পুতিনকে কঠোর হুমকি বাইডেনের
jugantor
পুতিনকে কঠোর হুমকি বাইডেনের
১৩ জুন রানির সঙ্গে সাক্ষাৎ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়াকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর শুরু করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। রাশিয়াকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন যে, রাশিয়া যদি ক্ষতিকর কোনো কাজে যুক্ত হয় তাহলে তাদের ‘কঠোর পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে। বুধবার ব্রিটেন পৌঁছে মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে প্রায় এক হাজার বিমানসেনা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সামনে এক ভাষণে এই হুঁশিয়ারি দেন বাইডেন। বাইডেন বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত চাই না। আমরা চাই একটি স্থিতিশীল ও প্রতিশ্রুতিশীল সম্পর্ক। তবে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাশিয়ার সরকার যদি কোনো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এর একটি বিস্তৃত ও অর্থপূর্ণ উপায়ে জবাব দেবে।’

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই বাইডেনের প্রথম বিদেশ সফর। সফরের আগেই বাইডেন স্পষ্ট করেই বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইউরোপের গণতান্ত্রিক যেসব মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্ক টানাপোড়েন ছিল, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাই তার মূল উদ্দেশ্য। আট দিনের এই সফরে বুধবার ব্রিটেন পৌঁছান তিনি। শুরুতেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। নতুন একটি ‘আটলান্টিক সনদের’ বিষয়ে কথা বলবেন তারা। ১৯৪১ সালে উইনস্টন চার্চিল এবং ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, এটি তারই একটি আধুনিক সংস্করণ। আগের ওই চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও সুরক্ষা বিষয়ক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ ছিল। বিবিসি বলেছে, ট্রাম্পের শাসনামলের উত্তেজনা এবং মহামারির চাপের পরে এই দুই নেতার লক্ষ্য হলো তাদের সম্পর্ক আবার নতুন করে শুরু করা।

আগামী ১৩ জুন বাইডেন উইন্ডসর ক্যাসলে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপ জি-৭ নেতাদের বৈঠকে যোগ দেবেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (বাংলাদেশ সময় শনিবার) ব্রিটেনের পর্যটন শহর কর্নওয়ালের কারবিস বে’তে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সূচিটি হচ্ছে আগামী সপ্তাহে জেনেভায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক।

কী থাকছে জি-সেভেনের এজেন্ডায় - যুক্তরাষ্ট্র : প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জোটকে শান্ত থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন সময় এসেছে তার অন্যান্য সদিচ্ছগুলো জানার। একবিংশ শতাব্দী যেন চীনা শতাব্দীতে পরিণত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন তিনি। গণতন্ত্রের উন্নয়নসাপেক্ষে এ বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানাবেন তিনি। উদ্বৃত্ত আট কোটি ভ্যাকসিন বিতরণ, পেটেন্ট রাইট বাতিল করে দেশে দেশে ভ্যাকসিন তৈরির অধিকার প্রদান, ভ্যাকসিন বিতরণবৈষম্য দূরীকরণ বিষয়েও আলোচনা করতে পারেন বাইডেন।

যুক্তরাজ্য : আগামী বছরের শেষের দিকে বিশ্বকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সেই সঙ্গে কার্বনের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থায়ন, নারীশিক্ষায় আরও বাজেট বরাদ্দ, সর্বনিু করপোরেট কর নির্ধারণ এবং স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি পরিষ্কার গণতান্ত্রিক জোট তৈরির চেষ্টা করবেন তিনি।

ফ্রান্স : ফরাসি জেলে বা ইইউর অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। আফ্রিকান দেশগুলোতে আরও ভ্যাকসিন সরবরাহ বিষয়ে জোর দাবি তুলতে পারেন তিনি।

জাপান : আগামী অলিম্পিক গেম্স অনুষ্ঠান নিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থনপ্রত্যাশী প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর থেকে দেশটিতে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে। সে কারণে কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে পঞ্চম বৃহত্তম এ দেশটি। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পূরণে সহযোগিতা চাইবেন তারা।

জার্মানি : কোভিড সংক্রমণের হার অনেক নিচে থাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে আবেদন জানাতে পারেন চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে পরিবর্তন আনার

ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারেন তিনি।

কানাডা : প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর চেষ্টা থাকবে হুয়াওয়ে জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের মামলার জালে পড়ে চীনে দুই কানাডিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ওই মামলা তুলে নিলে ওই দুই কানাডিয়ান মুক্তি পেতে পারেন বলে এ বিষয়ে কথা বলবেন ট্র–ডো। চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে নমনীয় মনোভাব প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে।

ইতালি : দেশটির কোভিড পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। তার নিজস্ব কোনো এজেন্ডা নির্ধারিত না থাকলেও এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা আর গঞ্জনা শুনতে হতে প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘিকে।

পুতিনকে কঠোর হুমকি বাইডেনের

১৩ জুন রানির সঙ্গে সাক্ষাৎ
 যুগান্তর ডেস্ক 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়াকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর শুরু করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। রাশিয়াকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন যে, রাশিয়া যদি ক্ষতিকর কোনো কাজে যুক্ত হয় তাহলে তাদের ‘কঠোর পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে। বুধবার ব্রিটেন পৌঁছে মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে প্রায় এক হাজার বিমানসেনা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সামনে এক ভাষণে এই হুঁশিয়ারি দেন বাইডেন। বাইডেন বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত চাই না। আমরা চাই একটি স্থিতিশীল ও প্রতিশ্রুতিশীল সম্পর্ক। তবে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাশিয়ার সরকার যদি কোনো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এর একটি বিস্তৃত ও অর্থপূর্ণ উপায়ে জবাব দেবে।’

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই বাইডেনের প্রথম বিদেশ সফর। সফরের আগেই বাইডেন স্পষ্ট করেই বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইউরোপের গণতান্ত্রিক যেসব মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্ক টানাপোড়েন ছিল, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাই তার মূল উদ্দেশ্য। আট দিনের এই সফরে বুধবার ব্রিটেন পৌঁছান তিনি। শুরুতেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। নতুন একটি ‘আটলান্টিক সনদের’ বিষয়ে কথা বলবেন তারা। ১৯৪১ সালে উইনস্টন চার্চিল এবং ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, এটি তারই একটি আধুনিক সংস্করণ। আগের ওই চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও সুরক্ষা বিষয়ক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ ছিল। বিবিসি বলেছে, ট্রাম্পের শাসনামলের উত্তেজনা এবং মহামারির চাপের পরে এই দুই নেতার লক্ষ্য হলো তাদের সম্পর্ক আবার নতুন করে শুরু করা।

আগামী ১৩ জুন বাইডেন উইন্ডসর ক্যাসলে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপ জি-৭ নেতাদের বৈঠকে যোগ দেবেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (বাংলাদেশ সময় শনিবার) ব্রিটেনের পর্যটন শহর কর্নওয়ালের কারবিস বে’তে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সূচিটি হচ্ছে আগামী সপ্তাহে জেনেভায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক।

কী থাকছে জি-সেভেনের এজেন্ডায় - যুক্তরাষ্ট্র : প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জোটকে শান্ত থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন সময় এসেছে তার অন্যান্য সদিচ্ছগুলো জানার। একবিংশ শতাব্দী যেন চীনা শতাব্দীতে পরিণত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন তিনি। গণতন্ত্রের উন্নয়নসাপেক্ষে এ বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানাবেন তিনি। উদ্বৃত্ত আট কোটি ভ্যাকসিন বিতরণ, পেটেন্ট রাইট বাতিল করে দেশে দেশে ভ্যাকসিন তৈরির অধিকার প্রদান, ভ্যাকসিন বিতরণবৈষম্য দূরীকরণ বিষয়েও আলোচনা করতে পারেন বাইডেন।

যুক্তরাজ্য : আগামী বছরের শেষের দিকে বিশ্বকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সেই সঙ্গে কার্বনের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থায়ন, নারীশিক্ষায় আরও বাজেট বরাদ্দ, সর্বনিু করপোরেট কর নির্ধারণ এবং স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি পরিষ্কার গণতান্ত্রিক জোট তৈরির চেষ্টা করবেন তিনি।

ফ্রান্স : ফরাসি জেলে বা ইইউর অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। আফ্রিকান দেশগুলোতে আরও ভ্যাকসিন সরবরাহ বিষয়ে জোর দাবি তুলতে পারেন তিনি।

জাপান : আগামী অলিম্পিক গেম্স অনুষ্ঠান নিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থনপ্রত্যাশী প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর থেকে দেশটিতে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে। সে কারণে কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে পঞ্চম বৃহত্তম এ দেশটি। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পূরণে সহযোগিতা চাইবেন তারা।

জার্মানি : কোভিড সংক্রমণের হার অনেক নিচে থাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে আবেদন জানাতে পারেন চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে পরিবর্তন আনার

ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারেন তিনি।

কানাডা : প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর চেষ্টা থাকবে হুয়াওয়ে জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের মামলার জালে পড়ে চীনে দুই কানাডিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ওই মামলা তুলে নিলে ওই দুই কানাডিয়ান মুক্তি পেতে পারেন বলে এ বিষয়ে কথা বলবেন ট্র–ডো। চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে নমনীয় মনোভাব প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে।

ইতালি : দেশটির কোভিড পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। তার নিজস্ব কোনো এজেন্ডা নির্ধারিত না থাকলেও এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা আর গঞ্জনা শুনতে হতে প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘিকে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন