নতুন যুগে নতুন কর্মসূচি চীনে
jugantor
নতুন যুগে নতুন কর্মসূচি চীনে
জনগণকে শি’র মতো ভাবতে শেখার নির্দেশ : লক্ষ্য আরও নিয়ন্ত্রণের

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চীনের জনগণকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো করে ভাবতে শেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এক গাইডলাইনে এই নির্দেশ দিয়েছে ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। গত মাসেই (২১ জুলাই) প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপন করেছে দলটি। দ্বিতীয় শতকে পদার্পণ করার পরই নতুন যুগের জন্য নতুন কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ১৪০ কোটি জনগণের আদর্শগত চিন্তার ওপর আরও নিয়ন্ত্রণই যার একমাত্র লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। দলের শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রায় দুই সপ্তাহ পর আদর্শিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। তবে এই গাইডলাইন শুধু দলের কর্মীরাই নয়, সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে মেনে চলতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুরু থেকেই জনগণের ওপর কঠোর আদর্শিক দমনপীড়ন চালিয়ে আসছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। তবে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে গত কয়েক দশকের মধ্যে জনগণের ওপর সবচেয়ে অনেক কঠোর বিধিনিষেধ চাপিয়ে দিয়েছে দলটি। বারবার পশ্চিমা ধ্যান-ধারণার ‘অনুপ্রবেশ’ বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। সেই সঙ্গে কঠোর জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দিয়েছে। খর্ব করছে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। এক কথায় সব ধরনের বিরুদ্ধ মতকেই কঠোর হাতে দমন করছে। এরপরও সরকার জনগণের যথেষ্ট আনুগত্য পাচ্ছে না বলে মনে করছে দলটি। দল ও সরকারের ওপর আনুগত্য আরও বাড়াতেই নতুন এই গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচিত ওই গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ‘আদর্শিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই হচ্ছে দলের ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য। এটাই দলের লাইফলাইনও। এটাই দলের ভবিষ্যৎ ভাগ্য, দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, জাতির ঐক্য ও সংহতির নিয়ন্ত্রক।’ দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই শি’র মতাদর্শকে ‘পাঠ্যপুস্তককে, শ্রেণিকক্ষে এবং শিক্ষার্থীদের মাথায়’ ঢুকানোর জন্য প্রচার শুরু করেছে। এই প্রচার-প্রচারণার কেন্দ্রে রয়েছে শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক চিন্তাধারা, যা ‘নতুন যুগের জন্য সমাজতন্ত্র নিয়ে শি জিনপিংয়ে চিন্তা’ (শি জিনপিং থট অন সোশ্যালিজম উইথ চায়নিজ কারেক্টারিস্টিকস ফর দ্য নিউ এরা) শিরোনামে ২০১৭ সালে দলের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জিনপিংয়ের পূর্বে দলের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে তুং ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা দেং জিয়াওপিংয়ের রাজনৈতিক চিন্তা পার্টি সংবিধানে জায়গা পেয়েছে। গত মাসে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি শি জিনপিংয়ের মতাদর্শের সাতটি নতুন গবেষণা কেন্দ্র অনুমোদন করেছে। আগে প্রতিষ্ঠিত ১১টি গবেষণা কেন্দ্রেও শি জিনপিংয়ের মতাদর্শ নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার, বিভিন্ন সংস্থা, স্কুল, গ্রাম এবং শহরের আবাসিক সম্প্রদায় এবং ইন্টারনেট থেকে শুরু করে সমাজের সব ক্ষেত্রে শি জিনপিংয়ের আদর্শকে আরও জোরদার করতে চাইছে দলটি।

শি জিনপিং ক্ষমতায় আসেন ২০১২ সালে। দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্র, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে সীমিত থাকেননি তিনি। তৈরি করেছেন নতুন উপদল এবং সর্বোচ্চ কমিটি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলে থাকেন, তিনি প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি ক্ষমতাধর। ২০১৬ সালে শি’কে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কাণ্ডারি ঘোষণা করা হয়। তার সমকক্ষদের চেয়ে তার অবস্থান সবার উপরে এবং তার ক্ষমতাকে প্রশ্নাতীত করা হয়। সবচেয়ে চমকপ্রদ পদক্ষেপটি গ্রহণ করা হয় ২০১৮ সালে। তখন দেশটির সংবিধান প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদের সময়সীমা বাতিলের জন্য সংশোধন করা হয়। শি’কে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাষ্ট্রপ্রধান থাকার ক্ষমতা দেওয়া হয়। এ সময় শিয়ের পার্টি এবং সামরিক প্রধানের পদের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়। এ দুটি পদে থাকার কোনো সময়সীমা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রকে মানসিকতা পরিবর্তন করতে বলল চীন : চীনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপজ্জনক নীতি ও বিপৎগামী মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের সফররত উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন্ডি শেরম্যানের সঙ্গে সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা কর্মকর্তারা এ আহ্বান জানান। জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তার প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত চীন সফর করেছেন, তাদের মধ্যে শেরম্যান সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ে। বৈঠক নিয়ে পরে বিবৃতি দিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়-মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের প্রতি তাদের বিপজ্জনক নীতি মানসিকতা পরিবর্তন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নতুন যুগে নতুন কর্মসূচি চীনে

জনগণকে শি’র মতো ভাবতে শেখার নির্দেশ : লক্ষ্য আরও নিয়ন্ত্রণের
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চীনের জনগণকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো করে ভাবতে শেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এক গাইডলাইনে এই নির্দেশ দিয়েছে ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। গত মাসেই (২১ জুলাই) প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপন করেছে দলটি। দ্বিতীয় শতকে পদার্পণ করার পরই নতুন যুগের জন্য নতুন কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ১৪০ কোটি জনগণের আদর্শগত চিন্তার ওপর আরও নিয়ন্ত্রণই যার একমাত্র লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। দলের শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রায় দুই সপ্তাহ পর আদর্শিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। তবে এই গাইডলাইন শুধু দলের কর্মীরাই নয়, সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে মেনে চলতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুরু থেকেই জনগণের ওপর কঠোর আদর্শিক দমনপীড়ন চালিয়ে আসছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। তবে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে গত কয়েক দশকের মধ্যে জনগণের ওপর সবচেয়ে অনেক কঠোর বিধিনিষেধ চাপিয়ে দিয়েছে দলটি। বারবার পশ্চিমা ধ্যান-ধারণার ‘অনুপ্রবেশ’ বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। সেই সঙ্গে কঠোর জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দিয়েছে। খর্ব করছে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। এক কথায় সব ধরনের বিরুদ্ধ মতকেই কঠোর হাতে দমন করছে। এরপরও সরকার জনগণের যথেষ্ট আনুগত্য পাচ্ছে না বলে মনে করছে দলটি। দল ও সরকারের ওপর আনুগত্য আরও বাড়াতেই নতুন এই গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচিত ওই গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ‘আদর্শিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই হচ্ছে দলের ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য। এটাই দলের লাইফলাইনও। এটাই দলের ভবিষ্যৎ ভাগ্য, দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, জাতির ঐক্য ও সংহতির নিয়ন্ত্রক।’ দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই শি’র মতাদর্শকে ‘পাঠ্যপুস্তককে, শ্রেণিকক্ষে এবং শিক্ষার্থীদের মাথায়’ ঢুকানোর জন্য প্রচার শুরু করেছে। এই প্রচার-প্রচারণার কেন্দ্রে রয়েছে শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক চিন্তাধারা, যা ‘নতুন যুগের জন্য সমাজতন্ত্র নিয়ে শি জিনপিংয়ে চিন্তা’ (শি জিনপিং থট অন সোশ্যালিজম উইথ চায়নিজ কারেক্টারিস্টিকস ফর দ্য নিউ এরা) শিরোনামে ২০১৭ সালে দলের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জিনপিংয়ের পূর্বে দলের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে তুং ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা দেং জিয়াওপিংয়ের রাজনৈতিক চিন্তা পার্টি সংবিধানে জায়গা পেয়েছে। গত মাসে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি শি জিনপিংয়ের মতাদর্শের সাতটি নতুন গবেষণা কেন্দ্র অনুমোদন করেছে। আগে প্রতিষ্ঠিত ১১টি গবেষণা কেন্দ্রেও শি জিনপিংয়ের মতাদর্শ নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার, বিভিন্ন সংস্থা, স্কুল, গ্রাম এবং শহরের আবাসিক সম্প্রদায় এবং ইন্টারনেট থেকে শুরু করে সমাজের সব ক্ষেত্রে শি জিনপিংয়ের আদর্শকে আরও জোরদার করতে চাইছে দলটি।

শি জিনপিং ক্ষমতায় আসেন ২০১২ সালে। দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্র, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে সীমিত থাকেননি তিনি। তৈরি করেছেন নতুন উপদল এবং সর্বোচ্চ কমিটি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলে থাকেন, তিনি প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি ক্ষমতাধর। ২০১৬ সালে শি’কে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কাণ্ডারি ঘোষণা করা হয়। তার সমকক্ষদের চেয়ে তার অবস্থান সবার উপরে এবং তার ক্ষমতাকে প্রশ্নাতীত করা হয়। সবচেয়ে চমকপ্রদ পদক্ষেপটি গ্রহণ করা হয় ২০১৮ সালে। তখন দেশটির সংবিধান প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদের সময়সীমা বাতিলের জন্য সংশোধন করা হয়। শি’কে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাষ্ট্রপ্রধান থাকার ক্ষমতা দেওয়া হয়। এ সময় শিয়ের পার্টি এবং সামরিক প্রধানের পদের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়। এ দুটি পদে থাকার কোনো সময়সীমা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রকে মানসিকতা পরিবর্তন করতে বলল চীন : চীনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপজ্জনক নীতি ও বিপৎগামী মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের সফররত উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন্ডি শেরম্যানের সঙ্গে সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা কর্মকর্তারা এ আহ্বান জানান। জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তার প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত চীন সফর করেছেন, তাদের মধ্যে শেরম্যান সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ে। বৈঠক নিয়ে পরে বিবৃতি দিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়-মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের প্রতি তাদের বিপজ্জনক নীতি মানসিকতা পরিবর্তন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন