নেপালে আস্থা ভোটে সরকার পতন
jugantor
নেপালে আস্থা ভোটে সরকার পতন

  যুগান্তর ডেস্ক  

১২ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত বছর থেকে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই অব্যাহত রেখেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দুর্গ রক্ষা করতে পারলেন না। সংসদে আস্থা ভোটে হেরে রাজ্যপাট হারাতে হচ্ছে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে। পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে গেছেন তিনি। সোমবার আস্থা ভোটে তিনি হেরে গেছেন বলে জানান পার্লামেন্টের স্পিকার অগ্নি সাপকোতা। ভোট গণনা শেষে স্পিকার জানান, প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টের আস্থা হারিয়েছেন। ফলে এবার তাকে পদত্যাগ করতে হবে। ভোটে হেরে যাওয়ার পর অলি বলেন, এটি দুর্ভাগ্যজনক। তিনি দেশের মানুষের স্বার্থেই কাজ করছিলেন। কিন্তু সংকীর্ণ রাজনীতির শিকার হলেন তিনি।

দায়িত্বে নেওয়ার পর ৩৮ মাস প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন কেপি অলি। তার শাসনামলে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে দেশের সীমানা নিয়ে ভারতের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয়। লিপুলেখের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে তাদের অংশ দাবি করে ম্যাপ প্রকাশ নিয়ে দুদেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। এর মধ্যেই গত বছরের শেষের দিকে ‘সরকার ফেলার চক্রান্ত হচ্ছে’ বলে হইচই ফেলে দেন অলি। তার সুপারিশে সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন করে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভান্ডারী। যদিও গত ফেব্রুয়ারিতে সে দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে পুনর্বহাল হয় সংসদ। এরপর মার্চে ক্ষমতা বণ্টন নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে অলির কমিউনিস্ট পার্টি। এতে পার্লামেন্টে তার দল পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (মাওবাদী) নেতা পুষ্পকমল দহল (প্রচণ্ড) সম্প্রতি অলির জোট সরকার থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ায় তার বিদায় অবশ্যাম্ভাবী ছিল।

করোনা পরিস্থিতি সামলাতে না পারার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। ২৩২ আইনপ্রণেতাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৯৩টি ভোট পড়ে এবং বিপক্ষে পড়ে ১২৪টি ভোট। ১৫ জন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। এখন অলি দেশটির প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভান্ডারীর কাছে ইস্তফাপত্র তুলে দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে হয়তো কয়েকদিন ‘কেয়ারটেকার’ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাবেন অলি। এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সরকার গড়ার ডাক দেবেন প্রেসিডেন্ট। যদিও নেপালের সংবিধান অনুযায়ী ওলির ইস্তফা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আস্থা ভোটে হারের পর বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারিত হয়ে যাবেন তিনি।

নেপালে আস্থা ভোটে সরকার পতন

 যুগান্তর ডেস্ক 
১২ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত বছর থেকে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই অব্যাহত রেখেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দুর্গ রক্ষা করতে পারলেন না। সংসদে আস্থা ভোটে হেরে রাজ্যপাট হারাতে হচ্ছে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে। পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে গেছেন তিনি। সোমবার আস্থা ভোটে তিনি হেরে গেছেন বলে জানান পার্লামেন্টের স্পিকার অগ্নি সাপকোতা। ভোট গণনা শেষে স্পিকার জানান, প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টের আস্থা হারিয়েছেন। ফলে এবার তাকে পদত্যাগ করতে হবে। ভোটে হেরে যাওয়ার পর অলি বলেন, এটি দুর্ভাগ্যজনক। তিনি দেশের মানুষের স্বার্থেই কাজ করছিলেন। কিন্তু সংকীর্ণ রাজনীতির শিকার হলেন তিনি।

দায়িত্বে নেওয়ার পর ৩৮ মাস প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন কেপি অলি। তার শাসনামলে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে দেশের সীমানা নিয়ে ভারতের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয়। লিপুলেখের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে তাদের অংশ দাবি করে ম্যাপ প্রকাশ নিয়ে দুদেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। এর মধ্যেই গত বছরের শেষের দিকে ‘সরকার ফেলার চক্রান্ত হচ্ছে’ বলে হইচই ফেলে দেন অলি। তার সুপারিশে সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন করে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভান্ডারী। যদিও গত ফেব্রুয়ারিতে সে দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে পুনর্বহাল হয় সংসদ। এরপর মার্চে ক্ষমতা বণ্টন নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে অলির কমিউনিস্ট পার্টি। এতে পার্লামেন্টে তার দল পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (মাওবাদী) নেতা পুষ্পকমল দহল (প্রচণ্ড) সম্প্রতি অলির জোট সরকার থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ায় তার বিদায় অবশ্যাম্ভাবী ছিল।

করোনা পরিস্থিতি সামলাতে না পারার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। ২৩২ আইনপ্রণেতাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৯৩টি ভোট পড়ে এবং বিপক্ষে পড়ে ১২৪টি ভোট। ১৫ জন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। এখন অলি দেশটির প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভান্ডারীর কাছে ইস্তফাপত্র তুলে দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে হয়তো কয়েকদিন ‘কেয়ারটেকার’ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাবেন অলি। এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সরকার গড়ার ডাক দেবেন প্রেসিডেন্ট। যদিও নেপালের সংবিধান অনুযায়ী ওলির ইস্তফা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আস্থা ভোটে হারের পর বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারিত হয়ে যাবেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন