মিয়ানমারে সেনা ক্যাম্পে হামলা
jugantor
মিয়ানমারে সেনা ক্যাম্পে হামলা
ইয়াঙ্গুনে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার * ছায়া সরকারের নতুন সশস্ত্র বাহিনীর প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ * প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবেন না : জান্তাদের ওপর হামলা চলবে

  যুগান্তর ডেস্ক  

৩০ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারে চোরাগোপ্তা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইয়াঙ্গুনের থাকেতা টাউনশিপের একটি প্যাগোডা কমপাউন্ডে জান্তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পেও বোমা হামলা হয়েছে শুক্রবার।

এ হামলায় চার সেনাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর ইয়াঙ্গুনের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে সেনা-পুলিশ।

এসবের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে সেনারা। এদিকে শুক্রবারই ছায়া সরকারের গড়া নতুন সশস্ত্র বাহিনী পিপল্স ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) প্রথম ব্যাচের সমপনী কুচকাওয়াজের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিনই জনগণকে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে ঘোরাফেরা করতে নিষেধ করেছে নতুন এ সশস্ত্র বাহিনী। খবর রয়টার্স, ইরাবতী।

শুক্রবার সকালে ইয়াঙ্গুনের থাকেতা টাউনশিপে সেনা ক্যাম্পের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। কে বা কারা এ হামলা করেছে তা উদ্ধার করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে প্রথমে দুবার বিস্ফোরণ ও পরে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। অতর্কিত হামলায় আতঙ্কিত সেনারা চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। অনেকেই দেখেছেন, এই হামলায় চার সেনা মারাত্মক জখম হয়েছেন।

তাদেরকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছিল। একজন পথচারীর পায়ে আঘাত লাগে। তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করেন। মার্চের শুরুতে বিক্ষোভ দমনে ভূমিকা রাখছিল এই এলাকার সেনা ক্যাম্পটি। তবে সেনাদের পক্ষ থেকে এ হামলার কথা স্বীকার করা হয়নি।

চোরাগোপ্তা হামলায় সেনা আহত হওয়ার ঘটনা স্বীকার না করলেও ইয়াঙ্গুনের আশপাশের এলাকাগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে সেনা-পুলিশ। এ অভিযানে ৪৪টি টাইম বোমাসহ দুই হাজারের বেশি ঘরে তৈরি বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে তারা। এসব তৈরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩ মিয়ানমার নাগরিককে গ্রেফতার করেছে তারা। সেনা পরিচালিত মায়াবতী টিভি এ খবর জানিয়েছে শুক্রবার। ছায়া সরকারের ঘোষিত নতুন সশস্ত্র বাহিনীর প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে জানিয়েছেন তারা। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রায় ১০০ যোদ্ধা জঙ্গলের মধ্যে কর্দমাক্ত একটি প্যারেড গ্রাউন্ডে মার্চ করছেন।

তারা তাদের নতুন বাহিনীর সাদা তারকা খচিত লাল পতাকা সামনে নিয়ে নতুন ক্যামোফ্লাজ ইউনিফর্ম পরে মার্চ করে যাচ্ছেন। তবে তাদের কোনো অস্ত্র বহন করতে দেখা যায়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতীয় ঐক্যের এ সরকারের নতুন সশস্ত্র বাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে পিপল্স ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)।

এই বাহিনী অং সান সু চিসহ আটক নেতাদের উদ্ধার করে গণতন্ত্রপন্থিদের ক্ষমতা ফিরেয়ে আনতে তাতমাদোর সঙ্গে যুদ্ধ করবে। প্রথম ব্যাচের এ প্যারেড অনুষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন ছায়া সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঈ মোন। পিডিএফের মূলমন্ত্র ‘জনতার সঙ্গে থেকে জনতাকে রক্ষা করা। এ যুদ্ধে আমাদের জিততেই হবে।’ কল রিসিভ না করায় এ প্রসঙ্গে জান্তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানতে পারেনি রয়টার্স।

সমাপনী প্যারেড শেষে মিয়ানমারের সাধারণ জনগণকে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে ঘোরাফেরা না করার অনুরোধ করেছে পিডিএফ। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘জান্তাদের ওপর হামলা চলবে। এ সময় আপনাদের নিরাপদে থাকার প্রয়োজন রয়েছে। জনপ্রিয় আড্ডার জায়গাগুলো এড়িয়ে থাকবেন। আমরা আপনাদের নিরাপত্তাকে আগে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

মিয়ানমারের গণমাধ্যমের ওপর দমনপীড়ন অব্যাহত : মিয়ানমারের গণমাধ্যমের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। শনিবার দেশটির মিজ্জিমা টেলিভিশন জানায়, ৮ এপ্রিল সকাল থেকেই জান্তা সরকার পিএসআই স্যাটেলাইট ডিশগুলো বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করলে চ্যানেলটি সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বেকায়দায় পড়ে যায়।

কারণ চ্যানেলটি পিএসআই স্যাটেলাইট ডিশের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে তারা দমে না গিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ইউটিউব, ফেসবুক এবং গুগল প্লেস্টোর ও আইওএসের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

মিয়ানমারে সেনা ক্যাম্পে হামলা

ইয়াঙ্গুনে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার * ছায়া সরকারের নতুন সশস্ত্র বাহিনীর প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ * প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবেন না : জান্তাদের ওপর হামলা চলবে
 যুগান্তর ডেস্ক 
৩০ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারে চোরাগোপ্তা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইয়াঙ্গুনের থাকেতা টাউনশিপের একটি প্যাগোডা কমপাউন্ডে জান্তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পেও বোমা হামলা হয়েছে শুক্রবার।

এ হামলায় চার সেনাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর ইয়াঙ্গুনের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে সেনা-পুলিশ।

এসবের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে সেনারা। এদিকে শুক্রবারই ছায়া সরকারের গড়া নতুন সশস্ত্র বাহিনী পিপল্স ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) প্রথম ব্যাচের সমপনী কুচকাওয়াজের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিনই জনগণকে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে ঘোরাফেরা করতে নিষেধ করেছে নতুন এ সশস্ত্র বাহিনী। খবর রয়টার্স, ইরাবতী।

শুক্রবার সকালে ইয়াঙ্গুনের থাকেতা টাউনশিপে সেনা ক্যাম্পের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। কে বা কারা এ হামলা করেছে তা উদ্ধার করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে প্রথমে দুবার বিস্ফোরণ ও পরে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। অতর্কিত হামলায় আতঙ্কিত সেনারা চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। অনেকেই দেখেছেন, এই হামলায় চার সেনা মারাত্মক জখম হয়েছেন।

তাদেরকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছিল। একজন পথচারীর পায়ে আঘাত লাগে। তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করেন। মার্চের শুরুতে বিক্ষোভ দমনে ভূমিকা রাখছিল এই এলাকার সেনা ক্যাম্পটি। তবে সেনাদের পক্ষ থেকে এ হামলার কথা স্বীকার করা হয়নি।

চোরাগোপ্তা হামলায় সেনা আহত হওয়ার ঘটনা স্বীকার না করলেও ইয়াঙ্গুনের আশপাশের এলাকাগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে সেনা-পুলিশ। এ অভিযানে ৪৪টি টাইম বোমাসহ দুই হাজারের বেশি ঘরে তৈরি বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে তারা। এসব তৈরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩ মিয়ানমার নাগরিককে গ্রেফতার করেছে তারা। সেনা পরিচালিত মায়াবতী টিভি এ খবর জানিয়েছে শুক্রবার। ছায়া সরকারের ঘোষিত নতুন সশস্ত্র বাহিনীর প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে জানিয়েছেন তারা। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রায় ১০০ যোদ্ধা জঙ্গলের মধ্যে কর্দমাক্ত একটি প্যারেড গ্রাউন্ডে মার্চ করছেন।

তারা তাদের নতুন বাহিনীর সাদা তারকা খচিত লাল পতাকা সামনে নিয়ে নতুন ক্যামোফ্লাজ ইউনিফর্ম পরে মার্চ করে যাচ্ছেন। তবে তাদের কোনো অস্ত্র বহন করতে দেখা যায়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতীয় ঐক্যের এ সরকারের নতুন সশস্ত্র বাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে পিপল্স ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)।

এই বাহিনী অং সান সু চিসহ আটক নেতাদের উদ্ধার করে গণতন্ত্রপন্থিদের ক্ষমতা ফিরেয়ে আনতে তাতমাদোর সঙ্গে যুদ্ধ করবে। প্রথম ব্যাচের এ প্যারেড অনুষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন ছায়া সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঈ মোন। পিডিএফের মূলমন্ত্র ‘জনতার সঙ্গে থেকে জনতাকে রক্ষা করা। এ যুদ্ধে আমাদের জিততেই হবে।’ কল রিসিভ না করায় এ প্রসঙ্গে জান্তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানতে পারেনি রয়টার্স।

সমাপনী প্যারেড শেষে মিয়ানমারের সাধারণ জনগণকে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে ঘোরাফেরা না করার অনুরোধ করেছে পিডিএফ। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘জান্তাদের ওপর হামলা চলবে। এ সময় আপনাদের নিরাপদে থাকার প্রয়োজন রয়েছে। জনপ্রিয় আড্ডার জায়গাগুলো এড়িয়ে থাকবেন। আমরা আপনাদের নিরাপত্তাকে আগে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

মিয়ানমারের গণমাধ্যমের ওপর দমনপীড়ন অব্যাহত : মিয়ানমারের গণমাধ্যমের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। শনিবার দেশটির মিজ্জিমা টেলিভিশন জানায়, ৮ এপ্রিল সকাল থেকেই জান্তা সরকার পিএসআই স্যাটেলাইট ডিশগুলো বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করলে চ্যানেলটি সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বেকায়দায় পড়ে যায়।

কারণ চ্যানেলটি পিএসআই স্যাটেলাইট ডিশের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে তারা দমে না গিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ইউটিউব, ফেসবুক এবং গুগল প্লেস্টোর ও আইওএসের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অং সান সু চি আটক