ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত চায় এপি
jugantor
গণমাধ্যম অফিসে হামলা
ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত চায় এপি

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৮ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আলজাজিরা ও এপির কার্যালয় থাকা বহুতল ভবন আল-জালা টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়ায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এপি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশ্বের মানুষ এই ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে চায়। এ ছাড়াও পৃথকভাবে মিডিয়া ওয়াচডগ হিসাবে পরিচিত রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) শীর্ষক সাংবাদিকদের সংগঠন ইসরাইলের এই হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসাবে বিবেচনায় নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তদন্তের আবেদন জানিয়েছে।

শনিবার (১৫ মে) এক বিমান হামলায় আলজাজিরা ও এপি কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দেয় ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। পরদিন রোববার এপির নির্বাহী সম্পাদক স্যালি বুজবি বলেন, গাজায় ১২ তলাবিশিষ্ট আল-জালা টাওয়ারে হামলার স্বপক্ষে ইসরাইল সরকার এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। হামলার আগে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী এপির সাংবাদিকদের ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক ঘণ্টার সময় দেয়। ভবনটি হামাসের সামরিক কার্যালয় ও অস্ত্র কারখানা হিসাবে ব্যবহৃত হতো বলে ইসরাইল পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ওই ভবনে হামাসের উপস্থিতি ছিল কি না, সেই তথ্য ইসরাইল নির্দিষ্ট গোয়েন্দাদের মাধ্যমে সরবরাহ করতে পারে। এক মন্তব্যে তিনি দাবি করেন, ওই ভবনটি হামাসের গোয়েন্দা অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হতো। বুজবি বলেন, ১৫ বছর ধরে আল-জালা টাওয়ারে এপির কার্যালয়। কখনোই কেউ বুঝতে পারেননি কিংবা জানেননি যে, সেখানে হামাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে।

বুজবি বলেন, আমরা একটি সংকটকালীন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। এই সংঘাতের পক্ষে আমরা নই। আমরা শুনেছি, ইসরাইলের কাছে প্রমাণ আছে; কিন্তু আমরা জানি না, তাদের কাছে কী প্রমাণ রয়েছে। শনিবার যা ঘটেছে, সে ব্যাপারে এই মুহূর্তে স্বাধীন তদন্ত হওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি। একটি সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে কী ঘটছে, বিশ্বের তা জানার অধিকার রয়েছে।

আল-জালা টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তের আবেদন জানিয়েছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ)। আরএসএফের মহাসচিব ক্রিস্টোফ ডেলোর বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মিডিয়া আউটলেটে হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। এভাবে মিডিয়া আউটলেটগুলো ধ্বংস করে ইসরাইলি বাহিনী কেবল সংবাদ কার্যক্রমের অগ্রহণযোগ্য ক্ষতিই করছে না, তারা একটি জনসম্পৃক্ত সংঘাতের বিষয়ে মিডিয়া কাভারেজেও বাধা দিচ্ছে।

আল-জালা টাওয়ারে হামলার পর একাধিক টুইটে আরএসএফ মহাসচিব বলেন, ভবনটি হামাস বা অন্য কোনো যোদ্ধা বাহিনী ঢাল হিসাবে ব্যবহার করলেও তা মিডিয়াকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানানোর বৈধতা দেয় না। এটি পরিষ্কার যুদ্ধাপরাধ। তিনি বলেন, গাজায় ১১ মে থেকে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার ওপর বোমাবর্ষণের বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর ফাতু বেনসৌদাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি। আমরা এটিকে যুদ্ধাপরাধ বলে মনে করছি।

গণমাধ্যম অফিসে হামলা

ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত চায় এপি

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৮ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আলজাজিরা ও এপির কার্যালয় থাকা বহুতল ভবন আল-জালা টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়ায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এপি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশ্বের মানুষ এই ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে চায়। এ ছাড়াও পৃথকভাবে মিডিয়া ওয়াচডগ হিসাবে পরিচিত রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) শীর্ষক সাংবাদিকদের সংগঠন ইসরাইলের এই হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসাবে বিবেচনায় নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তদন্তের আবেদন জানিয়েছে।

শনিবার (১৫ মে) এক বিমান হামলায় আলজাজিরা ও এপি কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দেয় ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। পরদিন রোববার এপির নির্বাহী সম্পাদক স্যালি বুজবি বলেন, গাজায় ১২ তলাবিশিষ্ট আল-জালা টাওয়ারে হামলার স্বপক্ষে ইসরাইল সরকার এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। হামলার আগে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী এপির সাংবাদিকদের ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক ঘণ্টার সময় দেয়। ভবনটি হামাসের সামরিক কার্যালয় ও অস্ত্র কারখানা হিসাবে ব্যবহৃত হতো বলে ইসরাইল পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ওই ভবনে হামাসের উপস্থিতি ছিল কি না, সেই তথ্য ইসরাইল নির্দিষ্ট গোয়েন্দাদের মাধ্যমে সরবরাহ করতে পারে। এক মন্তব্যে তিনি দাবি করেন, ওই ভবনটি হামাসের গোয়েন্দা অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হতো। বুজবি বলেন, ১৫ বছর ধরে আল-জালা টাওয়ারে এপির কার্যালয়। কখনোই কেউ বুঝতে পারেননি কিংবা জানেননি যে, সেখানে হামাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে।

বুজবি বলেন, আমরা একটি সংকটকালীন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। এই সংঘাতের পক্ষে আমরা নই। আমরা শুনেছি, ইসরাইলের কাছে প্রমাণ আছে; কিন্তু আমরা জানি না, তাদের কাছে কী প্রমাণ রয়েছে। শনিবার যা ঘটেছে, সে ব্যাপারে এই মুহূর্তে স্বাধীন তদন্ত হওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি। একটি সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে কী ঘটছে, বিশ্বের তা জানার অধিকার রয়েছে।

আল-জালা টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তের আবেদন জানিয়েছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ)। আরএসএফের মহাসচিব ক্রিস্টোফ ডেলোর বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মিডিয়া আউটলেটে হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। এভাবে মিডিয়া আউটলেটগুলো ধ্বংস করে ইসরাইলি বাহিনী কেবল সংবাদ কার্যক্রমের অগ্রহণযোগ্য ক্ষতিই করছে না, তারা একটি জনসম্পৃক্ত সংঘাতের বিষয়ে মিডিয়া কাভারেজেও বাধা দিচ্ছে।

আল-জালা টাওয়ারে হামলার পর একাধিক টুইটে আরএসএফ মহাসচিব বলেন, ভবনটি হামাস বা অন্য কোনো যোদ্ধা বাহিনী ঢাল হিসাবে ব্যবহার করলেও তা মিডিয়াকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানানোর বৈধতা দেয় না। এটি পরিষ্কার যুদ্ধাপরাধ। তিনি বলেন, গাজায় ১১ মে থেকে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার ওপর বোমাবর্ষণের বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর ফাতু বেনসৌদাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি। আমরা এটিকে যুদ্ধাপরাধ বলে মনে করছি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন