বিশ্বকে ঝুঁকিতে ফেলছে ব্রিটেন
jugantor
বিশ্বকে ঝুঁকিতে ফেলছে ব্রিটেন
ল্যানসেটে ১২০০ বিজ্ঞানীর হুঁশিয়ারি

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৮ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিটেনের ‘মুক্ত জীবনে’ ফেরার ঘোষণায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২০০ বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা। বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি একেবারে তুলে দেওয়ার এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকেই বিপদে ফেলছে ব্রিটেন।

১৯ জুলাই থেকে (সোমবার) ব্রিটেনে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় আরোপিত সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। চলতি মাসের শুরুতে দেওয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের এ ঘোষণার সমালোচনায় আয়োজিত এক জরুরি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ কথা বলেন ১২২ চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা। বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভয়ংকর উল্লেখ করে চিকিৎসাবিষয়ক প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ল্যানসেটেও একটি চিঠি দেন তারা। পরে স্বাস্থ্যবিধি শিথিলবিরোধী এক অনলাইন প্রচারণায় ল্যানসেটের ওই চিঠিতে সমর্থন আরও প্রায় ১১শ’র বেশি বিশেষজ্ঞ। গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল। বিভিন্ন কারণে বৈশ্বিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রাণকেন্দ্র ব্রিটেন। সেখানে নতুন ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভব ঘটলে তা দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। এসব দিক বিবেচনা করেই সরকারের পরিকল্পনাকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন তারা। বিশেষজ্ঞের মধ্যে রয়েছেন নিউজিল্যান্ড, ইতালি ও ইসরাইলের সরকারি উপদেষ্টারাও। ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘ব্রিটেন সরকারের এই সিদ্ধান্ত নতুন ভ্যাকসিন-প্রতিরোধী ভাইরাস সৃষ্টির পথ খুলে দিতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি সরকার একটি বিপজ্জনক ও অনৈতিক পরীক্ষা করতে চায়। আমরা ১৯ জুলাই বিধিনিষেধ শিথিলের পরিকল্পনা বাতিল করতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের এক সরকারি উপদেষ্টা মাইকেল বেকার ও তার সহকর্মীরা জানান, ইংল্যান্ড সরকারের এমন পরিকল্পনা তাদের হতবাক করে দিয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ওটাগো’র জনস্বাস্থ্যবিষয়ক এ অধ্যাপক বলেন, নিউজিল্যান্ড সব সময় বৈজ্ঞানিক দক্ষতার ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব অনুসরণ করেছে। এ কারণেই তাদের মৌলিক জনস্বাস্থ্য নীতিমালা অনুসরণ না করার এ ঘটনা খুবই বিস্ময়কর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিনিয়র জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও ইউনিভার্সিটি অব ভ্যালেন্সিয়ার অধ্যাপক হোসে মার্টিন-মরেনো ব্রিটিশ সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের এত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও এটা কী ধরনের সিদ্ধান্ত, আমরা বুঝতে পারছি না।’ ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডলের ক্লিনিক্যাল অপারেশনাল রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ক্রিস্টিনা প্যাজেল সম্মেলনে বলেন, বৈশ্বিক যোগাযোগ ও পরিবহণের একটি অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায় যুক্তরাজ্যে বড় আকারে ছড়িয়ে পড়া যে কোনো ভ্যারিয়েন্টই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। তাদের মনে রাখা উচিত, যুক্তরাজ্যের নীতিমালা কেবল উপরই নয়, সবার ওপরই প্রভাব ফেলে। এদিকে ইংল্যান্ডের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অধ্যাপক ক্রিস হুইটি বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছেন, কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভীতিকর মাত্রায় পৌঁছে যেতে পারে। ইতোমধ্যে তার নমুনাও পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার দেশটিতে ৫১ হাজার ৮৮০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। আগের দিন বৃহস্পতিবার ছিল ৫৫ হাজার ৭৬১ জন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন কোভিড সংক্রমণের এ রেকর্ড ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। অধিক সংক্রমণশীল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাব ও লকডাউন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের কারণে আক্রান্তের হার বাড়ছে। আগামী কয়েক মাসে তা গুরুতর পর্যায়ে চলে যেতে পারে। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মারা যাওয়ার হার মার্চের পর এখনই সর্বোচ্চ মাত্রায়।

বিশ্বকে ঝুঁকিতে ফেলছে ব্রিটেন

ল্যানসেটে ১২০০ বিজ্ঞানীর হুঁশিয়ারি
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৮ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিটেনের ‘মুক্ত জীবনে’ ফেরার ঘোষণায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২০০ বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা। বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি একেবারে তুলে দেওয়ার এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকেই বিপদে ফেলছে ব্রিটেন।

১৯ জুলাই থেকে (সোমবার) ব্রিটেনে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় আরোপিত সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। চলতি মাসের শুরুতে দেওয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের এ ঘোষণার সমালোচনায় আয়োজিত এক জরুরি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ কথা বলেন ১২২ চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা। বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভয়ংকর উল্লেখ করে চিকিৎসাবিষয়ক প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ল্যানসেটেও একটি চিঠি দেন তারা। পরে স্বাস্থ্যবিধি শিথিলবিরোধী এক অনলাইন প্রচারণায় ল্যানসেটের ওই চিঠিতে সমর্থন আরও প্রায় ১১শ’র বেশি বিশেষজ্ঞ। গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল। বিভিন্ন কারণে বৈশ্বিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রাণকেন্দ্র ব্রিটেন। সেখানে নতুন ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভব ঘটলে তা দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। এসব দিক বিবেচনা করেই সরকারের পরিকল্পনাকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন তারা। বিশেষজ্ঞের মধ্যে রয়েছেন নিউজিল্যান্ড, ইতালি ও ইসরাইলের সরকারি উপদেষ্টারাও। ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘ব্রিটেন সরকারের এই সিদ্ধান্ত নতুন ভ্যাকসিন-প্রতিরোধী ভাইরাস সৃষ্টির পথ খুলে দিতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি সরকার একটি বিপজ্জনক ও অনৈতিক পরীক্ষা করতে চায়। আমরা ১৯ জুলাই বিধিনিষেধ শিথিলের পরিকল্পনা বাতিল করতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের এক সরকারি উপদেষ্টা মাইকেল বেকার ও তার সহকর্মীরা জানান, ইংল্যান্ড সরকারের এমন পরিকল্পনা তাদের হতবাক করে দিয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ওটাগো’র জনস্বাস্থ্যবিষয়ক এ অধ্যাপক বলেন, নিউজিল্যান্ড সব সময় বৈজ্ঞানিক দক্ষতার ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব অনুসরণ করেছে। এ কারণেই তাদের মৌলিক জনস্বাস্থ্য নীতিমালা অনুসরণ না করার এ ঘটনা খুবই বিস্ময়কর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিনিয়র জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও ইউনিভার্সিটি অব ভ্যালেন্সিয়ার অধ্যাপক হোসে মার্টিন-মরেনো ব্রিটিশ সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের এত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও এটা কী ধরনের সিদ্ধান্ত, আমরা বুঝতে পারছি না।’ ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডলের ক্লিনিক্যাল অপারেশনাল রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ক্রিস্টিনা প্যাজেল সম্মেলনে বলেন, বৈশ্বিক যোগাযোগ ও পরিবহণের একটি অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায় যুক্তরাজ্যে বড় আকারে ছড়িয়ে পড়া যে কোনো ভ্যারিয়েন্টই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। তাদের মনে রাখা উচিত, যুক্তরাজ্যের নীতিমালা কেবল উপরই নয়, সবার ওপরই প্রভাব ফেলে। এদিকে ইংল্যান্ডের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অধ্যাপক ক্রিস হুইটি বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছেন, কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভীতিকর মাত্রায় পৌঁছে যেতে পারে। ইতোমধ্যে তার নমুনাও পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার দেশটিতে ৫১ হাজার ৮৮০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। আগের দিন বৃহস্পতিবার ছিল ৫৫ হাজার ৭৬১ জন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন কোভিড সংক্রমণের এ রেকর্ড ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। অধিক সংক্রমণশীল ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাব ও লকডাউন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের কারণে আক্রান্তের হার বাড়ছে। আগামী কয়েক মাসে তা গুরুতর পর্যায়ে চলে যেতে পারে। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মারা যাওয়ার হার মার্চের পর এখনই সর্বোচ্চ মাত্রায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন