ইসরাইলকে আরও অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
jugantor
ইসরাইলকে আরও অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইসরাইলি অস্ত্র জাহাজে তুলতে ইতালির বন্দরকর্মীদের অস্বীকৃতি

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৮ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় ইসরাইলের সর্বাত্মক সন্ত্রাসী হামলার মধ্যেই দেশটিকে আরও অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে প্রায় ৭৩.৫ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ভয়াবহ হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বাইডেন মানবাধিকার রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ডেমোক্র্যাটরা। সমালোচনা শুরু হয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে অব্যাহতভাবে সমর্থন নিয়েও। এর মধ্যেই আবার ইসরাইলকে ব্যাপক অস্ত্র-সরঞ্জাম সরবরাহ করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের বেশকিছু আইনপ্রণেতা।

এদিকে ইসরাইলি অস্ত্র জাহাজে তুলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইতালির বন্দরকর্মীরা। অস্ত্র ও বিস্ফোরক ইসরাইলে যাচ্ছে জানার পর তা জাহাজে তুলতে অস্বীকৃতি জানায় দেশটির লিভোর্নো বন্দরের কর্মীরা। কর্মীরা আবিষ্কার করেন, অস্ত্রবোঝাই এই জাহাজটি ইসরাইলের আশদদ বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এরপরই তারা আর এতে অস্ত্র তুলবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে বন্দরটিতে শ্রমিকদের সংগঠন ইউএসবি বলেছে, লিভোর্নো বন্দর ফিলিস্তিনিদের হত্যাযজ্ঞের সহযোগী হবে না।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কন্ট্রোপিয়ানো জানায়, অস্ত্রের একটি চালান ইসরাইলে যাচ্ছে এমন তথ্য পাওয়ার পর ইতালির লিভোর্নো শহরের বন্দর শ্রমিকরা তাতে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। অস্ত্রভর্তি কয়েকটি কন্টেইনার জাহাজে তুলে দেওয়ার জন্য বন্দর শ্রমিকদের টিপস দেওয়ার পর শ্রমিকরা জানাতে পারে, এসব কন্টেইনার ইসরাইলের বন্দরনগরী আশদদে যাবে। এসব কন্টেইনারে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল। পত্রিকাটি লিখেছে, অস্ত্র ও বিস্ফোরক ফিলিস্তিনি জনগণকে হত্যার জন্য ব্যবহৃত হবে যাদের ওপর এরই মধ্যে ইসরাইল মারাত্মক হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইসরাইলের কাছে নতুন করে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি মার্কিন কংগ্রেসকে জানানো হয় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (৫ মে)। গত সপ্তাহ থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের তীব্র বিমান হামলা শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহের মাথায় রোববার ওই অস্ত্রবিক্রির প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় বাইডেন প্রশাসন। এদিনই গাজায় হামলার বিষয়ে ইসরাইলকে সমর্থন জানিয়ে বাইডেন বলেন, ‘ইসরাইলের নিজেকে সুরক্ষার অধিকার রয়েছে।’ ওয়াশিংটনের এই অবস্থানকে এর আগেও মার্কিন কংগ্রেসের বেশির ভাগ আইনপ্রণেতাই সমর্থন করেছে। কিন্তু এই অব্যাহত সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের নতুন প্রজন্মের আইনপ্রণেতারা। এমনকি বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রয় প্রস্তাব ও সময়ের ব্যাপারে আরও জানতে চাইছেন। সিএনএন তাদের এক বিশ্লেষণে জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরাজিত করে সামাজিক ও জাতিগত ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেমোক্রেটিক দল ক্ষমতায় এসেছে। তাই এ সময়ে এসে ইসরাইলের পক্ষে কথা বলা এই দলটির জন্য বেশ অস্বস্তিকর। যুক্তরাষ্ট্র বর্ণবাদ ও বৈষম্যের ইতিহাস পালটে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনকে গ্রহণ করেছে।

ইসরাইলকে আরও অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরাইলি অস্ত্র জাহাজে তুলতে ইতালির বন্দরকর্মীদের অস্বীকৃতি
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৮ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় ইসরাইলের সর্বাত্মক সন্ত্রাসী হামলার মধ্যেই দেশটিকে আরও অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে প্রায় ৭৩.৫ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ভয়াবহ হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বাইডেন মানবাধিকার রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ডেমোক্র্যাটরা। সমালোচনা শুরু হয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে অব্যাহতভাবে সমর্থন নিয়েও। এর মধ্যেই আবার ইসরাইলকে ব্যাপক অস্ত্র-সরঞ্জাম সরবরাহ করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের বেশকিছু আইনপ্রণেতা।

এদিকে ইসরাইলি অস্ত্র জাহাজে তুলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইতালির বন্দরকর্মীরা। অস্ত্র ও বিস্ফোরক ইসরাইলে যাচ্ছে জানার পর তা জাহাজে তুলতে অস্বীকৃতি জানায় দেশটির লিভোর্নো বন্দরের কর্মীরা। কর্মীরা আবিষ্কার করেন, অস্ত্রবোঝাই এই জাহাজটি ইসরাইলের আশদদ বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এরপরই তারা আর এতে অস্ত্র তুলবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে বন্দরটিতে শ্রমিকদের সংগঠন ইউএসবি বলেছে, লিভোর্নো বন্দর ফিলিস্তিনিদের হত্যাযজ্ঞের সহযোগী হবে না।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কন্ট্রোপিয়ানো জানায়, অস্ত্রের একটি চালান ইসরাইলে যাচ্ছে এমন তথ্য পাওয়ার পর ইতালির লিভোর্নো শহরের বন্দর শ্রমিকরা তাতে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। অস্ত্রভর্তি কয়েকটি কন্টেইনার জাহাজে তুলে দেওয়ার জন্য বন্দর শ্রমিকদের টিপস দেওয়ার পর শ্রমিকরা জানাতে পারে, এসব কন্টেইনার ইসরাইলের বন্দরনগরী আশদদে যাবে। এসব কন্টেইনারে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল। পত্রিকাটি লিখেছে, অস্ত্র ও বিস্ফোরক ফিলিস্তিনি জনগণকে হত্যার জন্য ব্যবহৃত হবে যাদের ওপর এরই মধ্যে ইসরাইল মারাত্মক হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইসরাইলের কাছে নতুন করে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি মার্কিন কংগ্রেসকে জানানো হয় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (৫ মে)। গত সপ্তাহ থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের তীব্র বিমান হামলা শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহের মাথায় রোববার ওই অস্ত্রবিক্রির প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় বাইডেন প্রশাসন। এদিনই গাজায় হামলার বিষয়ে ইসরাইলকে সমর্থন জানিয়ে বাইডেন বলেন, ‘ইসরাইলের নিজেকে সুরক্ষার অধিকার রয়েছে।’ ওয়াশিংটনের এই অবস্থানকে এর আগেও মার্কিন কংগ্রেসের বেশির ভাগ আইনপ্রণেতাই সমর্থন করেছে। কিন্তু এই অব্যাহত সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের নতুন প্রজন্মের আইনপ্রণেতারা। এমনকি বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রয় প্রস্তাব ও সময়ের ব্যাপারে আরও জানতে চাইছেন। সিএনএন তাদের এক বিশ্লেষণে জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরাজিত করে সামাজিক ও জাতিগত ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেমোক্রেটিক দল ক্ষমতায় এসেছে। তাই এ সময়ে এসে ইসরাইলের পক্ষে কথা বলা এই দলটির জন্য বেশ অস্বস্তিকর। যুক্তরাষ্ট্র বর্ণবাদ ও বৈষম্যের ইতিহাস পালটে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনকে গ্রহণ করেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন