রক্তপিপাসুরা সেদিন যেন হোলিখেলায় মেতেছিল
jugantor
রক্তপিপাসুরা সেদিন যেন হোলিখেলায় মেতেছিল
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় মিয়ানমারের বাগো হত্যাকাণ্ড

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৭ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৯ এপ্রিল। মিয়ানমারের বাগোতে তখন বিকাল ৫টা। গুলির শব্দে ওর কান খাড়া হয়ে গিয়েছিল। শিকারির ভয়ে থাকা হরিণের মতো এদিক ওদিক কয়েকবার তাকাল সে। এক নম্বর বাংকারে মুহুর্মুহু গুলি চালাল রক্তপিপাসু হায়েনার দল।

বালির বস্তার বাঁধ ছিল বাংকারের সামনে। তা দিয়ে কি ওই হায়েনাদের আক্রমণ ঠেকানো যায়? ভেতরে আশ্রয় নেওয়া কমপক্ষে ৩০ বিক্ষোভকারীর তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়েছে সেখানেই।

ভেতরে থাকা হতভাগাদের রক্তের নদী হয়ে উঠল ওই বাংকার। আর সেই রক্তস্রোত দেখে উল্লাসে ফেটে পড়ে হায়েনাদের দল। ওই রক্ত দিয়েই যেন এবার তারা মেতে উঠবে হোলিখেলায়। ছেলেটির বয়স ১৮ বছর। কলেজে পড়ত।

কিন্তু তার ভবিষ্যৎ কেড়ে নিয়েছে মিয়ানমার সেনারা। এ কারণে সে পালিয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছে তাদের সঙ্গে। বাগো হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী এই তরুণ সিএনএনকে জানিয়েছে, সেদিনের ভয়ানক বাগো আক্রমণের গল্প।

‘কী বলছেন, ৮২ নয়, শতাধিক লোককে সেদিন আমরা হারিয়েছি বাগোর ওই আক্রমণে,’ জানিয়েছে তরুণটি। নিরাপত্তার কারণে নাম জানাতে সে রাজি নয়।

সে বলল, ‘দেখুন, ওরা যেসব অস্ত্র সেদিন নিরস্ত্র লোকদের ওপর ব্যবহার করেছে, সেসব কি আর ওই বালির বস্তা দিয়ে আটকানো সম্ভব? এটা এক রূঢ় বাস্তবতা। ওরা আমার দলকে যখন আক্রমণ করল, তখন আমি কোনো মতে পিছু হটে গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে বেঁচে ফিরেছি। আমার সঙ্গে থাকা কমপক্ষে ৪০ জনকে সেদিন হারিয়েছি। বাংকারের সংখ্যার কথা বাদই দিলাম।’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক চিকিৎসক। তিনিও নাম বলতে রাজি নন। শুধু জানালেন, ভয়াবহ অত্যাচার আর হামলার কথা। তিনি বলছিলেন, ‘আমি দেখলাম, একজন লোক (বিক্ষোভকারী) পালিয়ে একটি বাড়ির ভেতর প্রবেশ করল।

তার পেছন পেছন দৌড়ে এলো সেনা হায়েনার একটি দল। তারা এসে দেখল ওই বাড়ির মালিক ও তার ছেলে উঠোনে কাজ করছিল। তারা ছেলেটি ও তার বাবাকে স্টিলের রড দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করে জখম করল।

এরপর তাদের দু’জনকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর তাদের ভাগ্যে আর কী ঘটেছিল বলতে পারব না।’ অথচ তার পরদিনই সেনা নিয়ন্ত্রিত পত্রিকাগুলোতে খবর বের হলো, বাগোর রাস্তায় দাঙ্গাকারীদের হামলায় সেনাবাহিনীর একটি দল আক্রান্ত হয়েছিল, এ সময় তারা হাতে বানানো বন্দুক ব্যবহার করেছিল।

রক্তপিপাসুরা সেদিন যেন হোলিখেলায় মেতেছিল

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় মিয়ানমারের বাগো হত্যাকাণ্ড
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৭ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৯ এপ্রিল। মিয়ানমারের বাগোতে তখন বিকাল ৫টা। গুলির শব্দে ওর কান খাড়া হয়ে গিয়েছিল। শিকারির ভয়ে থাকা হরিণের মতো এদিক ওদিক কয়েকবার তাকাল সে। এক নম্বর বাংকারে মুহুর্মুহু গুলি চালাল রক্তপিপাসু হায়েনার দল।

বালির বস্তার বাঁধ ছিল বাংকারের সামনে। তা দিয়ে কি ওই হায়েনাদের আক্রমণ ঠেকানো যায়? ভেতরে আশ্রয় নেওয়া কমপক্ষে ৩০ বিক্ষোভকারীর তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়েছে সেখানেই।

ভেতরে থাকা হতভাগাদের রক্তের নদী হয়ে উঠল ওই বাংকার। আর সেই রক্তস্রোত দেখে উল্লাসে ফেটে পড়ে হায়েনাদের দল। ওই রক্ত দিয়েই যেন এবার তারা মেতে উঠবে হোলিখেলায়। ছেলেটির বয়স ১৮ বছর। কলেজে পড়ত।

কিন্তু তার ভবিষ্যৎ কেড়ে নিয়েছে মিয়ানমার সেনারা। এ কারণে সে পালিয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছে তাদের সঙ্গে। বাগো হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী এই তরুণ সিএনএনকে জানিয়েছে, সেদিনের ভয়ানক বাগো আক্রমণের গল্প।

‘কী বলছেন, ৮২ নয়, শতাধিক লোককে সেদিন আমরা হারিয়েছি বাগোর ওই আক্রমণে,’ জানিয়েছে তরুণটি। নিরাপত্তার কারণে নাম জানাতে সে রাজি নয়।

সে বলল, ‘দেখুন, ওরা যেসব অস্ত্র সেদিন নিরস্ত্র লোকদের ওপর ব্যবহার করেছে, সেসব কি আর ওই বালির বস্তা দিয়ে আটকানো সম্ভব? এটা এক রূঢ় বাস্তবতা। ওরা আমার দলকে যখন আক্রমণ করল, তখন আমি কোনো মতে পিছু হটে গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে বেঁচে ফিরেছি। আমার সঙ্গে থাকা কমপক্ষে ৪০ জনকে সেদিন হারিয়েছি। বাংকারের সংখ্যার কথা বাদই দিলাম।’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক চিকিৎসক। তিনিও নাম বলতে রাজি নন। শুধু জানালেন, ভয়াবহ অত্যাচার আর হামলার কথা। তিনি বলছিলেন, ‘আমি দেখলাম, একজন লোক (বিক্ষোভকারী) পালিয়ে একটি বাড়ির ভেতর প্রবেশ করল।

তার পেছন পেছন দৌড়ে এলো সেনা হায়েনার একটি দল। তারা এসে দেখল ওই বাড়ির মালিক ও তার ছেলে উঠোনে কাজ করছিল। তারা ছেলেটি ও তার বাবাকে স্টিলের রড দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করে জখম করল।

এরপর তাদের দু’জনকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর তাদের ভাগ্যে আর কী ঘটেছিল বলতে পারব না।’ অথচ তার পরদিনই সেনা নিয়ন্ত্রিত পত্রিকাগুলোতে খবর বের হলো, বাগোর রাস্তায় দাঙ্গাকারীদের হামলায় সেনাবাহিনীর একটি দল আক্রান্ত হয়েছিল, এ সময় তারা হাতে বানানো বন্দুক ব্যবহার করেছিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অং সান সু চি আটক