ইসরাইলে ক্ষমতায় বসার আগেই পশ্চিমতীর দখল দ্বন্দ্বে ৮ দল
jugantor
ইসরাইলে ক্ষমতায় বসার আগেই পশ্চিমতীর দখল দ্বন্দ্বে ৮ দল

  যুগান্তর ডেস্ক  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরাইলে নতুন সরকার গঠনে জোর প্রস্তুতি চলছে। শেষ সময়ের নানা ‘রাজনীতি’ ও সমীকরণে ব্যস্ত নেতারা। সবকিছু ঠিক থাকলে দুদিন পরই সরকার গঠন করবে নতুন জোট। কিন্তু ক্ষমতায় বসার আগেই অধিকৃত পশ্চিম তীরের দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অন্তঃকোন্দল দেখা দিয়েছে আট দলের এই জোটে। কোন দল কোন এলাকার নিয়ন্ত্রণ করবে তাই নিয়েই দ্বন্দ্ব। শুধু তাই নয়, রীতিমতো লড়াই চলছে। আর এই দ্বন্দ্বের কারণেই এখন পর্যন্ত জোট গঠনের চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেনি দলগুলো। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠেছে।

ইসরাইলে নতুন জোট সরকার গঠনে গত সপ্তাহে (৬ জুন) মৌখিকভাবে ঐকমত্যে পৌঁছয় বিরোধী দলগুলো। এরপর দেশটির প্রধান বিরোধী দলের নেতা ইয়ার লাপিড দেশটির প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিনকে এই ঐকমত্যের খবর জানান। এর মাধ্যমে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর টানা ১২ বছরের শাসনের অবসান হতে চলেছে। মঙ্গলবার ইসরাইলের জাতীয় সংসদের স্পিকার ইয়েরিভ লেভিন এক ঘোষণায় জানান, আগামী রোববার পার্লামেন্টে আস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটে জিতলেই শপথ নেবে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিডের নেতৃত্বাধীন নতুন ঐক্যের সরকার।

কিন্তু তার আগেই জোটের মধ্যে চরম দ্বন্দ প্রকট হয়ে উঠেছে। জোটের অন্যতম শরিক ইয়ামিনা পার্টির সূত্রের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট বলেছে, ঐকমত্য হলেও বুধবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেনি শরিক দলগুলো। প্রতিবেদন মতে, গত মঙ্গলবারই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এর পেছনের কারণ অধিকৃত পশ্চিম তীর (ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ভাষায় জুডিয়া ও সামারিয়া) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলগুলোর একমত হতে না পারা। উগ্র-জাতীয়তাবাদী নাফতালি বেনেটের ইয়ামিনা পার্টি, মেরাভ মিকায়েলির লেবার পার্টির ও বেনি গান্তজের ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টিসহ জোটের প্রতিটি দলেরই নজর পশ্চিম তীরের বসতি ও অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ন্ত্রণের প্রতি। বর্তমানে পরিবহণমন্ত্রী লেবার পার্টির মেরাভ মিকায়েলি বলছেন, পশ্চিম তীরে তার অনুমতি ছাড়া কোনো অবকাঠামো নির্মাণ হতে দেবেন না তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্তজ ইতোমধ্যেই পার্লামেন্টকে জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিম তীরের নির্মাণ কর্মকাণ্ড তার মন্ত্রণালয়ের অধীনেই থাকবে।

ইসরাইলি দখলদারির বিশ্বাসযোগ্য কাভারেজের দাবিতে একাট্টা সাংবাদিকরা : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইসরাইলি দখলদারির বিশ্বাসযোগ্য কাভারেজের দাবিতে একজোট হচ্ছে সাংবাদিকরা। ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নির্যাতন ও ইসরাইলি দখলদারির খবর গোপন করা বন্ধ করতে গণমাধ্যম মালিকদের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন তারা। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ২৫০ সাংবাদিক। চিঠিতে মূলধারারর গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সঠিক খবর প্রচারে ব্যর্থতার অভিযোগ করেছেন তারা। সাংবাদিকরা বলেছেন, ‘সত্য প্রকাশে ও ক্ষমতাবানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

ইসরাইলে ক্ষমতায় বসার আগেই পশ্চিমতীর দখল দ্বন্দ্বে ৮ দল

 যুগান্তর ডেস্ক 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরাইলে নতুন সরকার গঠনে জোর প্রস্তুতি চলছে। শেষ সময়ের নানা ‘রাজনীতি’ ও সমীকরণে ব্যস্ত নেতারা। সবকিছু ঠিক থাকলে দুদিন পরই সরকার গঠন করবে নতুন জোট। কিন্তু ক্ষমতায় বসার আগেই অধিকৃত পশ্চিম তীরের দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অন্তঃকোন্দল দেখা দিয়েছে আট দলের এই জোটে। কোন দল কোন এলাকার নিয়ন্ত্রণ করবে তাই নিয়েই দ্বন্দ্ব। শুধু তাই নয়, রীতিমতো লড়াই চলছে। আর এই দ্বন্দ্বের কারণেই এখন পর্যন্ত জোট গঠনের চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেনি দলগুলো। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠেছে।

ইসরাইলে নতুন জোট সরকার গঠনে গত সপ্তাহে (৬ জুন) মৌখিকভাবে ঐকমত্যে পৌঁছয় বিরোধী দলগুলো। এরপর দেশটির প্রধান বিরোধী দলের নেতা ইয়ার লাপিড দেশটির প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিনকে এই ঐকমত্যের খবর জানান। এর মাধ্যমে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর টানা ১২ বছরের শাসনের অবসান হতে চলেছে। মঙ্গলবার ইসরাইলের জাতীয় সংসদের স্পিকার ইয়েরিভ লেভিন এক ঘোষণায় জানান, আগামী রোববার পার্লামেন্টে আস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটে জিতলেই শপথ নেবে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিডের নেতৃত্বাধীন নতুন ঐক্যের সরকার।

কিন্তু তার আগেই জোটের মধ্যে চরম দ্বন্দ প্রকট হয়ে উঠেছে। জোটের অন্যতম শরিক ইয়ামিনা পার্টির সূত্রের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট বলেছে, ঐকমত্য হলেও বুধবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেনি শরিক দলগুলো। প্রতিবেদন মতে, গত মঙ্গলবারই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এর পেছনের কারণ অধিকৃত পশ্চিম তীর (ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ভাষায় জুডিয়া ও সামারিয়া) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলগুলোর একমত হতে না পারা। উগ্র-জাতীয়তাবাদী নাফতালি বেনেটের ইয়ামিনা পার্টি, মেরাভ মিকায়েলির লেবার পার্টির ও বেনি গান্তজের ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টিসহ জোটের প্রতিটি দলেরই নজর পশ্চিম তীরের বসতি ও অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ন্ত্রণের প্রতি। বর্তমানে পরিবহণমন্ত্রী লেবার পার্টির মেরাভ মিকায়েলি বলছেন, পশ্চিম তীরে তার অনুমতি ছাড়া কোনো অবকাঠামো নির্মাণ হতে দেবেন না তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্তজ ইতোমধ্যেই পার্লামেন্টকে জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিম তীরের নির্মাণ কর্মকাণ্ড তার মন্ত্রণালয়ের অধীনেই থাকবে।

ইসরাইলি দখলদারির বিশ্বাসযোগ্য কাভারেজের দাবিতে একাট্টা সাংবাদিকরা : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইসরাইলি দখলদারির বিশ্বাসযোগ্য কাভারেজের দাবিতে একজোট হচ্ছে সাংবাদিকরা। ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নির্যাতন ও ইসরাইলি দখলদারির খবর গোপন করা বন্ধ করতে গণমাধ্যম মালিকদের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন তারা। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ২৫০ সাংবাদিক। চিঠিতে মূলধারারর গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সঠিক খবর প্রচারে ব্যর্থতার অভিযোগ করেছেন তারা। সাংবাদিকরা বলেছেন, ‘সত্য প্রকাশে ও ক্ষমতাবানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন