ফিলিস্তিনের প্রতি বিশ্বের খ্যাতনামা তারকাদের সংহতি প্রকাশ
jugantor
ফিলিস্তিনের প্রতি বিশ্বের খ্যাতনামা তারকাদের সংহতি প্রকাশ

  সেলিম কামাল  

১৮ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় ইসরাইলি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে। থেমে নেই তারকারাও। ফিলিস্তিনবাসীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারাও। টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে তারা প্রকাশ করছেন ব্যক্তিগত মতামত-যাদের মধ্যে রয়েছেন নাটালি পোর্টম্যান, বেলা হাদিদ, রিয়ানা, সুজান সারানডোনসহ অনেকে।

বেলা হাদিদ মার্কিন সুন্দরী ও সুপার মডেল। ২০১৯ সালে তাকে বলা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা। ২৪ বছরের এই সুন্দরীর বাবা ছিলেন ফিলিস্তিনি। নিজের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটির প্রতি টান এতটুকু কমেনি ওয়াশিংটনে জন্ম নেওয়া বেলার। তিনি বলেছেন, ‘আমি আমার পরিবার ও ঐতিহ্যকে ভালোবাসি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ওরা (ফিলিস্তিনিরা) জয়ী হবেন। ইতিহাসই সত্য এবং সে ইতিহাস কেউ কোনোদিন মুছতে পারবে না।’ লস অ্যাঞ্জেলসে শনিবার তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি ও প্রতিবাদ শোভাযাত্রা। এতে ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে তার সঙ্গে অংশ নেন বেলার আরও দুই বোন। সঙ্গে পতাকা উড়িয়েছিলেন তার সতীর্থরাও। তার ছোটবোন অ্যালানা একজন খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনার। তিনি লিখেছেন, ‘তোমরা কি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা দেবে? আমার মানুষগুলোর জন্য স্বাধীনতা কামনা করলে আপনাদের কোনো খরচ হবে না।’

লস অ্যাঞ্জেলসের নামি কবি, গীতিকার ও শিল্পী মুস্তাফা আহমেদ ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিনে আমারও সময় কেটেছিল অত্যন্ত কঠিনভাবে। সেখানে গণহত্যা আর উপনিবেশবাদের শিকার হয়েছিলাম আমিও। আমি দেখেছি এবং শিক্ষা নিয়েছি ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে-স্বাধীনতা আদায়ে কীভাবে জীবন দিতে হয়।’ লন্ডনে একই দিনে অনুষ্ঠিত আরেকটি শোভাযাত্রায় জড়ো হয়েছিলেন হাজারো জনতা। স্থানীয় জনপ্রিয় সাবেক শ্রমিক নেতা জেরেমি করবিন ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। তিনি বলেন, ‘আপনার চোখের সামনেই একটি ভবন ধ্বংস হয়ে গেল। আর সেই ভবনের ভেতরে থাকা মানুষগুলোর অবস্থা একবার চিন্তা করুন- যেখানে আপনার মা, বাবা, ভাইবোন রয়েছেন। আমি চাই, ফিলিস্তিনে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হোক। গাজা অবরোধের অবসান হোক।’ ওই দিনই এফএ কাপের ফাইনালে চেলসিকে হারানোর পর লিসেস্টার সিটির দুই খেলোয়াড় ওয়েসলি ফোফানা ও হামজা চৌধুরী ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে বিজয় উদযাপন করেন। সেদিন অনুষ্ঠিত আরেকটি ম্যাচে কাতার ফুটবল দল আল সাদের খেলোয়াড়রা কিক-অফের আগে ফিলিস্তিনের পতাকা মেলে ধরে সংহতি প্রকাশ করেন। জার্মান ফুটবল তারকা ওজিলের লাল কার্ড দিয়ে ইসরাইলি সেনাদের বহিষ্কারের খবর তো ভাইরাল। গেল সপ্তাহে চ্যানেল ফোরের একটি থ্রিলার সিরিজের জনপ্রিয় অভিনেতা মাইসা আব্দ এলহাদি প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইসরাইল পুলিশের গুলিতে আহত হন। ফিলিস্তিনের অভিনেত্রী নাজারাহ তার পোস্টে জানান তিনিও ওই হামলায় আহত হয়েছেন। তিনি আরও লেখেন, ‘তোমাদের (ইসরাইলিদের) হুমকিকে আমি মোটেও ভয় পাই না।’ হলিউডের এক সময়ের সুপারক্রেজ অভিনেত্রী সুজান সারানডোন তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘ইসরাইলি ইহুদিদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সারা বিশ্ব দেখছে। তাদের অত্যাচার আর নিপীড়নের শিকার স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।’ হলিউড অভিনেতা পরিচালক মার্ক রাফেলো জেরুজালেমের লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠা বসতি শেখ জারাহকে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন, ‘ইসরাইলের প্রতি নিষেধাজ্ঞা (জাতিসংঘের) আরোপ করে ফিলিস্তিনিদের মুক্ত করুন।’ সোমালি-আমেরিকান ফ্যাশন মডেল হালিমা অ্যাডেন লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের জন্য আমার হৃদয় ছুটে যাচ্ছে।’ বার্বাডোজের জনপ্রিয় গীতিকার, গায়িকা ও অভিনেত্রী রবেইন রিয়ানা ফেন্টি লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিনের শেখ জারাহতে কী ঘটছে, এসব নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে।’ ২০১৮ সালে হলিউডের বিখ্যাত ইহুদি অভিনেত্রী নাটালি পোর্টম্যান ইসরাইলের দেওয়া ‘ইহুদি নোবেল’ নামে খ্যাত একটি অ্যাওয়ার্ড বয়কট করেছিলেন। এবারও তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে টুইটারে বার্তা দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনের প্রতি বিশ্বের খ্যাতনামা তারকাদের সংহতি প্রকাশ

 সেলিম কামাল 
১৮ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় ইসরাইলি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে। থেমে নেই তারকারাও। ফিলিস্তিনবাসীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারাও। টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে তারা প্রকাশ করছেন ব্যক্তিগত মতামত-যাদের মধ্যে রয়েছেন নাটালি পোর্টম্যান, বেলা হাদিদ, রিয়ানা, সুজান সারানডোনসহ অনেকে।

বেলা হাদিদ মার্কিন সুন্দরী ও সুপার মডেল। ২০১৯ সালে তাকে বলা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা। ২৪ বছরের এই সুন্দরীর বাবা ছিলেন ফিলিস্তিনি। নিজের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটির প্রতি টান এতটুকু কমেনি ওয়াশিংটনে জন্ম নেওয়া বেলার। তিনি বলেছেন, ‘আমি আমার পরিবার ও ঐতিহ্যকে ভালোবাসি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ওরা (ফিলিস্তিনিরা) জয়ী হবেন। ইতিহাসই সত্য এবং সে ইতিহাস কেউ কোনোদিন মুছতে পারবে না।’ লস অ্যাঞ্জেলসে শনিবার তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি ও প্রতিবাদ শোভাযাত্রা। এতে ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে তার সঙ্গে অংশ নেন বেলার আরও দুই বোন। সঙ্গে পতাকা উড়িয়েছিলেন তার সতীর্থরাও। তার ছোটবোন অ্যালানা একজন খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনার। তিনি লিখেছেন, ‘তোমরা কি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা দেবে? আমার মানুষগুলোর জন্য স্বাধীনতা কামনা করলে আপনাদের কোনো খরচ হবে না।’

লস অ্যাঞ্জেলসের নামি কবি, গীতিকার ও শিল্পী মুস্তাফা আহমেদ ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিনে আমারও সময় কেটেছিল অত্যন্ত কঠিনভাবে। সেখানে গণহত্যা আর উপনিবেশবাদের শিকার হয়েছিলাম আমিও। আমি দেখেছি এবং শিক্ষা নিয়েছি ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে-স্বাধীনতা আদায়ে কীভাবে জীবন দিতে হয়।’ লন্ডনে একই দিনে অনুষ্ঠিত আরেকটি শোভাযাত্রায় জড়ো হয়েছিলেন হাজারো জনতা। স্থানীয় জনপ্রিয় সাবেক শ্রমিক নেতা জেরেমি করবিন ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। তিনি বলেন, ‘আপনার চোখের সামনেই একটি ভবন ধ্বংস হয়ে গেল। আর সেই ভবনের ভেতরে থাকা মানুষগুলোর অবস্থা একবার চিন্তা করুন- যেখানে আপনার মা, বাবা, ভাইবোন রয়েছেন। আমি চাই, ফিলিস্তিনে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হোক। গাজা অবরোধের অবসান হোক।’ ওই দিনই এফএ কাপের ফাইনালে চেলসিকে হারানোর পর লিসেস্টার সিটির দুই খেলোয়াড় ওয়েসলি ফোফানা ও হামজা চৌধুরী ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে বিজয় উদযাপন করেন। সেদিন অনুষ্ঠিত আরেকটি ম্যাচে কাতার ফুটবল দল আল সাদের খেলোয়াড়রা কিক-অফের আগে ফিলিস্তিনের পতাকা মেলে ধরে সংহতি প্রকাশ করেন। জার্মান ফুটবল তারকা ওজিলের লাল কার্ড দিয়ে ইসরাইলি সেনাদের বহিষ্কারের খবর তো ভাইরাল। গেল সপ্তাহে চ্যানেল ফোরের একটি থ্রিলার সিরিজের জনপ্রিয় অভিনেতা মাইসা আব্দ এলহাদি প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইসরাইল পুলিশের গুলিতে আহত হন। ফিলিস্তিনের অভিনেত্রী নাজারাহ তার পোস্টে জানান তিনিও ওই হামলায় আহত হয়েছেন। তিনি আরও লেখেন, ‘তোমাদের (ইসরাইলিদের) হুমকিকে আমি মোটেও ভয় পাই না।’ হলিউডের এক সময়ের সুপারক্রেজ অভিনেত্রী সুজান সারানডোন তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘ইসরাইলি ইহুদিদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সারা বিশ্ব দেখছে। তাদের অত্যাচার আর নিপীড়নের শিকার স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।’ হলিউড অভিনেতা পরিচালক মার্ক রাফেলো জেরুজালেমের লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠা বসতি শেখ জারাহকে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন, ‘ইসরাইলের প্রতি নিষেধাজ্ঞা (জাতিসংঘের) আরোপ করে ফিলিস্তিনিদের মুক্ত করুন।’ সোমালি-আমেরিকান ফ্যাশন মডেল হালিমা অ্যাডেন লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের জন্য আমার হৃদয় ছুটে যাচ্ছে।’ বার্বাডোজের জনপ্রিয় গীতিকার, গায়িকা ও অভিনেত্রী রবেইন রিয়ানা ফেন্টি লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিনের শেখ জারাহতে কী ঘটছে, এসব নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে।’ ২০১৮ সালে হলিউডের বিখ্যাত ইহুদি অভিনেত্রী নাটালি পোর্টম্যান ইসরাইলের দেওয়া ‘ইহুদি নোবেল’ নামে খ্যাত একটি অ্যাওয়ার্ড বয়কট করেছিলেন। এবারও তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে টুইটারে বার্তা দিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন