার করেছে। একই দিন সেনাবাহিনী মান্দালয়ের একটি বৌদ্ধ মঠেও অভিযান চালায়। সেখান থেকেও তারা ২ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে মিয়ানমার নাওর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারজুড়ে নীরব ধর্মঘট

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা সু চির দলের
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৭ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান নববর্ষের ছুটির মধ্যে দেশজুড়ে ‘নীরব ধর্মঘট’ চলছে। নতুন ধরনের এই ধর্মঘটে রাস্তায় না নেমে জান্তার হাতে নিহতদের স্মরণ করছেন অভ্যুত্থানবিরোধীরা। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের একটি কমিটি অন্তর্র্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারপ্রধান অং সান সু চির সহযোগীদের সমন্বয়ে কমিটি রিপ্রেজেন্টিং পিদংসু হ্লাত্তাও (সিআরপিএইচ) নামে গঠিত এই কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, শুক্রবারই এই ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। দেশটির সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাও-এই খবর জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

সিআরপিএইচ কমিটি গঠিত হয়েছে মূলত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) আইনপ্রণেতাদের নিয়ে। গত বছর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয় লাভ করলেও গত ১ ফেব্রুয়ারির সেনা অভ্যুত্থানের কারণে ক্ষমতায় বসতে পারেননি তারা। নৃতাত্ত্বিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (ইএওএস) সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অন্তর্র্বর্তী সরকার গঠন করবে সিআরপিএইচ। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর সদস্যরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, রাজনৈতিক রোড ম্যাপ অনুসরণ করে এই মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।

গত ৩১ মার্চ সিআরপিএইচ ফেডারেল ডেমোক্র্যাসি চার্টার ঘোষণা করে। ওই দিনই তাদের পক্ষ থেকে সেনা সরকারের প্রণয়ন করা ২০০৮ সালের সংবিধান বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ওই চার্টার অনুসরণ করেই অন্তর্র্বর্তী মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। দুই অংশের ওই চার্টারে ‘অন্তর্র্বর্তী জাতীয় ঐক্যের সরকারের’ রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। এই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হবে সেনা শাসকদের শাসন চালানোর প্রক্রিয়াগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া, অসহযোগ আন্দোলনে সমর্থন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

চার্টারটির প্রথম অংশে বর্ণিত রাজনৈতিক রোডম্যাপে বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের পর আইন সভা এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। নতুন একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করতে একটি জাতীয় কনভেনশন প্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়েছে এতে। গণভোটের মাধ্যমে সেই খসড়া সংবিধান অনুমোদন করা হবে। ওই চার্টারে বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্যের সরকার পরিচালিত হবে সংসদীয় ব্যবস্থা অনুসরণ করে। এতে প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট, রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং দু’জন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকবেন।

মিয়ানমারে গত আড়াই মাস ধরে চলা অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার দেশজুড়ে ‘নীরব ধর্মঘট’ ডেকেছে সেনাশাসন বিরোধীরা। শুক্রবারের এ ধর্মঘটের অংশ হিসাবে বাড়িতে থেকেই জান্তাবিরোধী আন্দোলনে নিহত ৭০০ বেশি মানুষকে স্মরণ করতে এবং ঘর থেকে বের হলে কালো কাপড় পরতে বলা হয়েছে।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে তাদের সরব অবস্থান ব্যক্ত করেছে; রক্ত দিয়ে, নির্যাতন-নিপীড়ন উপেক্ষা করে দিনের পর দিন তারা জান্তাবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের কর্মীরা প্রতিবাদের নিত্যনতুন উপায় বের করছেন। তারই অংশ হিসাবে শুক্রবার এ ‘নীরব ধর্মঘট’ ডাকা হয়েছে। বিক্ষোভের অন্যতম নেতা থিনজার মং একটি পোস্টে আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘চলুন, সড়কগুলোকে নীরব করে ফেলি। নিজেদের জীবন বিলিয়ে দেওয়া শহিদদের প্রতি শোক দেখাতে আমরা এই নীরব ধর্মঘট করব। এ নিঃশব্দ কণ্ঠই উচ্চস্বরে কথা বলবে।’

‘নীরব ধর্মঘটের’ আগের রাতেই মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় শহর মিংগিয়ানে সহিংসতায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রেডিও ফ্রি এশিয়া। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনী সেনাশাসন বিরোধী বিক্ষোভের দুই সুপরিচিত সংগঠকের পাশাপাশি অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এক অভিনেতা ও এক গায়ককে গ্রেফতার করেছে। একই দিন সেনাবাহিনী মান্দালয়ের একটি বৌদ্ধ মঠেও অভিযান চালায়। সেখান থেকেও তারা ২ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে মিয়ানমার নাওর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন