বিশ্লেষণ

শেষ কারিশমা দেখাবেন মাহাথির

  যুগান্তর ডেস্ক ০৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাহাথির মোহাম্মদ

অবসরে গিয়েও পার পেলেন না মাহাথির মোহাম্মদ। মালয়েশিয়ার গণমানুষের ডাকে আবারও ফিরতে হল দেশনায়ককে। আবার সেই প্রধানমন্ত্রিত্ব। সরকারপ্রধান, রাষ্ট্র পরিচালনা-দেশচিন্তা। এসবের কোনো কিছুই তার কাছে নতুন নয়। মালয়েশিয়ার ইতিহাস তার সাক্ষী। ১৯৮১ সাল থেকে টানা ২২ বছরের নিরলস পরিশ্রমে মালয়েশিয়ার আপাদমস্তক বদলে দিয়েছিলেন তিনি। এটাই তার কারিশমা। তিনি মাহাথির। আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক। আমজনতার চোখে তিনি এখনও দেবতা। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি দেশগড়ার কারিগর। তার স্বপ্নের মালয়েশিয়াকে আবার তার হাতেই তুলে দিতে চাচ্ছে সেদেশের প্রধান বিরোধী দল। পোড় খাওয়া জনগণকে ৯২ বছর বয়সী এ জাদুকরের ‘শেষ কারিশমা’ দেখাতে চায় দলটি।

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের প্রথমার্ধের দিকে দেশটির পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া হবে। পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ২০০৩ সালের অক্টোবরে অবসর নিয়েছিলেন। সেই হিসেবে তার অবসরের পর এটা তৃতীয় জাতীয় নির্বাচন। তবে এই একটি কারণে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর সেটা হচ্ছে এই নির্বাচনে ৯৩ বছর বয়সী মাহাথির আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করবেন। প্রধান বিরোধী দলীয় জোট পাকাতান হারাপান ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াইয়ের জন্য তার নাম ঘোষণা করেছে। এই লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে তিনি ‘শেষ খেলা’টা দেখাতে চলেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০০৩ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে এবার তিনি নিজ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দলের হয়েই নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে এক সময় তাকে নিজেই পদচ্যুত করেছিলেন। ১৫ বছর জেলও খাটিয়েছিলেন। তিনি লড়তে যাচ্ছেন ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) দলের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট বারিসান ন্যাশনালের বিরুদ্ধে। এই ইউএমএনও’র প্রধান হিসেবেই টানা ২২ বছর দেশ শাসন করেন তিনি। কিন্তু এত বছর পর কেন আবার ক্ষমতার লড়াইয়ে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক? গত বছরের জুনে মাহাথির দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বিরোধী দল অবশ্যই আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে হারানোর ক্ষমতা রাখে।

প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ। অন্যদিকে দ্বিতীয় দফা সমকামিতা ও দুর্নীতির অভিযোগে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন মালয়েশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় বিরোধী দলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম। এছাড়া মালয়েশিয়ার বৃহত্তম রাজনৈতিক জোট বারিসান ন্যাশনালের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জয় পেতে মাহাথিরের ভক্তদের সমর্থন খুব বেশি দরকার পাকাতান হারাপানের। আপাতদৃষ্টিতে পাকাতান হারাপানের জন্য জয় এই মুহূর্তে কাম্য মূলত দুটি কারণে-

১. দুর্নীতির দায়ে সমালোচিত নাজিব রাজাককে ক্ষমতা থেকে সরানো; ২. আনোয়ারের মুক্তি। গত ডিসেম্বরে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, বারিসান ন্যাশনালের সঙ্গে লড়ে পিপলস জাস্টিস পার্টি (পিকেআর) নেতৃত্বাধীন পাকাতান হারাপানের জন্য পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যথেষ্ট কঠিন হবে। কেননা জোটের নিজের মধ্যেই রয়েছে নির্বাচন নিয়ে বিভেদ। সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় আনা সাম্প্রতিক পরিবর্তনও জোটটির জন্য একটি বড় প্রতিকূলতা। পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে দলটির।

 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter