ট্রাম্প ছাড়া সব নেতারই বাঁকা নজরে পুতিন
jugantor
ট্রাম্প ছাড়া সব নেতারই বাঁকা নজরে পুতিন

  অনলাইন ডেস্ক  

১৬ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুব শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু এই দুই নেতার ঐতিহাসিক সাক্ষাৎটি নিশ্চিতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, বৈঠকের আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের শীর্ষ নেতা পুতিনকে নিয়ে চরম নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন বাইডেন। তাকে ‘খুনি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তা ছাড়া উভয়পক্ষের ধারণা, দুদেশের সম্পর্ক এই মুহূর্তে তলানিতে ঠেকেছে। শুধু বাইডেনই নয়, গত দুদশকে যে কয়জন প্রেসিডেন্ট এসেছেন তাদের মধ্যে সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়া সবারই পুতিনের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছিল। গত দুদশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার মসনদে অটল রয়েছেন পুতিন। কখনো প্রধানমন্ত্রী আবার কখনো প্রেসিডেন্ট হিসাবে শাসন করছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত পাঁচজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় এসেছেন। তবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ও বৈরী রাষ্ট্র রাশিয়ার নেতা হিসাবে পুতিনের প্রতি তাদের বেশির ভাগেরই নজর ভালো ছিল না।

পুতিনকে ঠাণ্ডা মাথার কঠোর মানুষ বলে মনে করতেন বিল ক্লিনটন। তবে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল যার হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন পুতিন। ১৯৯৯ সালে রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পুতিনকে

স্বাগত জানিয়েছিলেন ক্লিনটন। পরে বিষয়টি নিয়ে এক স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, ‘ইয়েলৎসিন এমন উত্তরসূরি বেছে নিয়েছিলেন, রাশিয়ার অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও উন্নততর করতে যার দক্ষতা ও সক্ষমতা রয়েছে।’

ক্লিনটনের মতো পুতিনের ব্যাপারে একই ধারণা ছিল প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে পুতিনের প্রসঙ্গে প্রায়ই তিনি বলতেন, ‘পুতিন একজন ঠাণ্ডা মাথার মানুষ।’ তবে ২০১১ সালে স্লোভেনিয়ায় প্রথম বৈঠকে পুতিনকে দেখে বেশ খুশিই হয়েছিলেন বলে জানান বুশ। বলেন, ‘তিনি দেশের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল একজন মানুষ।’ ২০০৮ সালে রাশিয়া জর্জিয়া আক্রমণ করলে বেইজিং অলিম্পিকে পুতিনের মুখোমুখি হন বুশ। সে কথা নিজের স্মৃতিকথায়ও উল্লেখ করেছেন তিনি। বৈঠকে তিনি পুতিনকে এই বলে সতর্ক করেন, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্টের রক্ত গরম। জবাবে পুতিনও বলেন, ‘আমার রক্তও গরম।’ তখন পালটা বুশ বলেন, ‘না, ভ্লাদিমির। আপনি ঠাণ্ডা মাথার মানুষ।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসাবে বারাক ওবামার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক উপভোগ করেছে। ২০১৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে পুতিনের ব্যাপারে ওবামা বক্তব্য, ‘তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ নয়।’ এই সম্পর্ক একেবারে দহরম-মহরম পর্যায়ে নিয়ে যান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুতিনের ব্যাপারে কোনো রাখঢাক না রেখেই গত বছর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি পুতিনকে পছন্দ করি। তিনিও আমাকে পছন্দ করেন।’

ট্রাম্প ছাড়া সব নেতারই বাঁকা নজরে পুতিন

 অনলাইন ডেস্ক 
১৬ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুব শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু এই দুই নেতার ঐতিহাসিক সাক্ষাৎটি নিশ্চিতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, বৈঠকের আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের শীর্ষ নেতা পুতিনকে নিয়ে চরম নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন বাইডেন। তাকে ‘খুনি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তা ছাড়া উভয়পক্ষের ধারণা, দুদেশের সম্পর্ক এই মুহূর্তে তলানিতে ঠেকেছে। শুধু বাইডেনই নয়, গত দুদশকে যে কয়জন প্রেসিডেন্ট এসেছেন তাদের মধ্যে সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়া সবারই পুতিনের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছিল। গত দুদশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার মসনদে অটল রয়েছেন পুতিন। কখনো প্রধানমন্ত্রী আবার কখনো প্রেসিডেন্ট হিসাবে শাসন করছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত পাঁচজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় এসেছেন। তবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ও বৈরী রাষ্ট্র রাশিয়ার নেতা হিসাবে পুতিনের প্রতি তাদের বেশির ভাগেরই নজর ভালো ছিল না।

পুতিনকে ঠাণ্ডা মাথার কঠোর মানুষ বলে মনে করতেন বিল ক্লিনটন। তবে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল যার হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন পুতিন। ১৯৯৯ সালে রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পুতিনকে

স্বাগত জানিয়েছিলেন ক্লিনটন। পরে বিষয়টি নিয়ে এক স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, ‘ইয়েলৎসিন এমন উত্তরসূরি বেছে নিয়েছিলেন, রাশিয়ার অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও উন্নততর করতে যার দক্ষতা ও সক্ষমতা রয়েছে।’

ক্লিনটনের মতো পুতিনের ব্যাপারে একই ধারণা ছিল প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে পুতিনের প্রসঙ্গে প্রায়ই তিনি বলতেন, ‘পুতিন একজন ঠাণ্ডা মাথার মানুষ।’ তবে ২০১১ সালে স্লোভেনিয়ায় প্রথম বৈঠকে পুতিনকে দেখে বেশ খুশিই হয়েছিলেন বলে জানান বুশ। বলেন, ‘তিনি দেশের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল একজন মানুষ।’ ২০০৮ সালে রাশিয়া জর্জিয়া আক্রমণ করলে বেইজিং অলিম্পিকে পুতিনের মুখোমুখি হন বুশ। সে কথা নিজের স্মৃতিকথায়ও উল্লেখ করেছেন তিনি। বৈঠকে তিনি পুতিনকে এই বলে সতর্ক করেন, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্টের রক্ত গরম। জবাবে পুতিনও বলেন, ‘আমার রক্তও গরম।’ তখন পালটা বুশ বলেন, ‘না, ভ্লাদিমির। আপনি ঠাণ্ডা মাথার মানুষ।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসাবে বারাক ওবামার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক উপভোগ করেছে। ২০১৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে পুতিনের ব্যাপারে ওবামা বক্তব্য, ‘তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ নয়।’ এই সম্পর্ক একেবারে দহরম-মহরম পর্যায়ে নিয়ে যান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুতিনের ব্যাপারে কোনো রাখঢাক না রেখেই গত বছর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি পুতিনকে পছন্দ করি। তিনিও আমাকে পছন্দ করেন।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন