কিভাবে বণ্টন হবে বিল মিলিন্ডার সম্পদ?
jugantor
কিভাবে বণ্টন হবে বিল মিলিন্ডার সম্পদ?

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াশিংটন রাজ্যের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে দাখিল করা বিচ্ছেদ চুক্তিতে তারা দুজন তাদের যে যৌথ সম্পদ আছে তা ভাগ করে নিতে চেয়েছেন। ওয়াশিংটন রাজ্যে বাস করা কোনো দম্পতি তাদের বৈবাহিক জীবনে যে সম্পদ গড়ে তোলে তার অধিকাংশ যৌথভাবে তাদের দুজনের হয়ে থাকে এবং বিচ্ছেদ হলে তা দুজনের মধ্যে সমান ভাগ করে দেওয়া হয়।

বিল গেটস (৬৪) ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের (৫৬) বিচ্ছেদের ঘোষণা আসার পর আলোচনায় উঠে আসছেন তাদের সন্তানেরা। ধনকুবের এই দম্পতির তিন ছেলেমেয়ে। বড় মেয়ের নাম জেনিফার গেটস (২৫), ছেলে মেজ রোরি জন গেটস (২১)। আর ছোট মেয়ে ফিবি অ্যাডেল গেটস (১৮)। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সন্তানেরা কী পরিমাণ সম্পদের মালিক হচ্ছেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে মা-বাবা অঢেল সম্পদের মালিক হলেও সন্তানেরা পাচ্ছেন তার খুব সামান্যই। তিন ভাই-বোনের প্রত্যেকেই পাবেন এক কোটি মার্কিন ডলার। বিল ও মেলিন্ডার বাকি অর্থ চলে যাবে ট্রাস্টে।

এই দম্পতির মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১২৪ বিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বিল গেটসের প্রতি সেকেন্ডে রোজগার ১২ হাজার ৫৪ টাকা। এক দিনে তার রোজগার ১০২ কোটি টাকা। প্রতিদিন খরচ করেন সাড়ে ৬ কোটি টাকা। পুরো টাকা খরচ করতে তার ২১৮ বছর লাগবে।

আর তাদের বাড়ি? বিশ্বের শীর্ষ ধনীর বাড়ি বলে কথা! তার ওয়াশিংটনের জৌলুশপূর্ণ বাড়িটির নির্মাণে সময় লেগেছে পুরো সাত বছর! ৬৬ হাজার বর্গফুটের ওপর তৈরি হয়েছে বিলাসবহুল এই বাড়ি। তাদের আরও বাড়ি রয়েছে। কিন্তু মূল এই বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ছয় কোটি ৩২ লাখ ডলার (প্রায় ৫০০ কোটি টাকা)। বাড়িটি গেটসের মোট সম্পত্তির মাত্র ০.১ শতাংশ! ৮০ হাজার ডলার মূল্যের অনেক স্ক্রিন বসানো হয়েছে বাড়ির চার দিকের দেওয়ালে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রঙের ডিজাইন বসিয়ে দেওয়ালের রং বদলানো যায়। সুইমিং পুলের পানির তলদেশে রয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। পছন্দের গানগুলো বাজবে যখন যেমন প্রয়োজন। বাড়ির সামনে রয়েছে সি-বিচ।

জাগতিক প্রয়োজন ও আয়েশি সব ব্যবস্থা রয়েছে। রুমের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। ২০ জন মানুষের আয়েশি ভঙ্গিতে বসার ব্যবস্থা করে বানানো হয়েছে হোম থিয়েটার। যেখানে পপকর্ন বানানোর মেশিনও রয়েছে।

বাড়িটিতে ২৩টি গাড়ি একসঙ্গে পার্ক করা যাবে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে মজার ও আশ্চর্যজনক বিলাসি উপকরণ।

মহামারির সময়ে তিনি স্যান ডিয়েগোর সমুদ্রপাড়ে নির্মাণ করেছেন আরেকটি বাড়ি, যাতে খরচ করেছেন ৪৩ মিলিয়ন ডলার। ৫ হাজার ৮০০ বর্গফুটের এই বাড়িতে রয়েছে ছয়টি বেডরুম। ফ্লোরিডায় আরেকটি বাড়ি তিনি কিনেছিলেন ২০১৩ সালে। সাড়ে চার একর জায়গার ওপর নির্মিত এ বাড়ি ক্রয়ে তার ব্যয় হয়েছে ৮.৭ মিলিয়ন ডলার। এ বাড়িতে তারা মাঝে মাঝে বেড়াতে আসেন। এখানে এলে বড় মেয়ে জেনিফার ঘোড়দৌড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ক্যালিফোর্নিয়া ২২৮ একর জায়গার ওপর নির্মিত বাড়িটি ক্রয়ে খরচ হয়েছিল ১৮ মিলিয়ন ডলার। এটি তিনি কিনেছিলেন ২০১৪ সালে। এখানে কোয়ার্টার মাইলের একটি রেসট্র্যাকও রয়েছে। বাফেলো বিল কোডির কাছ থেকে ২০০৯ সালে ইয়োমিং এলাকার বাড়িটি। ৪৯২ একর জায়গার ওপর নির্মিত এ বাড়ি কিনেছিলেন ৮.৯ মিলিয়ন ডলারে।

বাড়িগুলো ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের নামিদামি কোম্পানিগুলোতে তিনি বিনিয়োগ করেছেন কয়েক শ মিলিয়ন ডলার।

কিভাবে বণ্টন হবে বিল মিলিন্ডার সম্পদ?

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াশিংটন রাজ্যের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে দাখিল করা বিচ্ছেদ চুক্তিতে তারা দুজন তাদের যে যৌথ সম্পদ আছে তা ভাগ করে নিতে চেয়েছেন। ওয়াশিংটন রাজ্যে বাস করা কোনো দম্পতি তাদের বৈবাহিক জীবনে যে সম্পদ গড়ে তোলে তার অধিকাংশ যৌথভাবে তাদের দুজনের হয়ে থাকে এবং বিচ্ছেদ হলে তা দুজনের মধ্যে সমান ভাগ করে দেওয়া হয়।

বিল গেটস (৬৪) ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের (৫৬) বিচ্ছেদের ঘোষণা আসার পর আলোচনায় উঠে আসছেন তাদের সন্তানেরা। ধনকুবের এই দম্পতির তিন ছেলেমেয়ে। বড় মেয়ের নাম জেনিফার গেটস (২৫), ছেলে মেজ রোরি জন গেটস (২১)। আর ছোট মেয়ে ফিবি অ্যাডেল গেটস (১৮)। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সন্তানেরা কী পরিমাণ সম্পদের মালিক হচ্ছেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে মা-বাবা অঢেল সম্পদের মালিক হলেও সন্তানেরা পাচ্ছেন তার খুব সামান্যই। তিন ভাই-বোনের প্রত্যেকেই পাবেন এক কোটি মার্কিন ডলার। বিল ও মেলিন্ডার বাকি অর্থ চলে যাবে ট্রাস্টে।

এই দম্পতির মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১২৪ বিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বিল গেটসের প্রতি সেকেন্ডে রোজগার ১২ হাজার ৫৪ টাকা। এক দিনে তার রোজগার ১০২ কোটি টাকা। প্রতিদিন খরচ করেন সাড়ে ৬ কোটি টাকা। পুরো টাকা খরচ করতে তার ২১৮ বছর লাগবে।

আর তাদের বাড়ি? বিশ্বের শীর্ষ ধনীর বাড়ি বলে কথা! তার ওয়াশিংটনের জৌলুশপূর্ণ বাড়িটির নির্মাণে সময় লেগেছে পুরো সাত বছর! ৬৬ হাজার বর্গফুটের ওপর তৈরি হয়েছে বিলাসবহুল এই বাড়ি। তাদের আরও বাড়ি রয়েছে। কিন্তু মূল এই বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ছয় কোটি ৩২ লাখ ডলার (প্রায় ৫০০ কোটি টাকা)। বাড়িটি গেটসের মোট সম্পত্তির মাত্র ০.১ শতাংশ! ৮০ হাজার ডলার মূল্যের অনেক স্ক্রিন বসানো হয়েছে বাড়ির চার দিকের দেওয়ালে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রঙের ডিজাইন বসিয়ে দেওয়ালের রং বদলানো যায়। সুইমিং পুলের পানির তলদেশে রয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। পছন্দের গানগুলো বাজবে যখন যেমন প্রয়োজন। বাড়ির সামনে রয়েছে সি-বিচ।

জাগতিক প্রয়োজন ও আয়েশি সব ব্যবস্থা রয়েছে। রুমের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। ২০ জন মানুষের আয়েশি ভঙ্গিতে বসার ব্যবস্থা করে বানানো হয়েছে হোম থিয়েটার। যেখানে পপকর্ন বানানোর মেশিনও রয়েছে।

বাড়িটিতে ২৩টি গাড়ি একসঙ্গে পার্ক করা যাবে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে মজার ও আশ্চর্যজনক বিলাসি উপকরণ।

মহামারির সময়ে তিনি স্যান ডিয়েগোর সমুদ্রপাড়ে নির্মাণ করেছেন আরেকটি বাড়ি, যাতে খরচ করেছেন ৪৩ মিলিয়ন ডলার। ৫ হাজার ৮০০ বর্গফুটের এই বাড়িতে রয়েছে ছয়টি বেডরুম। ফ্লোরিডায় আরেকটি বাড়ি তিনি কিনেছিলেন ২০১৩ সালে। সাড়ে চার একর জায়গার ওপর নির্মিত এ বাড়ি ক্রয়ে তার ব্যয় হয়েছে ৮.৭ মিলিয়ন ডলার। এ বাড়িতে তারা মাঝে মাঝে বেড়াতে আসেন। এখানে এলে বড় মেয়ে জেনিফার ঘোড়দৌড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ক্যালিফোর্নিয়া ২২৮ একর জায়গার ওপর নির্মিত বাড়িটি ক্রয়ে খরচ হয়েছিল ১৮ মিলিয়ন ডলার। এটি তিনি কিনেছিলেন ২০১৪ সালে। এখানে কোয়ার্টার মাইলের একটি রেসট্র্যাকও রয়েছে। বাফেলো বিল কোডির কাছ থেকে ২০০৯ সালে ইয়োমিং এলাকার বাড়িটি। ৪৯২ একর জায়গার ওপর নির্মিত এ বাড়ি কিনেছিলেন ৮.৯ মিলিয়ন ডলারে।

বাড়িগুলো ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের নামিদামি কোম্পানিগুলোতে তিনি বিনিয়োগ করেছেন কয়েক শ মিলিয়ন ডলার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন