ভুল পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র : ফাউচি
jugantor
ভুল পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র : ফাউচি

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান চিকিৎসাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফাউচি। টিকার বাইরে থাকা লোকজনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোববার এ মন্তব্য করেন তিনি। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাউচি বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকা নেওয়া লোকজনের জন্য মাস্ক ব্যবহারের বিধি নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া যারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন, তাদেরকে টিকার দুই ডোজের অতিরিক্ত ‘বুস্টার’ ডোজ দেওয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সাক্ষাৎকারে ফাউচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণ টিকা না পাওয়া লোকজনের মধ্যে মহামারি আকার ধারণ করছে।’ যেসব এলাকায় টিকা দেওয়ার হার কম সেসব জায়গায় এই ভাইরাসের ডেল্টা ধরনের কারণে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ কোটি ২৭ লাখ মানুষকে টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশ। গত এপ্রিল পর্যন্ত টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর তালিকায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এর পর থেকেই সেখানে টিকা দেওয়ার হার কমতে থাকে। বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে টিকা দেওয়ার হার বেশ কম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব রাজ্যের বাসিন্দাদের অর্ধেকেরও কম টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে গত মে এবং জুন মাসে দৈনিক শনাক্তের হার কমে এলেও তা আবারও বাড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে দেশটিতে মোট শনাক্তের সংখ্যা তিন কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছয় লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ‘ডেল্টা ধরনের’ কারণে আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ফ্লোরিডা, টেক্সাস এবং মিসৌরির মতো টিকা দেওয়ার হার যেসব রাজ্যে কম সেখানেই সংক্রমণ বাড়ছে। এ সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেল বিবেক মূর্তি জানান, কোভিড আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিলেন টিকার বাইরে। সাক্ষাৎকারে ড. ফাউচি বলেছেন, টিকা দেওয়ার হার কম এমন এলাকার স্থানীয় নেতাদের উচিত লোকজনকে টিকা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা।

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট : করোনাভাইরাসের সবচেয়ে দ্রুততম ও শক্তিশালী ভ্যারিয়েন্ট হলো ডেল্টা। বিশ্ব মহামারি পরিস্থিতি উল্টে দিয়েছে এটি। এমন সময় ভ্যারিয়েন্টটি শক্তিশালী হচ্ছে যখন বিভিন্ন দেশে অর্থনীতি চালু করতে বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ দশ জন ভাইরোলজিস্ট ও এপিডেমিওলজিস্ট বলছেন, করোনার টিকা না নেওয়া মানুষরাই এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো মানুষকে অসুস্থ করা নয়, বরং এটি সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। এর ফলে টিকা না নেওয়া মানুষদের মধ্যে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ টিকা নেওয়া মানুষকে ব্যাপক সংখ্যায় আক্রান্ত করতে পারে এই ভ্যারিয়েন্ট। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, টিকা নেওয়া মানুষরাও ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স উদ্যোগের প্রধান মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারক পিকক বলেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডেল্টা। এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুততম ও সবল ভ্যারিয়েন্ট। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ছড়ানোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি টিকাদানে এগিয়ে থাকা দেশগুলোতে পুনরায় জারির প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড (পিএইচই) জানায়, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫৮.৩ শতাংশ টিকা নেননি এবং ২২.৮ শতাংশ পূর্ণাঙ্গ টিকা নিয়েছেন। সিঙ্গাপুর শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটির বেশিরভাগ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। ডেল্টায় আক্রান্তের দুই-তৃতীয়াংশ টিকা নেওয়া মানুষ। তবে কেউই গুরুতর অসুস্থ নন। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৬০ শতাংশ মানুষ টিকা নিয়েছেন। বেশিরভাগের বয়স ৬০ বা তার বেশি এবং স্বাস্থ্য জটিলতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শনাক্তের ৮৩ শতাংশ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে। এখন পর্যন্ত গুরুতর অসুস্থদের ৯৭ শতাংশই টিকা নেননি। ইসরাইলের বেন গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথের পরিচালক নাদাভ ডেভিডোভিচ বলেন, একটি ম্যাজিক বুলেটে আমাদের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ভ্রান্তি সব সময় রয়েছে। করোনাভাইরাস আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে। টিকা নেওয়া ব্যক্তির সুরক্ষা খুব শক্তিশালী। কিন্তু অন্যদের আক্রান্ত করার ক্ষেত্রে সুরক্ষার মাত্রা অনেক কম।

ভুল পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র : ফাউচি

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান চিকিৎসাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফাউচি। টিকার বাইরে থাকা লোকজনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোববার এ মন্তব্য করেন তিনি। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাউচি বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকা নেওয়া লোকজনের জন্য মাস্ক ব্যবহারের বিধি নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া যারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন, তাদেরকে টিকার দুই ডোজের অতিরিক্ত ‘বুস্টার’ ডোজ দেওয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সাক্ষাৎকারে ফাউচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণ টিকা না পাওয়া লোকজনের মধ্যে মহামারি আকার ধারণ করছে।’ যেসব এলাকায় টিকা দেওয়ার হার কম সেসব জায়গায় এই ভাইরাসের ডেল্টা ধরনের কারণে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ কোটি ২৭ লাখ মানুষকে টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশ। গত এপ্রিল পর্যন্ত টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর তালিকায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এর পর থেকেই সেখানে টিকা দেওয়ার হার কমতে থাকে। বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে টিকা দেওয়ার হার বেশ কম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব রাজ্যের বাসিন্দাদের অর্ধেকেরও কম টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে গত মে এবং জুন মাসে দৈনিক শনাক্তের হার কমে এলেও তা আবারও বাড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে দেশটিতে মোট শনাক্তের সংখ্যা তিন কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছয় লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ‘ডেল্টা ধরনের’ কারণে আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ফ্লোরিডা, টেক্সাস এবং মিসৌরির মতো টিকা দেওয়ার হার যেসব রাজ্যে কম সেখানেই সংক্রমণ বাড়ছে। এ সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেল বিবেক মূর্তি জানান, কোভিড আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিলেন টিকার বাইরে। সাক্ষাৎকারে ড. ফাউচি বলেছেন, টিকা দেওয়ার হার কম এমন এলাকার স্থানীয় নেতাদের উচিত লোকজনকে টিকা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা।

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট : করোনাভাইরাসের সবচেয়ে দ্রুততম ও শক্তিশালী ভ্যারিয়েন্ট হলো ডেল্টা। বিশ্ব মহামারি পরিস্থিতি উল্টে দিয়েছে এটি। এমন সময় ভ্যারিয়েন্টটি শক্তিশালী হচ্ছে যখন বিভিন্ন দেশে অর্থনীতি চালু করতে বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ দশ জন ভাইরোলজিস্ট ও এপিডেমিওলজিস্ট বলছেন, করোনার টিকা না নেওয়া মানুষরাই এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো মানুষকে অসুস্থ করা নয়, বরং এটি সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। এর ফলে টিকা না নেওয়া মানুষদের মধ্যে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ টিকা নেওয়া মানুষকে ব্যাপক সংখ্যায় আক্রান্ত করতে পারে এই ভ্যারিয়েন্ট। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, টিকা নেওয়া মানুষরাও ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স উদ্যোগের প্রধান মাইক্রোবায়োলজিস্ট শ্যারক পিকক বলেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডেল্টা। এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুততম ও সবল ভ্যারিয়েন্ট। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ছড়ানোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি টিকাদানে এগিয়ে থাকা দেশগুলোতে পুনরায় জারির প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড (পিএইচই) জানায়, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫৮.৩ শতাংশ টিকা নেননি এবং ২২.৮ শতাংশ পূর্ণাঙ্গ টিকা নিয়েছেন। সিঙ্গাপুর শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটির বেশিরভাগ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। ডেল্টায় আক্রান্তের দুই-তৃতীয়াংশ টিকা নেওয়া মানুষ। তবে কেউই গুরুতর অসুস্থ নন। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৬০ শতাংশ মানুষ টিকা নিয়েছেন। বেশিরভাগের বয়স ৬০ বা তার বেশি এবং স্বাস্থ্য জটিলতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শনাক্তের ৮৩ শতাংশ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে। এখন পর্যন্ত গুরুতর অসুস্থদের ৯৭ শতাংশই টিকা নেননি। ইসরাইলের বেন গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথের পরিচালক নাদাভ ডেভিডোভিচ বলেন, একটি ম্যাজিক বুলেটে আমাদের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ভ্রান্তি সব সময় রয়েছে। করোনাভাইরাস আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে। টিকা নেওয়া ব্যক্তির সুরক্ষা খুব শক্তিশালী। কিন্তু অন্যদের আক্রান্ত করার ক্ষেত্রে সুরক্ষার মাত্রা অনেক কম।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন