তিউনিসিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত, সংসদ স্থগিত
jugantor
তিউনিসিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত, সংসদ স্থগিত

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তিউনিসিয়া। তীব্র আন্দোলন-বিক্ষোভের মুখে রোববার পার্লামেন্ট স্থগিত ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিচাম মেচিচিকে অপসারণ করেছেন তিনি। এক বক্তব্যে শিগগিরই নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে নির্বাহী কর্তৃত্ব তার হাতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপকে বিপ্লব ও সংবিধানের বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থান’ বলে অভিযোগ করেছেন স্পিকার রাশেদ ঘানৌচি। আলজাজিরা।

করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য সরকারকে দায়ী করে সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। রোববারও রাজধানী তিউনিসসহ বেশ কিছু শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে যোগ দেয় হাজার হাজার মানুষ। তারা সরকারের উদ্দেশে ‘গেট আউট, গেট আইট’ (দূর হও, ক্ষমতা ছাড়) বলে স্লোগান দেয়। সেই সঙ্গে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া ও আগাম নির্বাচনের দাবিও তোলে। এদিন পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ সময় পার্লামেন্ট ভবন চারদিক থেকে ঘেরাও করে রাখেন নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। ২০১১ সালে তিউনিসিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল কেন্দ্রীয় এভিনিউ বুরগুইবা। এর চারদিকের সড়কও অবরোধ করে রাখেন নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় পার্লামেন্ট স্থগিত করে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট সাইয়েদ। এদিন জরুরি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক বৈঠকের পর টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে কাইস সাইয়েদ বলেন, তিউনিসিয়ায় যতক্ষণ সামাজিক শান্তি ফিরে না আসবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাষ্ট্রকে নিরাপদ না করতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই সিদ্ধান্ত (পার্লামেন্ট স্থগিত) কার্যকর থাকবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হিচামকে বরখাস্ত করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভকারীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। এ অবস্থায় রাজধানী তিউনিসে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদ। এ ঘটনায় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন পার্লামেন্টের স্পিকার রাশেদ ঘানৌচি। বলেছেন, তিনি বিপ্লব ও সংবিধানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করেছেন। আমি আশা করি, এখনো প্রতিষ্ঠান টিকে আছে। তাই ইন্নাহদা পার্টি এবং তিউনিসিয়ার জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই বিপ্লবের পক্ষে দাঁড়াতে। এখন থেকে ১০ বছর আগে তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রের দাবিতে গণঅভ্যুত্থান দেখা দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ওই অঞ্চলে শুরু হয় আরব বসন্ত। এক দশক পরেও সেই তিউনিসিয়ায় অর্থনৈতিক সংকট অনেক গভীরে। আফ্রিকায় যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ, তার মধ্যে তিউনিসিয়ার অবস্থা নাজুক। সম্প্রতি সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এতে ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর আরও চাপ বেড়েছে।

আলজাজিরার কার্যালয় বন্ধ করে দিল নিরাপত্তা বাহিনী : তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার কার্যালয়ে বিনা নোটিশে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সংবাদকর্মীদের জোর করে বের করে দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কার্যালয়ের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। পার্লামেন্ট স্থগিত ও প্রধানমন্ত্রী বরখাস্তের পরদিন সোমবার আলজাজিরার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। আলজাজিরা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজধানী তিউনিসে অবস্থিত আলজাজিরার কার্যালয়ে ২০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ভারী অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেন।

তিউনিসিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত, সংসদ স্থগিত

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তিউনিসিয়া। তীব্র আন্দোলন-বিক্ষোভের মুখে রোববার পার্লামেন্ট স্থগিত ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিচাম মেচিচিকে অপসারণ করেছেন তিনি। এক বক্তব্যে শিগগিরই নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে নির্বাহী কর্তৃত্ব তার হাতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপকে বিপ্লব ও সংবিধানের বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থান’ বলে অভিযোগ করেছেন স্পিকার রাশেদ ঘানৌচি। আলজাজিরা।

করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য সরকারকে দায়ী করে সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। রোববারও রাজধানী তিউনিসসহ বেশ কিছু শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে যোগ দেয় হাজার হাজার মানুষ। তারা সরকারের উদ্দেশে ‘গেট আউট, গেট আইট’ (দূর হও, ক্ষমতা ছাড়) বলে স্লোগান দেয়। সেই সঙ্গে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া ও আগাম নির্বাচনের দাবিও তোলে। এদিন পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ সময় পার্লামেন্ট ভবন চারদিক থেকে ঘেরাও করে রাখেন নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। ২০১১ সালে তিউনিসিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল কেন্দ্রীয় এভিনিউ বুরগুইবা। এর চারদিকের সড়কও অবরোধ করে রাখেন নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় পার্লামেন্ট স্থগিত করে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট সাইয়েদ। এদিন জরুরি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক বৈঠকের পর টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে কাইস সাইয়েদ বলেন, তিউনিসিয়ায় যতক্ষণ সামাজিক শান্তি ফিরে না আসবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাষ্ট্রকে নিরাপদ না করতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই সিদ্ধান্ত (পার্লামেন্ট স্থগিত) কার্যকর থাকবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হিচামকে বরখাস্ত করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভকারীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। এ অবস্থায় রাজধানী তিউনিসে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদ। এ ঘটনায় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন পার্লামেন্টের স্পিকার রাশেদ ঘানৌচি। বলেছেন, তিনি বিপ্লব ও সংবিধানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করেছেন। আমি আশা করি, এখনো প্রতিষ্ঠান টিকে আছে। তাই ইন্নাহদা পার্টি এবং তিউনিসিয়ার জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই বিপ্লবের পক্ষে দাঁড়াতে। এখন থেকে ১০ বছর আগে তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রের দাবিতে গণঅভ্যুত্থান দেখা দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ওই অঞ্চলে শুরু হয় আরব বসন্ত। এক দশক পরেও সেই তিউনিসিয়ায় অর্থনৈতিক সংকট অনেক গভীরে। আফ্রিকায় যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ, তার মধ্যে তিউনিসিয়ার অবস্থা নাজুক। সম্প্রতি সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এতে ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর আরও চাপ বেড়েছে।

আলজাজিরার কার্যালয় বন্ধ করে দিল নিরাপত্তা বাহিনী : তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার কার্যালয়ে বিনা নোটিশে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সংবাদকর্মীদের জোর করে বের করে দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কার্যালয়ের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। পার্লামেন্ট স্থগিত ও প্রধানমন্ত্রী বরখাস্তের পরদিন সোমবার আলজাজিরার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। আলজাজিরা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজধানী তিউনিসে অবস্থিত আলজাজিরার কার্যালয়ে ২০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ভারী অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন