আফগানিস্তানে বিমান হামলা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র
jugantor
আফগানিস্তানে বিমান হামলা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র
সহিংসতায় রেকর্ডসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত : জাতিসংঘ

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে তালেবানের মোকাবিলায় আফগান সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বিমান হামলা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যে রোববার এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা। এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, আফগানিস্তানে ১ মে থেকে সংঘাত শুরুর পর রেকর্ডসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। রোববার এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংঘাত চলায় সেখানেই প্রধানত বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনা বেশি ঘটছে। যদি এ সংঘাত ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে দেশটিতে মহাবিপর্যয় হতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রায় দুই দশকের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ পর আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে হামলা জোরদার করেছে তালেবান। বিভিন্ন শহরে আগ্রাসী হামলা চালাচ্ছে। একের পর এক এলাকা দখলে নিচ্ছে। পিছু হটছে আফগান বাহিনী। এমন পরিস্থিতি গত সপ্তাহে তালেবানের বেশ কিছু অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

গত সপ্তাহেই এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, সেনা প্রত্যাহার করা হলেও আফগান সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবে ওয়াশিংটন। রোববার আফগান রাজধানী কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল কেনেথ ম্যাকেনজি বলেন, ‘আফগান সেনাবাহিনীকে সহায়তা দিতে গত কয়েক দিনে বিমান হামলা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবান যদি হামলা অব্যাহত রাখে তবে আফগানিস্তানকে এভাবেই সহায়তা দিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।’ তবে তিনি এটা স্বীকার করেছেন, আফগান সরকারের জন্য সামনের দিনগুলো বেশ কঠিন। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। কিন্তু তার পরেও আফগান বিমান বাহিনীকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাকেনজি বলেন, ‘৩১ আগস্টের পরেও আমরা আফগান বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে যাব।’

আফগানিস্তানে শরণার্থী সংকট মোকাবিলা এবং মার্কিন অনুগত আফগানদের বিশেষ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য ১০ কোটি ডলার জরুরি তহবিলের অনুমোদন দিয়েছেন বাইডেন। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানের বতর্মান প্রেক্ষাপটে শরণার্থী, বাস্তুচ্যুত ও সহিংসতার শিকারসহ যারা নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে এ অর্থ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রেকর্ডসংখ্যক বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। এসব হতাহতের অর্ধেকই হয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কারণে। ১ মে থেকে সংঘাতের তীব্রতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এ সময়ে ৭৮৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়, আহত হয় এক হাজার ৬০৯ জন। প্রথম চার মাসেও একই পরিমাণ হতাহতের ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের ২০০৯ সাল থেকে রেকর্ড করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে-জুন মাসে হতাহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ। ২০০১ সালে তালেবান শাসনের অবসানের পর এটাই আফগানিস্তানের প্রথম ভয়াবহ অবস্থা হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আফগানিস্তানে বিমান হামলা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র

সহিংসতায় রেকর্ডসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত : জাতিসংঘ
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে তালেবানের মোকাবিলায় আফগান সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বিমান হামলা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যে রোববার এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা। এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, আফগানিস্তানে ১ মে থেকে সংঘাত শুরুর পর রেকর্ডসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। রোববার এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংঘাত চলায় সেখানেই প্রধানত বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনা বেশি ঘটছে। যদি এ সংঘাত ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে দেশটিতে মহাবিপর্যয় হতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রায় দুই দশকের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ পর আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে হামলা জোরদার করেছে তালেবান। বিভিন্ন শহরে আগ্রাসী হামলা চালাচ্ছে। একের পর এক এলাকা দখলে নিচ্ছে। পিছু হটছে আফগান বাহিনী। এমন পরিস্থিতি গত সপ্তাহে তালেবানের বেশ কিছু অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

গত সপ্তাহেই এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, সেনা প্রত্যাহার করা হলেও আফগান সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবে ওয়াশিংটন। রোববার আফগান রাজধানী কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল কেনেথ ম্যাকেনজি বলেন, ‘আফগান সেনাবাহিনীকে সহায়তা দিতে গত কয়েক দিনে বিমান হামলা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবান যদি হামলা অব্যাহত রাখে তবে আফগানিস্তানকে এভাবেই সহায়তা দিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।’ তবে তিনি এটা স্বীকার করেছেন, আফগান সরকারের জন্য সামনের দিনগুলো বেশ কঠিন। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। কিন্তু তার পরেও আফগান বিমান বাহিনীকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাকেনজি বলেন, ‘৩১ আগস্টের পরেও আমরা আফগান বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে যাব।’

আফগানিস্তানে শরণার্থী সংকট মোকাবিলা এবং মার্কিন অনুগত আফগানদের বিশেষ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য ১০ কোটি ডলার জরুরি তহবিলের অনুমোদন দিয়েছেন বাইডেন। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজ থেকে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানের বতর্মান প্রেক্ষাপটে শরণার্থী, বাস্তুচ্যুত ও সহিংসতার শিকারসহ যারা নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে এ অর্থ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রেকর্ডসংখ্যক বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। এসব হতাহতের অর্ধেকই হয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কারণে। ১ মে থেকে সংঘাতের তীব্রতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এ সময়ে ৭৮৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়, আহত হয় এক হাজার ৬০৯ জন। প্রথম চার মাসেও একই পরিমাণ হতাহতের ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের ২০০৯ সাল থেকে রেকর্ড করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে-জুন মাসে হতাহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ। ২০০১ সালে তালেবান শাসনের অবসানের পর এটাই আফগানিস্তানের প্রথম ভয়াবহ অবস্থা হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন