পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচিতদের অর্ধেকই আসামি
jugantor
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচিতদের অর্ধেকই আসামি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৬ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় নির্বাচিতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নানা গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত ৩৪ শতাংশ এবং বিজেপি থেকে নির্বাচিত ৫১ শতাংশ নির্বাচিত সদস্য এসব অভিযোগের আওতায় রয়েছেন। বুধবার প্রকাশিত পোল রাইটস গ্রুপ অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের (এডিআর) একটি প্রতিবেদেন এ খবর দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোট ২১৩ জন তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য নির্বাচনে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৭৩ জনের বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একই ভাবে, ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচিত ৭৭ জন বিধায়কের ৩৯ জনই এই গুরুতর অভিযোগের আওতায় রয়েছেন। এডিআর রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯২ জন প্রার্থীর দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ২৯৪ আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন। কারণ, ওই দুটি আসনের (জাঙ্গিপুর ও শমশেরগঞ্জ) প্রার্থীরা নির্বাচনের আগেই মারা যান।

ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে মোট ৯১ জন (৪৩ শতাংশ), ভারতীয় জনতা পার্টির ৫০ জন (৬৫ শতাংশ) এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের হলফনামায় নিজেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এর অর্থ ২০২১ সালে ২৯২ বিজয়ী প্রার্থীর মধ্যে ১৪২ (৪৯ শতাংশ) জন তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকার কথা হলফনামায় ঘোষণা করেছেন নিজেরাই। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৩ বিধায়কের মধ্যে, ১০৭ (৩৭ শতাংশ) বিধায়ক তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে বলে ঘোষণা করেছিলেন। এডিআর রিপোর্টে প্রার্থীদের দ্বারা ঘোষিত বিভিন্ন গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগের একটি বিশ্লেষণও সরবরাহ করে। ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, গুরুতর ফৌজদারি মামলার আওতাধীন থাকা বিজয়ী প্রার্থীদের ১১৩ জন (৩৯%) খুন, হত্যাচেষ্টা, অপহরণ, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ইত্যাদিসহ বিভিন্ন গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যামামলা ৩০টি হত্যাচেষ্টা সম্পর্কিত মামলা। এ ছাড়া ২০ জন বিজয়ী প্রার্থী ঘোষণা করেছেন, তারা মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সম্পর্কিত মামলা মোকাবিলা করেছেন এবং তাদের মধ্যে একজন বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

এই আসামিদের গুরুতর ফৌজদারি মামলাগুলোর বিচারে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজা হওয়ার কথা। কোনো কোনোটি অ-জামিনযোগ্য অপরাধ। এই প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কদের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণও প্রকাশ করেছে এডিআর। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী বিধায়কদের মধ্যে ১৫৮ জন (৫৪%) কোটিপতি।

এতে বলা হয়েছে, তৃণমূল থেকে নির্বাচিত ১৩২ জন বিধায়ক, বিজেপি থেকে ২৫ জন এবং স্বতন্ত্র একজন বিধায়ক হলফনামায় তাদের কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ আছে বলে স্বীকার করেছেন। এডিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০৭ জন (৩৭ শতাংশ) বিজয়ী প্রার্থী অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ১৮০ জন (৬২ শতাংশ) নিজেদেরকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর বলে ঘোষণা করেছেন। ২৯২ বিধায়কের মধ্যে মাত্র একজন নিরক্ষর।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচিতদের অর্ধেকই আসামি

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৬ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় নির্বাচিতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নানা গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত ৩৪ শতাংশ এবং বিজেপি থেকে নির্বাচিত ৫১ শতাংশ নির্বাচিত সদস্য এসব অভিযোগের আওতায় রয়েছেন। বুধবার প্রকাশিত পোল রাইটস গ্রুপ অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের (এডিআর) একটি প্রতিবেদেন এ খবর দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোট ২১৩ জন তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য নির্বাচনে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৭৩ জনের বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একই ভাবে, ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচিত ৭৭ জন বিধায়কের ৩৯ জনই এই গুরুতর অভিযোগের আওতায় রয়েছেন। এডিআর রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯২ জন প্রার্থীর দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ২৯৪ আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন। কারণ, ওই দুটি আসনের (জাঙ্গিপুর ও শমশেরগঞ্জ) প্রার্থীরা নির্বাচনের আগেই মারা যান।

ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে মোট ৯১ জন (৪৩ শতাংশ), ভারতীয় জনতা পার্টির ৫০ জন (৬৫ শতাংশ) এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের হলফনামায় নিজেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এর অর্থ ২০২১ সালে ২৯২ বিজয়ী প্রার্থীর মধ্যে ১৪২ (৪৯ শতাংশ) জন তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকার কথা হলফনামায় ঘোষণা করেছেন নিজেরাই। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৩ বিধায়কের মধ্যে, ১০৭ (৩৭ শতাংশ) বিধায়ক তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে বলে ঘোষণা করেছিলেন। এডিআর রিপোর্টে প্রার্থীদের দ্বারা ঘোষিত বিভিন্ন গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগের একটি বিশ্লেষণও সরবরাহ করে। ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, গুরুতর ফৌজদারি মামলার আওতাধীন থাকা বিজয়ী প্রার্থীদের ১১৩ জন (৩৯%) খুন, হত্যাচেষ্টা, অপহরণ, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ইত্যাদিসহ বিভিন্ন গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যামামলা ৩০টি হত্যাচেষ্টা সম্পর্কিত মামলা। এ ছাড়া ২০ জন বিজয়ী প্রার্থী ঘোষণা করেছেন, তারা মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সম্পর্কিত মামলা মোকাবিলা করেছেন এবং তাদের মধ্যে একজন বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

এই আসামিদের গুরুতর ফৌজদারি মামলাগুলোর বিচারে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজা হওয়ার কথা। কোনো কোনোটি অ-জামিনযোগ্য অপরাধ। এই প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কদের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণও প্রকাশ করেছে এডিআর। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী বিধায়কদের মধ্যে ১৫৮ জন (৫৪%) কোটিপতি।

এতে বলা হয়েছে, তৃণমূল থেকে নির্বাচিত ১৩২ জন বিধায়ক, বিজেপি থেকে ২৫ জন এবং স্বতন্ত্র একজন বিধায়ক হলফনামায় তাদের কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ আছে বলে স্বীকার করেছেন। এডিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০৭ জন (৩৭ শতাংশ) বিজয়ী প্রার্থী অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ১৮০ জন (৬২ শতাংশ) নিজেদেরকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর বলে ঘোষণা করেছেন। ২৯২ বিধায়কের মধ্যে মাত্র একজন নিরক্ষর।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন