দেশ ছাড়তে আফগানিস্তানে দীর্ঘ লাইন
jugantor
দেশ ছাড়তে আফগানিস্তানে দীর্ঘ লাইন
খরা ও খাদ্য সংকটে ধুঁকছে দেড় কোটি মানুষ

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৯ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশ ছাড়তে আফগানিস্তানে দীর্ঘ লাইন

তালেবানদের ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত পেয়ে গেছেন তারা। আর এ কারণেই দেশ ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আফগানরা। গত কয়েক দিন থেকেই হাজারো মানুষের ভিড় জমছে কাবুলের পাসপোর্ট অফিসে। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ। করোনাকে তুচ্ছ করে ঠাসাঠাসি করে দাঁড়াচ্ছেন লাইনে। একেক জানালায় এক একটা লাইন। বেলা বাড়ছে, লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। শুধু তালেবানদের কুশাসন আতঙ্কই নয়, এরই মধ্যে খরা ও খাদ্য সংকটে ধুঁকতে শুরু করেছে দেশটির প্রায় দেড় কোটি মানুষ। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জীবন বাঁচাতে জন্মভূমি ছাড়ার ঐতিহাসিক এ দৃশ্য তুলে ধরেছে এএফপি।

বিদেশি সৈন্যরা দেশ ছেড়ে চলে গেছে। নিরাপত্তার অভাব বোধ করতে শুরু করেছেন আফগান নাগরিকরা। তালেবানরা দখল করে নিয়েছে দেশটির অধিকাংশ এলাকা। এ অবস্থায় জীবনশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন হাজারো আফগান নারী-পুরুষ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই দেশ ছাড়তে চান তারা। এমন কয়েক হাজার আফগানের মতো একজন আবদেল খালিদ দাঁড়িয়ে আছেন মূল পাসপোর্ট অফিসের বাইরের দীর্ঘ লাইনে। তিনি বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি সুবিধাজনক মনে হচ্ছে না। যে কোনো দিন দেশ ছেড়ে চলে যাব।’ ৫২ বছর বয়সি খালিদ আরও বলেন, ‘তালেবানশাসিত সময়ে আমাদের সুরক্ষিত থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই।’ খালিদের আতঙ্কের আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে, তিনি ন্যাটো সামরিক ঘাঁটিতে একটি দোকান চালিয়েছিলেন।’

আফগানরা বলছেন, তালেবানরা ক্ষমতায় আসামাত্র তাদেরকে পত্রপাঠ বিদায় নিতে হবে এ দেশ থেকে। কারণ, ওদের হাত থেকে বাঁচাতে পারে-এমন প্রতিরক্ষা ঢাল বা কর্মী বাহিনী তাদের কাছে নেই।

এএফপি প্রতিবেদক জানিয়েছেন, অধিকাংশ দিনই ভোর হওয়ার আগে ডজন ডজন লোক পাসপোর্ট অফিসে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই লাইন ১০০ মিটারেরও বেশি দীর্ঘ হয়। পাসপোর্ট অফিসের সামনে কর্তব্যরত এক পুলিশ জানিয়েছেন প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লোক এই পাসপোর্ট অফিসের সামনে ভিড় করেন। ৩৬ বছর বয়সি প্রকৌশলী তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানের পাসপোর্ট করবেন বলে ভোর ৫টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সপরিবারে দেশ ছাড়তে আগ্রহী খলিলুল্লাহ জানান, ‘আমরা আসার আগেই এখানে কমপক্ষে ৩০০ লোক লাইনে দাঁড়ানো ছিলেন।’

তালেবান-সন্ত্রাসের চেহারা মনে করতেই শিউরে ওঠেন কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী জিনাত বাহার নাজারি (২৩)। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন শিশু ছিলাম, আমাদের পরিবারের কাছে তখন শুনেছি, তালেবানরা মানুষ হত্যা করছে, অনেক মানুষ গুম হয়ে যান। তারা মহিলাদের প্রতি সহিংস ছিল, মহিলার শিক্ষায় এগিয়ে যাক এটা তারা চাইত না। এমনকি নারীদের মৌলিক অধিকার কিংবা মানবাধিকারের প্রতিও তারা হুমকি হয়ে ছিল। তালেবান বলতে আমরা বুঝি, সন্ত্রাস-লড়াই, আত্মঘাতী বোমা হামলা আর কেবলই রক্তপাত। ওরাই যদি আবার ক্ষমতায় আসে, তাহলে আমরা এদেশে থাকব কীভাবে?’

যে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন জিনাত বাহার, তার সেই আশায় গুড়েবালি। তিনি বলেন, ‘ওরা (তালেবান) যদি ক্ষমতায় আসে, আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব। তার আগেই পালিয়ে যাওয়া ভালো না?’

দেশ ছেড়ে কোথায় পালাবেন, পাসপোর্ট বানাতে এলেও এমন প্রশ্নের জবাব জানা নেই অনেকেরই। তবে তাদের জবাব ছিল, ‘একরকম প্রস্তুতি সেরে রাখছি। বাকিটা পরে দেখা যাবে।’

দেশ ছাড়তে আফগানিস্তানে দীর্ঘ লাইন

খরা ও খাদ্য সংকটে ধুঁকছে দেড় কোটি মানুষ
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৯ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দেশ ছাড়তে আফগানিস্তানে দীর্ঘ লাইন
ছবি: সংগৃহীত

তালেবানদের ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত পেয়ে গেছেন তারা। আর এ কারণেই দেশ ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আফগানরা। গত কয়েক দিন থেকেই হাজারো মানুষের ভিড় জমছে কাবুলের পাসপোর্ট অফিসে। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ। করোনাকে তুচ্ছ করে ঠাসাঠাসি করে দাঁড়াচ্ছেন লাইনে। একেক জানালায় এক একটা লাইন। বেলা বাড়ছে, লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। শুধু তালেবানদের কুশাসন আতঙ্কই নয়, এরই মধ্যে খরা ও খাদ্য সংকটে ধুঁকতে শুরু করেছে দেশটির প্রায় দেড় কোটি মানুষ। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জীবন বাঁচাতে জন্মভূমি ছাড়ার ঐতিহাসিক এ দৃশ্য তুলে ধরেছে এএফপি।

বিদেশি সৈন্যরা দেশ ছেড়ে চলে গেছে। নিরাপত্তার অভাব বোধ করতে শুরু করেছেন আফগান নাগরিকরা। তালেবানরা দখল করে নিয়েছে দেশটির অধিকাংশ এলাকা। এ অবস্থায় জীবনশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন হাজারো আফগান নারী-পুরুষ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই দেশ ছাড়তে চান তারা। এমন কয়েক হাজার আফগানের মতো একজন আবদেল খালিদ দাঁড়িয়ে আছেন মূল পাসপোর্ট অফিসের বাইরের দীর্ঘ লাইনে। তিনি বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি সুবিধাজনক মনে হচ্ছে না। যে কোনো দিন দেশ ছেড়ে চলে যাব।’ ৫২ বছর বয়সি খালিদ আরও বলেন, ‘তালেবানশাসিত সময়ে আমাদের সুরক্ষিত থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই।’ খালিদের আতঙ্কের আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে, তিনি ন্যাটো সামরিক ঘাঁটিতে একটি দোকান চালিয়েছিলেন।’

আফগানরা বলছেন, তালেবানরা ক্ষমতায় আসামাত্র তাদেরকে পত্রপাঠ বিদায় নিতে হবে এ দেশ থেকে। কারণ, ওদের হাত থেকে বাঁচাতে পারে-এমন প্রতিরক্ষা ঢাল বা কর্মী বাহিনী তাদের কাছে নেই।

এএফপি প্রতিবেদক জানিয়েছেন, অধিকাংশ দিনই ভোর হওয়ার আগে ডজন ডজন লোক পাসপোর্ট অফিসে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই লাইন ১০০ মিটারেরও বেশি দীর্ঘ হয়। পাসপোর্ট অফিসের সামনে কর্তব্যরত এক পুলিশ জানিয়েছেন প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লোক এই পাসপোর্ট অফিসের সামনে ভিড় করেন। ৩৬ বছর বয়সি প্রকৌশলী তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানের পাসপোর্ট করবেন বলে ভোর ৫টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সপরিবারে দেশ ছাড়তে আগ্রহী খলিলুল্লাহ জানান, ‘আমরা আসার আগেই এখানে কমপক্ষে ৩০০ লোক লাইনে দাঁড়ানো ছিলেন।’

তালেবান-সন্ত্রাসের চেহারা মনে করতেই শিউরে ওঠেন কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী জিনাত বাহার নাজারি (২৩)। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন শিশু ছিলাম, আমাদের পরিবারের কাছে তখন শুনেছি, তালেবানরা মানুষ হত্যা করছে, অনেক মানুষ গুম হয়ে যান। তারা মহিলাদের প্রতি সহিংস ছিল, মহিলার শিক্ষায় এগিয়ে যাক এটা তারা চাইত না। এমনকি নারীদের মৌলিক অধিকার কিংবা মানবাধিকারের প্রতিও তারা হুমকি হয়ে ছিল। তালেবান বলতে আমরা বুঝি, সন্ত্রাস-লড়াই, আত্মঘাতী বোমা হামলা আর কেবলই রক্তপাত। ওরাই যদি আবার ক্ষমতায় আসে, তাহলে আমরা এদেশে থাকব কীভাবে?’

যে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন জিনাত বাহার, তার সেই আশায় গুড়েবালি। তিনি বলেন, ‘ওরা (তালেবান) যদি ক্ষমতায় আসে, আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব। তার আগেই পালিয়ে যাওয়া ভালো না?’

দেশ ছেড়ে কোথায় পালাবেন, পাসপোর্ট বানাতে এলেও এমন প্রশ্নের জবাব জানা নেই অনেকেরই। তবে তাদের জবাব ছিল, ‘একরকম প্রস্তুতি সেরে রাখছি। বাকিটা পরে দেখা যাবে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন