এক বছরেই অতিষ্ঠ ফরাসিরা

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর বর্ষপূর্তিতে সারা দেশে বিক্ষোভ * দূর হও ম্যাক্রোঁ * সমাজতান্ত্রিক অভ্যুত্থানকে না বলুন

  যুগান্তর ডেস্ক ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক বছরেই প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ফরাসিরা। শনিবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ম্যাক্রোঁর এক বছর পূর্ণ হয়। এ সময়ে ম্যাক্রোঁর নেয়া বিভিন্ন নীতির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে দেশটির জনগণ। হাজার হাজার নিরাপত্তা পুলিশের উপস্থিতিতেও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে বিক্ষোভকারীরা। এ বিক্ষোভকে ম্যাক্রোঁর ক্ষমতার প্রতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ প্রতিরোধ করতে পথে নেমেছে তার অনেক সমর্থক। এমনকি সরকারের অনেক এমপিও। এ অবস্থায় দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লা রিপাবলিকা এন মার্চে পার্টির প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক সমর্থন ও ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসেন ম্যাক্রোঁ। ক্ষমতায় আসার পর এক বছরে শিক্ষা ও রেল যোগাযোগের পাশাপাশি বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক নীতি গ্রহণ করেন তিনি। এসব নীতির বেশিরভাগই যাচ্ছে ধনীদের পক্ষে এবং সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে। এক বছরে তার এসব নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ। একটা প্রশ্নই এখন ব্যাপকভাবে বিতর্ক-আলোচনায় উঠে আসছে, ম্যাক্রোঁ সমাজ সংস্কারক, নাকি ধনীদের প্রেসিডেন্ট।

এএফপি জানায়, ম্যাক্রোঁর গৃহীত নীতির বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাতে নিরাপত্তা পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যেই রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেছে হাজার হাজার মানুষ। ‘দূর হও ম্যাক্রোঁ’ বলে স্লোগান দিচ্ছে তারা। এছাড়া দক্ষিণের শহর তোলুজ ও বোর্ডক্সসহ বিভিন্ন শহরে সমাবেশ করেছে বিক্ষোভকারীরা। অন্যদিকে এন মার্চে পার্টির ক্ষমতার এক বছর উদযাপনে প্যারিসের সেন্ট্রাল অপেরা হাউসের সামনে জড়ো হয়েছে সরকার সমর্থকরা। ‘পার্টি ফর ম্যাক্রোঁ’ নামে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রতিরোধে ব্যানার-প্লাকার্ড নিয়ে এতে যোগ দেন সংসদ সদস্যরাও। তাদের ব্যানারে লেখা, ‘সমাজতান্ত্রিক অভ্যুত্থানকে না বলুন’। দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার আশঙ্কায় প্রায় ২ হাজার নিরাপত্তা পুলিশ মোতায়েন করেছে সরকার।

প্যারিসের এ বিক্ষোভ শুরু হয় মে দিবস উপলক্ষে। আয়োজকদের আহ্বানে এদিন প্যারিসে সংগঠিত হতে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। তবে শিগগিরই এ বিক্ষোভ সহিসংসতায় রূপ নেয়। এএফপির শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কালো কাপড়ে বাঁধা কয়েকশ’ তরুণ কয়েকটি গাড়ি ও ম্যাকডোনাল্ড রেস্তোরাঁয় আগুন লাগিয়ে দেয়। নিরাপত্তা পুলিশ এদিন প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করলে বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে আসে। ম্যাক্রোঁর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেয় আয়োজনকারীরা।

বাণিজ্য নীতিতে মতপার্থক্য সত্ত্বেও ম্যাক্রোঁর প্রশংসা করলেন মার্কেল : বাণিজ্য নীতি নিয়ে পার্থক্য থাকার পরও প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশংসা করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। ইউরোপীয় প্রকল্পে সতেজ প্রণোদনা দেয়ার জন্য ম্যাক্রোঁর প্রাণবন্ততার প্রশংসা করেন তিনি।

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ক্ষেত্রে জার্মানি অল্প পরিমাণ করের প্রস্তাব নিয়ে চুক্তির জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে চাপ দিয়ে আসছে। আর ফ্রান্স বলছে, এসব আমদানির জন্য প্রথমে স্থায়ীভাবে ও নিঃশর্তভাবে কর মওকুফ করার বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত সাপ্তাহিক বক্তব্যে মার্কেল বলেন, ফ্রান্স ও জার্মানি সহযোগিতা খুবই ভালো কাজ করছে। তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান ঐক্যের সেবা করার জন্য ম্যাক্রোঁ‘ চার্লিমাগনে পুরস্কার’ জেতার যোগ্য। মার্কেল আরও বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি অনেক প্রাণবন্তভাবে ইউরোপকে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা দিয়ে আসছেন।’

মার্কেলের এমন প্রশংসা সত্ত্বেও ইউরো জোনের সংস্কার প্রশ্নে জার্মানির কাছে সামান্য সমর্থনই পেয়েছেন ম্যাক্রোঁ। বাণিজ্য ইস্যুতে ১ জুনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ট্রেড কমিশনার সিসিলিয়া মালমস্ট্রোমকে একটি পরিষ্কার নির্দেশনা দিতে হবে। এজন্য ইইউ মন্ত্রীদের মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করতে হবে। ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করারোপের জন্য ১ জুন সময় বেঁধে দিয়েছেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.